গল্প-নীল পাহাড়ের জ্বলন্ত মূর্তি -কেয়া চ্যাটার্জী-বসন্ত ২০২২

প্রতিযোগিতায়  পুরস্কৃত অন্যান্য গল্পেরা-প্রথম স্থান-অভিশপ্ত একশৃঙ্গী, দ্বিতীয় স্থান-সেই রাত

সন্ধ্যা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য প্রতিযোগিতা’২০২১-তৃতীয় স্থান

golponil_paharer_murti_fnl_1

জিপ থেকে নেমে কিছুটা পাথুরে পথ পেরিয়েই বাড়িটা দেখতে পেল কুন্তল। অস্ফুটে বলে ফেলল, “এইটা?”

সঙ্গী লোকটি ব্যঙ্গাত্মক হেসে বলল, “এইটাই তো আজ থেকে আপনার রাজপ্রাসাদ।”

কুন্তল দেখল ক’টা দাঁত বের করা ইটের সারি আবদ্ধ হয়ে তৈরি হয়েছে একটা ঘর—টিনের দরজা, টালির চাল।

লোকটা বলল, “পেছনের দরজা দিয়ে বেরোলেই বাথরুম, কলঘর সব আছে।”

ভেতরে একটা চৌকি পাতা। দুটো বালিশ আর রান্না করার জন্য একটা স্টোভ আর কিছু বাসনপত্র রাখা আছে আগে থেকেই। কুন্তল দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। আধা সরকারি ফরেস্ট গার্ডের চাকরিতে এর থেকে ভালো আপ্যায়ন আশা করা ভুল। তাও যদি জায়গাটা পশ্চিমবঙ্গ হত তো ছুটিতে বাড়ির লোকের মুখ দেখা যেত। কিন্তু এটা নাগাল্যান্ড। ভারতবর্ষের একেবারে উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত তিনদিক পর্বত ঘেরা এক ছোট্ট রাজ্য। কুন্তল কিছুক্ষণ চৌকির ওপর চুপচাপ বসে রইল। হয়তো নিজেকে বোঝালো, বেশ কিছুদিন বা কয়েক বছর তাকে এখানেই প্রাণ হাতে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। অন্তত যতদিন না একটা ঠিকঠাক চাকরি জুটছে।

“উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ, দক্ষিণে মণিপুর, পশ্চিম আর উত্তর-পশ্চিমে আসাম, পূর্বদিকে মায়ানমার। তারই মাঝে আমাদের এই সবুজ রাজ্য নাগাল্যান্ড।”

সিনিয়র অফিসার অমিতাভ শিকদারের কথা মন দিয়ে শুনছে কুন্তল। বর্তমানে তার প্রথম ও প্রধান কাজ এই গোটা চত্বরের নাড়ি নক্ষত্র, পথঘাট, ভাষা, রীতিনীতি সব নখদর্পণে জমা করা যেন কেউ ঘুম থেকে তুলে জিজ্ঞাসা করলেও নির্ভুল উত্তর দিতে পারে। শিকদারের কথার মাঝেই অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে সে। তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে পাড়ার রক, পুকুর, রাস্তা, রিকশা স্ট্যান্ড, বন্ধু, পরিবার। নিঃসঙ্গ জঙ্গলে নিজেকে বাস্তবের শঙ্কর মনে হয় মাঝে মাঝে। ভাগ্যক্রমে সিনিয়র অফিসারটি বাঙালি। কুন্তল অবাক হয়ে শোনে। লোকটা কয়েক বছরেই কেমন মুখস্থ করে ফেলেছে গোটা এলাকাটা। অনায়াসে একটা বড়ো দা নিয়ে জঙ্গলের গভীরে আগাছা কাটতে কাটতে ঢুকে পড়ে। আবার ঠিক পথ চিনে বেরিয়ে আসে। কাঁধের ব্যাগে থাকে লাল, বেগুনি, সবুজ জংলি ফল। কত নাম না জানা ফুল ফুটে থাকে জঙ্গলে। তাদের একেক জনের একেক রকম বর্ণ, গন্ধ। জঙ্গলে একটা ঝিম ধরানো আবহ সৃষ্টি হয়। কুন্তলের আজকাল সেই পরিবেশটা খুব ভালো লাগে। এখন সেও একা একাই ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে। শিকদার খুশি হয়। বলে, “এভাবেই তো চিনতে পারবে, ভালোবাসতে পারবে জঙ্গলকে। জঙ্গলকে তুমি যা দেবে, তার দ্বিগুণ ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু জঙ্গলের নিয়ম ভাঙলেই তোমার সর্বনাশ নিশ্চিত।”

