গল্প-রাজবাড়িতে কে ও? -পুষ্পার্ঘ্য দাস-শীত ২০২২

GOLPORAJBARI01

আদিত্যগড় ভারি মজার জায়গা। সেখানে নাকি শীতকালে এখনও ঠান্ডা পড়ে! রাজামশাই সেখানে মুদির দোকান চালান। গাড়ির আওয়াজের বদলে মানুষজনের ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। ভোরের কুয়াশা ঘেঁটে দিয়ে ছোটোবড়ো পড়ুয়ারা সব সাইকেলে করে গুরুর পাঠশালায় যায়। তারাই ডেকে ঘুম ভাঙায় শিক্ষকের। ধানের মরশুমে মাঠভর্তি ধানগাছেরা হাওয়ার তালে মাথা দোলায়। পুকুরপাড়ে এর বাগান থেকে ওর বাগানে ছুটে বেড়ায় গোসাপ। কাচের জানালায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে তাকেই ঠোকরায় সাতভায়া পাখি। টালির চালে উঠে রোদ পোহায় বিষহীন দাঁড়াশ সাপ। বিকেলবেলা মায়ের কোলে চেপে হনুমানটুপি মাথায় দিয়ে পাড়া ঘোরে ছোটো ছোটো বাচ্চারা।

এমন এক মজার জায়গায় ঘুরতে এসেছে টুবাই তার বাবা-মায়ের সঙ্গে। আসলে এই আদিত্যগড় হল ওর বাবার বন্ধু সুমন্তকাকুর গ্রামের বাড়ি। এখানে কাকুর বাবা-মা থাকে। মাসে একবার করে কাকু এসে থেকে যায়। তবে এবার বেশ কিছুদিন পরে এসেছে। অনেকদিন থেকেই কাকু ডাকছিল ওদের। অবশেষে এই ক্রিস্টমাস, নিউ ইয়ার সব মিলিয়ে লম্বা ছুটিতে এখানে বেড়াতে এসেছে ওরা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে টুবাই বাইরে বেরিয়ে দেখল বারান্দায় ওর বাবা, মা আর কাকু চা খেতে খেতে গল্প জমিয়েছে। খবরের কাগজ হাতে ধরা অবস্থায় সুমন্ত বলল, “দ্যাখ দীপঙ্কর, আজকেও কাগজে বাচ্চা মেয়ে নিরুদ্দেশের খবর বেরিয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকদিন দেখলাম। সবই এই আদিত্যগড়ের কাছাকাছি। কী ব্যাপার বল তো? কী করছে পুলিশগুলো?”

সুমন্ত বলল, “আর বলিস না। পুলিশের কথা যত না বলা যায় ততই ভালো। বেশিরভাগই তো ঘুষখোর, অকর্মণ্যের ঢেঁকি।”

সকাল সকাল এইসব গম্ভীর আলোচনা টুবাইয়ের মা শিল্পীর ভালো লাগছিল না। সে পরিবেশটা হালকা করার জন্য বলল, “ওসব বাদ দাও। সুমন্ত বলো, তুমি বিয়ে করছ কবে? আমারও তো তাহলে একটা সঙ্গী জোটে।”

সুমন্ত হেসে বলল, “বেশ তো আনন্দে আছি বৌদি! এই স্বাধীনতাটা যতদিন ধরে রাখা যায় ততই মঙ্গল।”

টুবাই ওর বাবার কাছে গল্প শুনেছে, ব্রিটিশরা প্রায় দুশো বছর আমাদের দেশকে পরাধীন করে রেখেছিল। কিন্তু এখন তো তারা স্বাধীন। তাহলে কি আবার ইংরেজরা ফিরে আসবে? যদি আসেও, তার সঙ্গে কাকুর বিয়ের কী সম্পর্ক? মনের আশঙ্কাটা প্রকাশ করে ফেলতেই কাকু আর মা তো হেসেই লুটোপুটি। এদিকে টুবাই তো বুঝতেই পারছে না, সে কী এমন হাসির কথা বলেছে।

শেষমেশ হাসি থামতে কাকু বলল, “ওটা একটা মজার কথা। এ-পরাধীনতা সবার জন্য নয়, শুধু আমার জন্য। আচ্ছা, ওসব বাদ দাও। বিকেলে তোমাকে গড় জঙ্গলে নিয়ে যাব। সেখানে রয়েছে প্রাচীন ত্রিদেবীর মন্দির। অনেক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে ওই মন্দিরের সঙ্গে। তার সঙ্গে পুরোনো রাজবাড়িটাও দেখিয়ে আনব।”

