সিনেমা হল– কর্প্‌স্‌ ব্রাইড-মহাশ্বেতা

cinema02 (Medium)টিম বার্টনের ছবির বেশ কয়েকটি নিজস্ব বিশিষ্টতা থাকেঃ রঙহীন, প্রায় সাদা কালো পটভূমিকা, ভূতপ্রেতের গল্প বা তা না হলে সাধারণ গল্পেও কিছু ভূতুরে উপাদান, আর সূক্ষ্ম রসবোধ। ভূত-বৌ-এর গল্প, মানে ২০০৫ এ তৈরি ‘কর্পস্‌  ব্রাইড’ ও এর ব্যাতিক্রম নয়।

১৯ শতকের কোন একসময় ইংল্যান্ডের এক গ্রামের ঘটনা। ভিক্টর আর ভিক্টোরিয়ার বিয়ে হতে চলেছে। কনের বাড়ি বনেদি কিন্তু গরীব আর বরের বাড়ির অর্থবল রয়েছে কিন্তু তাদের দরকার কনের বাড়ির বনেদিয়ানা। অতএব বিয়ে। গির্জায় ফাদারের কাছে বকা খেয়ে ভিক্টর বিয়ের শপথটা একবার ঝালিয়ে নিতে যায় জঙ্গলে। তখন রাত হয়ে গেছে। বিয়ের আংটিটা একটা মাটি থেকে বেরিয়ে আসা শিকড়ে পরিয়ে দিয়ে তো সে বিয়ের মন্ত্রটন্ত্র বলতে থাকে। ও মা, যেই না তা করা ওমনি শিকড়বাকড়গুলো নড়াচড়া করতে করতে মাটি ফুঁড়ে উঠে এসেছে একটা কঙ্কাল, তার নীল নীল লম্বা চুল, আর পরনে বিয়ের সাদা, শতছিন্ন পোশাক। উঠে এসেই সে ভিক্টরকে বলল, “তুমি এই ভর সন্ধেবেলা এখানে আমার হাতে আংটি পরিয়ে বিয়ের শপথ নিয়েছ, অতএব এবার আমিই তোমার বউ। তুমি এবার আমার সাথে চল পরলোকে।”

ভিক্টর তা দেখে মূর্ছা গেল। জ্ঞান ফিরে দেখে সে ভূতেদের দুনিয়ায়। সেখানে নানারকম ভুত, স্কন্ধকাটা থেকে কঙ্কাল সবাই নতুন জামাই পেয়ে দারুণ খুশি! নাচ-গানা চলছে! মুশকিল শুধু একটাই, ভিক্টর পরলোকে এসেছে বটে কিন্তু সে যে তখনও মানুষ! মরেনি বলে ভুত হওয়ার সুযোগও পায়নি সে।

ওদিকে ভিক্টরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভিক্টরিয়ার মা বাবা গ্রামে আসা এক বিশাল বড়লোক আগন্তুকের সঙ্গে ভিক্টরিয়ার বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে। কিন্তু এই আগন্তুক যে আসলে খুব দুষ্টু একটা লোক সে কথা কেউ জানে না। এইরকম সব ব্যাপার নিয়ে হুল্লুরে সিনেমা ‘কর্প্‌স্‌ ব্রাইড।’ দেখলে হাসিও পাবে, গা শিরশিরও করবে। আর আছে অপূর্ব একখানা শেষ দৃশ্য। তা দেখে দুঃখও হবে কিছুটা। তাছাড়া আছে পরলোকে রংচঙে কিম্ভুত ভূতের নৃত্য। শুরুতে

cinema01 (Medium)

ভয় পেলেও, অদ্ভুতভাবে ভিক্টর তাদের ভালবেসে ফেলে পরলোকে থেকে যেতে যাইবে। কিন্তু সে তা আদৌ পারবে কিনা তা জানতে হলে দেখে ফেল এই সিনেমাটা।

অসামান্য স্টপ-মোশান অ্যানিমেশনের সাহায্যে ভিক্টরিয়ান ইংল্যান্ডের স্যাঁতসেঁতে রঙহীন একখানা ছবি তুলে ধরেছেন টিম বার্টন, আর তার ঠিক উল্টোটা হল পরলোক, সেখানে সব সময় হই-হুল্লোর আর চারিদিকে রংবেরঙের খেলা। ড্যানি এলফম্যান-এর সুর দেওয়া বেশ কয়েকটা দুর্দান্ত গানও আছে। তোমাদের মধ্যে যারা ভূত-প্রেতের গল্প পড়তে বা ছবি দেখতে ভালবাসো তারা যেন অবশ্যই দেখে নিও এই ছবিখানা। আর দেখে জানিও জয়ঢাককে কেমন লাগল।

কিছু তথ্যঃ

সিনেমার নাম- কর্প্‌স্‌ ব্রাইড

পরিচালনা- টিম বার্টন ও মাইক জনসন

সাল- ২০০৫

ভাষা- ইংরিজি

রেটিং- পিজি (বাবা মায়ের সঙ্গে দেখাই ভাল)