শিকদার লোকটা জঙ্গলকে সন্তানসম ভালোবাসে। কুন্তলও ধীরে ধীরে এই আলো-ছায়ার ধাঁধার নেশায় মোহিত হয়ে পড়ছে।

কুন্তলের পকেটে এখন জুটেছে লাইসেন্সড রিভলভার। জোরকদমে ট্রেনিং চলছে। চোরা শিকারিদের জব্দ করতে ফরেস্ট গার্ডদের বন্দুক চালানো শিখতেই হয়। কিন্তু তার সঙ্গে হুকুম থাকে, খবরদার, কোনও পশু যেন আহত না হয়। আরও অনেক কিছুই কুন্তল শিখেছে। রান্না করা, শাক-ভাত খেয়ে দিনের পর দিন কাটানো, হাতির পিঠে চেপে জঙ্গল পরিদর্শন করা, স্থানীয় ভাষা, নিয়মকানুন সব।

একরাত্রে কুন্তলের দরজায় জোর ধাক্কা। শব্দ শুনেই ধড়মড়িয়ে উঠে বসে সে। এখানে রাত্রে বেশিরভাগ সময় কারেন্ট থাকে না। বালিশের কাছে রাখা টর্চ আর বন্দুকটা বাগিয়ে ধীরে ধীরে দরজার কাছে গিয়ে নাগাল্যান্ডের ভাষায় জিজ্ঞাসা করে, “কে?”

ও-পাশ থেকে উত্তর আসে, “আরে আমি শিকদার। দরজা খোলো।”

কুন্তল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে‌ দরজা খোলে। অমিতাভ ঘরে ঢুকে এদিক ওদিক খুঁজে তার পিঠের ব্যাগে শুকনো খাবার ঢুকিয়ে নেয়। কুন্তলকে বলে রিভলভার লোড করে নিতে। আর যা কার্তুজ আছে তাও নিয়ে নিতে। কুন্তল অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। সব কাজ শেষ করে শিকদার চৌকিতে টানটান হয়ে শুয়ে পা নাড়াতে নাড়াতে বলে, “শুয়ে পড়ো চটপট। কাল ভোরের আগেই বেরোতে হবে। পূবদিকের জঙ্গলে চোরা শিকারির খোঁজ মিলেছে। হাতেনাতে ধরতে হবে।”

বলা বাহুল্য, কুন্তলের এই প্রথম জঙ্গল অভিযান। এর আগের দিনগুলো জঙ্গল চিনে বেরিয়েছে। এবার এসেছে গার্ডের চাকরির আসল কাজ। স্বভাবতই শিহরন খেলে গেল তার শরীরে। তবু নিজের অনুভূতি চেপে রেখে শিকদারের পাশেই শুয়ে পড়ল।

ভোরের আলো ফোটার আগেই ওরা তৈরি হয়ে নিল। জঙ্গলের বুনো গন্ধ শরীরে মেখে তারা মিশে গেছে ঘন সবুজে। শিকদার অভ্যস্ত হাতে আগাছা ছাঁটতে ছাঁটতে এগিয়ে চলেছে। একনাগাড়ে বলে যাচ্ছে নাগাল্যান্ডের ব্যথাতুর ইতিহাস। ইংরেজদের হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার পরেও এক ছোট্ট রাজ্যের আরেক স্বাধীনতার লড়াইয়ের ইতিহাস। শিকদারের গম্ভীর কণ্ঠের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে অজানা পোকাদের গুনগুনানি, শুকনো পাতার মর্মরধ্বনি, পাম, বাঁশ, টিম্বরের মতো চিরহরিৎ বৃক্ষের ঝিম ধরানো গন্ধ। ইতিমধ্যে কুন্তল এটা জেনে আশ্বস্ত হয়েছে যে তারা দুজনেই নয় আরও দুই প্রান্ত থেকে আসছে আরেকটা টিম। এই চোরা শিকারিরা বেশ ক’দিন ধরেই বেগ দিচ্ছে বনদপ্তরকে। এবারে এদের বাগে পেয়ে শায়েস্তা করতে হবে। অনেকক্ষণ একটানা হাঁটার পর ক্লান্ত হয়ে দুজনে বসে পড়ে একটা ইউক্যালিপ্টাস গাছের তলায়। এই গাছের গায়ে একটা সুন্দর গন্ধ আছে। ক্লান্তি দূর করে। শিকদার হাসে। “এই গাছের বাকল দিয়েই তো ব্যথার মলম, বাম তৈরি হয়। তাই গন্ধটাও চেনা।”

