Toyঢাক-গল্প -রক্তের রং নীল-অভিরাজ- শরৎ ২০২১

toydhakrokterrongneel

২০১০ সাল।

আমি ছিলাম একজন বৈমানিক। আমি ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছিলাম একটা মাল বোঝাই উড়োজাহাজ নিয়ে। আমি ছাড়াও সঙ্গে ছিল আরও ছ’জন সহকারী। আবহাওয়া ছিল চমৎকার। মাঝ আকাশে যখন আমাদের বিমান ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল হঠাৎ করেই প্লেনের সব যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব। আকাশটা আচমকা কালো হয়ে গেছিল। কোথা থেকে একরাশ কালো মেঘ এসে আকাশটা ঢেকে দিয়েছিল। অথচ কন্ট্রোল রুম থেকে খারাপ আবহাওয়ার কোনও পূর্বাভাস ছিল না।

বিমানটা যেন কোনও না দেখা কিছুতে ধাক্কা খেয়ে নীচের দিকে পড়তে লাগল। আমাদের কাছে প্যারাসুট ছিল। কিন্তু মাত্র ছ’টা। আমি বিমানের ক্যাপ্টেন, তাই দলের ছ’জনকে সেগুলো নিয়ে বিমান থেকে ঝাঁপ দিতে বললাম। ওরা আমাকে ফেলে রেখে যেতে চাইছিল না। কিন্তু আমি ওদের বললাম, “তোমরা লাফিয়ে পড়ো, আমি প্লেনটা জলের ওপর নামানোর চেষ্টা করছি।”

আমি ভালোই জানতাম সেটা সম্ভব নয়, কারণ কোনও যন্ত্রই কাজ করছে না।

প্লেনটা লাট্টুর মতো ঘুরতে ঘুরতে জলে পড়ে গেল আর আমি জ্ঞান হারালাম। খানিক বাদে আমার জ্ঞান ফিরে এল। দেখলাম জলের তলায় একটা দ্বীপের মতো জায়গায় আমার ঠাঁই হয়েছে।

কী আশ্চর্য, জলের তলায় নিঃশ্বাস নিতে আমার কষ্ট হচ্ছিল না। সিট বেল্ট খুলে দরজার বাইরে বেরোতেই দেখলাম চারপাশে অদ্ভুত দর্শন মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে। শরীরটা মাছের মতো হলেও ওদের মানুষের মতো হাত-পা। ওরা আমাকে দেখতে পেয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছিল। একটা চার-পাওয়ালা প্রাণীও ছিল। সেটা ঠিক কুকুরের মতো ডাকছিল। আমি অবাক হয়ে গেছিলাম। কারণ জলের তলায় আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট তো হচ্ছিলই না, আর কুকুরের ডাকও শুনতে পাচ্ছিলাম ঠিক জলের ওপরের মতো। অথচ জলের তলায় তো কোনও শব্দ শুনতে পাবার কথা নয়।

জায়গাটা একরকম হলদে রঙের গাছে বোঝাই। অনেকটা সোনার মতো চকচক করছিল গাছগুলো। খানিক ওপর দিয়ে বিশাল আকারের হাঙরের মতো কতগুলো কী যেন ঘুরছিল। ওগুলো দেখেই মানুষের মতো হাত-পাওয়ালা মাছগুলো সব জলের মাঝের পাথরের ফাঁকফোকরে লুকিয়ে পড়ল। আমিও ওদের দেখাদেখি একটা পাথরের ফাঁকে গুটিসুটি মেরে বসে রইলাম।

একটু পরেই টের পেলাম, ওই হাঙরের মতো দেখতে ওটা আসলে একটা সাবমেরিন। একটা নয়, বেশ কয়েকটা। ওগুলো ধীরে ধীরে জলে ডোবা দ্বীপটার ওপর এসে নামছিল। আমি চুপ করে বসে ছিলাম। দেখি, সাবমেরিন থেকে বৈজ্ঞানিকের মতো আলখাল্লা পরা একটা লোক নেমে এল। আর পেছন পেছন অনেকগুলো রোবট। রোবটগুলোর হাতের আঙুলগুলো এক-একটা বন্দুকের নলের মতো।

