
ভাগ্যে থাকলে
সীতারামবাবু নতুন শহরে পোস্টিং নিয়ে এসেছেন। তাঁর বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী, বাবা মা আর বারোটি ছেলেমেয়ে। উঠেছেন একশো তিন বছরের বুড়ীমাসীর বাড়ি। সেখানে দুটিমাত্র ঘর। একটিতে মাসী আর অন্যটিতে চোদ্দজন ঠাসাঠাসি। একটি বড়োসড়ো ভাড়াবাড়ির সন্ধানে ঘুরছেন তিনি। কিন্তু অতবড়ো পরিবারের কথা শুনে কেউ তাঁকে ভাড়া দিতে রাজি নয়।
দিনকয়েক এমন গোটা পঁচিশেক ব্যর্থ চেষ্টার পর দালাল আরো একটা বাড়ির খবর নিয়ে এলো মাসীর বাড়িতে। বড়োসড়ো বাড়ি। বড়োরাস্তার পাশেই। ভাড়াও বেশি নয়। আর ঠিক তক্ষুনি ভেতরবাড়ি থেকে খবর এলো মাসী মারা গিয়েছেন। কিন্তু বাড়িভাড়ার সুযোগ ছাড়া চলে না। ওদিকে শ্মশানে যাবার তোড়জোড় চলেছে। অগত্যা রামবাবু বিমর্ষমুখে সেসব বাদ দিয়ে চললেন দালালের সাথে। কথা রইল, যদি সফল হন তাহলে তক্ষুনি বাজারে গিয়ে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ঠিকঠাক করবেন, আর ব্যর্থ হলে সেখান থেকে সোজা শ্মশানে চলে আসবেন।
দেখাশোনা হয়ে গেলে বাড়িওয়াল প্রশ্ন করলেন, “আপনার পরিবারে আর লোকজন?”
রামবাবু ভয়ে ভয়ে বললেন, “আমায় নিয়ে পনেরোজন। সব শ্মশানে। একাই এসেছি। ভাড়া না পেলে এক্ষুনি আমিও শ্মশানেই–”
বাড়িভাড়া পেতে আর কোন সমস্যা হয় নি রামবাবুর।
ডেটল সাবান
খদ্দেরঃ আপনার কাছে ডেটল সাবান আছে?
দোকানদারঃ আছে।
খদ্দেরঃ ভালো কোয়ালিটির তো?
দোকানদারঃ বাজারের সেরা জিনিস।
খদ্দেরঃ হাত ধুলে নোংরা যায় তো?
দোকানদারঃ এক্কেবারে জিরো ব্যাকটেরিয়া সার।
খদ্দেরঃ বেশ বেশ। তাহলে একটা সাবান দিয়ে হাতদুটো ভালো করে ধুয়ে আমাকে দু কেজি আটা দিন দেখি।
এক্সারসাইজ
রোগিঃ আপনার কথামত রোজ সকালবেলা ঝাড়া দু ঘন্টা ওঠানামার এক্সারসাইজযুক্ত খেলা খেলে যাচ্ছি ডাক্তারবাবু, তাও ওজন তো একটুও কমল না!
ডাক্তারঃ কোন খেলা খেলছেন বলুন তো?
রোগিঃ সাপ লুডো
এক্সাইড
খদ্দেরঃ টর্চে দুটো ব্যাটারি লাগিয়ে দিন
দোকানদারঃ এক্সাইড দিই?
খদ্দেরঃ বললাম তো দুটো। একদিকে লাগালে টর্চ জ্বলবে?
রচনা লেখা
টিউটরঃ রচনা না লিখলে আজ তোর খেলতে যাওয়া বারণ।
ছাত্র (মুখ ব্যাজার) দিন
টিউটরঃ লেখ তোমার দেখা একটি ক্রিকেট ম্যাচ
ছাত্রঃ একবার আমি বাবার সঙ্গে ইডেনগার্ডেনে ম্যাচ দেখিতে গেলাম। খেলা শুরু হইল। ধোনি ব্যাট হাতে নামিল। তাহার পর বৃষ্টি শুরু হইল। ম্যাচ বাতিল বলিয়া ঘোষিত হইল।
টিউটরঃ ফাঁকিবাজি হচ্ছে? আরেকটা রচনা লেখ। তিনশো শব্দের হতে হবেঃ তোমার “প্রিয় প্রাকৃতিক দৃশ্য”
ছাত্রঃ আমাদের বাড়ির পাশে চুর্ণী নদী বহমান। আমি রোজ দুপুরবেলা খাটে শুইয়া তাহার দিকে দেখি এবং তাহাতে কি সুন্দর জল বহিয়া যায়—ঝরঝর(x২৭৯)
মডার্ন আর্ট
আর্ট গ্যালারিতে গিয়ে শিল্পরসিক একখানা ছবি দেখে বেজায় বিরক্ত হয়েছেন। গ্যালারিমালিককে ডেকে বললেন, “এরকম কুরুচিকর, কুৎসিত ছবিকে মডার্ন আর্ট বলে চালাচ্ছেন, লজ্জা করে না?” গ্যালারিমালিক হাত কচলে বলেন, আই অ্যাম সরি স্যার। আমি লজ্জিত। এক্ষুণি সরিয়ে দিচ্ছি। ওরে ভোলা, আয়নাটা এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যা বাপ।
দুঃখের প্রতিকার
দিদিমণি- দুঃখ হলে কে কী করো?
রামঃ কাঁদি
শ্যামঃ চিল্লাই
যদুঃ ফ্রিজ খুলে মিষ্টি খাই
মধুঃ ইমেইল বক্স খুলে স্প্যাম ফোল্ডার দেখি।
দিদিমণিঃ অ্যাঁ? দুঃখু হলে স্প্যাম ফোল্ডার দেখো? কেন?
মধুঃ তাতে কম করে দশটা চিঠি থাকে যার প্রত্যেকটাতে বলে আমি এক কোটি ডলারের লটারি পেয়েছি। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।