কাতুকুতু সাইকোলজিস্ট ও পাগল পুলিশ রসিকলাল দাস বর্ষা ২০১৮

সাইকোলজিস্ট ও পাগল পুলিশ

রসিকলাল দাস

এক সাইকোলজিস্ট পাগলের হাসপাতাল থেকে গাড়ি নিয়ে ড্রাইভ করে বেরিয়ে রাতের ফাঁকা রাস্তায় বেজায় স্পিডে যেতে গিয়ে একটা দোকানে ধাক্কা মেরে ভেঙে দিয়ে পালাল। দেখতে পেয়ে পুলিশ তাকে তাড়া করল। আধঘন্টা ধরে রেস হল। তারপর পুলিশের গাড়ি অপরাধী গাড়িকে ধরে ফেলল।

পুলিশঃ(গাড়ির জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েঃ) লাইসেন্স?

ড্রাইভারঃ আজ্ঞে নেই।

পুলিশঃ গাড়ির কাগজপত্র?

ড্রাইভারঃ আজ্ঞে তা-ও নেই।

পুলিশঃ কেন নেই?

ড্রাইভারঃ কারণ গাড়িটা আমি চুরি করেছি।

পুলিশঃ অ্যাঁ? গাড়ি চুরি?

ড্রাইভারঃ হ্যাঁ স্যার। আ-আমি একজনকে গুলি করে খুন করেছি। তারপর তার গাড়ির ডিকিতে বডিটা ভরে নিয়ে পালাচ্ছিলাম। তখন আপনি—

পুলিশঃ (ঘাবড়ে গিয়ে খানিক দূরে গিয়ে ফোনে)  হ্যালো হেডকোয়ার্টার, বড়ো অফিসার পাঠান। বন্দুকধারী টিম পাঠান। রাস্তায় বিপজ্জনক খুনে। ডিকিতে বডি। গাড়ি চুরি করে ধাক্কা দিয়ে দোকান ভেঙে পালাচ্ছে।  আমি একা সামলাতে পারব না।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিন গাড়ি পুলিশ এসে হাজির। সামনের গাড়ি থেকে বড়োকর্তা নেমে বন্দুকধারী সেপাই নিয়ে সন্দেহ করা গাড়ির কাছে এলেন।

বন্দুকধারীঃ আপনার লাইসেন্স?

ড্রাইভারঃ আজ্ঞে এই যে।

বন্দুকধারীঃ (লাইসেন্সে চোখ বুলিয়ে) এ তো ঠিকই আছে। গাড়ির কাগজপত্র?

ড্রাইভারঃ আজ্ঞে গ্লাভবক্সে। এই যে—

বড়োকর্তাঃ (এগিয়ে এসে কাগজপত্রে চোখ বুলিয়ে) এটাও তো ঠিক আছে! আপনার গাড়ির ডিকি খুলুন তো!

ড্রাইভারঃ আজ্ঞে স্যার। এই যে—বাড়ির জন্য একমণ আলু নিয়ে যাচ্ছিলাম।

বড়োকর্তা (আলুর বস্তা নেড়েচেড়ে দেখে রাগরাগ মুখে) অফিসার, তুমি একটা ভুল খবর দিয়ে আমাদের ডেকে আনলে, এঁকে আটকে রাখলে—কেন?

ড্রাইভারঃ আমি বলব? ব্যাপারটা সিম্পল স্যার। আমি একজন প্র্যাকটিশিং সাইকোলজিস্ট। এই যে আমার কার্ড। আমি অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছি, এর বোধ হয়ে কোন মাথার গোল আছে। হঠাৎ কোথাও কিছু নেই আমার গাড়িটাকে তাড়া করে ধরে সেই থেকে এইসব উদ্ভট কথাবার্তা বলে যাচ্ছে আর বারবার আমায় মারতে আসছে। এরপর হয়ত আর কিছু না পেয়ে বলবে, আমি বেজায় জোরে গাড়ি চালিয়ে দোকানটোকান ভেঙে দিয়েছি। কী সাংঘাতিক!!

পুলিশঃ বলবই তো! তুই—

ড্রাইভারঃ দেখলেন তো স্যার! পাগল– পাগল—আমি তাহলে যাই। কালকে একে আমার চেম্বারে পাঠিয়ে দেবেন। সরকারি পাগল তো! পয়সা নেব না।

জয়ঢাকের সব  কাতুকুতুএকত্রে

Leave a Reply