সন্ধ্যা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য প্রতিযোগিতা২০২২- সেরা প্রবন্ধ- (যুগ্ম)দ্বিতীয় স্থান-মুণ্ডু ছাড়া বাঁচব নাকি-শরণ্যা মুখোপাধ্যায়-শীত ২০২২

probondhomundutitle

মৃত্যু কী? তাকে কি বিজ্ঞান সুচারুরূপে ব্যাখ্যা করতে পেরেছে? নাকি জীবন কী, এই প্রশ্নের মতো এটিরও একেবারে ঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না?

এরকম একটি আপাত দৃষ্টিতে দার্শনিক প্রশ্ন দিয়ে প্রবন্ধটি শুরু করার কারণ, হালেই ২০১৯ সালে বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা, বিশ্বখ্যাত নেচার পত্রিকায় বার হওয়া একটি বিশেষ গবেষণাপত্র। সেই গবেষণাপত্রে কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে যাবার আগে দেখা যাক জীবন ও মত্যু বলতে বৈজ্ঞানিকরা ঠিক কী বোঝান?

ব্রিটানিকার “লাইফ” নামের যে প্রবন্ধটি রয়েছে, তাতে বলা হচ্ছে, যা প্রতিক্রিয়া দেয়, শ্বাস নেয়, খায়, হজম করে, মলত্যাগ করে, পুষ্টি ঘটায় এবং সর্বোপরি যার বাড়বৃদ্ধি হয়, সেটিকেই জীবন নামের আখ্যা দেওয়া চলে। মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখি, জীবজন্তু পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ এবং নানা ধরণের বিশেষ প্রাণীজ গোষ্ঠী, যাদের বিজ্ঞানের ভাষায় TAXA বলা হয়, এরা সবাই জীবিত বা প্রাণসম্পন্ন। তাহলে মৃত্যু কী? এর উত্তরটা এবার সহজ হয়ে গেল নিশ্চয়ই। যখন উপরিউক্ত ক্রিয়াগুলি আর সুসম্পন্ন হয় না। বৃদ্ধি থেমে যায়, তখনই কোনো প্রাণকে মৃত বলা হবে।

এখন দেখা যাক, জীবের সবচেয়ে কনিষ্ঠ জীবিত অংশটি কী? এর উত্তরও পাঠক-পাঠিকাদের সকলেরই জানা। কোষ। এই কোষ যদি নিজের পুষ্টি ঘটাতে, বিভাজিত হয়ে বংশবিস্তার করতে অক্ষম হয়ে যায়, তখন সে মৃত বলে ধরা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে কতকগুলি প্রাসঙ্গিক এবং আকর্ষণীয় উদাহরণে আসা যাক।

আচ্ছা, ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দিলে কোনো প্রাণী কি বেঁচে থাকতে পারে? এবার সবাই নিশ্চয়ই হাসবে। কারণ এটা খুব সহজ প্রশ্ন। সবাই একসঙ্গে বলবে যে, এর উত্তর হলো, না। একটা প্রাণীর জীবিত কোষগুলিকে, তাদের কাজকে যে মূল অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে, সেটিই যদি বাদ পড়ে যায়, তাহলে কীভাবে কোনো প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে? কিন্তু না। এর উত্তর পুরোপুরি না নয়। কেন, আমরা সেটাই এবার দেখব আমাদের পরবর্তী উদাহরণগুলিতে।   

প্রথম উদাহরণটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। মুরগি বা চিকেন। মাইক নামে একটি মুরগির কথা বলি, যে মাথা ছাড়া আঠারো মাস জীবিত ছিল।

