আগের পর্বগুলো

তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তবে এর আগে জাদুকর মাহমুদের সাথে একবার দেখা করতে হবে তুরণ পাহড়ে। জাদুকর মাহমুদ আমাদের অপেক্ষায় আছেন সেখানে। আর তার সাথে আছে তার পোষা জাদুর হীরামন পাখি।”
তোবারক আলী রথে উঠে ঈগলের লাগাম হাতে নিয়ে তাগাদা দিলেন, “উঠে এসো, উঠে এসো।”
রাতুল এবং আকাশ মোচওয়ালা হাতিকে বিদায় জানাচ্ছিল। ঠিক তখন আরেকটি মোচওয়ালা হাতি এসে খবর দিল হাতিপাড়ায় কালো জাদুকর কোবিলাইয়ের গুন্ডাবাহিনী গন্ডারলীগ হামলা করেছে। এই গন্ডারদের দলকে নাম দেয়া হয়েছে গন্ডারলীগ। এরা দুধর্ষ এবং ভয়ানক। কিন্তু এর আগে কখনো হাতিপাড়ায় আক্রমণ করে নি। হাতিদেরও শক্তিমত্তা কম না। সুতরাং, প্রবল প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। হাতিপাড়ায় আক্রমণের খবর শুনে মোচওয়ালা হাতি রাতুলদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ছুটল হাতিপাড়ায় দিকে। রাতুলরা উঠে পড়ল তোবারক আলীর ঈগলটানা রথে। তোবারক আলী লাগাম টানতেই ঈগলগুলো রথ নিয়ে ছুটল তুরণ পাহাড়ের দিকে।
কয়েকটি নীল রঙের পাহাড় এবং উজ্জ্বল গোলাপী রঙের হ্রদ পেরিয়ে রথ চলতে শুরু করল। আকাশের রঙ তখন হালকা বাদামী এবং নীলের মিশেলে অদ্ভুত এক রঙ ধারণ করে আছে।
তোবারক আলী রথ চালনা করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা এই কোবিলাই সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছ?’
রাতুল বলল, “শুধু জেনেছি সে কালো জাদুকর এবং ভয়ংকর।”
তোবারক আলী দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে বেশ কসরত করে লাগাম টেনে রথকে নির্দিষ্ট কোণে ঘুরিয়ে নিতে নিতে বললেন, “তা ঠিক আছে। কোবিলাই এর মত ভয়ংকর আর কিছু আছে আমি ভাবতে পারি না। তবে তার সম্পর্কে আরো কিছু জানা উচিত তোমাদের। যেমন সে কে, কেমন করে জাদু রাজ্যের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে যাচ্ছে এসব।”
তারপর তিনি বলতে শুরু করলেন কোবিলাই এর কাহিনী। সে কাহিনী তার ভাষাতেই হুবহু তুলে ধরা হলঃ
নিকোলাই এর পিতা সম্রাট আজানিস এর ছিল দুই পুত্র। নিকোলাই এবং কোবিলাই। নিকোলাই সাধারণ জাদুবিদ্যায় শিক্ষিত হলেন। তিনি ছিলেন বেশ সুঠাম দেহের অধিকারী। তার কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কোঁকড়ানো চুল। মুখভর্তি দাঁড়ি, নীল চোখ এবং উজ্জ্বল শ্যামলা গাত্রবর্ন যেন তার ব্যক্তিত্ত্বের প্রতিনিধিত্ব করত। তার গলার স্বর ছিল কিছুটা গম্ভীর।
আর কোবিলাই ছিল অপেক্ষাকৃত খাটো। সে কালো জাদুকর ইজাকার সান্নিধ্য পেয়ে হয়ে গেল প্রচন্ড ক্ষমতালোভী। কালো জাদুকর ইজাকা ছিল সম্রাট আজানিসের একজন জাদুকর। জাদু রাজ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে কালো জাদুরও দরকার পড়ত। সেই ইজাকার কাছ থেকে কালো জাদু শিখতে লাগল কোবিলাই।
সাধারণত জাদু রাজ্যে সামান্য কিছু লোক ছাড়া কালো জাদুর চর্চা সবাই করতে পারত না। তাই কোবিলাই লুকিয়ে ইজাকার কাছ থেকে কালো জাদু শিখছিল। আর ইজাকারও সম্রাট আজানিসকে বেশ পছন্দ ছিল না। তাই সে আজানিসের পুত্র কোবিলাইকে কালো জাদু শিখিয়ে তৈরী করতে লাগল। তার ইচ্ছা ছিল কোবিলাইকে কালো জাদুশক্তির বলে ক্ষমতায় বসাবে। তারপর সে নিজেই হয়ে যাবে জাদু রাজ্যের সর্বময় কর্তা। তখন পুরো জাদু রাজ্যে বিস্তার ঘটাবে কালো জাদুর।