ইতিহাসের প্রতি টুবাইয়ের কৌতূহল বরাবরের।—“ত্রিদেবী কী গো কাকু?” সে লাফিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করল।

“সে আছে একটা মন্দির। যখন যাবে, তখন বলব।”

শিল্পী জানে তার এই বারো বছরের শ্যামলা, কোঁকড়ানো চুল, টানা টানা চোখ, দোহারা চেহারার ছেলেটাকে বাইরে থেকে দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না যে তার কৌতূহল অত্যন্ত বেশি। যেখানে-সেখানে গিয়ে সে জড়িয়ে পড়ে ঝামেলায়। এখনও বুঝতে পারল ওই মন্দিরের নামটা ছেলের বেশ মনে ধরেছে। সে ছেলের উদ্দেশে বলল, “তুমি আবার বেশি উৎসাহিত হয়ো না। যখনই বেশি উৎসাহিত হও, কিছু না কিছু কাণ্ড বাধাও।”

কথাটা ঠিক পছন্দ হল না টুবাইয়ের। মুখ বাঁকাল সে। সুমন্তকাকু সেটা দেখে শিল্পীকে বলল, “আরে না না, বৌদি! আমার সঙ্গে যাবে তো। কোনও অসুবিধে হবে না।”

“বেশ, সাবধানে নিয়ে যেও। তুমি তো এখনও সেভাবে দেখোনি, টুবাই কী চিজ!”

আহ্, এইজন্যেই মায়ের উপর খুব রাগ ধরে তার। শুধু টুবাইয়ের নামে নিন্দে করা। মাঝে মাঝে একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে দু-একটা কাণ্ড ঘটিয়েই ফেলেছে না-হয়। কিন্তু কারও ক্ষতি তো আর করেনি রে বাবা! তাহলে?

বাবা অবশ্য তার পক্ষ নিয়েই বলে, “টুবাই ছোটবেলায় দুষ্টুমি করবে না তো কি বড়ো হয়ে করবে? ওকে ওর নিজের মতো বড়ো হতে দাও।”

সেটাই তো। বাবার সঙ্গে এই একটা ব্যাপারে টুবাইয়ের মনের দারুণ মিল।

শীতকালে সন্ধে অনেক তাড়াতাড়ি নামে। তার ওপর আদিত্যগড়ের মতো দূষণমুক্ত জায়গায় বেলা গড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ঠান্ডা। সুমন্ত তাই টুবাইকে নিয়ে একটু আগেভাগেই বেরিয়েছে। জঙ্গলের মধ্যে লোকজন হেঁটে যাওয়ার ফলে এমনিতেই একটা ছোটো শুঁড়িপথ তৈরি হয়ে গেছে। নিবিড় শাল জঙ্গলের মধ্যে রাঙা মাটির পথ। সেই পথ দিয়েই চলেছে তারা।

কাকু বলেছে, “জঙ্গলের একটা নিজস্ব শব্দ রয়েছে। বেশি হই-হল্লা করে সেই শব্দকে নষ্ট করে দিতে নেই। চুপ করে জঙ্গলের কথা শুনতে হয়।”

টুবাই তাই কান পেতে শুনছে জঙ্গল কী বলতে চায়। অজানা সব পাখির ডাক, গাছের পাতায় পাতায় ঘষা লাগার আওয়াজ, কোনও প্রাণী যেন এদিক থেকে ওদিকে ছুটে গেল—এইসব শুনতে শুনতে চলছিল তারা। অবশেষে একসময় এসে পৌঁছল সেই মন্দিরের সামনে।

এককালে সুন্দর দেখতে ছিল যে মন্দির, সংরক্ষণের অভাবে তার অবস্থা এখন শোচনীয়। মন্দিরের গা ইটের তৈরি। ছাদটা দেখে মনে হবে যেন কেউ দেবীদের মাথায় ছাতা ধরে আছে। একটি ছোটো দরজা, তার উপরিভাগ গোলাকৃতি। মাথা নীচু করে ঢুকতে হয়। সামান্য খোলা সেই দরজার কাছে এসে সুমন্ত হাঁক দিল, “ঠাকুরমশাই আছেন নাকি?”

ডাক শুনে বেরিয়ে এলেন শীর্ণকায়, গৌরবর্ণ এক বৃদ্ধ। নিম্নাঙ্গে ধুতি, গায়ে নামাবলি, চোখে হাই পাওয়ারের সস্তা চশমা—খুব ধীরে ধীরে হাঁটছেন। সুমন্তের দিকে তাকিয়ে তোবড়ানো গালে হাসি ফুটিয়ে বললেন, “আরে সুমন্ত যে! কেমন আছ বাবা?”