শিকদার ডিমাপুর বাজার থেকে এনেছে প্রচুর শুকনো খাবার। এই জঙ্গলে রেঁধে খাওয়া তো অসম্ভব। ফ্লাস্কে আনা গরম গরম কফি খেয়ে ওরা আবার যাত্রা শুরু করে। শিকদার মাঝেমধ্যেই ম্যাপ দেখে নিচ্ছে। এই গহিন উপত্যকায় মোবাইল টাওয়ার পাওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। ক্ষণে ক্ষণে কড়কড় করে বেজে উঠছে ওদের দুজনের পকেটে থাকা ওয়াকিটকি। সেটা থেমে গেলে ঝিঁঝিঁ পোকার উন্মাদনা আর শুকনো পাতার খসখসানি।

একটা অঞ্চলে প্রবেশ করার সঙ্গে-সঙ্গেই চারদিক আধো অন্ধকার দেখে থমকে দাঁড়াল কুন্তল। এখনই সন্ধে হয়ে গেল? শিকদার বোঝায়, এখানকার জঙ্গল বেশ ঘন। অনেকটা রেইন ফরেস্টের মতো। পাতার ঘনত্ব এত বেশি আর আকার এতটা প্রশস্ত যে সূর্যের আলোও ঠিকমতো প্রবেশ করে না। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারে না ওরা। জঙ্গলে সহসা একটা চঞ্চলতার সৃষ্টি হয়েছে। এতক্ষণ যে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ ছিল, সেই চাদর সরিয়ে ফেলে কারা যেন দাপাদাপি শুরু করেছে। কুন্তল দেখে একপাল বাঁদর একগাছ থেকে আরেক গাছে লাফালাফি করছে। কাঁউ কাঁউ শব্দে ভরিয়ে তুলছে চারদিক হরিণের দল। তাদের সামনে দিয়েই ছুটে চলে গেল একপাল সম্বর হরিণ। যেন মানুষের উপিস্থিতি বুঝতেই পারছে না। শিকদার কুন্তলকে হ্যাঁচকা টান মেরে সরিয়ে নিয়ে এল একটা গাছের তলায়। বলল, “কুন্তল কুইক। উঠে পড়ো।”

কুন্তলের এখনও গাছে ওঠার প্র্যাকটিস ঠিকমতো হয়নি, তবু অনভ্যস্ত হাতে ওপরে উঠতে-উঠতেই জিজ্ঞাসা করে, “স্যার, কী হয়েছে?”

সংক্ষিপ্ত উত্তর শুনে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। অ্যাঁ, বাঘ!

“জঙ্গলের একটা নিজস্ব নিয়ম আছে, বুঝলে কুন্তল। এই যে দেখলে সব প্রাণী হইচই করছে, এতে ওরা পরস্পরকে বুঝিয়ে দিল যে সামনেই বিপদ। সবাই নিজের নিজের জায়গা থেকে সরে গেল। গাছের ডালটা শক্ত করে ধরে থাকো। যাই হোক, এবার বাঘ বাবাজি এসে বরাত জোরে যাকে পাবে তাকে দিয়েই লাঞ্চ-ডিনার সারার ব্যবস্থা করবেন।”

শিকদার গাছের ডালে বসেই কুন্তলকে পাঠ পড়াচ্ছেন। কুন্তলের এখন এসব কিছুই ভালো লাগছে না। ভালোয় ভালোয় বেঁচে ফিরতে পারলে হয়। শিকদার হঠাৎ চুপ মেরে যায়। কুন্তলকে চোখের ইশারায় একটা নির্দিষ্ট দিক দেখায়। কুন্তল গলায় ঝোলানো দূরবীনটা চোখে লাগিয়ে দেখে ঝোপের ভিতর নড়াচড়া করছে হলদে কালো ডোরাকাটা প্রাণীটি। ঠিক বিড়ালের মতো ঘাপটি মেরে বসে আছে। চোখের নিমেষে পেরিয়ে গেল একটা জংলি শুয়োর। বাঘটা তড়িৎবেগে ঝাঁপিয়ে পড়ল তার ওপর। হরিণ হলে হয়তো ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের কোনও দৃশ্য সামনাসামনি উপভোগ করা যেত, কিন্তু ইনি বরাহ। বাঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়োনোর মতো এলেম এর নেই। ফলত বাঘের থাবাতেই তার ইহাকালের পরিসমাপ্তি ঘটল। নিরীহ প্রাণীটার আর্তনাদ আর বাঘের গর্জনে কানে তালা লাগার উপক্রম। শুয়োরটাকে মুখে ধরে আবার নিঃশব্দে বাঘটা মিশে গেল বনের ভিতর।