এখানে উল্লেখ্য যে কালো জাদুকররা শয়তানের কাছে সাহায্য চায় বলে জাদু রাজ্যে কালো জাদু ছিল ঘৃণ্য। কোবিলাই কালো জাদু শিখতে শিখতে নিজের মুখ বিকৃত করে ফেলল। কালো জাদুর প্রভাবে কালো জাদুকরদের মুখ, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকৃত হয়ে যায়। কোবিলাই এর একটা চোখের যায়গায় কালো গর্ত হয়ে গিয়েছিল। এরপরেই জানাজানি হয়ে যায় সে কালো জাদুর সাথে যুক্ত।
সম্রাট আজানিস প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি কোবিলাইকে ডেকে পাঠালেন।
ইজাকা তখন কোবিলাইকে গিয়ে বলল, “তোমার বাবা নিশ্চয়ই তোমাকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেবেন। তুমি বঞ্চিত হবে সিংহাসন থেকে। তাই আমি বলি, বিষ খাইয়ে সম্রাট আজানিসকে মেরে ফেল। অতঃপর নিকোলাইকে বন্দী করে তুমি হবে সম্রাট।”
কোবিলাই তখন ভয় পেয়েছিল। সে জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব? অনেক বড় বড় জাদুকর আছেন রাজপ্রাসাদে। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজাকে বিষ দেয়া তো অসম্ভব!”
ইজাকা বলল, “সম্ভব করার দায়িত্ব আমার। আমি জাদুবলে কিছুক্ষণের জন্য সবাইকে মোহগ্রস্ত করে রাখতে পারব। সেই সুযোগে তুমি জাদুর সাহায্যে লুকিয়ে সাথে নিয়ে যাবে বিষের কৌটা। তারপর ঢেলে দিবে রাজার পানপাত্রে।”
তারপর সেই দিন এল। ইজাকা শয়তান লুসিফারের কাছ থেকে চেয়ে নিল তীব্র কিছু বিষ। সে রাজপ্রাসাদের সবাইকে তার জাদুমন্ত্রবলে সামান্য সময়ের জন্য মোহগ্রস্ত করে রাখল।
প্ল্যানমত প্রাসাদে ঢুকল কোবিলাই। রাজার পানপাত্রে সে বিষ মিশিয়ে দিতে পেরেছিল।
রাজপ্রাসাদে তখন সবাই জাদুমানব হলেও মাত্র একজন ছিলেন পৃথিবীর মানুষ। তিনি হলেন জাদুকর মাহমুদ। নিকোলাই এর প্রিয় বন্ধু। অদ্ভুত উপায়ে তিনি ছোটবেলা থেকে জাদু রাজ্যে প্রবেশের অধিকার পেয়েছিলেন। জাদুতে তার দখল ছিল অনেক। মহান জাদু দেবতা শিয়াংহোর কাছ থেকে তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন প্রচন্ড ক্ষমতাধর এক হীরামন পাখি। সে পাখিটাও সেদিন তার সাথে ছিল।
ইজাকার মন্ত্রে পাখিটা মোহগ্রস্ত হয়নি। জাদুর হীরামন পাখির উপর কোন ধরণের জাদুই কাজ করে না। পাখিটা সমস্ত ঘটনা বুঝে ফেলল। জাদুকর মাহমুদের উপর কালো জাদুর মায়া কাটিয়ে দিল পাখিটি। জাদুকর মাহমুদ সম্বিৎ ফিরে পেয়ে হীরামন পাখির কাছ থেকে সব শুনলেন। তিনি বুঝতে পারলেন রাজার বিপদ আসন্ন। তাই খুব দ্রুত তিনি তার বন্ধু এবং রাজপুত্র নিকোলাই এর উপর প্রযুক্ত ইজাকার জাদু মায়াজাল কাটালেন। নিকোলাই কালো জাদুর মোহগ্রস্থতা থেকে বের হয়ে বন্ধু মাহমুদের কাছ থেকে পিতা আজানিসের আসন্ন বিপদ সম্পর্কে অবহিত হলেন।
তিনি বন্ধুকে বললেন, “বন্ধু, তুমি রাজপ্রাসাদের অন্য জাদুকরদের উপর ইজাকার জাদুর প্রভাব নষ্ট করে দাও। আর আমি রাজার কক্ষে গিয়ে তাকে রক্ষা করছি।”
কালো জাদুর প্রভাবান্বিত হয়ে রাজা আজানিস হয়ত বিষ দেয়া পানীয় খেয়েই ফেলতেন। কিন্তু তার আগে গিয়ে উপস্থিত হন নিকোলাই। তিনি রাজাকে পানীয় পান থেকে বিরত রাখেন।
রাজপ্রাসাদের অন্য জাদুকরদের উপর থেকে ইজাকার প্রভাব একে একে দূর করে দিচ্ছিলেন জাদুকর মাহমুদ এবং তার হীরামন পাখি। প্রভাবমুক্ত হয়ে এসব জাদুকররা ইজাকার ষড়যন্ত্র বুঝতে পারলেন। তাদের কালো জাদু দিয়ে মোহগ্রস্থ করে রাখার মত দূঃসাহস দেখে অবাক হয়ে গেলেন তারা। এ যেন কল্পনাও করা যায় না। এমনকী স্বয়ং রাজা আজানিসকে কালো জাদু দিয়ে মোহগ্রস্থ করা হয়েছে!
ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেল। ইজাকাকে একটি খয়েরী কাচের বোতলে বন্দী করে সাথে সাথে গভীরতম অন্ধকার কুয়ায় নিঃক্ষেপ করলেন রাজপ্রাসাদের প্রধান জাদুকর। আর কোবিলাইকে রাসপ্রাসাদ থেকে চিরতরে বহিঃষ্কার করেছিলেন রাজা আজানিস।
রাজাদের পুত্র হত্যা করতে নেই বলে তিনি তাকে মৃত্যুদন্ড দিতে পারেননি।
এর কিছুদিন পর বৃদ্ধ রাজা আজানিস নিকোলাইকে জাদু রাজ্যের সম্রাট বানিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেন। তার বয়স হয়েছিল কয়েকশ বছর। এরপর নিকোলাই সম্রাট হয়ে অনেকদিন জাদু রাজ্য পরিচালনা করেন। সেসময় কোবিলাই অজ্ঞাতে থেকে কালো জাদুর জগতে আরো শক্তিশালী হতে থাকে।
তারপর একদিন হঠাৎ সে আবির্ভূত হয় রাজপ্রাসাদে। রাজপ্রাসাদের সব জাদুকরদের কব্জা করে হত্যা করে তার ভাই কোবিলাইকে। কোবিলাই এর পুত্র হারিরিকেও হত্যা করত। কিন্তু হারিরিকে নিয়ে পালিয়ে যান কোবিলাই এর এক বিশ্বস্ত জাদুকর সহচর। তার বন্ধু মাহমুদ তখন তুরণ পাহাড়ে জাদুবিদ্যার স্কুল খুলে শিক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি রাজার বিপদ শুনে চলে আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার আগেই পুরো তুরণ পাহাড়কে বন্দিশালায় পরিণত করে দিয়েছিল কোবিলাই। তিনি সেখান থেকে বেরোতে পারলেন না।
রাজা নিকোলাই এর বিশ্বস্ত সেই সহচর তার পুত্র হারিরিকে বাঁচাতে নিয়ে গেলেন পৃথিবীতে। এক জায়গা থেকে আরেকজায়গায় ঘুরলেন। শেষ পর্যন্ত হারিরির তোমাদের সাথে দেখা হল। অবশ্য সে দেখা হবার পিছনেও কারণ ছিল। জাদু রাজ্যের ভাগ্য মন্দিরের দেবতা ভবিষ্যতবানী করেছিলেন হারিরিকে উদ্ধার অভিযানে তোমরা দুজন অংশগ্রহণ করবে। অর্থাৎ নিজের অজান্তেই হারিরি এবং তোমাদের ভাগ্য একসাথে জড়িয়ে গেছে। এই উদ্ধার অভিযানের ফল কী হবে, হারিরিকে উদ্ধার করা যাবে কি যাবে না তা স্পষ্ট করে বলেন নি জাদুরাজ্যের ভাগ্যদেবতা। তবে কালো জাদুকর কোবিলাই যাতে জাদু রাজ্যের সব ক্ষমতার অধিকারী হতে না পারে এটা জাদু রাজ্যের প্রায় সবাই চায়। সে প্রচন্ড ক্ষমতালোভী ও নৃশংস। ফলে সে জাদু রাজ্যের সম্রাট হলে জাদুর জগত এবং পৃথিবীর মানুষের জগতের জন্য ডেকে নিয়ে আসবে অমঙ্গল।
কোবিলাই সম্পর্কে বলা শেষ করলেন তোবারক আলী। শেষ হলে রাতুল জিজ্ঞেস করল, “আমরা কীভাবে এই শক্তিশালী কোবিলাই এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব?”