probondhomundu02

কেন? বিজ্ঞানী ওয়েন জে কনসোল, একজন পোল্ট্রি ফিজিওলজিস্ট এবং নিউরো-বায়োলজিস্ট (আরকানসাস ইউনিভার্সিটি) এ প্রসঙ্গে যা বলেছেন সেটি প্রণিধানযোগ্য। একটা মুরগির করোটিতে দুটো বড় জায়গা থাকে চোখের জন্য। চোখ এতটাই জায়গা নিয়ে নেয় যে, বাকি মস্তিষ্ককে সেই অক্ষিগোলক প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে চেপে দেয় মাথার অনেক উপরের দিকে। ফলে মাথার যে অংশগুলি অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে, তার অনেকটাই মাথা ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরেও থেকে যায় এবং মাথা না থাকলেও শরীর তার কাজ অন্ধভাবে চালিয়ে যেতে পারে। মাইককে মারার সময় তার গুরুত্বপূর্ণ জুগুলার ধমনীটি বেঁচে যায়। ফলে চোখের ঠিক নিচ থেকে যদি কোনো মুরগিকে একইভাবে আবার মুণ্ডহীন করা হয়, তাহলে তার মাথার অংশ শরীরের কাজ চালানোর অবস্থায় থেকে যাবে। সে শ্বাস নিতে সক্ষম হবে এবং বিজ্ঞান যাকে বেঁচে থাকা বলে, সেই হিসাবে সে বেঁচে থাকবে। এই কারণেই মাইক আঠারোমাস প্রতিদিন জল আর দুধের একটা মিশ্রণ খেয়ে বেঁচেছিল। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও উল্লেখ করা দরকার যে তার কোনো অনুভব শক্তি থাকবে না। অর্থাৎ মাথার কাটা যাওয়া অংশের সঙ্গে সঙ্গে তার সোমাটোসেনসরি কর্টেক্স বা যে অঙ্গের সাহায্যে সে যন্ত্রণা বা আনন্দ অনুভব করতে পারত, তা বাদ পড়ে যায়।

এর পরের উদাহরণটি আরো সরেস। আমরা অনেকেই পুরাণের গল্প পড়েছি। শুনেছি রক্তবীজ নামে রাক্ষসের কথা, যার এক ফোঁটা থেকে আরেকটি রক্তবীজ তৈরি হত। আমরা শুনেছি রাবণ রাজার নাকি দশ মাথা ছিল। তার মধ্যে একটা মাথা কাটলে সঙ্গে সঙ্গে সেই মাথাটা আবার গজিয়ে উঠত? কিন্তু এ সব তো গল্পকথা। শুধু কি তাই? সেই উত্তরই এবার প্রাণীরাজ্যের আরেক উদাহরণ নিয়ে আমরা জানব।  

এই প্রাণীর নাম প্ল্যানেরিয়ান বা ফ্ল্যাটওয়ার্ম। এটি উভচর প্রাণী। জল ও স্থল, উভয় জায়গাতেই বাঁচতে পারে। কিন্তু সেটা কোনো নতুন খবর নয়। এরকম অনেক প্রাণীই আছে। যেটা আশ্চর্যের সেটা হলো এরা যে কোনো সময়েই নতুন দেহাংশ তৈরি করতে সক্ষম। এদেরকে যদি শরীরের মাঝ বরাবর দৈর্ঘ্যে বা প্রস্থে কেটেও দেওয়া হয়, তা হলেও এরা আবার বেঁচে উঠতে পারে। ঠিক সেই অ্যানাকোণ্ডা সিনেমায় দেখানো সাপটার মতোই। শরীরের অঙ্গগুলি পুনরায় গজিয়ে ওঠে এদের। সেটা চামড়া হোক, অন্ত্র হোক বা মস্তিষ্ক। এরা এক থেকে সহজেই দুই, দুই থেকে সহজেই চার, চার থেকে আট, আট থেকে ষোলো হয়ে যেতে পারে। এভাবে কতবার এদের কাটা সম্ভব, সেটা ঠিকভাবে এখনও জানা যায় না। এর মূল কারণ হলো এদের শরীরে বেঁচে থাকার জন্য হার্ট বা লাং-এর প্রয়োজন পড়ে না। এরা নিজেদের কাটা কোষগুলিকে বারবার বিভাজিত করে নতুনভাবে বাঁচিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। ফলে এই প্রাণীরা এক অর্থে অমর বললে একেবারে ভুল বলা হবে না।