সবক’টা মাছ লুকোতে পারেনি। ওরা বালির ওপর চুপ করে বসে ছিল। আলখাল্লা পরা লোকটা একটা কী ইশারা করতেই রোবটগুলোর আঙুলের ডগা থেকে গুলি বেরোতে শুরু করল আর মাছগুলো একের পর এক বালির ওপর লুটিয়ে পড়তে লাগল। জায়গাটা কেমন নীলচে রঙে ঢেকে গেছিল। বুঝতে পারছিলাম না ওগুলো কি নীল রঙের মাছের রক্ত, না অন্য কোনও কিছু।

কিছু রোবট মরা মাছগুলোকে পা দিয়ে এক জায়গায় জড়ো করতে লাগল। আর একদল রোবট ওই হলদে রঙের গাছগুলো কেটে জড়ো করছিল। ওই রোবটগুলোর হাতের আঙুলগুলো দেখতে ঠিক করাতের দাঁতের মতো। আমার কেন যেন মনে হতে লাগল, লোকটা রোবট বাহিনী নিয়ে এসেছে এই গাছগুলো নিয়ে যেতে। কিন্তু কেন? গাছগুলো সোনার নয় তো?

কানে এল ওই লোকটা হাতে একটা রিমোটের মতো যন্ত্র নিয়ে বলছে, “এই সোনা গাছগুলো সব উপড়ে নিয়ে গিয়ে আজই জায়গাটা ধ্বংস করে দিতে হবে। কেউ যেন হদিশ না পায় এ জায়গাটার আর এখানকার মাছ-মানুষদের।”

আমার মাথা ঘুরতে লাগল। আমি জলের তলায় স্পষ্ট মানুষের গলা শুনতে পাচ্ছিলাম। আরও আশ্চর্য, লোকটাও কোনও ডুবুরির পোশাক পরে নেই। আর জলের তলা থেকেও যে ফোনে কথা বলা যায়, এটা আমার ধারণার বাইরে ছিল।

রোবটগুলো হলুদরঙা কাটা গাছগুলো সাবমেরিনের ভেতর তুলছিল। সংখ্যায় গোটা দশেক হবে সাবমেরিন। নড়াচড়া করছিলাম না, পাছে ওরা আমার উপস্থিতি জেনে যায়। কিন্তু লুকিয়ে থাকতে পারলাম না। পাথরের খাঁজে আটকে থাকা আমার বিমানটা ওদের নজরে পড়ে গেছিল। লোকটা এগিয়ে গেল আমার বিমানের দিকে। তারপর চালকের আসনের পাশের খোলা দরজা দিয়ে বিমানের ভেতর মুখ ঢুকিয়ে কিছু দেখতে লাগল। মনে হল যেন আমাকেই খুঁজছিল। তারপর রিমোটের মতো যন্ত্রটা মুখের সামনে তুলে কার সঙ্গে কথা বলতে লাগল। মনে হল যেন ওরা বুঝতে পেরেছে অন্য কোনও মানুষও এই দ্বীপে উপস্থিত।

লোকটা বিমানের থেকে খানিক দূরে সরে এসে খানিক কী যেন ভাবল। আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব। খালি বুঝতে পারছিলাম, নড়লেই বিপদ।

