অরিন্দম দেবনাথ এর সমস্ত লেখা
আমাদের মাথার চুলের কথা মনে হলেই প্রথমেই মনে আসে এগুলোকে ঠিকঠাক পরিষ্কার রাখার কথা, যাতে অসময়ে ঝড়ে না যায়। চীন দেশে এমন একটা গ্রাম আছে যেখানে প্রায় সব মহিলাদের মাথায় গড়ে দু’মিটার করে লম্বা চুল। গিনেস বুকে নাম তোলা সেই গ্রাম আর লম্বা চুল টিঁকিয়ে রাখার কথা লিখেছেন অরিন্দম দেবনাথ

চারপাশে উঁচু পাহাড় আর জংগল, তার মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝিনশা নদী। প্রায় নদীর কিনারা থেকে উঠে গেছে সারসার পাইন কাঠের ঘরবাড়ি। খুব বেশী লোকের বাস নয় চায়নার স্বশাসিত অঞ্চল লংশেংএর হূয়াংলু ইয়ো গ্রামে। গোটা ষাটেক পরিবারের শ’চারেক মানুষ নিয়ে এই গ্রাম। মূলত পাহাড়ের ধাপ কেটে কেটে তৈরি চাষের জমিতে ফসল ফলিয়েই এদের দিন চলে।
হূয়াংলু গ্রামের বাশিন্দারা ইয়ো জনগোষ্ঠীর। পানিয়াও, জিনমেন, শানজিয়াও, গুওশান্যাও, পিন্ডিয়াও এবং বাইকুইয়াও শ্রেণী নিয়ে ইয়ো জনগোষ্ঠী। মূলত এরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম চীনের পাহাড়ি ভূখন্ড হুনান, হুয়াংলু, ইউনান, গুয়াংডং, গুইঝো এবং জিয়াংজি অঞ্চলে বসবাস করে। শুধু চীনেই নয় ইয়ো জনগোষ্ঠীর বাস ভিয়েতনাম সহ অনেক দেশে। ২০১০ সালের গণনা অনুয়ায়ী চীনে প্রায় সাতাশ লক্ষ আর ২০১৯ সালের গণনা অনুযায়ী ভিয়েতনামে প্রায় নয় লক্ষ ইয়ো জনগোষ্ঠী ভুক্ত মানুষের বাস ছিল।
অধিকাংশ পশ্চিমী, চীনা এবং ইয়ো গবেষকরা মনে করেন এই জনগোষ্ঠীর সূচনা খ্রিস্টপূর্ব ৬১৮-৯০৭ সময়কালীন তাং রাজবংশের সময়কাল থেকে। এই সময় উচ্চভূমি বা পাহাড়ি অঞ্চলের লোকেদের কথা বোঝাতে মো-ইয়ো শব্দটি ব্যবহার করা হত। এরা সেই সময় থাকত মূলত হুনান, উত্তর হুয়াংডং এবং গুয়াংজির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়।
তাং এবং ঝো রাজবংশের সময় থেকেই ইয়াঙ্গি নদীর নিম্নবর্তী অঞ্চলে মো-ইয়োরা একটি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। সুই রাজবংশের (৫৮১-৬১৮) সময় থেকে এরা মো দের থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং একটি আলাদা জাতিগোষ্ঠীতে পরিণত হয়, এবং সরকার এদের কোন রকম কর প্রদান ছাড়াই পাহাড়ের আবাদ করার অনুমতি দেয়। ১২৭৯ থেকে ১৩৬৮ ইউয়ান রাজবংশের রাজত্বকালীন সময়কার প্রথমদিকে মোঙ্গল ও উত্তরদিকে থেকে আগত চীনা অভিবাসনকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ইয়োরা ক্রমশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে দিকে চলে যেতে শুরু করে। ১৫ থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত আফিম ব্যবসায়ীদের উৎপাতে এবং দক্ষিণ চীনে বিদ্রোহের কারনে ইয়োদের একটা বড় অংশ থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের পাহাড়ি অঞ্চলে সরে যায়। এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা নানা ভাযায় কথা ও বিভিন্ন ঐতিহ্য অনুসরণ করলেও একটি অনন্য সাংস্কৃতিক ধারা বহন করে চলেছে সেই আদিকাল থেকে, তা হল লোকগান ও মৌখিক সাহিত্য। বংশ পরম্পরায় মুখে মুখে ধরে রেখেছে ইতিহাস ও সংস্কৃতি।