সুমন্ত বৃদ্ধকে প্রণাম করে বলল, “আমি ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন তো?”

বৃদ্ধ বললেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে, “আমাদের আর থাকা! ওই আছি একরকম। তুমি এলে কবে? এখন থাকবে তো?”

“কাল রাতেই এসেছি। এখন থাকব কয়েকদিন।” তারপর টুবাইকে দেখিয়ে বলল, “এ হল টুবাই। আমার বন্ধু দীপঙ্করের ছেলে।”

বৃদ্ধ টুবাইয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আদিত্যগড় কেমন লাগছে দাদু?”

হাসিমুখে বলল টুবাই, “আমার তো দারুণ লাগছে। শহর থেকে অনেক ভালো। আচ্ছা দাদু, কাকু বলেছে এটা ত্রিদেবীর মন্দির। ত্রিদেবী কী?”

GOLPORAJBARI02

“ত্রি-দেবী। অর্থাৎ তিন দেবীর অধিষ্ঠান এখানে। সেই তিন দেবী হলেন মহাকালী, মহাসরস্বতী এবং মহালক্ষ্মী। রাজা সূর্যনাথ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন কয়েকশো বছর আগে। স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন তিনি। শুরু থেকেই আমরা বংশপরম্পরায় এই মন্দিরে পুজো করে আসছি। এখানকার দেবীরাও খুব জাগ্রত। অনেকেই দেবীদের কাছে মানত করে সুফল পেয়েছে। আরেকটা কথা জানো কি দাদুভাই, লোকমুখে শুনেছি মন্দিরের নীচে কোথাও নাকি সুড়ঙ্গ রয়েছে। রাজবাড়ি থেকে সেই সুড়ঙ্গপথে এই মন্দিরে আসা যায়। নিজের চোখে দেখিনি কোনোদিন যদিও।” একটু থেমে এবার ডাকলেন টুবাইকে, “জুতো খুলে ভেতরে এস দাদু। তোমায় বিগ্রহগুলো দেখাই।”

ভেতরে গিয়ে মনটা খুশি হয়ে গেল টুবাইয়ের। পেতলের তৈরি কী সুন্দর তিনটি বিগ্রহ! যদিও এখন আমরা সচরাচর দেবীদের যে রূপ দেখে থাকি, তার থেকে কিছুটা আলাদা। হাতজোড় করে প্রণাম করল সে। মন্দিরের দেওয়ালে ওই দেবীদের আরও অনেক খোদাই করা মূর্তি। সে-সব ঘুরে ঘুরে দেখল টুবাই।

কিছুক্ষণ পর সুমন্ত বৃদ্ধকে বলল, “এবার আমরা আসি ঠাকুরমশাই। টুবাইকে রাজবাড়িটাও দেখাব।”

বৃদ্ধ ঘাড় নেড়ে বললেন, “বেশ বেশ, তোমরা তবে এস এবার। আলো ফুরিয়ে গেলে আর কিছুই দেখতে পাবে না।”

ঠাকুরমশাইয়ের কাছে বিদায় নিয়ে মন্দির থেকে বেরিয়ে তারা চলল রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে।

টুবাইরা যখন সেই রাজবাড়ির তিনশো মিটারের মধ্যে এল, তখন দিনের আলো প্রায় নিভু নিভু। এককালে সে-বাড়ির জাঁকজমক থাকলেও এখন ভগ্নদশা। একটা অংশ ধুঁকতে ধুঁকতে টিকে আছে যদিও। বাড়িটার দিকে তাকিয়ে টুবাই জিজ্ঞেস করল, “কাকু, ওটাই কি রাজবাড়ি?”

“হ্যাঁ রে। আরে, ওই যে বটতলার পাশে যার মুদি দোকান, সেই রাজেনকাকা ওই রাজার বংশধর। রাজবাড়িতে এখন কেউ থাকে না অবশ্য।”

সুমন্তকাকু কথাটা শেষ করেছে কি করেনি, দপ করে একটা আগুন জ্বলে উঠল বাড়িটার দোতালায়, যেদিকটা এখনও কিছুটা অক্ষত আছে। ভ্রূ দুটো কুঁচকে গেল কাকুর। স্বগতোক্তি করল, “কী ব্যাপার? পোড়োবাড়িতে আগুন জ্বালায় কে?”