লোকটা বন্দুকের নলের মতো আঙুলওয়ালা রোবটগুলোর দিকে কী একটা ইশারা করতেই রোবটগুলো পাথরের ফোকর লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুড়তে লাগল। জায়গাটার জল, মরা মাছের রক্তে গাঢ় নীল হয়ে উঠছিল। আর করাতের মতো আঙুলওয়ালা রোবটগুলো পাথরের ফাঁকফোকরে লম্বা শেয়ালের মতো ছুঁচলো মুখ ঢুকিয়ে আমাকে খুঁজছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম, বেশিক্ষণ লুকিয়ে থাকতে পারব না। আমার পকেটে একটা ভাইব্রেটর যন্ত্র ছিল। আমি সেটা চালু করে খানিক দূরে ছুড়ে দিয়েছিলাম। জলের কাঁপুনি লক্ষ্য করে একদল রোবট ছুটে গেছিল সেদিকে। একটা রোবট যন্ত্রটা হাতে নিয়ে সেটা লোকটার হাতে তুলে দিয়েছিল। লোকটা যন্ত্রটা হাতে নিয়ে খানিক উলটেপালটে দেখে সেটা বালির ওপর ফেলে তার ওপর পা দিয়ে লাথি চালাতে শুরু করেছিল। তারপর রোবটগুলোকে কিছু ইশারা করতেই ওরা গোল হয়ে এগিয়ে আসতে শুরু করেছিল আমি যেই পাথরের ফাঁকে লুকিয়ে আছি, সেদিকেই। বুঝেছিলাম ধরা পড়ে যাব।

আমি ভালো করে লুকোতে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের অন্য একটা বড়ো পাথরের ফাটলে গিয়ে ঢুকেছিলাম। ফাটলের ভেতর খানিক এগোতেই দেখি একটা সিঁড়ি। কী ভেবে আমি সিঁড়ি বেয়ে নামতে লাগলাম। দেখি, সিঁড়িটা গিয়ে যেখানে শেষ হয়েছে সেটা একটা গুহা। আর সেই গুহামুখের সামনে একটা পাথরের ওপর ছোটো ছোটো তিনটে গোল মাছের মাথাওয়ালা দণ্ড। একটার রং গোলাপি, একটার সোনা আর একটার কালো। আমি কিছু না ভেবে গোলাপি দণ্ডটা তুলে নিয়েছিলাম। আমার শরীরটা কেঁপে উঠেছিল। মনে হয়েছিল যেন গায়ে অনেক শক্তি বেড়ে গেছে, আমি চাইলেই এক ঘুসিতে পাথর পাঠিয়ে দিতে পারি।

বাকি দণ্ড দুটো নিয়ে কী করব ভাবতে ভাবতে জলে কাঁপুনি টের পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল সিঁড়ি বেয়ে কিছু যেন নেমে আসছে। আমি তাড়াতাড়ি গুহার ভেতরে ঢুকে গেছিলাম। গুহার ভেতরের পাথরগুলোও হলুদ রঙের। একটা পাথরের আড়াল থেকে একটু মুখ বের করে দেখি সেই লোকটা আর তার পেছনে পেছনে আঙুল উঁচিয়ে রোবটের দল।

লোকটা দণ্ড দুটো দেখেই এগিয়ে এসেছিল। হলুদ রঙের দণ্ডটা তুলে সেটা কালো রঙের দণ্ডের দিকে এগিয়ে ধরতেই দুটো পরস্পরের সঙ্গে চুম্বকের মতো লেগে গেছিল। আর লোকটা পাগলের মতো হাসতে হাসতে বলে উঠেছিল, “চলো সবাই, আমি এখন এই দুনিয়ার সবচাইতে শক্তিশালী মানুষ।”

ওদের পেছন পেছন আমিও গুহা থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। ওরা গুহা থেকে বেরিয়ে এগিয়ে গেছিল সাবমেরিনগুলোর দিকে। খানিক সময়ের মধ্যেই সাবমেরিনগুলো জলের তলার দ্বীপটা ছেড়ে উঠতে শুরু করেছিল।