শিকদার গাছ থেকে নামতে নামতে বলল, “ব্যস, এখন আর চিন্তা নেই। ও-ব্যাটা এখন খাবে। বাকি খাবার লুকাবে। তারপর জল খেতে যাবে। ততক্ষণে আমরা এই এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারব। তবে আমরা যেমন বাঘ দেখেছি, বাঘও কিন্তু আমাদের দেখেছে। শুধু পাত্তা দেয়নি বলে বেঁচে আছি।”

শিকদার এগোতে থাকে। কুন্তল মনে মনে ঈশ্বরকে প্রণাম করতে করতে তার পিছু নেয়।

দিনের আলো পড়ে এল প্রায়। এখনও কোনও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়নি ওরা। ওয়াকিটকির শব্দও থেমে গেছে। কুন্তল শ্রান্ত হয়ে পড়েছে। এভাবে সারাদিন যে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে হবে তা কে জানত? অমিতাভ শিকদারের কোনও হেলদোল নেই। সে একহাতে আগাছা কাটছে আর এগোচ্ছে। বাঘের ঘাঁটি থেকে বেশ কিছুটা দূরে এসে পড়েছে ওরা। পেটের ভিতর ইঁদুরে লাফালাফি শুরু করেছে। কাঁহাতক শুকনো চিড়ে-মুড়ি খেয়ে কাটানো যায়! কুন্তল এবার বেশ বিরক্ত হয়েই জিজ্ঞাসা করল, “অনেকটা পথই তো পেরিয়ে এলাম স্যার। এখনও তো কিছু পেলাম না।”

এই কথায় শিকদার থমকে গেল। পিছন ফিরে শূন্য দৃষ্টিতে কুন্তলের দিকে তাকিয়ে রইল। কুন্তল মনে মনে প্রমাদ গোনল। এই বুঝি বকাঝকা শুরু হল। শিকদার কিন্তু কিছুই করল না। ব্যাগ থেকে ম্যাপ বের করে টান টান করে ধরতে বলল কুন্তলকে। তার ওপর কম্পাস রেখে ডানদিক বাঁদিক ঘুরে ফিরে ধপ করে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল মাটিতে। কুন্তল ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। হলটা কী লোকটার? সেও হাঁটু মুড়ে বসে জিজ্ঞাসা করল, “কী হল স্যার?”

শিকদার মাথা নেড়ে জবাব দেয়, “সর্বনাশ হয়ে গেছে কুন্তল। আমরা পথ হারিয়েছি।”

অমিতাভ শিকদারের কথা শুনে কুন্তলও আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না। সেও হুড়মুড় করে বসে পড়ল শিকদারের পাশে। ভেতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। এ-যাত্রায় আর বুঝি বাড়ির মুখ দেখা হল না। বাঘের বা অন্য কোন হিংস্র প্রাণীর পেটেই শেষকৃত্য সমাধা হবে। অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসছে। পাখিরা আকাশ-বাতাস মাতিয়ে ফিরে আসছে নিজ নিজ নীড়ে। কুন্তলের খুব কান্না পাচ্ছে। যে-জঙ্গলে দিনের আলো প্রবেশ করে না, সে-জঙ্গলে অন্ধকারে পথ খোঁজা একপ্রকার বোকামি। এমন সময় শিকদার উঠে দাঁড়াল। কুন্তল মুহূর্তমাত্র দেরি না করে তার পিছু নিল। শিকদার আবার একটা শক্তপোক্ত গাছ দেখে উঠতে শুরু করল। এই গাছের ডালেই সারারাত কাটাতে হবে। দিনের আলো ফুটলে আবার ফেরার পথ ধরা যাবে। তবে আফসোস একটাই যে-কাজে এতদূর প্রাণের বাজি রেখে আসা সেই কাজটাই হল না।