টুবাইও চমকে উঠেছে। কিন্তু সঙ্গে কৌতূহলও হল তার। বলল, “চলো না কাকু, দেখে আসি।”

সুমন্ত অসম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে বলল, “না না, এখন সন্ধে হয়ে গেছে। ওখানে কোনও অসামাজিক কাজকর্ম হচ্ছে কি না কে জানে। এখন একা একা যাওয়াটা ঠিক হবে না। যাওয়ার পথে রাজেনকাকাকে জিজ্ঞেস করতে হবে সে এই ব্যাপারে কিছু জানে কি না।”

টুবাইয়ের যদিও দেখার ইচ্ছে ছিল, সুমন্তকাকু একরকম জোর করেই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রওনা দিল।

ফেরার পথে বটতলার কাছে মুদি দোকানের সামনে যখন তারা এল, তখন পুরোপুরি সন্ধে নেমে এসেছে। দোকানে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে বসে আছে একজন প্রৌঢ়। টুবাই দেখল, নিতান্তই সাধারণ একজন মানুষ। এখন সে রাজাও নেই, আর রাজত্বও নেই। সুমন্তকে দেখে হাসল লোকটা। সুমন্তও হাসল লোকটার দিকে দেখে। বলল, “রাজেনকাকা, তোমার খবর কী? সবাই ভালো আছ তো?”

“এই কেটে যাচ্ছে। অনেকদিন পরে এলি এবার!”

“হ্যাঁ, প্রায় মাস তিনেক হবে। কাজের খুব চাপ ছিল। আচ্ছা কাকা, রাজবাড়িতে একটু আগে আলো দেখলাম। কেউ যেন আগুন জ্বালিয়েছে।”

“আর বলিস না। মাস খানেক আগে হঠাৎ একদিন একজন মধ্যবয়সি, বেশ লম্বাচওড়া লোক এসে উপস্থিত। গালে চাপ দাড়ি। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। কপালে কাটা দাগ। সে আমার কাছে পরিচয় দিল, তার নাম সুজন চ্যাটার্জি। সে একজন বৈজ্ঞানিক। গবেষণার জন্য তার নাকি এই জঙ্গলের কীসব গাছের প্রয়োজন। রাজবাড়ির যে-অংশটা মোটামুটি ভালো আছে, সেখানে থাকতে চায়। ভাড়া দেবে। তার কাজের কিছু কিছু জিনিস নিয়ে মাঝে মাঝে গাড়ি আসবে। আমাকে ভারত সরকারের লোগো দেওয়া তার নাম লেখা কাগজপত্রও দেখায়। ভাড়ার কথা শুনে আমি আর না করিনি। এমনিই তো পড়ে আছে। থাকুক যদি থাকতে চায়। আর সেখান থেকে দুটো পয়সা এলে ক্ষতি কী? তা এখন শুনছি, সে-লোক কী এমন গবেষণা করছে যে, জঙ্গলে লোকজন কখনও ওই বাড়িতে আগুন দেখতে পাচ্ছে, কখনও শুনতে পাচ্ছে উদ্ভট আওয়াজ। রাতের বেলা নাকি নানারকম আলোও জ্বলে সেখানে। গ্রামের লোকেদের মনে তো নানা কুসংস্কার। ভয়ে কেউ ওদিকে যায় না আজকাল।”

সুমন্তকাকু হেসে বলল, “আচ্ছা, এবার বুঝলাম। আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছিল, কোনও অসামাজিক কাজকর্ম হচ্ছে কি না।”

“না না, বলে ভালোই করেছিস। বলা তো যায় না, না বলে-কয়ে কেউ যদি ওখানে ঘাপটি মেরে থাকে।”

“সেটাই তো। ঠিক আছে কাকা, এবার আসি। অনেকক্ষণ বেরিয়েছি।”

“আচ্ছা যা, আসিস আবার।”

সুমন্ত জানে, শিল্পীবৌদি সিগারেট খাওয়া একেবারেই পছন্দ করে না। তাই ও সিগারেট খেলে আড়ালে-আবডালেই খায়। আলনায় ঝোলানো প্যান্টের পকেট থেকে লাইটারটা বের করে সে বাইরে গেল সিগারেট খেতে। লাইটারটার একদিকে ছোটো একটা টর্চও আছে। তারপর ফিরে এসে ঘরে ঢুকতেই দেখে টুবাইয়ের মা দাঁড়িয়ে। তাড়াহুড়োয় নিজের প্যান্টে ঢোকানোর বদলে টুবাইয়ের প্যান্টে ঢুকিয়ে দিল লাইটারটা।

