আমেরিকার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল। খাড়াই পাহাড়ের গায়ে বিপজ্জনক পথে পা পা করে এগিয়ে চলেছে একটা ঘোড়া। তার পিঠে বসা তরুণীটির সতর্ক নজর পাশের খাদের দিকে। এক জায়গায় এসে বোঝা গেল ঘোড়ারপিঠে যাওয়া সম্ভব নয়। নেমে এলেন তরুণী। ঘোড়ার শরীরের দু’পাশে ঝোলানো রয়েছে তাঁর অমূল্য সম্পদ। দুটো বড়োবড়ো বইয়ের থলি। তাদের না ক্ষতি হয়। সাবধানে ঘোড়ার রাশ ধরে পা পা করে পেরিয়ে এলেন বিপজ্জনক জায়গাটা। দূরে দেখা দিয়েছে একটা ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। সেইদিকে এগিয়ে চলতে চলতে আপনমনেই একটা সুর ভাঁজছিলেন তিনি। আপালাচিয়ানের দুর্গম পথে চলেছেন বই-দিদিমণি, তাঁর চলমান লাইব্রেরি নিয়ে, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে। খবর দিচ্ছেন —দীপক গোস্বামী
———————————————————————————————————-
সময়টা ১৯৩৩। মন্দার জ্বরে কাঁপছে সারা পৃথিবী। নামই হয়ে গেছে ‘বিশ্ব-মন্দা’ (Great Depression)। আর এই অর্থনৈতিক অসুখে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে আমেরিকা। সেই সময়ের একটা ঘটনা।
কিন্তু ঘটনাটা বলার আগে মন্দার ব্যাপারটা দু’এক কথায় জেনে নেওয়া দরকার। মন্দ মানে যে খারাপ সেটা আমরা সবাই জানি। মন্দাও খারাপ, তবে সেই খারাপ হচ্ছে অর্থনীতির খারাপ অবস্থা। যে দেশে মন্দা আসে, সেখানে একই সঙ্গে অনেকরকম দুর্বিপাক এসে হাজির হয়— ব্যাবসায় শেয়ারের দাম পড়ে যায়, সকলেই শেয়ার বিক্রি করে দিতে চায়। জিনিসের দাম একই থাকলেও লোকের আর কেনার ক্ষমতা থাকে না। কিনতে না পারার জন্য সেগুলো বিক্রি হয় না, আর বিক্রি হয় না বলেই সে’সব তৈরিও হয় না। তৈরি না হলে কল-কারখানায় শ্রমিকের দরকার কী? সেখানে এবং অফিসে কর্মচারী ছাঁটাই হতে থাকে। বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলে, যাদের কোনও রোজগার নেই। রোজগার না থাকায় সবাই একইসঙ্গে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নিতে চায়। ব্যাঙ্কগুলো সেই চাপ সহ্য করতে পারে না। ব্যাঙ্ক ফেল হতে থাকে। চারিদিকে হাহাকার পড়ে যায়। এই রকম একটা ভয়ানক অবস্থা চলেছিল সারা বিশ্বজুড়ে ১৯২৯ থেকে ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
শুরু হয়েছিল আমেরিকায় ১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, যে দিনটাকে আজও ‘কালো বৃহস্পতিবার’ (Black Thursday) বলে সবাই জানে। ঐ একদিনেই ১ কোটি ২৯ লক্ষ শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরের চার দিনে শেয়ারের দাম পড়ে গেছে ২৩%, যা অকল্পনীয়। আর এটাই অর্থনীতির ভাষায়— স্টক মার্কেট ক্র্যাশ। বাজারের অবস্থা এত খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে প্রতি বছর জিনিসের দাম ১০% হারে পড়ে যেতে লাগল, অল্প সময়ের মধ্যেই বেকারির হার দাঁড়াল ২৫%। যারা তখনও চাকরি করছিল, তাদের আয় কমে গেল ৪২%। বহু কৃষকের জমিজমা বিক্রি হয় গেল, বাড়িঘর হারিয়ে অনেকেই আরও দূরের রাজ্যে চলে গেল কাজের খোঁজে।
