‘প্রচণ্ড গরমে গলা থেকে হাঁটু পর্যন্ত জড়ানো এক ভুষো কম্বল,পায়ে হাঁটু পর্যন্ত সাদা মোজা, ভারী বুট জুতো ‘ পরা রহস্যময় লোকটা নির্জন রেলকামরায় তখন স্কুলটিচার অধীরের সামনে।একটু আগেই ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে তাকে।কিন্তু কে ও?
সে খবর পেলাম জয়ঢাক প্রকাশনের ‘অলৌকিকে’। কুড়িটি বিভিন্ন স্বাদের অতিপ্রাকৃত গল্পের সংকলন এই বইটি সম্প্রতি হাতে এল। নতুন ও পুরোনো মেশানো লেখকমণ্ডলী। তাঁদের বেশ কিছু লেখা মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রাখে।
‘সেই চোখ–যে চোখের দিকে তাকিয়ে ‘না’ বলতে চাইলেও বলা যায় না’ আবার ‘মনে পড়ি পড়ি করেও মনে পড়ে না’–লেখক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সেই রহস্যময় চোখ কখন মনের মধ্যে বাসা বাঁধে।
সৌরভ রায়ের ‘অন্ধকারের যাত্রী’ বা চুমকি চট্টোপাধ্যায়ের ‘শুদ্ধ ভক্তের ঘড়ি’ রোমহর্ষক তো বটেই, রীতিমত ভীতির সঞ্চার করে। দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের ‘সন্ধিপুজোর অঞ্জলি’, মৌসুমী রায়ের ‘রুমাদির বন্ধুরা’, প্রকল্প ভট্টাচার্যের ‘লোকটা’ হৃদয়স্পর্শী। সত্যিই তো, ‘তাঁরা’ অতীত হলেও আপনজন,বন্ধু বটেই।
হারুণ-অল-গুপ্তের’পাঁচু সর্দার’ রীতিমত গা-ছমছমে,কিন্তু গল্পের শেষ পর্বে মানবিক মোচড়টি অনবদ্য।
উদয়ারুণ রায়ের ‘রতনলাল কবিরাজ’,অদিতি ভট্টাচার্যের ‘খুঁতখুঁতে গৌরাঙ্গবাবু’ –সুপাঠ্য। গৌরাঙ্গবাবু–যিনি ভূত হয়েও এটিকেট ভোলেন না, কিংবা রতনলাল কবিরাজের ভূত শিষ্য পাঁচুগোপাল –আইনের ফাঁদে পড়ে যাকে হাফ কবিরাজ হয়েই থাকতে হয়–মজাদার চরিত্র।
না, আর ভাঙব না,বাকি রহস্য পাঠকদের জন্যই থাক। তবে এটুকু বলা যায়,বইটির আনাচে কানাচে অনেক মণিমুক্তো ছড়িয়ে আছে যা নিজেকেই সংগ্রহ করে নিতে হবে।
শেষে বলি–প্রকাশনার মান যথেষ্ট উন্নত।কালো ব্যাকগ্রাউণ্ডে লাল অক্ষরে লেখা ‘অলৌকিকের’ প্রচ্ছদশিল্পীকে বিশেষভাবে কৃতিত্ব দিতেই হয়।
অলৌকিক
জয়ঢাক প্রকাশন
পেপারব্যাক
২৫০ টাকা
প্রাপ্তিস্থলঃ অরণ্যমন, কলেজ স্ট্রিট এবং ওয়েবস্টোর- https://joydhakweb.com/store/
আলোচনা করেছেনঃ নন্দিনী