এ প্রসঙ্গে অক্টোপাসের পা বা টেনট্যাকলসগুলির কথা না বললেই নয়। মূল দেহ থেকে বিচ্ছিন হবার পরেও একটা দীর্ঘ সময় ধরে এই টেনট্যাকলসগুলি বেঁচে থাকে। শুধু তাই নয় শিকার ধরে কোনো এক অদৃশ্য মুখে তাকে পুরতেও চায়। কারণ সেই একই। এদের মাথার তুলনায় পা-গুলিতে অনেক বেশি নিউরোন থাকে। তারা কোষ বিভাজন করে মস্তিষ্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পরেও কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বেঁচে উঠতে সক্ষম হয়। এ প্রসঙ্গে বলা ভাল, জীবিত অক্টোপাসের পা একটি খাদ্যও বটে। এর নাম সান আকি। এই খাবার খেয়ে অনেকেই যদিও অসুস্থ হয়েছেন। তবুও এর চাহিদা কমেনি। কারণ একটি জীবিত নিউরোন সমৃদ্ধ ব্যবস্থাকে হজম করতে মানুষের হজমশক্তিরও কিছু সমস্যা তৈরি হ্য়। একই সঙ্গে এটাও বলা দরকার যে, যখন এই পা-গুলি পাচকেরা কাটে, তখন এদের একই রকম বেদনা অনুভূত হয়। তার কারণ সব স্নায়ুই এই পায়ে তখনও মজুত থাকে। তাই এই জীবিত প্রাণী ভক্ষণ কতটা মানবিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এর পরের প্রাণীটিকেও অনেকেই খাবার হিসাবে ব্যবহার করেন। একে নিয়ে আমরা ছোটোবেলায় গল্প পড়ি। হ্যাঁ, কচ্ছপের কথা বলা হচ্ছে এখানে। একটি কচ্ছপ তার হৃদয়ের সাহায্য ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। তিমি বা সিল মাছেরা তাদের মস্তিষ্ক ছাড়া অন্য সব জায়গার সব রকম কোষজ চলাচল বন্ধ করে দেয় বাঁচার জন্য। কারণ মস্তিষ্ক বাঁচলে বাকি দেহ বাঁচবে, এই জ্ঞান তাদের মধ্যে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মতো গ্রন্থিত হয়ে আছে। কিন্তু কচ্ছপ এরকম পারে না। তাদের মাথায় অক্সিজেন না গেলেও তারা অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে। এভাবেই তারা অতি নিম্ন তাপমাত্রাতেও, অতি কম অক্সিজেন সরবরাহেও স্থির হয়ে বেঁচে থাকতে পারে মাসের পর মাস। এভাবেই আমরা অন্যান্য সরীসৃপদের শীতকালীন বেঁচে থাকার বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হব।

এর পরের ঘটনাটি সত্যিই গল্পের মতো শোনাবে। একেবারে কোনো হরর বা থ্রিলারের প্লট বলে মনে হবে। টেক্সাসে এক ব্যক্তি তার বাড়ির উঠোনে একটি র‍্যাটল সাপ দেখতে পান। এ সাপ যথেষ্ট বিষাক্ত। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে সাপটির মাথা কেটে ফেলেন। কিন্তু আশ্চর্য ঘটনা হলো কেটে ফেলার পরেও সাপটির কাটা মাথা ভদ্রলোককে কামড়ায়। তীব্র বিষের জ্বালায় ভদ্রলোক অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। উড়ো-অ্যামবুলেন্সে চাপিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হয় বড় হাসপাতালে। সেখানে অ্যাণ্টি-ভেনাম ইনজেকশন দেবার পর তিনি সুস্থ হন। প্রশ্ন হলো, কাটা মাথা কামড়ায় কীভাবে? এর উত্তর হচ্ছে বহু বিষাক্ত সাপের মেটাবলিজম মানুষের থেকে অনেক ধীর গতির। যার ফলে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও এই ধীর গতির কারণে নিজেদের কাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে এদের সময় লাগে। মরে যাওয়া তারার আলো পৃথিবীতে তারার মত্যুর অনেক পরেও পৌঁছতে পারে। আমরা যখন সেই আলোটিকে দেখে মনে করি যে এই তো সেই তারা, সে হয়তো তখন মৃত আসলে। কিন্তু আমরা হঠাৎ সেটা বুঝতে পারি না। এই সাপগুলির মাথাও ঠিক তেমনই। মৃত্যুর খবর নিউরোন বাহিত হয়ে মূল কেন্দ্রে পৌঁছোবার আগে যে খবরটি পৌঁছয়, তা হলো আক্রমণের খবর। মৃত্যুর আগে বাঁচার শেষ এবং মরিয়া চেষ্টাটাই তখন সব কিছুর থেকে বড়ো হয়ে দেখা দেয়। সেই আক্রমণের খবরের প্রতিক্রিয়া দেওয়াটাই তখন মুখ্য্তম হয়। মৃত্যুর খবরটি তার পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য সেটি ঘটে পরে। ঠিক যেমন ঘটেছিল, টেক্সাসের এই ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে।