টুবাই যেন সেটা দেখেও দেখল না। কারণ, তার মন এখনও পড়ে রয়েছে সেই রাজবাড়ির দিকেই। কী এমন গবেষণা করছে সে বিজ্ঞানী! খুব ইচ্ছে করছে জানতে। কাকুকে বললে কাকু কিছু ভুজুং-ভাজুং দিয়ে দেবে। কারণ, টুবাই জানে, কাকু চায় না কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক। বিজ্ঞানীরা এমনিই একটু খ্যাপাটে গোছের হয়। ওই বিজ্ঞানী আবার কেমন লোক কে জানে। সেখানে গেলে সে রুষ্ট হবে কি না তারও ঠিক নেই।

কিন্তু বড়োদের মনের এত প্যাঁচ পয়জার বোঝে না টুবাই। ভগ্নপ্রায় রাজবাড়ির ভেতর না জানি কী রাজকার্য হচ্ছে! সিনেমায়, গল্পের বইয়ে এমন অনেক গল্প দেখেছে সে। বাস্তব জীবনেও সে এখন একইরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি। আদিত্যগড় এসে যখন পড়েছে একবার, ওই রাজবাড়িতে যেতে তাকে হবেই।

পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট সেরে সুমন্তকাকু কী একটা কাজে বেরিয়ে গেল। টুবাই দেখল, এই সুবর্ণসুযোগ। সে তার মাকে বলল, “মা, আমি একটু গ্রামটা ঘুরে আসি। একা একা ভাল্লাগছে না।”

টুবাইয়ের মা ওর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল সন্দিগ্ধ গলায়, “শুধুই ঘুরতে যাবে? না অন্য কোনও মতলব আছে?”

অপ্রস্তুত হয়ে তাড়াতাড়ি জবাব দিল টুবাই, “আরে না না। কোথায় আর যাব? গ্রামেই ঘুরব।”

“বেশ, যাও। কিন্তু চলে আসবে তাড়াতাড়ি। খুঁজতে যেন যেতে না হয়।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ, তোমার চিন্তা নেই। লাঞ্চের আগেই ফিরে আসব।” এই বলে বেরিয়ে পড়ল টুবাই। গন্তব্য রাজবাড়ি।

রাজবাড়ির যে-অংশটা প্রায় ভেঙে পড়েছে, সেখানে আগাছায় ভরা। এত বন হয়ে আছে যে নীচে কী আছে দেখাই যাচ্ছে না। পা ফেলতে ভয় লাগছে। পোকামাকড়, সরীসৃপ যা খুশি থাকতে পারে। ইটের দেওয়ালগুলোও এমনভাবে হেলে রয়েছে যেন যে-কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়বে। ছাদের কিছু কিছু অংশ ফাঁকা। সেখান দিয়ে খোলা আকাশ দেখা যাচ্ছে। টুবাই ঢুকল না সেখানে। ওর ইন্টারেস্ট যেদিকটা ভালো আছে সেদিকে।

GOLPORAJBARI03

বাড়িটার ভালো অংশের চারপাশে ঘুরতে লাগল টুবাই। ভালো বলতে এদিকটা কম ভাঙা। একটা জানালা খোলা ছিল। সেখান দিয়ে টুবাই দেখতে পেল ভেতরে ভাঙা চেয়ার, টেবিল, আসবাবপত্র, লন্ঠন, হাতপাখা ইত্যাদি ডাঁই করে রাখা। সেগুলোতে পুরু ধুলোর আস্তরণ আর মাকড়সার জালে ভর্তি। ওই জানালাটা বাদে আরও তিনটি জানালা ছিল। কিন্তু সেগুলো প্রত্যেকটা বন্ধ। একটা কাঠের দরজা দেখে সেখানে দাঁড়াল টুবাই। দরজাটাও ভেতর থেকে বন্ধ। দরজার কয়েকটা জায়গায় নতুন কাঠ লাগানো হয়েছে। আর কয়েকটা জায়গায় সদ্য মেরামতির ছাপ স্পষ্ট। বাড়িটা এতটাই নিশ্চুপ যে, বোঝাই যাচ্ছে না ভেতরে কেউ আছে কি না।

উপরে নীচে তাকিয়ে আকাশপাতাল ভাবতে-ভাবতেই ফট করে দরজাটা খুলে গেল। হাসিমুখে বাইরে বেরিয়ে এল মধ্যবয়সি একটা লোক। গালে চাপ দাড়ি। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। বেশ লম্বা। ঘাড়ে-গর্দানে চেহারা। কপালে কাটা দাগ। রাজেনবাবুর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তার মানে এই সেই বিজ্ঞানী। কিন্তু চোখেমুখে বুদ্ধির ছাপের বদলে শেয়ালের ধূর্ততা।

টুবাই মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করেই এসেছিল, যে-কাউকেই দেখতে পাক না কেন, সে স্বাভাবিক ব্যবহারই করবে। লোকটির হাসির উত্তরে সেও হাসল।

