লিখিব খেলিব আঁকিব সুখে

লকির বলিদান->ঋত্বিক প্রিয়দর্শী

ষষ্ঠ শ্রেণী, এপিজে স্কুল সল্ট লেক

likhiboritwik (Small)রেডি?, একি জিজ্ঞাসা করল

দূর থেকে ওই আগুন ভরা গ্রহটাকে দেখে বেশ ভাল লাগছিল

আরে! রোজ রোজ কি আমরা একটা সোলার সিস্টেম বানাই? রেডি কি না? 

আমি লকি এই কাজে নতুন এসেছি কাজটা হল গ্রহ তৈরি করে করে একটা সোলার সিস্টেম বানানো এত মন লেগে গিয়েছিল আমার গ্রহটার দিকে যে কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম নাহুঁশ ফেরার পর একটা বেচারা মুখ করে উত্তর দিলাম, হ্যাঁ রেডি!

বলতেই আমাদের যানটার পাশ থেকে দুটো বড়ো ডান্ডা বেরিয়ে এল তারপর ডান্ডা দুটোর সামনে একটা দানবিক ঘড়ি বেরিয়ে এল—-

আসল গল্পটা শুরু করার আগে তোমাদের কিছু জিনিস বুঝিয়ে দি। আমাদের জাতির কোন নাম নেই। আমাদের নাম পাল্টাতে থাকে আর তার সাথে সাথে  আমরাও। আমাদের কাজ হল আমাদের অস্তিত্ব বজায় রাখা। তাই আমরা ধ্বংস হবার আগে আমাদের জাতিটা বজায় রাখার জন্য মহাকাশের অন্য কোথাও গিয়ে আর একটা জাতি বানাই। তৈরি জাতি আমাদের মতন না দেখতে হলে কী হবে, তাদের মাথায় একটা কথা থেকে যায়– বেঁচে থাকার জন্য নতুন জাতি বানাতে হবে!

আমাদের জাতি বেঁচে থাকে চোদ্দ কোটি বছর! আমাদের এখনকার হোম প্ল্যানেটের অবস্থান হল বহুদূরে দুটো ব্ল্যাক হোলের মধ্যে একটা নেবুলাতে। একটা ব্ল্যাক হোল অন্যটার গ্র্যাভিটেশনাল টানকে প্রশমন করে আর তার মধ্যে আম রা থাকি।

“এবার মন দিয়ে শুনবে,” একি বলল, “এই দুটো ডান্ডা হল রিয়েলিটি শুটার, এরা রিয়েলিটি রশ্মি ছুঁড়ে গ্রহ বানায়। আর ওই ঘড়িটা হল টাইম সাকার ,ওটা গ্রহটার বানানোর গতিটাকে অনেকগুণ করে দেয় যাতে গ্রহটা ১০ কোটি বছরের বদলে এক কোটি বছরে তৈরি হয়ে যায়। এটা আমাদের তেরো নম্বর গ্রহ এই সোলার সিস্টেম-এর।চলো এবারে যন্ত্র চালিয়ে ঘুমোতে যাই।”

যন্ত্রগুলো চালিয়ে আমরা hyper sleep এ চলে গেলাম। ৫০ লাখ বছরের পরে ঘুম ভাঙল। উঠে দেখি একটা Alert message এসেছে সরকার থেকে এক লাখ বছর আগে। আমাদের নেবুলার এক দিকের ব্ল্যাকহোলটা নাকি উধাও হয়ে গেছে! অন্য দিকের ব্ল্যাকহোলটা এখন আমাদের নেবুলাকে টানছে!

একি-কে ঘুম থেকে তুললাম। ওকে বললাম কী হয়েছে।

অনেকক্ষণ ভাবার পর, আমাদের একটা আইডিয়া এল। আমরা নেবুলার দিকে রওনা দিলাম। অনেক লম্বা রাস্তা পেরিয়ে আমাদের স্পেসস্টেশানটাতে পৌঁছুলাম। দেখি কেউ নেই!

এবার কী করব আমি ভাবলাম। একিকে জিজ্ঞাসাও করলাম, “নেবুলার আর কতক্ষণ আয়ু রয়েছে?”।

“৭৮ মিনিট!” উত্তর এল, “৭৮ মিনিট মাত্র।”

“তাতেও একটা চেষ্টা দেয়া যাক। আমরা নেবুলার প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের যান থেকে ফোন  করে বললাম, “স্যার, আম রা , লকি আর একি, মিলে আমাদের নেবুলাটাকে জমিয়ে দেব একটা single moment in time এ।” সময় না এগোলে তা ধ্বংসও হবে না।”

“কিন্তু তাহলে তো আমরা সময়ের মধ্যে একটা স্থির সময়ে হারিয়ে যাব, আর এর কারণে তোমাদের মধ্যে একজন কে তার জীবন দিতে হবে নির্দিষ্ট শক্তি তৈরি করবার জন্য।”

প্রধানমন্ত্রী আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল। তখনই লাইনটা কেটে গেল। লকি, একিকে স্পেস স্টেশানে রেখে জাহাজ নিয়ে এগিয়ে গেল। তারপর তাদের পুরো জাহাজটাকে একটা এনারজি ম্যানিপুলেটরে বিকশিত করে চারপাশের পুরো স্পেস থেকে এনার্জি সংগ্রহ করল। ম্যানিপুলেটর জাহাজের ইঞ্জিনের শক্তিকেও শুষে নিল। ইঞ্জিন থেমে যেতেই জাহাজটা সোজা ঢুকে গেল দানবিক ওই কালো ব্ল্যাকহোলটার ভেতরে।  ফলে কিছুই হল না আর নেবুলাটাও জমে গেল না।

কিন্তু  একটু পরে হঠাৎ একটুক্ষণের জন্য ব্ল্যাক হোলটার নড়াচড়া থেমে গেল।  তারপর তার ভেতরে লকির যানটায় জমা শক্তিতে একটা বিশাল এক্সপ্লোশান হল।

ব্ল্যাক হোলটার মধ্যে থেকে একটা বিশাল আগুনের গোলা বের হল আর নেবুলাটাকে ৯০০০ লাইটিয়ার প্রতি ঘন্টার গতিতে একটা এমন ঠেলা মারল যে নেবুলাটা দূর মহাকাশে আবার দুটো অন্য ব্ল্যাক হোলের মধ্যে গিয়ে আটকে গেল।

ছুটন্ত আগুনের গোলার ভেতরে লকির জাহাজটা জ্বলতে জ্বলতে মহাকাশ পেরিয়ে ওদের বানানো নতুন সোলার সিস্টেমটার একদম মধ্যে গিয়ে থেমে গেল।

লকির সেই জ্বলন্ত  জাহাজটা হল আমাদের সূর্য, আর সেই বিরাট ব্ল্যাক হোলটা আমাদের center of the milky way।

বৈজ্ঞানিকরা যতই বলুক সূর্য একটা তারা, আমি জানি, আসলে ওটা হল লকির জ্বলন্ত জাহাজটা।

 তরুণ লেখকদের সমস্ত লেখা “লিখিব খেলিব হাসিব সুখে”-র লাইব্রেরি এই লিংকে