দেখি, সবক’টা সাবমেরিন চলে গেলেও একটা থেকে গেছে। আমি এগিয়ে গেছিলাম সাবমেরিনটার দিকে। দরজাটা খোলা ছিল। আমি কোনও কিছু না ভেবেই উঠে পড়েছিলাম সাবমেরিনটার ভেতর। এর আগে একবার ভাইজ্যাগে একটা সাবমেরিনের ভেতর ঢুকেছিলাম। এ-ঘর ও-ঘর করতে করতে একটা ঘরে পৌঁছেছিলাম, যেটা দেখেই মনে হয়েছিল এটা কন্ট্রোল রুম। বিমানের ককপিটের থেকে অনেক অনেক বেশি যন্ত্রে ঠাসা। কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সাবমেরিন কী করে চালায় কোনও ধারণা ছিল না। তবে অনেকগুলো যন্ত্রই চেনা চেনা ঠেকছিল। অজস্র মিটার আর লিভার। ধরতেও ভয় লাগছিল, কী জানি যদি কিছু হয়ে যায়! সবমেরিনের কাচ দিয়ে ঢাকা ছাদটা অনেক উঁচুতে। নজরে এসছিল একটা লাল রঙের বোতাম। পাশে চাপ দেওয়ার চিহ্ন। কী মনে হতে একটা চেয়ার টেনে দাঁড়িয়ে বোতামটা চাপ দিতেই টের পেয়েছিলাম সাবমেরিনের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নানা আওয়াজ করতে করতে সাবমেরিনটা চালু হয়ে গেছিল। সাবমেরিনের ভেতর ভর্তি হয়ে থাকা জল উধাও হয়ে যাচ্ছিল।

ভয় না পেয়ে দাঁড়িয়ে গেছিলাম কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে। জয়স্টিকের মতো একটা যন্ত্র দেখে মনে হয়েছিল এটা দিয়ে বোধ হয় জাহাজটা চালানো যায়। বিমানেও তো এটাই থাকে। জয়স্টিকটা সামনের দিকে ঠেলে ধরতেই সাবমেরিনটা উঠতে শুরু করেছিল। সমানে টিভির মতো পর্দায় ফুটে উঠেছিল জলের তলার দৃশ্য। অজস্র মাছ ছিটকে সরে যাচ্ছিল সামনে থেকে।

আচমকা আমাকে চমকে দিয়ে কেবিনের ভেতরটা হাসির শব্দে কেঁপে উঠেছিল, “ভেবেছ চুরি করে আমাদের সাবমেরিন নিয়ে পালাবে? এখুনি মজা টের পাওয়াচ্ছি।”

কেবিনের ভেতর থাকা অনেকগুলো টিভির পর্দার একটায় দেখি একটা সাবমেরিন ধেয়ে আসছে আমার দিকে। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। উড়োজাহাজ চালতে জানি, কিন্তু জলের তলার জাহাজ চালাবার বিদ্যে আমার জানা নেই।

কন্ট্রোল প্যানেলে দেখি একটা বোতামের তলায় লেখা ‘বুস্ট’। আমার সাহস যেন বেড়ে গেছিল অনেক। আমি বুস্ট বোতামটা চেপে ধরেছিলাম। সাবমেরিনটার গতি আচমকা বেড়ে গেছিল। হু-হু করে উঠছিল ওপরের দিকে। একের পর এক টর্পেডো ছুটে যাচ্ছিল আশপাশ দিয়ে। কপাল দিয়ে ঘাম ঝরছিল। একটা টর্পেডো লাগলেই শেষ। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছিল ওরা আমাকে মারতে চায় না, জ্যান্ত ধরতে চায়। সেই জন্যই চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে।