১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর গণতান্ত্রিক সরকার ইয়োদের একটি আলাদা সত্ত্বাধারী বলে সংজ্ঞায়িত করে এদের জন্য ১৯৫১ সালে গুয়াংজিতে লংশেং ইয়াও স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টি প্রতিষ্ঠা করে এবং পরবর্তী দুই দশকে সরকার বারোটি ইয়ো স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টি এবং দুই হাজারেরও বেশি ইয়ো স্বায়ত্তশাসিত শহর বা প্রশাসনিক গ্রাম প্রতিষ্ঠা করে। সমস্ত জাতীর জন্য সমতার নীতির অধীনে, সরকার ইয়োদের প্রশিক্ষিত করেছে এবং ইয়ো এলাকায় তার রাজনৈতিক প্রশাসনকে প্রসারিত করেছে। প্রশিক্ষিত হয়ে পাহাড়ের গহন অঞ্চলে ইয়োরাও পাহাড়ের গা পুড়িয়ে চাষাবাদের জমি তৈরি বন্ধ করেছে।
ইয়োরা বাড়িঘর তৈরি করে ঐতিহ্য মেনে। সাধারণত এদের ঘরগুলি হয় আয়তকার এবং কাঠ ও বাঁশ থেকে তৈরি। প্রতিটি বাড়িতে থাকে একটি মূল ঘর আর এর পাশ ঘেঁসে তৈরি হয় কয়েকটি ডরমিটরি। প্রতিটি বাড়িতেই থাকে সাজানো রান্নাঘর। যার ঠিক মধ্যে থাকে একটি উনুন।

ইয়োদের প্রধান খাদ্য হল চাল, ভুট্টা আর মিষ্টি আলু আর ফল। এছাড়া সয়াবিন, বাজরা, বিনস, মুলো, বাঁশের শেকড় এইসবও থাকে খাদ্য তালিকায়। মাংস বলতে গৃহপালিত পশু বা গ্রামের পুরুষরা জঙ্গল থেকে যা শিকার করে নিয়ে আসে। কিন্তু অধিকাংশ চীনাদের মতো এরা কুকুর, বেড়াল বা সাপ খায় না। মিলুতুও নামে পরিচিত লোকধর্ম ও লোকগান পরিবেশন করে যারা, তারা খায় না শুয়োর বা বাজ পাখির মাংসও। চাষের সময় সবাই একসঙ্গে জড়ো হয়ে সবার আনা খাবার ভাগ করে খায়। তাই কেউ যদি কোন কারনে চাষের ক্ষেতে খাবার নাও নিয়ে আসতে পারে তাকে না খেয়ে থাকতে হয় না।
মিলুতুও পৌরাণিক প্রাচীন গান যা ইয়ো জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বহুল প্রচলিত। যেহেতু ইয়ো জাতিগোষ্ঠীর শুধুমাত্র নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু কোনো লিপি নেই, (যদিও এখন এরা চাইনিজ লিপি ব্যবহার শুরু করেছে) তাই এই প্রাচীন গানগুলি ইয়ো মানুষের মুখে মুখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে। এই গানে ইয়ো জনগণের মা এবং সৃষ্টিকর্তা দেবী মিলুতুওর নানা ঘটনা বলা হয়। বিশেষ করে মিলুতুওর জন্ম, স্বর্গ ও পৃথিবীর গঠন, মানুষের উৎপত্তি, পৃথিবী ও নদীর শাসন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জয়, দানবদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, মিলুতুওর মৃত্যু ইত্যাদির গল্প।
মদ এবং তামাক ইয়োদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ইউচা নামে একটি মিষ্টি মদ এরা বাড়িতে তৈরি করে চাল, ভুট্টা, মিষ্টি আলু বা নানা ধরনের শ্বেতসার (স্টার্চ) থেকে। ইয়োরা যখন বাড়ি থেকে দূরে থাকে, তখন তারা একটি বাঁশের নলে ইউচা নিয়ে যায় এবং পান করার আগে এতে খানিক জল মেশায়। ইয়োরা খুব অতিথিপরায়ণ এবং ভদ্র। অতিথির দেখা পেলে এরা সবার আগে ঘরে তৈরি খাবার ও মদ পরিবেশন করে। ইয়োদের পোশাকও বৈচিত্রে ভরা ও স্বতন্ত্র।
এহেন ইয়োদের গ্রাম হূয়াংলুর নাম কিন্তু গিনেস বুকে লেখা হয়ে আছে – চুল রহস্যের জন্য। হুয়াংলু গ্রামের মহিলাদের অতি গর্বের বিষয় এদের লম্বা ঘন কালো চুল। এই গ্রামের মহিলা বিশ্বাস করেন লম্বা চুল তাদের সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু, সম্পদ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক।

