এই লেখার আগের পর্বগুলো
কাচদন্ডে রুমালে আগুন
‘হেই, লাগ ভেলকি, লাগ ভেলকি, লাগ ভেলকি লাগ’ বলে বলে এক শাগরেদ টিস্যু পেপারের একটা রুমাল এনে টেবিলের ওপর রাখল। দ্বিতীয় শাগরেদ নিয়ে এল একটা চায়ের প্লেট। সেটাও এখন টেবিলের ওপর।
‘আগুন আসবে উড়ে, রুমাল যাবে পুড়ে’ বলতে বলতে হাতে একটা কাঁচদণ্ড নিয়ে স্টেজে এলেন জাদুকর। কাঁচদণ্ডটা প্লেটের ওপর রেখে শুরু করলেন উদ্ভটসব মন্ত্র বলা। এরপর কাঁচদণ্ড দিয়ে খুঁচিয়ে রুমালটা ওপরে ওঠাতেই ওটা দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে সব্বাইকে অবাক করে দিল।
কী করে রুমালে আগুন ধরল?
রুমালখানাকে অ্যাসিটোন নামের এক তরল জৈবযৌগে ভিজিয়ে এনে ওটা টেবিলে রাখা হয়েছিল। রুমাল টেবিলে রাখার সময় একচিমটে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট সকলের দৃষ্টির অগোচরে শাগরেদজন ওটাতে রেখে দিয়েছিল। প্লেটে রাখা ছিল গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিড। কাঁচদণ্ডের সাহায্যে সেই প্লেট থেকে দুই ফোঁটার মতন গাঢ় সালফিউরিক এনে ওই পারম্যাঙ্গানেটের ওপর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দপ করে রুমালে আগুন ধরে গেল।
পারম্যাঙ্গানেট এমনিতেই এক তীব্র জারক। সালফিউরিক অ্যাসিডের সংস্পর্শে তার জারণ ক্ষমতা সাংঘাতিকভাবে বেড়ে যায়। এখানে পারম্যাঙ্গানেটের সঙ্গে অ্যাসিডের সংযুক্তিটা অ্যাসিটোনের ওপরই সংঘটিত হওয়ায় অ্যাসিটোন তৎক্ষণাৎ জারিত হতে শুরু করে দেয়। এই জারণ বিক্রিয়া অত্যন্ত তাপবর্জী হওয়ার ফলে সেই উৎপাদিত তাপে আগুনের সৃষ্টি হয়। অ্যাসিটোন অতিশয় দাহ্য পদার্থ। এর সঙ্গে পাতলা টিস্যু পেপারের রুমালখানা তো আছেই।