সে সময় আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ছিলেন হার্বাট হুভার। তাঁর এবং সরকারি সংস্থা, ফেডারেল রিজার্ভ-এর ভুল নীতির ফলেই এই মন্দার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারি নীতির পরিবর্তনে এই ভয়াবহ দিনগুলোও একটু একটু করে বদলাতে থাকল। ১৯৩২-এ রাষ্ট্রপতি হিসাবে এলেন ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট। এই অবস্থার পরিবর্তন করার ব্যাপারে তাঁর মাথায় রকমারি নতুন চিন্তা ছিল। সেগুলোকে প্রয়োগ করার জন্য ‘নিউ ডিল’ নামে একটা কার্যক্রমের ভেতরে নানা কর্মসূচিরও সৃষ্টি হল। সেগুলোর মধ্যেই একটার নাম ‘ওয়ার্কস প্রোগ্রেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (Works Progress Administration, সংক্ষেপে ডবলু. পি. এ)। শুরু হয়েছিল ১৯৩৩-এ এবং এই কর্মসূচিতে আমেরিকার লক্ষ লক্ষ বেকার মানুষকে যুক্ত করা হয়েছিল, যাতে এই মন্দার সময় তাদের একটা নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা করা যায়। সাধারণত সরকারি কাজ বলতে নির্মাণ কাজের মত ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট ইত্যাদি তৈরিই বোঝায়। কিন্তু ডবলু. পি. এ-এর নানা কর্মসূচির মধ্যে শুধু সেটুকুই নয়, দেশে এই দুঃসময়ে কলা সাহিত্য নাটক ইত্যাদির উন্নতির জন্যেও শিল্পী লেখক গায়ক অভিনেতাদের মত অনেককেই নিযুক্ত করা হয়েছিল।
ডবলু. পি. এ-এর বিভিন্ন কাজের মধ্যে একটি ছিল সাক্ষরতা, অর্থাৎ যারা পড়তেই পারে না তাদেরকে কাজ চালাবার মত পড়াশোনা শেখানো। তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে কেনটাকি রাজ্যে সৃষ্টি হল প্যাক হর্স লাইব্রেরি (The Pack House Library) প্রকল্প। উদ্দেশ্য খুবই সরল— কেনটাকির বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে বই, পত্র-পত্রিকার মত পাঠ্য উপাদান পৌঁছে দেওয়া। কী উপাদান, কীভাবে এবং কাদের দিয়ে দশ বছরের মত দীর্ঘ সময় প্রকল্পটা চালু রাখা হয়েছিল সেই নিয়েই এই আলোচনা।
কেনটাকি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মাঝামাঝি একটি রাজ্য— আয়তন ৪০,৪০৯ বর্গমাইল। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত যে চারটি রাজ্য মিলে একটি কমনওয়েলথ তৈরি হয়েছিল, কেনটাকি তাদের অন্যতম। এখানকার উর্বরা জমিতে অনেক নীলঘাসের উৎপাদন হওয়ার কারণে কেনটাকিকে ‘ব্লু-গ্রাস স্টেট’-ও বলে।
আমরা আগেই বলেছি মন্দার দুঃসময়ে কিছু লোকের জন্য চাকরির বন্দোবস্ত করা প্যাক হর্স লাইব্রেরি উদ্যাগের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল পূর্ব কেনটাকির প্রায় দশ হাজার বর্গমাইলব্যাপী আপ্পালাচিয়ার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের লোকেদের কাছে বইপত্র ইত্যাদি পৌঁছে দেওয়া। কারণ ১৯৩০-এ ঐ অঞ্চলের শতকরা ৩১ জন অধিবাসী পড়তে জানত না। তারা বুঝতে পারছিল এই ভয়াবহ মন্দা তাদের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে যে আশঙ্কা তৈরি করেছে, তার থেকে রেহাই পেতে গেলে পড়াশোনা করার একান্ত প্রয়োজন। বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে চলমান গ্রন্থাগার বা মোবাইল লাইব্রেরি (Mobile library)-এর মাধ্যমে বই পাঠানোর চেষ্টা যে এর আগে হয়নি তা নয়। ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দে জনৈক মে স্টাফোর্ড গ্রামীণ এলাকায় ঘোড়ার পিঠে বই পাঠাবার জন্য অর্থ সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু সে উদ্যোগ এক বছরের বেশি চলেনি। ১৯২০-র প্রথম দিকে ওখানকার বেরিয়া কলেজও ঘোড়ায়-টানা গাড়িতে পাহাড়ে বই পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। সে সবও কয়েক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু প্যাক হর্স লাইব্রেরি পরিকল্পনার মধ্যে অন্য অভিনবত্ব ছিল। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বই নিয়ে যাবার পদ্ধতি ছিল একই। ঘোড়া বা খচ্চরের পিঠের জিনের দু’ধারে থলি ঝুলিয়ে তার মধ্যে বই পুরে দেওয়া। যাঁরা বই নিয়ে যেতেন, তাঁদেরকে চলমান গ্রন্থাগারিক বা মোবাইল লাইব্রেরিয়ান (Mobile Librarian) বলা হত। কিন্তু নতুনত্ব ছিল এই যে, এবারের উদ্যোগের প্রায় সব লাইব্রেরিয়ানই ছিলেন মহিলা। আর মহিলা বলেই তাঁদের ‘বই-দিদিমণি’ বা ‘বুক উইমেন’ (Book women) বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের নিজস্ব ঘোড়া বা খচ্চরেই বই বোঝাই করা হলে তাঁরাই পুরুষদের মত (হয়ত আরও বেশি) দায়িত্ব নিয়ে শীতের সময়ও ঠাণ্ডায় রেকাবে জমে যাওয়া পা নিয়ে কাজ করে গেছেন। এইসব বই-দিদিমণিকে সব ঋতুতেই প্রতি সপ্তাহে ১০০ থেকে ১২০ মাইল পথ ঘোড়া বা খচ্চরের পিঠে ঘুরতে হয়েছে। খুব দুর্গম জায়গায় যেখানে ঘোড়ায় ওঠা সম্ভব নয়, সেখানে ঘোড়া ছেড়ে দিয়ে পায়ে হেঁটেও গেছেন তাঁরা। একমাত্র উদ্দেশ্য বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলের অধিবাসীদের পড়বার মত উপাদান সরবরাহ করা।
উপাদান বলতে মূলত পুরোনো বই, পত্র-পত্রিকা, পাঠ্যপুস্তক, সানডে স্কুলের ম্যাগাজিন সবকিছুই, যা পাওয়া যেত বিভিন্নজনের কাছ থেকে দান হিসাবে। কেনটাকি লাইব্রেরি কমিশনের প্রতিনিধি হিসাবে লীনা নফসিয়ার এজন্য সারা রাজ্য ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং অবস্থাপন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে আপ্পালাচিয়ার সাধারণ মানুষদের পাঠ্য উপাদান দেবার জন্য ক্রমাগত আবেদন করেছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রের কোনও একটা লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ চালু হোত। প্রথমে পাঠ্য উপাদানগুলো সংগ্রহ করে সেখানে জমা করার পর বই-দিদিমণিরা সেগুলোর ছেঁড়াখোঁড়া মেরামত করতেন। তাঁরা পুরোনো ক্রিসমাস-কার্ডও সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলো কেটে পাতায় চিহ্ন দেবার জন্য বুক-মার্ক তৈরি করে দিতেন। না হলে তো নতুন পাঠকরা পড়ার সময় কুকুরের কানের মত পাতার কোনা মুড়ে বইগুলো নষ্ট করে দেবে।

এইসব প্রচারের ফলে অল্পদিনের মধ্যেই যুক্তরাস্ট্রের প্রায় অর্ধেক রাজ্য থেকে বই আসতে লাগল। জনৈক কেনটাকিবাসী ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যাবার পরও তাঁর মায়ের স্মৃতিতে ৫০০ বই পাঠালেন। সারা দেশের অনেকেই অল্প অল্প করে পেনি জমিয়ে এই উদ্যোগকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন। ১৯৩৬ নাগাদ এইসব লাইব্রেরিয়ান প্রায় ৫০,০০০ পরিবারকে পড়ার উপাদান সরবরাহ করতেন। আরও এক বছরের মধ্যে প্রায় ১৫৫-টি সরকারি স্কুলও এই পরিষেবার মধ্যে চলে এল। কারণ বিচ্ছিন্ন পার্বত্য অঞ্চলের সরকারি বিদ্যালয়ে কোনও লাইব্রেরিই ছিল না।
এইসব পাহাড়ি লোকেরা মার্ক টোয়েনের বই খুব ভালবাসত। তাদের কাছে ডানিয়েল ডিফোর ‘রবিনসন ক্রুশো’-ও খুব জনপ্রিয় ছিল। বড়োরা অনেকেই পড়তে পারত না বলে তাদের ছবির বই বেশি পছন্দ ছিল। বইগুলো পড়ে দেওয়ার ব্যাপারে তারা বাড়ির পড়তে জানা ছোট ছেলেদের ওপরই নির্ভর করত। ছোটছোট ছেলেরা এইসব বই-দিদিমণিদের কাছে কাতর আবেদন করে গেছে যে সারাদিনের জমি নিড়ানির কাজ শেষ করার পর কিংবা রবিবারে পড়ার জন্য তিনি যেন কিছু বই তাদের কাছে রেখে যান। কোনও বিশেষ বই নয়— যে কোনও বই, যে কোনও ধরনের, যে কোনও বিষয়ের, কারণ তারা তো পড়ার বই-এর বাইরে কোনও বইই পড়তে পায় না।