তোবারক আলী গম্ভীর হয়ে বললেন, “তা আমিও জানিনা সঠিক।আমরা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছি ভাগ্য দ্বারা। তুরন পাহাড়ে জাদুকর মাহমুদ এর কাছ থেকে হয়ত কিছু জানা যাবে।”
আকাশ জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু তিনি তো বন্দী?”
তোবারক আলী বললেন, “বন্দী বলতে তিনি ঐ পাহাড় থেকে বের হতে পারেন না। কিন্তু তার জাদুর স্কুল এখনো আছে। ছাত্ররা সেখানে জাদু শেখে। তার সাথে তার হীরামন পাখিটাও আছে। তার নিজের জাদুক্ষমতাও অনেক। আশা করছি তিনি হারিরিকে উদ্ধারের ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করতে পারবেন।”
রথ উড়ে চলল। ভয়ংকর সুন্দর জাদুরাজ্যের উপর দিয়ে তুরন পাহাড়ের দিকে। হালকা বাতাসের ভেতর দিয়ে, বিচিত্র ধরনের প্রানী এবং উড়ন্ত যানবাহন পেছনে ফেলে। কয়েকটি বিশালাকার ইঁদুরমুখো বাজপাখি রথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে একটি বিরাট তেলরঙা ভাল্লুককে। ভাল্লুকের নাকটা আবার খুব লম্বা। সে রথের পাশে পাশেই আরেকটি বিরাটাকার চড়ুই পাখির পিঠে চেপে উড়ে যাচ্ছে হলুদ রঙের প্রায় সাড়ে ছ’ফুট উচ্চতার এক তেলাপোকা। রাতুল এবং আকাশ অবাক হয়ে দেখছিল এসব আর রথ এগিয়ে যাচ্ছিল তুরন পাহাড়ের দিকে।
অধ্যায় তেরো
তুরন পাহাড় একটি বিরাট পাহাড়। পাহাড়ের গা ছোট ছোট সবুজ ঘাসে আবৃত। ঠিক যেন ছবির মত সুন্দর। পাহাড়ের বিভিন্ন গুহায় জাদু রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে জাদু শেখার জন্য ছাত্ররা এসে থাকে। তাদের জাদু শেখান জাদুকর মাহমুদ। তিনি পাহাড়ের প্রায় মধ্যেখানের একটি গভীর গুহায় জাদুবিদ্যার বিভিন্ন নিগুঢ় তথ্য নিয়ে চিন্তায় থাকেন প্রায়ই। কোবিলাই এর কালো জাদুর প্রভাবে তিনি এই পাহাড়ের বাইরে যেতে পারেন না। তার পোষা হীরামন পাখিটি আছে তার সঙ্গে।
তোবারক আলী জাদুকর মাহমুদের গুহার সামনে গিয়ে রথ থামিয়ে বললেন, ‘এটাই জাদুকর মাহমুদের গুহা। আমার সাথে তার যোগাযোগ হয়েছিল তার পোষা হীরামন পাখির মাধ্যমে। চলো, আমরা এর ভেতরে যাবো।”
তিনি রথ থেকে নেমে হেটে গুহায় প্রবেশ করলেন। তার পিছু পিছু গেল রাতুল এবং আকাশ। কিছুদূর যাওয়ার পর রাতুল দেখতে পেল একজন মধ্যবয়স্ক লোক কয়েকটি কাছিমকে কী যেন বুঝাচ্ছেন। কাছিমগুলোর ঠ্যাঙ মাত্র দুইটি এবং সেগুলো বকের ঠ্যাঙের মত লম্বা।
তারা যাওয়াতে তিনি তাদের দিকে ফিরে তাকালেন। তার মুখ হাসিতে ভরে উঠল।
তোবারক আলী হাসিমুখে বললেন, “কেমন আছেন মাহমুদ সাহেব? এই দেখেন আমি কাদের নিয়ে এসেছি?”
জাদুকর মাহমুদ রাতুল এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বাহ! বেশ তো! তোমরা দেখছি এসে গেছ। আকাশ, তুমি কি আমাকে চিনতে পেরেছ?”