রাত গভীর হয়ে আসছে। অন্ধকারে চোখ সয়ে গেছে ধীরে ধীরে। চারদিকে বিভিন্ন নাম না জানা পোকামাকড়ের, পশুর শব্দ। মাঝে-মাঝেই গাছের নীচে ঝরা পাতার খচমচ শব্দ আসছে। ওরা হয়তো দৈনন্দিন গন্ধের থেকে একটু আলাদা গন্ধের সন্ধান পেয়েছে বলে বারে বারে ফিরে আসছে। গাছের যে ডালে ওরা বসে আছে, তার ঠিক পাশেই আরেকটা ডালে বসে আছে কয়েক জোড়া বাঁদর। তাদের গাঁট্টাগোট্টা চেহারা দেখে কুন্তলের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। অমিতাভ-স্যারের কড়া নির্দেশ, ওদের সামনে কিচ্ছুটি খাওয়া যাবে না। একবার যদি ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাহলে খাবারও হাতছাড়া হবে, প্রাণটাও বেঘোরে যাবে।

গাছের ডালে দুটো মানুষ ভোরের অপেক্ষায় নির্ঘুম রাত যাপন করে চলেছে। চাঁদের আলো পাতার চাদর চুঁইয়ে ঝাঁঝরি নকশা তৈরি করেছে জঙ্গুলে পাথুরে ভূমিতে। শিকদারের নাক থেকে বেরিয়ে আসছে মৃদু গর্জন। কুন্তলেরও চোখ লেগে এল। হঠাৎ দূরে একটা মসমস শব্দে তার তন্দ্রা ভেঙে গেল। দূরবীন চোখে দিয়ে দেখতে পেল একটা ক্ষীণ আলোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কুন্তল শিকদারকে মৃদু টোকা দিল, কিন্তু তার ঘুম ভাঙল না। বন্দুকটা বাগিয়ে ধরে সে সন্তর্পণে নেমে এল নীচে। ভগবান হয়তো মুখ তুলে চেয়েছেন। তারা পথ হারালেও চোরা শিকারির দল হয়তো এই পথেই হানা দিয়েছে। কুন্তল মনে মনে যে-কোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি হয়ে নিল। সময় বড্ড কম। শিকদারের অপেক্ষা করলে যদি ওরা পালিয়ে যায়!

কুন্তল নিঃশব্দে এগোতে লাগল। আগাছার সারিতে কাঁটা-ঝোপ ভর্তি। তার হাতে-পায়ে আঁচড় লাগছে, রক্ত বেরোচ্ছে, তবু সে থামল না। পরিশেষে সেই আলোকে অনুসরণ করতে করতে সে বুঝতে পারল আলোটা ক্রমশ বড়ো হয়ে এসেছে। দূর থেকে যেটা মনে হচ্ছিল মাটির কাছে, এখন বোঝা যাচ্ছে সেটা একটা উঁচু টিলার ওপরে। এত ঔজ্জ্বল্য কুন্তল এর আগে কখনও দেখেনি। বৈদ্যুতিক বাল্বও এর কাছে ম্লান। কুন্তল বুঝতে পারে, এখানে একা একা আসা তার উচিত হয়নি। ফিরে যাওয়া উচিত। এখানে চোরা শিকারিদের আসার কোনও লক্ষণ নেই। সে স্থির করল, এবার ফিরে যেতে হবে। আর পিছন ফিরেই চমকে উঠল। আধো অন্ধকারে একটা মানুষ স্থির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। কুন্তল তার হাতের লাঠি আর জ্বলন্ত দৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না। পলক ফেলতেই লোকটা কুন্তলকে পিছমোড়া করে বেঁধে জোর করে টেনে নিয়ে এল অপেক্ষাকৃত একটা ফাঁকা জায়গায়। সেখানে আরও কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে। তাদের সবার হাতেই একটা করে লম্বা লাঠি। লোকগুলো চক্রকারে ঘিরে রেখেছে আরেকটা লোককে। সেই লোকটাও পিছমোড়া হয়ে বাঁধা। মুখ থুবড়ে পড়ে আছে মাটির ওপর। কুন্তলকেও সেই লোকটার পাশে ধাক্কা মেরে বসিয়ে দেওয়া হল। কুন্তল শুনল তার পাশের লোকটা বলছে, “যা বলছে চুপচাপ মেনে নাও কুন্তল। বেশি ধস্তাধস্তি করলেই মারছে।”

কুন্তল বুঝল, শিকদার ধরা পড়েছে। কিন্তু এই লোকগুলো কারা? কেনই-বা ওদের এভাবে বন্দি করেছে? বহু প্রশ্ন ভিড় করে আসছে কুন্তলের মাথায়। তবে সে-সব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে। মানুষগুলো সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেছে একটা নির্দিষ্ট দিকে। ওদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে কুন্তল আর অমিতাভ। ওদের চোখে নেমে এসেছে রাজ্যের ঘুম। ক্লান্ত শরীর নড়তে চাইছে না। তবু হেঁটে যেতে হবে।

