বৈজ্ঞানিকের দপ্তর বিজ্ঞানবিচিত্রা- সিক্‌ল্‌ সেল অ্যানিমিয়া ও ড্যানিয়েল শ্রাইনার অপূর্বকুমার চটোপাধ্যায় বসন্ত ২০১৯

 অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  সব লেখা একত্রে

সিক্‌ল্‌ সেল অ্যানিমিয়া ও ড্যানিয়েল শ্রাইনার

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

আজ থেকে সাত হাজার বছরের কিছু আগে এক শিশু জন্মেছিল আফ্রিকায়। সেই শিশুর রক্তের হিমোগ্লোবিন অণুতে কিছু পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল [বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে মিউটেশন] তাই তার রক্তের লোহিত কণিকা সাধারণের মত ছিল না। হয়েছিল বাঁকানো কাস্তের মত। তাই এই রোগকে সিক্‌ল্‌ সেল (বা কাস্তে আকারের কোষ) রোগ বলে। এই জাতীয় লোহিত কণিকাগুলি অপর এই জাতীয় লোহিত কণিকার গায়ে আটকে যায়। সৃষ্টি হয় ছোট ছোট বলের মত কোষের সমষ্টি। ফলে সরু সরু রক্তবাহী নালিকাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় নানা ধরণের উপসর্গের যেমন, হাত পা ফুলে যায়; রোগী সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে; পায়ে ব্যথা বোধ হয়; প্লীহার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, সংক্রমণ হয় ব্যকটেরিয়া ঘটিত রোগের; হয় চোখের এবং হৃৎপিণ্ডের রোগ। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটে যায়। 

বর্তমানে প্রায় ৪৪ লক্ষ মানুষ এই রোগের শিকার, প্রতি বছর মৃত্যু ঘটে লক্ষাধিক মনুষ্যের। এই রোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশী আফ্রিকার সাহারা মরুঅঞ্চলের দক্ষিণের মানুষদের (শতকরা ৮০ ভাগ)। ভারতবর্ষ ও আরবদেশ সমূহেও এই রোগ দেখা যায়। 

এই রোগের উৎস সন্ধানে ব্রতী হয়েছিলেন আমেরিকার Center for Research on Genomics & Global Health, National Human Genome Research Institute, Bethesda-র দুই বিজ্ঞানী, Daniel Shriner এবং Charles Rotimi । তাঁরা ২৯৩২ জনের জিনোম পরীক্ষা করে জানিয়েছেন ৭,৩০০ বছর আগে এই রোগের উৎপত্তি হয়েছিল। এতদিন অবধি বিজ্ঞানী মহলের একাংশের ধারণা ছিল এই রোগের একাধিক বার উৎপত্তি হয়েছিল। কিন্তু এই বিজ্ঞানীদ্বয় সেই মত খণ্ডন করলেন। 

বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ ফলটি প্রকাশিত হতে চলেছে The American Journal of Human Genetics -এর এপ্রিল ৫, ২০১৮ সংখ্যায়।

বৈজ্ঞানিকের দপ্তর সব লেখা একত্রে

Leave a Reply