আকাশ কিছু বলার আগেই তিনি এগিয়ে আসলেন। তারপর আকাশের সামনে হাটুগেড়ে বসে বললেন, “আমি তোমার বাবা। এখানে বন্দি হয়ে যাবার পর তোমাকে আর দেখতে যেতে পারি নি। আমার মাথার চুল সাদা হয়ে গেছে এই পাহাড়ের পরিবেশে।”
আকাশ তার বাবাকে চিনতে পেরেছিল। এতদিন পর সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে বাবাকে দেখার পর তার চোখে জল চলে এল। বাবা প্রত্যেক সন্তানের জন্য ছায়ার মত। বাবা নিরুদ্দেশ হবার পর আকাশ তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল। সে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরল।
পিতা পুত্রের এই অপূর্ব মিলন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে রাতুলের মন ভালো হয়ে গেল। সে একবার তোবারক আলীর দিকে তাকিয়ে দেখল তিনিও হাসি হাসি মুখ নিয়ে পিতা ও পুত্রকে দেখছেন।
তোবারক আলী আকাশকে লক্ষ করে বললেন, “তোমার বাবা এখানে জাদুকর মাহমুদ নামে পরিচিত। তিনি সম্রাট নিকোলাই এর খুব কাছের লোক ছিলেন। হারিরিকে উদ্ধারে তিনিই আমাদের সাহায্য করবেন।”
জাদুকর মাহমুদ উঠে দাঁড়িয়ে তোবারক আলীকে বললেন, “হারিরিকে কোথায় রাখা হয়েছে এর কোন হদীস পেলেন?”
তোবারক আলী বললেন, “হ্যাঁ, পেয়েছি। বিন্ধ্রপর্বতেই রেখেছে মনে হল।”
তারপর রাতুলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “রাতুল, ম্যাপটা উনাকে দেখাও তো?”
রাতুল জাদুর বই খুলে ম্যাপটা জাদুকর মাহমুদকে দেখাল। জাদুকর মাহমুদ দেখে বললেন, “হ্যাঁ, বিন্ধ্রপর্বতেই আছে হারিরি। কিন্তু এ তো পর্বতের দক্ষিণ অংশে। অর্থাৎ অগ্নিসমুদ্রের উপর দিয়ে যেতে হবে।”
তোবারক আলী জিজ্ঞেস করলেন, “কিন্তু অগ্নিসমুদ্রের উপর দিয়ে কোন রথ নিয়ে যাওয়া যায় না শুনেছি। আগুনের উত্তাপে নাকী গলে যায়।”
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “ঠিক শুনেছেন। অগ্নি সমুদ্রের উপর দিয়ে রথ নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এর উপর দিয়ে যাওয়া যাবে একমাত্র জাদুর গালিচায় চড়ে।”
তোবারক আলী জিজ্ঞেস করলেন, “কোন গালিচার কথা বলছেন? বাদশাহ সুলেমানের জাদুর গালিচা?”
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “হ্যাঁ, সেই গালিচাই। এছাড়া যাওয়া যায় কালো জাদু ব্যবহার করে লুসিফারের ভেলায় চড়ে। কিন্তু আমাদের পক্ষে তো লুসিফারের ভেলায় চড়া অসম্ভব। সুতরাং, এখানে শুধু সুলেমানের জাদুর গালিচাই ভরসা।”
চিন্তিত মুখে তোবারক আলী বললেন, “কিন্তু সে গালিচা তো শুনেছি দহরমপুরে। দুখী দু পেয়ে দৈত্যের প্রাসাদে। তা কীভাবে আনা সম্ভব?”
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “সে গালিচা আনতে হলে দুখী দু পেয়ে দৈত্যের প্রাসাদে হানা দিতে হবে। সে যখন প্রাসাদে থাকে না তখন প্রবেশ করে আনতে হবে গালিচা। তবে ঠান্ডার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারন দুখী দৈত্যের প্রাসাদ এবং প্রাসাদ সংস্লিষ্ট বাগানে কখনো বসন্ত আসে না। সব সময় সেখানে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বয়। প্রায়ই বরফ পড়ে।”
তোবারক আলী বললেন, “কিন্তু তার প্রাসাদটা কোথায়?”
