গোরু ঘোড়া সিংহ ভেড়া গানের জগতে বড়োই অসহায় বড়োই করুণার পাত্র। অথচ প্রকৃতির রাজ্যে অন্য সবার প্রতি এমন অকরুণ আচরণ তো দূরের কথা রীতিমতো আদর আপ্যায়ন করা হয়েছে গানের পর গানে। জুঁই চাঁপা গোলাপ চামেলী বকুল কৃষ্ণচূড়া গানে গানে এমন ফুলের কদর কতকাল ধরে। টিয়া কাকাতুয়া ময়ূর পায়রা বুলবুলি তোতা তো বটেই, কোকিল বৌকথাকওদের তো কথাই নেই। প্রায় হারিয়ে যাওয়া পাখি ডাহুক বা মুনিয়াদের পর্যন্ত তাবড় গায়কগায়িকার গানের জলসায় বিশেষ গুরুত্ব। হ্যাঁ, হতে পারে কাক শকুন হাড়গিলেদের ততটা দাপট বাংলা গানে নেই। প্যাঁচারাও পাখি না পাখি নয়- এই দ্বন্দে সম্ভবত গানের জগতে ততোটা অচ্ছুত হয়নি। কিন্তু ফুল হোক বা পাখি হোক অথবা নিতান্ত সাদামাটা বৈঁচি ফলের মালিকা অতি তুচ্ছ নাকের নোলক বা হরিদাসের বুলবুল ভাজা- গীতিকারের লেখনীর গুণে বা শিল্পীদের কন্ঠে গানের ভুবনে যথেষ্টই মর্যাদা লাভ করেছে।
অথচ আমাদের চারপাশে যে জীবজন্তুরা নিয়ত সঞ্চারমান, যাদের না হলে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রায় প্রাণহীন, সেই তাদের অবস্থান আমাদের গীতিসম্ভারে যথেষ্ট সীমায়িত ও সংকুচিত। ওরা কি আমাদের কাছে কম দরকারি বা কেউ কম প্রিয়? অমন যে ভয়াল চরিত্রের এবং সৌন্দর্যের সাপের দল। তাদের বিষও কি শুধু প্রাণঘাতী? একই সঙ্গে ওরা কি প্রাণদায়ীও নয়? অথচ এদের প্রতি আমাদের মনোভাবটি কেমন? একটু সতর্ক হয়ে নজর করলে আমাদের রীতিমত চমকে যেতে হবে।
বাংলা গানে জীবজন্তুদের দেখা যদি সত্যিই কোথাও খানিকটা মেলে তা প্রধানত শিশুভোলানো ছড়ায় বা কিছু কিছু মজার গানে। গানের জগতে এধরনের গান গেয়ে যাদের খ্যাতি অনেকদিনের এমন কয়েকজন হলেন সনৎ সিংহ, আল্পনা ব্যানার্জী, বাণী ঘোষাল, নীলিমা ব্যানার্জী, জপমালা ঘোষ, রানু মুখার্জী, অন্তরা চৌধুরী কিংবা অমল মুখার্জী প্রমুখ। হেমন্ত মান্না সন্ধ্যা আরতি শ্যামল মানবেন্দ্রর মত সর্বোচ্চ স্থানীয় শিল্পীদের বহু গানেই অবশ্য জীবজন্তুদের দেখা সাক্ষাৎ মিলেছে। তবে জীবজন্তু বা মজার জগৎ ঘিরে যে শিল্পীর গানের ঘরানাটি ছিল সর্বাধিক শিশু চিত্তজয়ী। সেই সনৎ সিংহের গাওয়া কয়েকটি গানের দিকে নজর করে দেখা যেতে পারে। সেখানে জীবজন্তুদের প্রতি কেমন দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশিত হয়েছে বা তাদের প্রতি কতটা গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এখন শোনা না গেলেও, একসময়ে ‘কালনাগিনীর মাথার মণি’ গানটা মোটের ওপর জনপ্রিয় হয়েছিল। এখানে কিন্তু দেখা গেল, অমন যে বিচিত্র বর্ণের সর্পসুন্দরী, যে নাকি মা মনসার অন্যতম সেরা অনুচর, তার রূপের প্রতি বা দংশন দক্ষতার প্রতি শিল্পীমশায়ের কোন মাথাব্যাথাই নেই, আর যত গরজ ঐ সাপটির মাথার মণির প্রতি… হায়রে সাপের কপাল… তার প্রতি এও কি কোন ন্যায্য আচরণ হল?
