ভুলো ইত্যাদি
রসিকলাল দাস
ভুলো
বাবাঃ তোর মোবাইল নম্বরটা বলবি?
ছেলেঃ এত ভুলে যাও কেন বাবা? মনে না রাখলে নম্বরটা স্টোর করে রাখতে পারো তো।
বাবাঃ হুঁ হুঁ। স্টোর করে রেখেছি। দাঁড়া। আগে বল ভারতের জাতীয় ফুলের নাম কী?
ছেলেঃ পদ্ম।
বাবাঃ বেশ বেশ। (গলা তুলে) পদ্ম, তোমার ছেলের মোবাইল নম্বরটা বলো দেখি—
ঘোট(ক)ম্যান্ড
“দারুণ ঘোড়া স্যার। কেনবার আগে একবার চড়ে দেখুন!”
ঘোড়াটা তারিফ করবার মতন। শান্ত। বড়োসড়ো। এক লাফে তার পিঠে চেপে লাগাম ধরে বললাম, “চল।“
ঘোড়া নড়ে না। মালিক বলে, “ওই একটা মজা স্যার। এর ট্রেনিংটা অদ্ভূত। লাগাম ঝাঁকিয়ে বলবেন, “বাঁচলাম।” তাহলেই ছুটতে শুরু করবে।
“আর থামাতে হলে?”
“বলবেন হ্যাট হ্যাট।”
ছুট শুরু করলাম সামনের পাহাড়টার দিকে। ক্রমেই তার খাড়াই ঢাল বেয়ে উঠে যাচ্ছি। উল্টোদিকের খাদ এগিয়ে আসছে। এবার থামতে হয়।
বললাম, “থাম, থাম।”
সে আর থামে না। ওদিকে খাদ এগোচ্ছে। বুঝলাম বিপদ। থামাবার শব্দটা ভুলে গেছি। বললাম, “টুপিটাপা”-সে থামল না। বললাম, “হাঁটাহাঁটি” সে থামল না।
শেষমেষ একেবারে খাদের মুখে, তিনশো ফিট গভীর ড্রপটার নাকের ডগায় আসবার যখন উপক্রম হয়েছে তখন মনে পড়ে গেল। চিৎকার করে বললাম, “হ্যাট হ্যাট।”
এক চুলের জন্যে খাদের ভেতর পা না দিয়ে থেকে গেল ঘোড়া। আমার তখন ঘাম ছুটে গেছে শরীরে। ঘোড়ার পিঠে বসে টুপিটা খুলে হাওয়া খেতে খেতে বললাম, “আঃ, বাঁচলাম।”
জয়ঢাক শুনেছি ভূতদের লেখা ছাপায়। তাই সাহস করে পাঠালাম।