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “এখান থেকে বেশ দূরে না। আমরা ছাত্ররা আপনাদের সেখানে পৌছে দিতে পারবে।”
তোবারক আলী বললেন, “তাহলে ডাকুন আপনার ছাত্রদের। নষ্ট করার মত সময় একেবারেই নেই। দেরী হয়ে গেলে কোবিলাই হারিরিকে হত্যা করে জাদু রাজ্যের সম্রাটের শপথ নিয়ে ফেলতে পারে।”
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “তা ঠিক বলেছেন। তবে হারিরিকে হত্যা না করা পর্যন্ত জাদু রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী শপথ গ্রহণ হবে না। সুতরাং, রাজপ্রাসাদের জাদুকররা যদি হারিরির মৃত্যুর ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হন তবেই তারা শপথ পড়াবেন।”
মাহমুদ হাততালি দিলেন। তাতে বিশালাকায় তিনটি ডানাওয়ালা খরগোশ এসে হাজির হল।
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “এরাই আপনাদের দুখী দৈত্যের প্রাসাদে পৌছে দেবে।”
রাতুল বলল, “দৈত্যটা কি ভয়ংকর?”
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “ভয়ংকর বলা যায়। তার মাত্র একটি চোখ এবং সেটি ঠিক কপালের মাঝখানে। মাথায় লম্বা একটি শিং।”
আকাশ জিজ্ঞেস করল, “তাকে দুখী দৈত্য বলা হয় কেন?”
জাদুকর মাহমুদ বললেন, “সে আনন্দ, সুখ, হাসি ইত্যাদি সহ্য পারে না। সে দুঃখ পছন্দ করে। সব কিছু দুখী দেখতে চায়। এজন্যই তার এই নাম।”
তোবারক আলী, রাতুল এবং আকাশ খরগোশ তিনটির পিঠে চেপে বসল। জাদুকর মাহমুদ বললেন, “সাবধানে যাবেন। গালিচা নিয়ে পিছনে ফিরে তাকাবেন না। সোজা ফিরে আসবেন।”
তোবারক আলী ‘ঠিক আছে’ বলে তার খরগোশকে উড়ার নির্দেশ দিলেন। জাদুকর মাহমুদ রাতুল এবং আকাশকেও বললেন, “সাবধানে যাবে। স্যারের কথা শুনে কাজ করবে। ভুল করলেই বিপদ। দুখী দৈত্য ধরতে পারলে পাথরের মূর্তি বানিয়ে রেখে দেবে তার প্রাসাদে।”
রাতুল এবং আকাশের খরগোশটিও উড়ল। তিনটি খরগোশ তুরন পাহাড় থেকে বের হয়ে ছুটল দুখী দৈত্যের প্রাসাদের দিকে। নীল এবং হলুদ রঙের আলো তখন চারিদিকে। খরগোশ তিনটি দুখী দৈত্যের প্রাসাদে আসতে বেশী সময় নিল না। উপর থেকেই দেখা যাচ্ছিল দুখী দৈত্যের প্রাসাদে এবং বাগানে তুষার জমেছে।
খরগোশেরা প্রাসাদের সামনে এসে থামল।
একজন খরগোশ বলল, “এর সামনে যাওয়ার অনুমতি নেই আমাদের।”
তোবারক আলী, রাতুল এবং আকাশ নেমে পড়ল। তোবারক আলী চারদিকটা ভালোমত দেখে বললেন, “তোমরা দুজন দুদিকের দেয়াল টপকে বাগানে ঢুকে যাও। আমি প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকছি। দৈত্যের সাথে দেখা হলে বলব গুরুত্বপূর্ন আলাপ করতে এসেছি। সে অল্প বিস্তর আমাকে চেনে হয়ত, পরিচয় দিলে হয়ত চিনবে। সুতরাং, খপ করে ধরে কট করে ঘাড় ভেঙে দেবে না। কথাবার্তা বলতে পারে। আর এই সুযোগে তোমরা ওর প্রাসাদে ঢুকে যাবে। ওর রুমেই আছে বাদশা সুলেমানের জাদুর গালিচা। ব্যাটা গালিচাটি সাথে সাথে রাখে।”
তোবারক আলীর কথামত রাতুল উত্তর দিকের দেয়াল টপকে বাগানে ঢুকল। আকাশ ঢুকল দক্ষিণ দিকের দেয়াল টপকে। বাগানে বিস্তর জমেছে তুষার। গাছপালাগুলো শীতের প্রকোপে প্রায় মরে গেছে যেন। বিশাল বাগানে কোন সাড়াশব্দ নেই। পাখির ডাক নেই। বিরাজ করছে অনন্ত শব্দহীনতা।
রাতুল ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিল। কোনক্রমে তুষার পায়ে ঠেলে সে দৈত্যের প্রাসাদের কাছাকাছি গিয়ে একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে প্রাসাদের দিকে তাকাল। কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
আর এদিকে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করেছেন তোবারক আলী। তিনি কিছুটা এগিয়ে অতিথি বসার জন্য ছাউনি ছিল সেখানে গেলেন। তুষারের স্তূপ জমেছিল চেয়ারগুলোর উপর। তোবারক আলী তার পাশে দাঁড়িয়ে বিকট কন্ঠে শুরু করলেন ছড়া-
বিরাট সে একখান দৈত্যের নানা
যেন তার চোখ নেই, একেবারে কানা
ভাঙা এক প্রাসাদের ঘুণ ধরা কোনে
একা একা শুয়ে বসে, ভুল গান শুনে
যেই তার চোখ উঠে মাঝখানে কপালের
ওমনি সে উঠে পড়ে হাই তুলে সকালের
মেলে বলে তার সেই অতি গোল আঁখি
ওরে বাবা! এত কিছু দেখা ছিল বাকি!