ঐ শিল্পীই আবার গেয়েছেন ‘বাবুরাম সাপুড়ের’ মত এক বিখ্যাত গান!
https://www.youtube.com/watch?v=_G0cYUMwjEI
এ গানে সাপখোপের মত নামীদামী প্রাণীর প্রতি কী বিসদৃশ্য আচরণই না প্রকাশিত হয়েছে! গানটির ফাঁকে ফোকরে মজাদার সাপের বাঁশি বাজিয়ে অনেক জাঁকজমক করে নানারকম সাপের কথা বলা হলেও নাটকের ক্লাইম্যাক্সের মত শেষকালে কিনা, গোটা দুই জ্যান্ত সাপকে ধরে আনতে বলা হল। এবং তাদের তেরে মেরে ডান্ডা দিয়ে একেবারে ঠান্ডা করে দেবার উত্তম উদ্দেশ্যটি অতি নির্লিপ্তভাবে ব্যক্ত করা হল। ভাব একবার কান্ডখানা, কী সাংঘাতিক কথা! কী হৃদয়হীন প্ল্যানিং!
সাপ অবশ্য এমন এক প্রাণী যাকে ভয় পায় না এমন মানুষ বিরল। সেদিক থেকে গানদুটির শিল্পী সনৎ সিংহকে নাহয় খানিক মাপই করে দেওয়া গেল! কিন্তু বাংলা গানের রাজপুত্র মানবেন্দ্র এবং রাজাধিরাজ হেমন্ত ওঁরা দুজনে মিলে ওদের জীবনের প্রথম ডুয়েটটিতে কী কাণ্ডটাই না করেছেন। একটি বাংলা ছবির গানের দৃশ্যায়নে দুই দুঁদে উকিলের লড়াইতে কবিগানের আসরে দুই উকিল তথা স্বনামধন্য গায়ক জুটি কী নিদারুণ ভাষাতেই না দুজনে দুজনকে আক্রমন করেছেন!
একে অপরকে ওরা কিনা গানের ভাষায় সম্বোধন করতে গিয়ে পরস্পরকে পেঁচা গরু হ্যাংলা হাতি ইত্যাদি মধুর বিশেষণসমূহ ব্যবহার করে জন্তুজগৎকে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন। গানটি যাঁরা শুনেছেন তাঁরা অবশ্যই মাঝে মাঝে অনুভব করবেন এ অভিযোগ কতখানি খাঁটি। যারা শোনেননি তাঁরা হেমন্ত সুরারোপিত ‘হংসমিথুন’ ছবির অদ্ভুত রোমাঞ্চকর গানটি শুনে নেবেন। দেখবেন গানের শেষাংশে প্রতিপক্ষকে সেখানে ‘গোবর মেখে ঘরে যাবার’ উপদেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এ কি কম বেদনার কথা!
তবে জীবজন্তুদের হেনস্থা যে গানটিতে একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে করা হয়েছে সেটি পঞ্চাশ পঞ্চান্ন বছর ধরে বাঙালীর অতি প্রিয় একটি গান। সে গানের কথাটি উল্লেখ না করলেই নয়। যে গানটির প্রথম পংক্তিতেই জব্বর ধাক্কা ‘শিং নেই তবু নাম তার সিংহ, ডিম নেই তবু অশ্বডিম্ব…’ গান যতো এগিয়েছে ধাক্কার সংখ্যা বেড়েছে পাল্লা দিয়ে… গানটিতে স্বয়ং মা দুর্গার বাহন যে পশুরাজ সিংহ, তাকে কিনা ঐ গানে তার মাথায় গরুর মত শিং না থাকতেও কেন সিংহ নামে ডাকা হবে, এই অভিযোগ জানিয়ে কাঠগোড়ায় তোলা হয়েছে!