“নাগাল্যান্ডে অফিসিয়ালি আদিবাসী দলের সংখ্যা কুড়ি, কিন্তু নন-অফিসিয়ালি অগুনতি। সাধারণত কোনিয়াক জাতিদের নাম বেশি জানা যায়। তবে এছাড়াও রয়েছে সেমাস, ফোমস, অঙ্গামিস—আরও অনেক উপজাতি। আমরা কাদের পাল্লায় পড়েছি তা বুঝতে পারছি না কুন্তল।” শিকদার এই বিপদেও নিজের জ্ঞান ভাণ্ডার উজাড় করছে। হয়তো কুন্তলকে টেনশন মুক্ত করতে চাইছে।

এখন ওরা একটা মুক্ত প্রান্তরে। এখানে জঙ্গল একটু পাতলা। মনুষ্য বসবাসের চিহ্ন রয়েছে। ওদের বসিয়ে রাখা হয়েছে একটা গাছের গুড়ির সঙ্গে বেঁধে। এদিক ওদিক হেঁটে বেড়াচ্ছে কিছু আদিবাসী মানুষ। বসবাসের জন্য তারা বানিয়ে নিয়েছে শুকনো গাছপালা, পাথর ইত্যাদি দিয়ে বাড়ি। আগুনে পোড়া কিছু জিনিসপত্রের চিহ্নও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একটা আবছা আলো আলোকিত করে রেখেছে জায়গাটা। কিন্তু সেই আলোর উৎস চোখে পড়ছে না ওদের।

কুন্তল বলল, “আপনি তো এদের ভাষা জানেন। একটু কথা বলে বোঝান না যে আমরা ওদের ক্ষতি করতে আসিনি।”

অমিতাভ হাসে। “সে উপায় থাকলে কি আর করতাম না ব্রাদার? কিন্তু অসুবিধা আছে যে।”

কুন্তল অবাক হল। “কী অসুবিধা?”

অমিতাভ বলে, “এখানে ষাট ধরনের ভাষা আছে। কোনও কমন ল্যাঙ্গুয়েজ নেই। কোন আদিবাসী দল কোন ভাষা বলে কীভাবে বুঝব?”

কুন্তল দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। একটা আশার আলো দেখা গেছিল, সেটাও হারিয়ে গেল। এবার বাঘের পেট ছেড়ে মানুষের পেটেই জীবনটা শেষ হয়ে যাবে।

হঠাৎ একটা কোলাহল শোনা গেল দূরে। মানুষগুলো সেই শুনে সেদিকে ছুটে গেল। কিন্তু যাওয়ার আগে কুন্তল আর অমিতাভকে একা রেখে গেল না। ওদেরও সঙ্গে নিয়ে গেল, তবে অবশ্যই হাত বেঁধে। অপেক্ষাকৃত একটা উঁচু জায়গায় এসে ওরা দেখতে পেল একটা ছোট্ট গুহা। সেই গুহা থেকে ছিটকে বেরোচ্ছে আলোর ছটা। কুন্তল বুঝল, এই আলোই সে দেখেছিল অতদূর থেকে। এই আলোর জন্যই বিনা আগুনেই এই অন্ধকার রাতেও এই এলাকা আলোকিত হয়ে আছে। কিন্তু কোলাহলটা কীসের? অমিতাভ আর কুন্তল চারদিক পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পেল আরেক দল সভ্য মানুষকে। তাদেরও এরা বেঁধে রেখেছে একটা গাছের গুড়ির সঙ্গে। দলের সর্দার প্রচণ্ড রাগে ফেটে পড়ছে ওদের ওপর। দূরে একটা জায়গায় আগুন জ্বালানো হয়েছে। লোকগুলো সেই আগুনের দিকে তাকিয়ে ছটফট করছে। অমিতাভ এই অবস্থাতেও ফিকফিক করে হেসে উঠল। কুন্তল অবাক চোখে চেয়ে বলল, “স্যার আপনি হাসছেন?”

শিকদার বলল, “কুন্তল, আমরা যাদের খুঁজতে এতদূর এলাম তারা আমাদের হাত থেকে নিস্তার পেলেও এদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।”

“কী করে বুঝলেন এরা চোরা শিকারি?”