“কী খোকা? পথ ভুল করেছ নাকি?” জিজ্ঞেস করল লোকটি।

টুবাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই জবাব দিল, “না কাকু। আমি শুনলাম, আপনি মস্ত বড়ো বৈজ্ঞানিক। এখানে নানারকম গবেষণা করছেন। আমারও বিজ্ঞান খুব ভালো লাগে। বিজ্ঞানের নানা জিনিস জানতে খুব ইচ্ছে করে। তাই এসেছি আপনার কাছে। যদি আপনার গবেষণাগারটা একবার দেখান।”

লোকটি এবার নিজেই একটু হকচকিয়ে গেল। এইটুকু ছেলে বলে কী! কিন্তু পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “বাহ্, বাহ্। সে তো খুবই ভালো কথা। কিন্তু সে-সব কি তোমার ওই ছোট্ট মাথায় ঢুকবে? তার ওপর আমারও আজ প্রচুর কাজ। তুমি এক কাজ করো, তুমি বরং কয়েকদিন পরে এস। কেমন?”

“আচ্ছা ঠিক আছে।” বলে টুবাই উলটোদিকের পথ ধরল। লোকটাকে চটানো যাবে না। লোকটাও বন্ধ করে দিল দরজা। কিন্তু কিছু দূর গিয়েই একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে পড়ল টুবাই। এত সহজে সে যাবে না এখান থেকে। তার ষষ্ঠেন্দ্রিয় বলছে, কিছু একটা হচ্ছে ওই বাড়িতে। মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করে সে আবার ফিরে গেল রাজবাড়ির কাছে। দরজা-জানালা সব বন্ধ। কী মনে হতে কান পাতল একটা জানালায়।

প্রথমটা কিছুই শোনা যায়নি। পিন ড্রপ সাইলেন্স। তারপরেই মনে হল যেন কিছু নড়াচড়ার শব্দ হচ্ছে। ভালো করে কান চেপে ধরলে শুনতে পেল যেন অনেকজন একসঙ্গে মেঝেতে বা দেওয়ালে ঘষটাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড এরকম হওয়ার পর সে স্পষ্ট শুনতে পেল কেউ যেন গোঙাচ্ছে। গলা শুনে মনে হল, তারই বয়সি হবে কেউ। চমকে উঠল টুবাই। গোঙাচ্ছে কেন? আর থাকা যাবে না এখানে। কাকুকে জানাতে হবে।

জানালা থেকে ছিটকে দু-চার পা পেছোতেই টুবাই যেন ধাক্কা খেল কারও সঙ্গে। সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে দেখল, আরে, এ তো সেই ষন্ডামার্কা বিজ্ঞানী! চোখে তার নিষ্ঠুর দৃষ্টি। সে ছুটে পালাতে যেতেই খপ করে ধরে ফেলল। এক হাত দিয়ে চেপে ধরল টুবাইয়ের দুটো হাত। আরেক হাত দিয়ে মুখ। তার চিৎকার করার চেষ্টা সমস্তই বৃথা হতে থাকল সেই বজ্র-বাঁধুনির মধ্যে। হাত দুটোও এত জোরে চেপে ধরেছে যে, একটুও নড়াচড়া করতে পারছে না। “এত কৌতূহল ভালো নয় খোকা।” এই বলে লোকটা তাকে টেনে নিয়ে গেল ঘরের ভেতর।

টুবাইয়ের মুখের মধ্যে কাপড় গুঁজে, হাত দুটোকে পিঠের দিকে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধল। এবার কাপড়টা বের করে মুখে বড়ো লিউকোপ্লাস্ট সেঁটে দিল যাতে আওয়াজ না করতে পারে। একটা ঘরের দরজায় তালা ঝুলছিল। এক হাতে টুবাইকে ধরে রেখে অন্য হাতে তালাটা খুলে ফেলল চাবি দিয়ে। তারপর তাকে ঘরের মধ্যে ছুড়ে ফেলে আবার দরজায় তালা লাগিয়ে দিল।

ঘরের মধ্যে জানালাগুলো লাগানো থাকলেও টিমটিম করে একটা হলুদ বাল্‌ব্‌ জ্বলছিল। সেই আলোয় টুবাই দেখল, তারই বয়সি অন্তত দশজন মেয়ে রয়েছে সেখানে। প্রত্যেকের মুখে লিউকোপ্লাস্ট আটকানো এবং হাত দুটো পিছমোড়া করে বাঁধা। সবার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। টুবাইয়ের মনে পড়ল, গতকাল বাবু ছোটো ছোটো মেয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার একটা খবর পড়ছিল বটে। মেয়ে পাচার করার কথা আগে সে নিজেও টিভির খবরে শুনেছে। এই লোকটা সেরকম কিছুর সঙ্গেই যুক্ত নয় তো?

