বসন্ত স্পেশাল-চাঁদ ও সূর্যের গল্প-আরিফুন নেছা সুখী

চাঁদ ও সূর্যের গল্প

আরিফুন নেছা সুখী

splarticle03 (Medium)

 পৃথিবীর খুব মন খারাপ! কেন মন খারাপ জানো? কারণ, তার কোনো বন্ধু নেই৷  বন্ধু ছাড়া একা একা ভালো লাগে বলো! তাই সে বন্ধুর খোঁজে বের হল৷ অনেক খুঁজে খুঁজে সে বন্ধুর দেখা পেল৷ তাও আবার একটি নয়, দুটি বন্ধু৷ বন্ধু দুটির নাম রাত আর দিন৷ কিছুদিন যেতেই পৃথিবীর সঙ্গে তাদের খুব ভাব হয়ে গেল৷ কিন্তু রাত আর দিনের সঙ্গে কখনো দেখা হয় না৷ পৃথিবী যখন নানা কাজে ব্যস্ত থাকে, তখন সে দিনের সঙ্গে থাকে৷ আর যখন সে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন ঘুমানোর জন্য রাতের সঙ্গে থাকে৷

পৃথিবী তো ঘুমায়, কিন্তু রাত একা জেগে থাকে৷ তাই সেও বন্ধুর খোঁজে বের হল৷ আর রাতের দুঃখ দেখে অনেকে তার বন্ধু হল৷ এর মধ্যে চাঁদ আর তারাদের সঙ্গে তার বেশ ভাব হয়৷ তারারা আবার হাজার হাজার বন্ধু নিয়ে থাকে৷ তাই সে রাতকে বলে, আমার সব বন্ধু তোমাকে সঙ্গ দেবে৷ কিন্তু এই তারাদের মধ্যে যেমন ভাব, তেমন আবার আড়ি৷ মাঝেমধ্যে তাদের ভীষণ ঝগড়া লেগে যায়৷ তখন একে অপরকে ধাক্কা দেয়, আর তাতে দুর্বল তারাটি তাদের বসবাসের জায়গা আকাশ থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে৷ পরে সেই দোষী তারাগুলো কষ্ট পায়৷ কিন্তু যে পড়ে গেছে, তাকে তো আর উঠাতে পারবে না৷ তাই কিছুদিন একসঙ্গে থাকে পরে ভুলে গিয়ে আবার ঝগড়া করে৷ ও জানো সাতটি তারার খুব মিল৷ আমরা যেমন একে অপরের মিল দেখলে মানিকজোড় বলি, তেমনি ওদের এই মিল দেখে তাদের নাম দিল সপ্তর্ষিমণ্ডল৷ তারাদের আরও একটি বাহিনী আছে, তার নাম কালপুরুষ৷ তাদেরও খুব মিল৷

রাতের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু চাঁদ৷ চাঁদের সঙ্গে রাতের খুব ভাব৷ সারারাত তারা গল্প করে কাটিয়ে দেয়৷ আর এই রাতের বন্ধু পাওয়ার খবর শুনে দিন তো রেগেমেগে অস্থির৷ তাই সেও বন্ধুর খোঁজে বের হলো এবং খুব শক্তিশালী এক বন্ধু নিয়ে হাজির হলো৷ তার নাম সূর্য৷ সূর্য যেমন শক্তিশালী, ঠিক তেমনি খোলামনের, দিল-দরিয়া, হাসি-খুশি৷ দিনকে সব সময় উজ্জ্বল আলোয় ভরিয়ে রাখে এই সূর্য৷ কিন্তু তার শত্রু মেঘ৷ তাকে দেখলে সূর্য আর ঘর থেকে বের হয় না৷ তখন দিনের খুব মন খারাপ থাকে৷ সেদিন সে আর হাসে না৷ মেঘ বেশিক্ষণ থাকলে সে অঝোরে কেঁদেও ফেলে৷ তাইতো বৃষ্টি হয়৷ আর ওর কান্না দেখলে সূর্য ঠিক থাকতে পারে না৷ বৃষ্টি শেষে সেও এক গাল হাসি নিয়ে ফিরে আসে৷ সূর্য খুব ধনী৷ তার অনেক আলো৷ সে একদিন শুনল, চাঁদ নামের এক বন্ধু আছে, সে রাতের সঙ্গে থাকে৷ কিন্তু থাকলে আর কী হবে, তার নিজের কোনো আলো নেই৷ তারা নামের ছোটো ছোটো বন্ধুদের আলো নিয়ে রাতকে পথ চলতে হয়৷ তাই সে চাঁদকে তার আলো দিয়ে দিয়ে বলল, বন্ধু চাঁদ রাতের বেলা তো আমার আলো কাজে লাগে না, তাই আমি তোমাকে আমার আলো দিয়ে দিলাম৷ তবে খুব হিসেব করে খরচ করো কেমন৷

