
দুই থেকে তিনশো মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে যখন একটাই মস্ত বড়ো স্থলভাগ ছিল, তা আলাদা আলাদা ভূখণ্ডে ভাগ হয়ে যায়নি,তখন একবার দুই মিলিয়ন বছর ধরে নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছিল। সম্ভবত ভয়ানক এক অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তাপমাত্রা ভীষণভাবে বেড়ে যায়। তৎকালীন মহাসাগরের জল গরম হয়ে আর্দ্রতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে এই অনন্ত বারিধারা। ভূতত্ত্ববিদরা এই আশ্চর্য ঘটনার নাম দিয়েছেন কার্নিয়ান প্লুভিয়াল ইভেন্ট। এতে নাকি ডাইনোসরদের ভারি সুবিধা হয়েছিল।
আর আমরা দুই দিন একটানা বৃষ্টি হলেই নাজেহাল হয়ে যাই।

সাধারণ মনুষ্য-মস্তিষ্ক সেকেন্ডে একটা করে সরল হিসেব কষতে পারে। সেখানে কম্পিউটার কষতে পারে অনেক বেশি—এ তো জানা কথা। যেসব সুপার কম্পিউটার ওই সময় এক কুইন্টিলিয়ন (অর্থাৎ ১-এর পর আঠারোটা শূন্য) হিসেব কষতে পারে, তাদের বলে এক্সাস্কেল কম্পিউটার। পৃথিবীতে তার একটিমাত্র নিদর্শন আছে, সে হল মার্কিন মুলুকের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ফ্রন্টিয়ার সুপার কম্পিউটার। ২০২২-এর মে মাসে ফ্রন্টিয়ার এক কুইন্টিলিয়নের বেড়া ভেঙে ১.১ কুইন্টিলিয়নে পৌঁছে গিয়েছিল। তারপর বোধ হয় নিজেকে খুব ধীরগতি মনে হওয়াতে সম্প্রতি সেকেন্ডে ৯.৯৫ কুইন্টিলিয়ন হিসেব কষে আপাতত শান্ত হয়েছে। একে পুলিশ স্পিডিং টিকিট দিলে পারে না?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন যেদিকে চলেছে, অকৃত্রিম বুদ্ধি নিয়ে ঠিক তার উলটোদিকে চলেছি আমরা। ২০২৩ সালে শুধুমাত্র আমেরিকায় ২১টি প্রজাতির প্রাণীকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে আছে মারিয়ানা ফ্রুট ব্যাট,এক জাতীয় গুঁফো ক্যাটফিশ, আট প্রজাতির হাওয়াইয়ান পাখি। কে জানে আমরা কোথায় গিয়ে থামব। পিট সিগারের লেখা গানটা মনে আছে নিশ্চয়ই—হোয়েন উইল য়্যু এভার লার্ন?