এখন তো সে পরিষ্কার বুঝতে পারছে, লোকটা বিজ্ঞানী-টিজ্ঞানী কিছুই নয়। হয়তো ওই আগুন বা আলো জ্বালানো কাজগুলো ইচ্ছে করেই করে। যাতে গ্রামের লোকেরা ভয় পেয়ে এদিকে না ঘেঁষে আর এই ফাঁকা জায়গায় ওর কাজ চালাতে সুবিধে হয়। দেখে দেখে বাড়িটা পছন্দও করেছে বেশ।

বাচ্চা মেয়েগুলো ওর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। হয়তো ভাবছে, সব মেয়েদের মাঝে এই ছেলেটা ঢুকল কোথা থেকে? টুবাই ঘরের চারদিকে তাকিয়ে দেখল, কতগুলো পুরোনো আসবাব এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আর ঘরের একটা দেওয়ালে কোনও এক রাজামশাইয়ের প্রকাণ্ড একটা ছবি টাঙানো। সব জিনিসই ধুলো আর মাকড়সার জালে ভরা।

টুবাইয়ের মনের জোর খুব বেশি। ভয়-ডর তার বরাবরই কম। বাবা বলে, ‘বিপদে পড়ে ভয় পেয়ে গেলে বিপদ আরও বাড়ে। তাই মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়।’ ঠান্ডা মাথায় সে ভাবছে, সবাই মিলে এখান থেকে বেরোনো যায় কীভাবে। ভাবতে ভাবতে তার মনে হল, প্রথম কাজ নিজের হাতের বাঁধন খোলার চেষ্টা করা। কীভাবে খোলা যায়? চট করে একটা বুদ্ধি খেলে গেল মাথায়। মেয়েগুলোর মধ্যে যেটাকে একটু বড়ো এবং চালাক-চতুর মনে হল, তার কাছে গিয়ে পেছন দিকে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর নিজের হাতটা তার মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে লিউকোপ্লাস্টটা খুলে দিল। মেয়েটা যেন এতক্ষণে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। নিশ্বাস নিল বুক ভরে। তারপর চোখের ইশারায় মেয়েটাকে তার হাতের দড়ির দিকে দেখাল। তাড়াহুড়োয় খুব টাইট করে বাঁধেনি লোকটা। এবার মেয়েটা তার ছোটো ছোটো ধারালো দাঁত দিয়ে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় টুবাইয়ের হাতের দড়ি খুলে দিল।

GOLPORAJBARI04

বন্ধনমুক্ত হয়েই টুবাই নিজের মুখের লিউকোপ্লাস্টটা খুলে ফেলল। তারপর ঠোঁটে আঙুল দিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলল। একটা একটা করে প্রত্যেকের কাছে গিয়ে তাদের হাত আর মুখ বন্ধনমুক্ত করল।

এবার? দরজা লাগানো। একটামাত্র জানালা। বেরোবে কীভাবে? ঘরের একমাত্র জানালার পাল্লা খুলে দেখল, বড়ো বড়ো মজবুত লোহার শিক। জং ধরে গেলেও তার পক্ষে এই শিককে কিছু করা সম্ভব নয়। কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায় ভাবতে ভাবতে সে রাজামশাইয়ের ছবিটার কাছে এল। তারপর অন্যমনস্কভাবে সেটায় ঠেস দিয়ে দাঁড়াল।

যেই না ছবিতে ঠেস দিয়েছে, টুবাইয়ের মনে হল ছবিটা যেন নড়ে উঠল। চমকে উঠল টুবাই। আরে! ছবিটার পেছনে কিছু আছে নাকি? ঠেলতে শুরু করল ছবিটা। প্রথমটায় না নড়লেও কিছুক্ষণের চেষ্টার পর টুবাইকে অবাক করে দিয়ে সেটা ডানদিক থেকে বামদিকে সরে গেল। আর পেছনে বেরিয়ে পড়ল একটা ফাঁকা জায়গা, ঠিক যেন সুড়ঙ্গ। টুবাই তো আনন্দে ‘ইউরেকা’ বলতে যাচ্ছিল। অনেক কষ্টে আটকাল নিজেকে।