তার এই অদ্ভুত ছড়া শুনে দৈত্য বেরিয়ে এল ঘর থেকে। রাতুল গাছের আড়ালে লুকিয়ে থেকে দেখল বিরাটাকার দৈত্য থপ থপ পায়ে এগিয়ে চলেছে। মাথায় বিরাট শিং। কপালের ঠিক মাঝখানে বড় গোল চোখ।
দৈত্য কাছাকাছি পৌঁছে গেলে তোবারক আলী ছড়া বন্ধ করে বললেন, “আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আপনার কাছেই এসেছি। তুরন পাহাড় থেকে।”
দৈত্য ছড়া শুনে কিছুটা রেগে গিয়েছিল। কিন্তু তুরন পাহাড়ের কথা শুনে সে খানিকটা অবাক হল। কারন তুরন পাহাড় যে একটা ভালো জাদু শেখার বিদ্যালয় তা জাদু রাজ্যের সবাই জানে।
দৈত্য জিজ্ঞেস করল, “তুরন পাহাড় থেকে! কেনো?”
রাতুল আর দেরি করল না। সে শুনতে পেল তোবারক আলী বলছেন, “আমার দুটি ছাত্র বুঝলেন, এই জাদু বিদ্যার উপরে বিশেষ পড়ালেখা করছে। তাদের আপনার একটু সাহায্য বড়ই প্রয়োজন……”
আরো কী কী যেন বলছিলেন তোবারক আলী। রাতুল উত্তেজনায় আর সেসব শুনতে পেল না। সে দৈত্যের প্রাসাদে প্রবেশ করে দেখল বাহিরটা যতটা মনমরা দেখা যায় ভেতরটা তার চেয়ে অনেক বেশি দুখী দুখী দেখতে। তেমন কোন জিনিসই নেই বলতে গেলে। কয়েকটা পান পাত্র মেঝেতে পড়ে আছে। কয়েকটা ভাঙা টব জড়ো করে রাখা আছে এক কোনে।
রাতুল ভেতরের রুমে প্রবেশ করল। এটাই সম্ভবত দৈত্যের রুম। সেখানে একটি খাট ছিল। এবং খাটের একপাশে ভাঁজ করা ঝকঝকে গালিচা। এরকম একটি মনমরা কক্ষে সম্পূর্নরূপে বেমানান। যে কেউ একবার দেখেই বুঝতে পারবে এটা এই প্রাসাদের অন্য সব বস্তু থেকে আলাদা।
রাতুল তাড়াতাড়ি গিয়ে গালিচা হাতে নিল। ঠিক তখনি দৌড়ে প্রবেশ করল আকাশ। সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “দৈত্য হেডস্যারের টুঁটি চেপে ধরেছে।”
রাতুল গালিচাটি ব্যাগে ভরে তার পিঠে বাঁধা জাদুর লাঠিটা হাতে নিল। তারপর ব্যাগ কাঁধে চাপিয়ে তড়িৎবেগে বের হয়ে গেল আকাশের সাথে। তারা দুজন দৈত্য এবং তোবারক আলীর কাছে পৌছেল। দৈত্য তখন তোবারক আলীকে গলা চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। তোবারক আলী পা ছুঁড়ছেন বেশুমার।
রাতুল আর দেরি করল না। সে তার হাতের লাঠিটি দিয়ে এক ঘা বসিয়ে দিল শিংওয়ালা দৈত্যের মাথায়। জাদুর লাঠির শক্তি অনেক। এছাড়া সম্পূর্ন অপ্রস্তুত অবস্থায় দৈত্য আঘাত পেয়েছে তার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গায়। সুতরাং, সে মাথা ঘুরে পড়ে গেল।
তোবারক আলী কাশতে কাশতে উঠে দাঁড়ালেন। মাথায় বাড়ি খেয়ে দৈত্যের তখন আর উঠার শক্তি নেই। সে পড়ে আছে। তোবারক আলী কেশে রাতুলকে বললেন, “গালিচা বিছাও মাটিতে।”
রাতুল ব্যাগ থেকে গালিচা বের করে মাটিতে বিছাল। তোবারক আলী এর উপর উঠে বললেন, “হা করে দাঁড়িয়ে দেখছ কি? উঠে পড়ো। দৈত্য জেগে উঠলে রক্ষা নেই।”
রাতুল ও আকাশ গালিচায় উঠে দাঁড়াল। তোবারক আলী বললেন, “যাও গালিচা, তুরন পাহাড়ে যাও।”
বলে তিনি চোখ বন্ধ করে রইলেন। কিন্তু গালিচা নড়ল না।
বিষয় কী! এটা কি ঠিক সুলেমান বাদশাহর গালিচা? নাকী অন্য কিছু!