এর পরের প্রাণীটি আমাদের কাছে খুবই নগণ্য। অনেকেই ঘৃণা করি, অনেকে ভয়ও পাই। প্রাণীটি হলো আরশোলা। আমরা অনেকেই জানি যে আরশোলা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণের পরেও বেঁচে থাকতে পারে। তাদের মধ্যে তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে ঠেকানোর শক্তি মানুষের চেয়ে বেশি। আরশোলা বাতাস থেকে অক্সিজেন না নিয়ে চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ না খেয়েও এরা বেঁচে থাকে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হলো মাথা কাটার পরেও এরা প্রায় দশ সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। তারপর মারা যায়, কারণ খাদ্যের অভাব! রায়সাহেব তাঁর অমর সিনেমায় কতযুগ আগেই তো বলে গিয়েছেন, “মুণ্ডু গেলে খাবটা কী!” তার পরের লাইনটি, “মুণ্ডু ছাড়া বাঁচব নাকি’র” থেকেও এখনকার পৃথিবীতে যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তাই না? আসলে আরশোলারা মাথা ছাড়াও বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় যে শারীরবৃত্তীয় কাজ, সেগুলি করে চলতে পারে। ষাটের দশকে বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণা করেছিলেন, যাতে আরশোলার একটি পা-কে নুনজলে ডুবিয়ে তাকে শক দেওয়া হত। দেখা গেছে যে পরবর্তীতে মাথা কেটে ফেললেও ওই পা-টি শক থেকে বাঁচতে জল থেকে পা তুলে ফেলছে। বাঁচার অদম্য স্পৃহার এ এক অনন্য উদাহরণ, স্বীকার করতেই হয়।

এর পরের উদাহরণটি দেবার আগে বলা যাক যে পিথিং বিষয়টি কী। পিথিং হলো বিজ্ঞানীদের দ্বারা বহুল ব্যবহৃত একটি প্রাচীন টেকনিক। এই পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো প্রাণীর মস্তিষ্ককে একটি বিশেষ লৌহশলাকার মাধ্যমে নষ্ট করে দেওয়া।

অনেক ক্ষেত্রে স্পাইনাল কর্ড বা মেরুদণ্ডকে বার করে নেওয়া হয়, যাতে মস্তিষ্কের কাজ ব্যতীত প্রাণীটি কীভাবে তার কাজ চালায় তা ঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়। এই পরীক্ষার জন্য ঊনবিংশ শতকে সবচেয়ে বেশি যে প্রাণীটিকে ব্যবহার করা হত, তার নাম ব্যাঙ। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে এক টি ব্যাঙের মাথা কেটে নেবার পরেও তার সাধারণ কাজকর্ম করার কোনো অসুবিধা হয় না। অর্থাৎ লাফাই-ঝাঁপাই, সাঁতার কাটা, জলে বা ডাঙায় ঘুরে বেড়ানো, পা টেনে ধরলে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়া, সব কিছুই সে করতে পারে বিনা অসুবিধায়। আঠারো শতাব্দীতে এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন যে যদি কোনো ব্যাঙের কেবল মাথাটুকুই কাটা হয় এবং শিরদাঁড়া অটুট থাকে, তাহলে এটা খুবই সম্ভব। কারণ ব্যাঙের ক্ষেত্রে তার মাথা ছাড়াও শিরদাঁড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আলাদা অঙ্গ। মাথাব্যতীত শরীরকে সে প্রয়োজনীয় কাজগুলি নির্বাহ করার জন্য পরিচালনা করতে সক্ষম।