কিন্তু সুড়ঙ্গের ভেতরটা খুব অন্ধকার। টুবাইয়ের মনে পড়ল, কাল সুমন্তকাকু ওর প্যান্টের পকেটে লাইটারটা রেখেছিল, যেটাতে টর্চও রয়েছে। প্যান্টের পকেট থেকে সেই ছোট্ট লাইটটি বের করে সুড়ঙ্গের মধ্যে ফেলতেই দেখতে পেল একটা সিঁড়ি নেমে গেছে নীচে। সেটাতে নামতে হলে বসে বসে নামতে হবে। দাঁড়িয়ে নামার মতো জায়গা নেই।

ইতিমধ্যে বাকি মেয়েগুলো টুবাইয়ের পেছনে এসে ওই সুড়ঙ্গের সিঁড়ির দিকে উঁকিঝুঁকি মারছে। টুবাই হাতের ইশারায় তাদের ওর পেছনে পেছনে আসতে বলল। ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করল সবাই। বেশ লম্বা সিঁড়ি, প্রায় ত্রিশ ধাপ। সিঁড়ি যেখানে শেষ হল, সেখানে কিন্তু সাধারণ উচ্চতার মানুষ ভালোভাবে দাঁড়াতে পারবে। অনেকদিন বন্ধ থাকায় একটা ভ্যাপসা গন্ধ সুড়ঙ্গের ভেতর। চারদিকে টর্চের লাইটটা ঘুরিয়ে দেখল টুবাই। মাটির তলায় গোল করে খুঁড়ে বানানো হয়েছে এই সুড়ঙ্গ।

অন্ধকারে এই সুড়ঙ্গের মধ্যে এবার তার একটু বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল। কিন্তু সাহস হারালে চলবে না। ঠাকুরমশাইয়ের কথা মনে পড়ল তার—রাজবাড়ি থেকে মন্দির পর্যন্ত কী একটা সুড়ঙ্গের কথা বলছিলেন। এটাই কি সেটা? পেছনে মেয়েদের মধ্যে একটা গুনগুন শুরু হচ্ছিল। টুবাই নিজের মুখে আলো ফেলে সবাইকে চুপ করতে বলল। তারপর চলতে শুরু করল তারা।

মাঝে মাঝে পেছনে আলো ফেলে দেখে নিচ্ছে সবাই ঠিক আছে কি না। ওদের ভাগ্য ভালো বলতে হবে, সুড়ঙ্গের মধ্যে আর কোনও বিপদ ওত পেতে ছিল না। মিনিট পনেরো হাঁটার পর তারা আবার একটা ঊর্ধ্বমুখী সিঁড়ি পেল। এটায় অবশ্য দাঁড়িয়েই ওঠা যায়। প্রায় পুরো সিঁড়িটা ওঠার পর মাথার ওপর বাধা পেল। চারকোনা সিমেন্টের স্ল্যাব। গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা মারতেই থাকল টুবাই। অনেকবার ধাক্কা মারতে মারতে একসময় সেটা খুলে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ধুলোবালি গায়ে, মুখে এসে পড়ল সবার। ধীরে ধীরে মাথা তুলে দেখল সে, যা ভেবেছিল তাই, তারা মন্দিরে এসে পড়েছে।

ধাক্কাধাক্কির শব্দ শুনে ঠাকুরমশাই একটু আগেই শব্দের উৎসের কাছে এসে উপস্থিত হয়েছেন। আর এখন এতগুলো ঝুলকালি মাখা ছেলেমেয়েকে বেরিয়ে আসতে দেখে একেবারে হাঁ হয়ে গেলেন। ওদিকে অনেকক্ষণ পর একজন পরিচিত মানুষকে দেখে টুবাইয়ের মুখের হাসিটা বেশ চওড়া হয়ে দেখা দিল।

এর পরের ঘটনাটা খুবই সহজ। মেয়েগুলোকে মন্দিরে ঠাকুরমশাইয়ের জিম্মায় রেখে টুবাই ছুটল ওর বাবা-কাকুকে ডাকতে। সব কথা শুনে ওর বাবা মন্দিরে ফিরে এল ওর সঙ্গে। আর সুমন্তকাকু স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ নিয়ে চড়াও হল রাজবাড়িতে। অ্যারেস্ট হল নকল বিজ্ঞানী। দেখা গেল, ওর সব কাগজপত্রও ভুয়ো। পরেরদিন খবরের কাগজে টুবাইয়ের ছবিসহ ছাপা হল এই দুঃসাহসিক কীর্তির কথা। সবাই খুব খুশি। শুধু টুবাইয়ের মা বলল, “এই ছেলে আমায় সারাজীবন এইভাবে দুশ্চিন্তায় জ্বালিয়ে মারবে।”

অলঙ্করণ-মৌসুমী রায়

জয়ঢাকের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s