অর্থাৎ সিংহের মত রাজকীয় পশুর মস্তকে গরু ছাগলের মত নিরীহ প্রাণীদের শিং থাকতে হবে, তবেই সে হতে পারবে সিংহপদবাচ্য। বোঝো ঠ্যালা… অন্যদিকে গরুর সঙ্গেও অন্যায় কি কম করা হয়েছে! যার মাথায় সত্যিই শিং আছে। এমনকি তার কন্ঠের বিখ্যাত ‘হাম্বা হাম্বা’ রবটির কথাও গানটিতে উচ্চারিত। সেই গরু নামক জন্তুটার নামটি কিন্তু গানটির কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। একি গরুজাতির প্রতি চরম অসম্মান নয়?
কিন্তু অসম্মানের এখানেই শেষ নয়। অমন যে রাজা মহারাজাদের শৌর্যবীর্যের প্রতীক পশু ঘোড়া, সেই ঘোড়ার নামটিও গানটিতে বেমালুম উপেক্ষা করে, শুধুই ব্যাঙ্গোক্তি করা হয়েছে ‘অশ্বডিম্বের’ কথা এনে। ‘অশ্বডিম্ব’ কথার অর্থ কি ‘লবডঙ্কা’ নয়? অথচ মজার কথা হল, ঐ একই গানে ওপাড়ার বেঁটে বড়দা থেকে ওবাড়ির মুচকি হাসা মেয়েটির কথা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে!
নস্যির সঙ্গে লস্যির মিল খাইয়ে শব্দ রসিকতার চেনা কসরৎ করা হয়েছে। অথচ তারই পাশাপাশি একটি মাত্র গানের ক্ষুদ্র পরিসরে তিন তিনটি প্রমিনেন্ট জন্তু ব্যাক্তিত্বকে স্রেফ হামাগুড়ি দেওয়ানোর অবস্থা করা হয়েছে। ইস…ছিঃ… হায়… উরেব্বাস… ওফ্ফ্ কি ভাষায় এর প্রতিবাদ করা যায় বলুন তো?
তবে একটু যদি চোখ কান খুলে আকাশ পানে তাকিয়ে দেখি, তাহলে দেখব অনেক কিছুই। পরিচালক যেখানে মৃণাল সেন মূখ্য অভিনেতার স্থানে খোদ উৎপল দত্ত। ‘ভুবন সোমের’ মত বিখ্যাত সিনেমায় অবাক হয়ে আমরা কী দেখি? একটি মহিষ চালিত গাড়িতে গাড়োয়ানরূপী শেখর চ্যাটার্জী কিনা ‘চাহে মুঝে কোই জঙ্গলী কহে’ গাইতে গাইতে গাড়ি চালাচ্ছেন! কেন মোষের কথা উল্লেখ করতে কী হয়! ‘এ্যায় মেরে পেয়ারে ভৈঁসো, তু আগে বঢ়তা চল’ এধরণের গান কি গাওয়া যেত না ঐ পরিবেশে? মহিষটানা গাড়ির কি কোনই ইজ্জৎ নেই!
চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে নয় ‘শিং’ সম্বন্ধীয় গানে নায়ক গায়ক কিশোরকুমার বা গীতিকার গৌরীপ্রসন্নকে জীবজগতের ওপর কিছু অন্যায় করাও মেনে নিতে হয়েছে। সেজন্যই গরু ঘোড়া সিংহ বিষয়ে তাঁদের গায়ে লেগেছে ছ্যাঁকা, শ্রোতারাও তাই নিয়ে কিছু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছেন… কিন্তু তবেই না ছবিটা অথবা তার গানগুলি এতবছর পরও একেবারে জীবন্ত হয়ে আছে!