পকেটের মধ্যে একটা খোঁচা লাগল। হাত ঢোকাতেই সেই গোলাপি দণ্ডটার ছোঁয়া পেয়েছিলাম। দণ্ডটা বের করে নিয়ে এসেছিলাম। দণ্ডটার মাছ-মুখটা বার বার করে ঘুরে যাচ্ছিল সামনের একটা দরজার দিকে। আমি দরজাটা লক্ষ্য করে এগিয়ে গেছিলাম। দরজাটার পাশে আদ্যিকালের জাহাজ চালানোর মতো একটা গোল চাকা ছিল। আমি চাকাটা ঘোরাতে শুরু করেছিলাম। দরজাটা খুলে গেছিল। দরজাটা খুলে যেতে একটা ছোটো ঘরে গিয়ে পৌঁছলাম। নজরে এসেছিল, যে দরজাটা দিয়ে বেরিয়েছিলাম, তার পাশে একইরকম গোল চাকা। চাকাটা ঘোরাতেই দরজাটা বন্ধ হয়ে গেছিল। জায়গাটায় আলো না অন্ধকার ছিল টের পাইনি। তবে দেখতে আমার কোনও অসুবিধা হচ্ছিল না। ওই ঘরটাতেও একটা দরজা ছিল আর তার পাশেও ঠিক একইরকম গোল চাকা। আমার হাতে ধরা গোলাপি দণ্ডটা সেই দরজা লক্ষ্য করে ঘুরে যাচ্ছিল বার বার। ঠিক যেমন কম্পাসের কাঁটা ঘোরে। আমি চাকাটা ধরে ঘোরাতে শুরু করেছিলাম। সাবমেরিনটা প্রবল বেগে ওপরের দিকে উঠেই চলছিল।

চাকাটা ঘোরানোর সঙ্গে সঙ্গে সামনের একটা দরজা খুলে হু-হু করে জল ঢুকতে শুরু করেছিল, আমি দরজা দিয়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সাবমেরিনটা সড়সড় করে ওপরে উঠছিল। খানিক পরেই জলের মধ্যে একটা বড়সড় কাঁপুনি টের পেয়েছিলাম। আমার পাশ দিয়ে বড়ো বড়ো অজস্র লোহার টুকরো নেমে আসছিল। বুঝেছিলাম ধ্বংস হয়েছে সাবমেরিনটা।

আমার হাতে গোলাপি দণ্ডটা ধরাই ছিল। দেখি, একটা সেই মানুষের মতো হাত-পাওয়ালা মাছ আমার সামনে। লেজটা আমার হাতে ছুঁইয়ে মাছটা এগিয়ে যাচ্ছিল সামনের দিকে। আমিও ওর পেছনে এগোচ্ছিলাম। আমিও যেন একটা মাছ হয়ে গেছিলাম। আমার সাঁতার কাটতে, দেখতে বা নিঃশ্বাস নিতে কোনও কষ্ট হচ্ছিল না।

মাছটার পেছনে সাঁতার কাটতে কাটতে একসময় পায়ের তলায় বালির পাথরের ছোঁয়া পেয়েছিলাম। সামনে ছিল পাথুরে ডাঙা। আমার হাত থেকে টুপ করে দণ্ডটা খসে পড়েছিল। আমি জলের তলায় হাত দিয়েও আর খুঁজে পাইনি ওটা। ওই প্রথম নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া শুরু হয়েছিল। কোনোরকমে ডাঙায় পৌঁছে দেখি সাদা আলখাল্লা পরা একটা দেহ পড়ে আছে। সারা শরীর-ভরা ক্ষত। চিনতে ভুল হয়নি, এই সেই জলের তলার লোকটা। ওর হাতে ধরা শুধুই সেই কালো দণ্ডটা।

আমার হাতটা কেন জানি না চলে গেছিল পকেটের ভেতর। পকেটে হাত ঢোকাতেই হাতে লেগেছিল পাতার ছোঁয়া। সূর্যের আলোয় সোনার পাতাগুলো চকচক করছিল।

আমার কেন যেন মনে হয় ওই মাছমুখো দণ্ডগুলোই আমার বিমানকে জলের তলায় টেনে নিয়ে ফেলেছিল, ওই লোকটাকে মারার জন্য।

লেখকের বয়স নয় পার করে দশে পৌঁছেছে। উনি গল্পটি ইংরেজি, হিন্দি ও বাংলা ভাষা মিলিয়ে বলেছেন~শ্রুতিলেখক।

খুদে স্রষ্টাদের সমস্ত কাজের লাইব্রেরি

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s