“ওই যে দেখছ রাইফেল, ওরকম রাইফেল আমরা ব্যবহার করি না। পাশে দেখি রয়েছে বস্তা। আমি শিওর, এরাই সেই দল।”

কুন্তল মনে মনে শিকদারের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে কুর্নিশ জানাল। কিন্তু এই মুহূর্তে এদের নিয়ে কেন গণ্ডগোল হচ্ছে সেটাই বুঝতে পারল না। দলের সর্দার বার বার গুহার দিকে ফিরে কিছু বলছে আর প্রণাম করছে। কুন্তল শিকদারকে কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই সে বলে উঠল, “তুমি যে কী সাংঘাতিক একখানা গুপ্তধন আবিষ্কার করেছ না কুন্তল, তা তুমি নিজেও জানো না!”

কুন্তল অবাক চোখে তাকাল। “আমি?”

অমিতাভ বলল, “ওই যে ওই গুহা দেখছ, ওতে রয়েছে একটা রহস্যময় মূর্তি। এই মূর্তির কথা কেউ জানতে পারত না যদি না দুজন পর্যটক ঘুরতে ঘুরতে চলে আসত এই নীল পাহাড়ে। সে প্রায় এক যুগ আগের ঘটনা। গল্পটা লোকমুখে প্রচলিত। ওরা ছিল পাশের দেশ মায়ানমারের বাসিন্দা। ওদের শখই ছিল রংরুটে ঘুরে বেড়ানো। ঘুরতে ঘুরতে এই তল্লাটে এসে ওরা রাতে থাকার জন্য একটা ফাঁকা জায়গা দেখে তাঁবু খাটাল। পরক্ষণেই ওদের নজরে এল এই আলো। এত তীব্র আলো এত ঘন জঙ্গলে এল কীভাবে সেই ভেবেই ওরা অবাক হয়ে গেল। ওরাও তোমার মতোই এগিয়ে এল এদিকে। পেরিয়ে গেল সীমানা আর আমাদেরই মতো বন্দি হয়ে গেল।”

“তারপর? তারপর কী হল স্যার?”

“তারপর? তারপর লোভ ওদের একজনের প্রাণ কেড়ে নিল।”

“লোভ? কীসের লোভ?”

“এই অদ্ভুত মূর্তিটা দেখে সেটা নিয়ে যাওয়ার লোভ সামলাতে পারল না একজন। সে সবার চোখ এড়িয়ে ঢুকে পড়ল গুহায়। তারপর তাকে আর পাওয়া গেল না।”

“পাওয়া গেল না? আর আরেকজন?”

“নাহ্‌, কোনও চিহ্নই পাওয়া গেল না। আরেকজন এদের হাত থেকে কোনোমতে ছাড়া পেয়ে এসে পৌঁছায় লোকালয়ে। স্থানীয় পুলিশকে সব ঘটনা বলল। কে কতটা বিশ্বাস করেছিল জানা নেই, তবে লোকটা সে-যাত্রায় দেশে ফিরতে পেরেছিল।”

কুন্তলের ভেতরটা আবার নড়ে উঠল। সেই লোকটা পালাতে পেরেছিল। ওরা কি পারবে? আদিবাসীরা এবার চোরা শিকারিদের টেনে-হিঁচড়ে সেই আগুনের দিকে নিয়ে যেতে চাইল। বুঝতে বাকি থাকল না, শুধুমাত্র পশুর চামড়া, হাতির দাঁত বা দামি গাছই নয়, এদের নজর পড়েছিল এই আলোকিত মূর্তির ওপরেও। সেই অপরাধের শাস্তি দিতেই উঠে পড়ে লেগেছে এরা। তাদের আরাধ্য দেবতাকে এভাবে অপহরণের শাস্তি মৃত্যু ছাড়া আর কিছু হতেই পারে না। লোকগুলো আপ্রাণ চেষ্টা করছে নিজেদের রক্ষা করার। আচমকা একটা ধাক্কা এসে পড়ল কুন্তল ও অমিতাভর শরীরে। ওদেরও ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জ্বলন্ত ভাঁটির দিকে। অমিতাভ তার জানা সমস্ত ভাষা প্রয়োগ করেও ওদের বোঝাতে পারল না যে তারা ওদের কোনও ক্ষতিসাধন করতে আসেনি। একটা হট্টগোল বেধে গেল নিস্তব্ধ পাহাড় অঞ্চলে।