ওদিকে বিদগ্ধ বুদ্ধিজীবী তথা লেখক অন্নদাশঙ্কর? তিনি কী করলেন? সামান্য এক ছড়া লেখার মোহে বাস্তবের পাখি হাট্টিমাটিম টিমকে একেবারে রূপকথার মোড়কে উপস্থিত করলেন! তাদের মাথায় নাকি খাড়া দুটো শিং আছে এবং তারা নাকি নিজের বাসা ছেড়ে মাঠে গিয়ে তবেই ডিম পাড়ে। তাঁকে তো আর চিত্রনাট্যের দাবি পূরণ করতে হয়নি? তথাপি তাঁর মতো গুণীও এই পাখিকে নিয়ে একেবারে ‘বকচ্ছপ’ জাতীয় কান্ড ঘটিয়ে বসেছেন!
এরকমই তো ঘটতে থেকেছে বরাবর! অমন যে রানা প্রতাপ সিংহের ঘোড়া, তাতার বাহিনীর ঘোড়া কিংবা কোলকাতা পুলিশের দুরন্ত নধরকান্তি ঘোড়ারা এরা থাকতেও ওরাও কি কোনদিন বাংলা গানের কুলীন সভায় তেমন কৌলীন্য পেয়েছে সেভাবে? পেয়েছে কেবল পক্ষীরাজরা! পক্ষীরাজ বলে কোন প্রাণী না থাকলেও। গানের কলিতে তাদেরই যত দর কদর এবং আদর!
এরই পরিণতিতে আমরা দেখছি, অমন যে দুরন্ত ছুটন্ত হরিণ চিতা বাইসন উটপাখি ভায়ারা, রাজকীয় আকৃতির বাঘ ভাল্লুক সিংহ গণ্ডার হাতি সমূহ, গোবেচারা শান্তিকামী গরু ভেড়া উট জেব্রা গাধার দল, ধীর স্থির গতির কচ্ছপ খরগোশ শুয়োর পেঙ্গুইন বা জলহস্তী বাছারা, কমবেশি দুষ্টুমিষ্টি চালচলনের ইঁদুর বাঁদর হায়না হনুমান বিড়াল শিয়াল ভায়ারা কিংবা দারুণ মজারু চরিত্রের ক্যাঙারু শজারু গোসাপ ভাম বনবিড়াল বৃন্দগানের রাজ্যে এসব মান্যগণ্য প্রাণীর তেমন কোন দামই নেই। ওরা চির উপেক্ষিত, চিরদিন কোণঠাসা। হায় ব্যাঙ বেজি ছুঁচো গন্ধগোকুলগণ, তোমাদের গানের দাবিতে কোনদিন কোথাও মিছিল হল না। একটা প্রতিবাদী বক্তৃতা পর্যন্ত না।
অথচ বাস্তব কী বলে? জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী ঐ ছাগলের দুধেই তো তার জীবনধর্ম রক্ষা করে চলতেন! বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ? ঘোড়ার গাড়িতে চেপেই না বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতেন! ডাকসাইটে লেখক শরৎচন্দ্র? তার সঙ্গে একটা পোষা নেড়ি কুকুর কোথায় না কোথায় ঘোরাঘুরি করত! আর রবীন্দ্র শরৎ পরবর্তী যুগের সেরা উপন্যাসিক তারাশঙ্কর? তিনি তো ব্যাঘ্রচর্মের ওপর বসেই রচনা করতেন বাঘা বাঘা সব উপন্যাস! কানে কেন্নো ঢুকিয়ে দুরন্ত সব কাহিনী লিখতেন নাকি বিশ্ববিখ্যাত লেখক গী দ্য মপাসাঁ।
অথচ সাধারণ মানুষ আমরা? এইসব প্রাণীকুলের সঙ্গে সচরাচর কেমন ব্যবহার করি? সামান্য একটু এঁটোকাঁটা খাইয়ে রাজ্যের নেড়িকুকুরদের প্রভুভক্তি আদায় করে ওদের দিয়ে বাড়ির বা গোটা পাড়ারই দারোয়ানগিরি করিয়ে নিই! কোন ছোটলোকগোছের কাউকে গালিগালাজ করতে তাদের গাধা বাঁদর উল্লুক উটমুখো হিপোপটেমাস ইত্যাদি বলে গায়ের ঝাল ঝাড়ি। যে গোমাতার উপকারের কোনো সীমা পরিসীমা নেই, তারই নাম নিয়ে কিনা অন্যের বুদ্ধিকে বক্রোক্তি করি! মুখ বেঁকিয়ে বলি, গোরু কোথাকার! ভণ্ডামি করে আবার মা দুর্গার পায়ের কাছে ওদেরই বাহন বানিয়ে ভক্তিতে গদগদ হই! প্যাঁচা বাদুড়রা যাতে ফল খেয়ে নষ্ট করতে না পারে, সেজন্যে গোটা গাছকেই জাল দিয়ে ঢেকে রাখি! আরে বাবা উৎকৃষ্ট না হোক, কমদামী কিছু ফলের বাগান ওদের জন্যও তো রাখা দরকার, তাই না? কিন্তু সে’সব হয়কি?