এ তো গেল প্রাণীজগতের অদ্ভুত কিছু উদাহরণের কথা। এবার ফিরে আসা যাক সেই কথায় যা দিয়ে বিজ্ঞানের এই আশ্চর্য গল্পগুলির কথা শুরু হয়েছিল। নেচার পত্রিকার বিখ্যাত হয়ে ওঠা প্রবন্ধটি ছিল একটি শুয়োরের কাটা মাথাকে নিয়েই। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষক শুয়োরের একটি কাটা মাথা নিয়ে আসেন তাঁদের ল্যাবে। সেখানে তাঁরা সেই মাথাটিতে রক্তের বিকল্প হিসাবে কিছু তরল পাম্পের সাহায্যে পাঠান। মৃত্যুর চারঘণ্টা পরেও দেখা যায় যে এই মাথাটির কোষগুলি প্রোটিন উৎপাদনে সক্ষম এবং অল্প মানের অক্সিজেনের মাধ্যমে শক্তি বিকিরণ করতেও পারছে। তাহলে উপরি উক্ত ঘটনাগুলির থেকে এই ঘটনাটি আলাদা কেন? 

কারণ উপরের প্রাণীগুলি প্রকৃতিগতভাবে, নিজেদের শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতিতেই বেঁচেছিল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে একটি মৃত প্রাণীর মস্তিষ্ককে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। কী হবে যদি এই একই পদ্ধতি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়? একই সঙ্গে আরেকটি মহামূল্যবান প্রশ্ন উঠে আসে। যেটি করেছেন বিজ্ঞানী কোচ,  

“For most of human history, death was very simple,” says Christof Koch, president and chief scientist of the Allen Institute for Brain Science in Seattle, Washington. ”Now, we have to question what is irreversible.”১

আমরা এ পর্যন্ত যত প্রাণীর কথা আলোচনা করেছি, তাদের সবাই মোটামুটিভাবে আমাদের পরিচিত জগতের। সবাই মনুষ্যেতর। এদের সবার মাথাহীন হয়ে বেঁচে থাকার জন্য খুব বেশি কিছু অসুবিধা, অন্তত বৌদ্ধিক বা চৈতন্যগত ভাবে হচ্ছে বলে মনে করার কোনো যুক্তি বা কারণ নেই। কিন্তু পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাণ মানুষের কথা যখন আসে, তখন একটু তলিয়ে ভাবতে হয় বইকি। এ প্রসঙ্গে নিচে আউটলুক পত্রিকার একটি লেখার অংশ তুলে দিলাম, তাতে হেডলেস চিকেন নামে এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যার কাজকর্ম কী, তা বলা হচ্ছে বিশদে। অবশ্যই এ লেখা প্রতীকী। কিন্তু সেই প্রতীকের মধ্যে থাকা বাস্তব আমরা কতটা খুঁজে নিতে পারব, সেটাই প্রশ্নঃ

The headless chicken keeps religion and sex in the bedroom. The headless chicken is plural and singular. The headless chicken strides the world with absolute ease but is unable to hop across the Indo-Pak border. The headless chicken is you and me and all of us but most of all it is like the waiter at a 3-star hotel, watching and observing and crying and laughing and hanging around for tips. The headless chicken plagiarises like hell from day to day life. Join the headless chicken.২

জীবিত থাকা, আর বেঁচে থাকা কি এক? মাথার কিছু নিউরোন অক্সিজেন গ্রহণে সক্ষম, সে খাদ্য তৈরিতে, বৃদ্ধিতে, শক্তি উৎপাদনে সক্ষম, এটুকুই কি একজন মানুষের পরিচয় হয়ে থাকতে পারে সারাজীবন? মৃত্যু আসলে কী? কেবল হাত পা নাড়তে না পারা? বা যান্ত্রিকভাবে অঙ্গ সঞ্চালনে সক্ষম হওয়া? প্রশ্নটুকু মনে থেকেই যায়। তাই না? উত্তরের অপেক্ষা রইল আমার প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা বন্ধুদের থেকে।  

তথ্যসূত্র:

১। https://www.nature.com/articles/d41586-019-01216-4

২। https://www.outlookindia.com/website/story/the-headless-chicken-journals/218589          

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s