চাঁদ এত ভালো যে সূর্যের এ উপকারের কথা সে কোনো দিন ভুলল না৷ আবার সে বলল, তুমি আমার এত উপকার করলে, আমি সারাজীবন তোমার সঙ্গে থাকব৷ তাই দেখ, নিজের কথা রাখার জন্য দিনের বেলাতেও চাঁদ চুপটি করে আকাশে বসে থাকে৷ আবার ৩০ দিনের মধ্যে ১৫ দিন সে আলো ব্যবহার করে আর ১৫ দিন করে না৷ তাই তো চাঁদে অমাবস্যা আর পূর্ণিমা হয়৷ 

তবে সূর্যের মনটা খুব খারাপ৷ কারণ, মানুষ নামের প্রাণীগুলো চাঁদকে বেশি পছন্দ করে৷ সব সময় চাঁদমামা, চাঁদমামা বলে কাছে ডাকে, কবিতা লেখে, গান করে, বাচ্চাদের ঘুম পাড়ায়৷ আবার চাঁদ দেখে তারা উৎসবও করে৷ আর আমাকে দেখলেই কালো ছাতা মাথায় দেয়৷ এখন অবশ্য রঙিন ছাতাও ব্যবহার করে৷ কিন্তু এতে আমাকে অপমান করা হয় না, বলো ? আবার দেখ, বাংলা ভাষার একজন কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘সূয্যি মামা জাগার আগে, উঠবো আমি জেগে৷’ আমার সঙ্গে এত প্রতিযোগিতার কী আছে, বলো? থাক, তবুও শান্তি৷ চাঁদকে সবাই ভালোবাসে বাসুক, তবে আমিও সূর্য৷ আমার ক্ষমতা আমি দেখিয়ে ছাড়ব৷ আমার পেছন পেছন সবাইকে ঘোরাব, এই আমি বলে রাখলাম৷ সূর্য তার ক্ষমতার বড়াই দেখাতে পেরেছে৷ কারণ, সে এখন সৌরজগতের প্রধান৷ তাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীসহ সবাই ঘোরে৷

আর ওদিকে বেচারা রাত সে কখনো অন্ধকারে থাকে, কখনো আলোতে থাকে৷ আবার তার কিছু বন্ধু মাঝেমধ্যে আসে৷ তার ধূমকেতু নামের এক বন্ধু আছে৷ সে ৭৫-৭৬ বছর পরপর আসে৷ আবার দেখ, চাঁদের কী ক্ষমতা! পিটপিট করে নড়তে নড়তে এসে সূর্যকে খেয়ে ফেলে নিজে রাজা হতে চায়৷ কিন্তু সে কি আর পারে? এই দুই-পাঁচ মিনিট মুখের মধ্যে নিয়েই আবার উগলে দেয়৷ আর তখন সূর্যগ্রহণ হয়৷ সূর্য তবুও তার আলো ফিরিয়ে নেয় না৷ সে যে বড় মনের অধিকারী৷ সূর্য কী বলে জানো? জেনে রাখবে৷ উপকারীকে বাঘে খায়, তাই বলে কি উপকার করবে না? তা কিন্তু নয়৷ চাঁদ যদি আমাকে দুই মিনিট গিলে শান্তি পায়, পাক! তবুও পৃথিবীর সবাই জানবে, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, সূর্যের আলো নিয়েই সে রাতকে আলোকিত করে৷ এই তো আমার শান্তি৷ তবে মাঝেমাঝে রাগ করে সূর্যও চাঁদকে আড়াল করে তখন হয় চন্দ্রগ্রহণ৷ তবে সবই সাময়িক৷ ওরা সবাই একসাথে বেশ সুখেশান্তিতে বাস করে৷