সুতরাং গানের জগৎ, যা কিনা বাঙালি জাতির অতি আদরের জগৎ, সেখানে এই জন্তুজানোয়ারের দল থেকে গেছে চিরবঞ্চিত এবং উপেক্ষিত। সব একদর এবং দামহীন। গানের হাটে গোরু ঘোড়া হাতি বাঘ সিংহ সবারই একদর, সবারই মূল্যহীনতা। অথচ এরা সভ্যতার আদিযুগ থেকে মানুষের প্রগতির বোঝা কি কম টেনেছে? অথচ গরুমহিষ হাতি ঘোড়ার অনেক পরে আসা রেলগাড়ির বেলায়? কত গানে এ যন্ত্রযানের সগর্ব উল্লেখ, সপ্রশংস স্বীকৃতি!
অথচ একই চেষ্টা করলেই, এইসব প্রাণীদের কিছু কিছু গানে অমর করে রাখাই যেত। যেমন শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পের নাট্যরূপে বা চলচিত্র রূপে গোফুর জোলা আর তার মেয়ে আমিনা তাদের পোষা বলদটাকে ভালবেসে গাইতেই পারত
ঘানি টেনে টেনে বলদ খানার কী হাল হয়েছে আহা
ফলমূল খড় খেতে পায় কি ও, খেতে চায় যাহা যাহা!
কিংবা রাহুলদেবের ‘দার্জিলিং যাত্রার’ অনুকরণে কি তৈরি করা যায়না-
এবার পূজায় বড়ো মজা ভাই ক্যাঙারুর দেশে যাব
ক্যাঙারু কাকুর সঙ্গে সাগর কিনারে দিন কাটাব
ক্যাঙারুর ছানা কোলে কাঁখে করে গাব রবীন্দ্রগান
সে নব আমোদে ভুলে যাব যত অনাদর অপমান
ওদের দেশেতে ওদের পশুকে ক্রিকেটটা শেখাব
এবার পূজায় বড়ো মজা ভাই ইত্যাদি ইত্যাদি?
তবু ধন্যবাদ, সেইসব গানের মানুষকে, যাঁরা সুযোগ সুবিধা পেলেই জীবজন্তুদের নিয়েও কিছু গান তৈরি করেছেন। পারলে সেসব গানের একটা তালিকা বানানো যেতেই পারে। পাখপাখালিদের নিয়েও এরকম গবেষণায় মজা পাওয়া যাবে যথেষ্ট! কিন্তু এবার আর সময় নেই এবারের মত ‘জয়ঢাক স্টেশন’ থেকে ‘সুলেখ গাড়িওয়ালার’ ‘গরুর গাড়ি ক্যাঁচর ক্যাঁচর’ বিদায় নিচ্ছে। হুইই হ্যাট হ্যাট…
———
সম্পাদকীয় দফতর থেকেঃ
এই লেখাটি পড়ে বড়ো দুঃখ পেয়ে আমরা সমস্ত মানুষের তরফে পাপস্খালনের জন্য এই গানটি গাইলামঃ