হঠাৎ কুন্তলের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে আচমকা তার পিছনে বাঁধা হাত দুটো সুনিপুণভাবে বেঁকিয়ে কোমরের নীচে থেকে স্বাভাবিকভাবে সামনে এনে ফেলল। শিকদার ওর কাণ্ড দেখে অবাক। কুন্তল হাসে। “পাড়ার ক্লাবে বহুবছর যোগ ব্যায়াম শিখেছি। তারই একটা নমুনা স্যার।”

এবার বাঁধা হাতের মাধ্যমেই পকেটে থাকা ছুরিটা বের করে এনে কোনোমতে দড়ির বাঁধন আলগা করে নিল। নিজের বাঁধন খুলেই সে খুলে দিল অমিতাভর বাঁধন। ক্ষিপ্রতার সঙ্গে কাজটা করে ফেলেই ওরা সকলের নজর এড়িয়ে পৌঁছে গেল পাহাড়ের ঢালের দিকে। কিন্তু খাড়া পথ। নামতে গেলেই পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অনেক ভেবে অমিতাভ কুন্তলের হাত ধরে ক্ষিপ্র গতিতে ঢুকে পড়ে ওই জ্বলন্ত মূর্তির গুহার ভেতর। কুন্তলের বুকের ভেতরটা ঢিবঢিব করতে থাকে। কোলাহলের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। আলোর সামনে দাঁড়িয়ে ওরা বুঝতে পারে এটা কোনও অলৌকিক মূর্তি নয় বরং একটা প্রমাণ সাইজের আকর খনিজ। এর কোনও নির্দিষ্ট আকার নেই। পাথরটির শুভ্র আলোর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কুন্তল অস্ফুটে বলে ফেলে, “স্যার, এটা তো… এটা তো রেডিয়াম!”

অমিতাভ মাথা নাড়ে, “হ্যাঁ, পিওর রেডিয়াম। আমি কখনও জীবনে এত বড়ো রেডিয়াম দেখিনি। এর আলোকেই এই প্রজাতি দেবতা জ্ঞানে পূজা করে।”

“এখানে কি রেডিয়ামের খনি আছে?”

“না, কিন্তু ইউরেনিয়ামের আছে। ইউরেনিয়াম ক্ষয় হয়েই তৈরি হয় রেডিয়াম। নাকে রুমাল চাপা দাও। এর গ্যাস মারাত্মক ক্ষতিকর। বিজ্ঞানী ক্যুরি এই গ্যাসেই মারা গেছিলেন।”

কুন্তল বলে উঠল, “স্যার, এখন থেকে বেরোব কীভাবে?”

অমিতাভ হামাগুড়ি দিয়ে একটু এগিয়েই একটা কিছু দেখে একচোট হেসে নিয়ে বলল, “যদি কপালে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই আমরা বেঁচে ফিরব। এসো।” বলেই কুন্তলকে টেনে মাটিতে বসিয়ে একটা গুপ্ত গহ্বরে নিজেকে পিছলে দিল। কুন্তলও এক মুহূর্ত দেরি না করে পিছু নিল।

ঠিক কতক্ষণ সময় লাগল তা জানা নেই, কিন্তু ওই গুহার গুপ্ত গলিপথ ধরে ওরা সোজা এসে পড়ল একটি জলাশয়ে। কুলু কুলু বয়ে চলা সেই নদীর জল মেখে যখন ওরা মুক্তির নিঃশ্বাস নিল তখন পুবের আকাশ রাঙা হয়ে এসেছে। অমিতাভর ওয়াকিটকি সিগন্যাল পেয়ে আবার কর্কশ ধ্বনি তুলল। অমিতাভ নানাভাবে দলকে বোঝাতে চাইছে তাদের অবস্থান। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই রেসকিউ টিম চলে আসবে।

কুন্তল এক জায়গায় গুটিশুটি মেরে বসে ভাবতে লাগল প্রকৃতির অদ্ভুত খেলা। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ওই গুপ্তপথ যদি ওই গুহায় না থাকত তাহলে কীভাবে বেঁচে ফিরত ওরা? বাঁচতে কি পেরেছিল সেই লোকটাও? সভ্যতা যদি সবকিছুই গ্রাস করতে চায় তাহলে প্রকৃতির রহস্যময়তা থাকবে কীভাবে? থাক না কিছু অব্যক্ত। কুন্তল শুনতে পায় রিসকিউ টিমের বাঁশির শব্দ। নতুন এক সূর্য উঠেছে।

ছবি- জয়ন্ত বিশ্বাস

জয়ঢাকের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s