আর এইসব সহানুভূতিশীল বই-দিদিমণিরা তাদের আবদার তো রাখতেনই, তার পরেও তাঁদের কাজ শেষ হতো না। যেসব পুরোনো বই তাঁরা পেতেন, মেরামত করে বেশ কয়েকবার ব্যবহারের পরে যখন আর সেগুলো পড়ার মতো অবস্থায় থাকত না তখন তাঁরা সেগুলোর লেখা এবং ছবি আলাদা আলাদা করে কেটে এবং সাদা কাগজে সেঁটে বাঁধাই করে নতুন বই তৈরি করতেন। ছেঁড়াখোঁড়া রান্নার বই থেকেও রান্নার পদ্ধতিগুলো আলাদা করে কেটে বাঁধিয়ে ছাঁট বই বা স্ক্র্যাপ বুক (Scrap book) তৈরি করতেন তাঁরা। এইভাবেই অনেক স্ক্র্যাপ বুক তৈরি হয়ে গেল।
উৎসাহী পাঠকদের কাছে বই পৌঁছবার জন্য এইসব দিদিমণিদের যে কী অপরিসীম কষ্ট করতে হয়েছে তা কল্পনাও করা যায় না। অনেক পাঠকই পাহাড়ের পেছনে থাকতেন, যেখানে যাবার কোনও রাস্তাও ছিল না। দিদিমণিরা শুকনো নদীর খাঁড়িপথ ধরে গিয়ে সেখানে বই সরবরাহ করেছেন। যখন যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে তখনও তাঁরা হার মানেন নি। জনৈক বই-দিদিমণির খচ্চর পথের মধ্যে মারা গেলে তিনি বাকি ১৮ মাইল পথ বইয়ের ব্যাগ নিয়ে পায়ে হেঁটেই পাহাড়ে উঠেছেন। এই রকম এক দিদিমণি ন্যান মিলান, যিনি পাইন মাউন্টেন সেট্লমেন্ট স্কুল থেকে আট মাইল ব্যাসার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে বাচ্ছাদের বই সরবরাহ করতেন, ঠাট্টা করে বলতেন যে তাঁর ঘোড়ার এক দিকের পা-দুটো নিশ্চয়ই অন্যদিকের চেয়ে ছোটো, না হলে তো খাড়াই পাহাড়ি রাস্তায় খাদের ঢালুতে পা পিছলেই পড়ে যেত।
বেশিরভাগ সময় এই সব মহিলাদের স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্য থেকেই পছন্দ করা হত। কারণ নতুন মুখ দেখলে পাহাড়ের লোকরা সব সময় বিশ্বাস করত না। পাহাড়ি মানুষদের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য এইসব দিদিমণিরা বাইবেলের অংশ আবৃত্তিও করে শোনাতেন। পড়তে না জানার কারণে পাহাড়ের অনেকেই হয়ত বাইবেলের গল্প তাদের গুরুজনদের মুখে শুনে থাকবে। দিদিমণিদের মুখে পবিত্র বাইবেলের কথা শুনে তারা তাদের কাজকর্মের প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠত।
এইভাবেই নানা কষ্ট সহ্য করে এবং বহু মানুষের কৃতজ্ঞতা অর্জন করে প্যাক হর্স লাইব্রেরি ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে রুজভেল্টের আদেশে ‘ওয়ার্কস প্রোগ্রেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ প্রকল্প বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্যাক হর্স লাইব্রেরিও বন্ধ হয়ে গেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তখন বেকারি অনেক কমে গেছে। অনেকেই পুরোনো চাকরিতে ফিরেও গেছে। কিন্তু বই পড়ার প্রয়োজন তো ফুরোতে পারে না। তাই আমরা দেখতে পাবো কয়েক বছরের মধ্যেই মোটর ভ্যানে করে বই নিয়ে গিয়ে আবার চলমান গ্রন্থাগার (bookmobiles) শুরু হবে। পাহাড়ের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে আমাদের এটা জানা নেই সেই নতুনভাবে বই পরিবেশনের সঙ্গে বই-দিদিমণিরা জড়িয়ে ছিলেন কি না— বা থাকলেও কতজন ছিলেন!

অসাধারণ কাহিনী। দুর্দান্ত উপস্থাপনা