তোবারক আলী আবার বললেন, “যাও গালিচা, তুরন পাহাড়ে যাও।”
ইতিমধ্যে দৈত্য নড়তে শুরু করেছে। মাথার আঘাত সামলে নিয়ে সে ধীরে ধীরে মাথা তুলতে চেষ্টা করছে।
তোবারক আলী দৈত্যের নড়াচড়া দেখে আবার খুব তাড়াতাড়ি বললেন, “যাও গালিচা, তুরন পাহাড়ে জাদুকর মাহমুদের কাছে যাও।”
গালিচা নড়ল না এবারও। এদিকে দৈত্য উঠে বসেছে। তার সুলেমান বাদশাহর গালিচা চুরি হয়ে যাচ্ছে দেখে সে গরিলার মত বুক চাপড়ে ভয়ংকর এক হুংকার দিয়ে উঠল। তাতে কানে তালা লেগে যাওয়ার জোগাড়।
তোবারক আলী রাতুলের কাছ থেকে জাদুর লাঠিটা নিয়ে তরবারির মত দোলাতে লাগলেন যাতে দৈত্য এগিয়ে আসতে ভয় পায়। কিন্তু দৈত্যকে দেখে মনে হল না এতে সে সামান্যতম ভয় পেয়েছে। সে আরেকটি মাঝারি সাইজের হুংকার দিয়ে মুখ থেকে অগ্নি গোলক ছুঁড়ে দিল তোবারক আলী এবং রাতুলদের দিকে। তোবারক আলী নিচু হয়ে নিজের মাথা বাঁচালেন।
দৈত্য উঠে দাঁড়াল। তার কাছ থেকে গালিচায় দাঁড়ানো রাতুলদের দূরত্ব হবে মাত্র দশফুটের মত। তিন পা ফেলে দৈত্য এ দূরত্ব অতিক্রম করে ফেলতে পারে। তবে মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে কিছুটা আস্তে হাটছে। এক পা এগিয়ে এসেই সে আবার ছুঁড়ে দিল আগুনের গোলা। এবার তোবারক আলীর জাদু দন্ডে লেগে তা অর্ধেক পুড়ে গেল।
দৈত্য এগিয়ে এল আরেক পা। এখন দূরত্ব হয়ে গেল পাঁচ ফুটের মত। রাতুলের মাথায় তখন দারুণ এক বুদ্ধি চলে এল। সে খুব দ্রুত তার ব্যাগ খুলে জাদুর বইটা বের করল। জাদুর বই খুলতেই দেখা গেল সেখানে লেখাঃ
“সুলেমান বাদশার গালিচা, যাও”
দৈত্য আরো এক পা চলে এসেছে। অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে আছেন তোবারক আলী। দৈত্য এবার আরেক পা এগুলেই হাত বাড়িয়েই ধরতে পারবে তাদের।
রাতুল তখন বলে উঠল আদেশের সুরে, “সুলেমান বাদশার গালিচা, যাও; তুরন পাহাড়ে যাও।”
গালিচা সাথে সাথেই নড়ে উঠল এবং মুহুর্তের মধ্যে তাদের তিনজনকে নিয়ে উপরে উঠে গেল। গালিচাকে ধরার শেষ চেষ্টা করেছিল দৈত্য হাত বাড়িয়ে। হয়ত সে মাথায় আঘাতটা না পেলে একটু লাফিয়ে ধরে ফেলত। কিন্তু এবার নাগাল পেল না। গালিচা সাঁই সাঁই করে উড়ে চলল তুরন পাহাড়ের দিকে।
ক্রমশ
ছবিঃ ইন্দ্রশেখর
জয়ঢাকের সমস্ত ধারাবাহিক একত্রে