আগের পর্বগুলো

রুমালে দাউদাউ করে আগুন জ্বলল অথচ রুমাল রইল অক্ষত
দর্শক একজনের কাছ থেকে একটা সুতির রুমাল চেয়ে নিয়ে জাদুকর বলতে শুরু করলেন, “এই রুমালটা পেট্রলে চুবিয়ে নিয়ে আমিএতে আগুন ধরিয়ে দেব।”
বলতেই রুমালের মালিক আঁতকে উঠলেন। জাদুকর তাঁকে আশ্বস্ত করে বললেন, “চিন্তা করবেন না। এয়ার কিছু হলে আপনাকে একটা নতুন রুমাল দিয়ে দেব। এই কথা বলেই পাশে রাখা একটা তরলে রুমালটা ডুবিয়ে একটা চিমটে দিয়ে ধরে বের করে আনার পর এক শাগরেদ ওটাতে ফস করে দেশলাই ধরিয়ে আগুন দিয়ে দিল। দাউদাউ করে রুমালে আগুন জ্বলতে লাগল। প্রায় আধমিনিট মতন আগুন জ্বলার পর জাদুকর পাশে রাখা একটা জলভরা পাত্রে রুমালটা চুবিয়ে দিতেই আগুন নিভে গেল। রুমালের মালিকের মাথায় হাত, “এটা গেল!”
ওখানে থেকে উঠিয়ে এনে রুমালটা মালিকের হাতে জাদুকর দিতে দেখা গেল কিস্যু হয়নি। রুমালটা শুধু জলে ভেজা।
মালিকের মুখে স্বস্তির চিহ্ন। দর্শকরা হাততালিতে হলঘর গমগমিয়ে তুলল।
ওই তরল কি সত্যিই পেট্রল ছিল?
তরলটা আদৌ পেট্রল নয়। ওটা ছিল সমপরিমাণে ইথানল আর জলের মিশ্রণ। সঙ্গে এক চিমটে বোরাক্স (সোহাগা)। সুতির কাপড়ের রুমাল ওই তরলে চোবানোয় ওটা জলে ভালো করে ভিজে যায়। কিন্তু তার গায়ে তো একগাদা ইথানল লেগে আছে। ইথানল (অ্যালকোহল) উদ্বায়ী আর তার জ্বলনাংকও যথেষ্ট কম। আগুন লাগিয়ে দিতেই অ্যালকোহল পুড়তে শুরু করল। কিন্তু রুমাল জলে ভেজা থাকার ফলে তা দহনতাপে তাপিত হতে পারছে না, তাই পুড়ছেও না। এদিকে বোরাক্সও রূমালে একটা নিরাপত্তা আচ্ছাদন তৈরি করে রুমালকে আগুনের হাত থেকে বাঁচাচ্ছে।
অনেকে জাদুটা কাগজের নোট দিয়েও দেখান। তোমরা একটা দশটাকার নোট নিয়ে খেলাটা একটু সাহস করে দেখাতে পার। কিন্তু সাবধান, ঠিকমত করতে না পেরে ওটা নষ্ট করলে কিন্তু আমায় কিছু বোলো না।