২০০২ সালের আগে পাহাড়ের গহীনে লুকিয়ে থাকা এই গ্রামের কথা কেউ জানতও না। কারণ প্রত্যন্ত চীনে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। চীন সরকার ২০০২ সালের পর পর্যটনকে শিল্প হিসেবে মেনে নিয়ে দেশের কিছু কিছু অঞ্চল পর্যটকদের জন্য খুলে দিতে জানা গেছিল হুয়াংলু গ্রাম আর সে গ্রামের মহিলাদের চুল রহস্যের কথা। সে গ্রামের মহিলাদের চুলের গড় দৈর্ঘ্য ২ মিটার। ২০০৪ সালে ৫.৬২ মিটার লম্বা চুলের জন্য সে গ্রামের এক মহিলা গিনেস বুকে নাম তুলে গ্রামকে বিখ্যাত করে দিয়েছিলেন ‘লম্বা চুলের গ্রাম’ বলে। দলে দলে লোকে ভিড় জমায় ওই গ্রামে। শুধু সে গ্রামের সৌন্দর্য, আতিথ্য বা গ্রামের মিউজিয়াম দেখার জন্যই নয়, তারা যায় লম্বা আর শক্ত চুলের চাবিকাঠি চালের শ্যাম্পু সংগ্রহ করতে।

অনেক প্রথা জড়িত এই চুলের সঙ্গে। যখন সারা বিশ্বের মহিলারা ঘন ঘন চুল ছোট করেন তাকে ঠিক রাখা বা কাজের সুবিধার জন্য, তখন এই গ্রামের মহিলারা একবারই মাত্র চুল কাটেন ১৮ বছর বয়সে যখন তিনি বিয়ের বয়সে পৌঁছন। তারপর থেকে চুলকে খালি বাড়িয়েই চলেন। সেই কাটা চুলকেও সযত্নে জমিয়ে রাখা হয় দিদিমার বাড়িতে, আর সেই কাটা চুল ফেরত পান বিয়ের দিন। এই চুল কাটার দিন রীতিমত পুজোপাঠ ও অনুষ্ঠান করতে হয়, ভোজ খাওয়াতে হয় প্রতিবেশীদের।
বিয়ের আগে পর্যন্ত নীল কাপড় জড়িয়ে চুলকে ঢেকে বাইরের পুরুষদের সামনে আসে এ’গ্রামের মেয়েরা। বিয়ের রাতে সেই চুল খুলে প্রথম দেখান হয় কন্যের স্বামীকে। এর আগে কোন কারণে কোনো অবিবাহিত পুরুষ যদি অবিবাহিত মহিলার খোলা চুল অসাবধানেও দেখে ফেলেন তবে প্রথা অনুযায়ী তিন বছর মহিলার ঘরে থেকে নানা ফাইফরমাশ খাটতে হয়। তবে ১৯৮০ সালের পর এই প্রথা উঠে গেছে। প্রচলিত কথা – হাজার বছর আগে কোন পুরুষ যদি কোন মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণ করত তবে তাকে মহিলারা চুলকে চাবুক বানিয়ে পেটাত।

চুল দেখেই বোঝা যায় মহিলার পরিচয়। যদি চুল মাথার চারপাশে প্যাঁচানো থাকে তাহলে বুঝতে হবে মহিলা বিবাহিত কিন্তু এখনও কোন সন্তান নেই। যদি সেই প্যাঁচানো চুলের ওপর আলগা চুল পাঁজা করে বাঁধা থাকে তাহলে বুঝতে হবে মহিলা বিবাহিত ও সন্তানের জননী। পাঁজা করে বাঁধা সেই আলগা চুল হল ১৮ বছর বয়সের সময় কাটা চুল যা তার দিদিমার কাছে রক্ষিত ছিল।
এই গ্রাম ও তার সন্নিহিত অঞ্চলে চুল লম্বা ও সুস্থ রাখার এক নিজস্ব গোপনীয়তা আছে। যা বছরের পর বছর ধরে বংশানুক্রমে ধরে রাখা হয়েছে। স্থানীয় মহিলারা নদী বা ঝর্নার জলে চুল ধুতেন। যেই রীতি এখনও রয়ে গেছে। ওনাদের কোন পুর্বসূরি লক্ষ্য করেন গ্যাঁজানো চাল সেদ্ধর জলে (ভাতের মাড়) চায়ের বীজ মিশিয়ে ধুলে চুল খুব মসৃণ, কালো ও শক্ত থাকে, চুল ঝড়ে না ও কালো থাকে। বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে এই গ্যাঁজানো চাল সেদ্ধর জল ভিটামিন বি সমৃদ্ধ যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া এই অঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ তাদের নিজস্ব ক্ষেতে ফলানো শাকসবজি ও ফল খায়, যা শুধু স্বাস্থ্যকরই নয় দৈনন্দিন জীবনধারা ভালো ও সুস্থ রাখার অন্যতম কারণ। তা ছাড়া এরা পাহাড়ি নদী বা ঝর্নার জলে চুল ধোয় যা দূষণ মুক্ত ও কাঠের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ায়।
ইয়োদের এই চুল ভালো রাখার উপকরণ ঘরেই বানিয়ে নেওয়া যায় আর তার জন্য প্রয়োজন চাল, জল, চায়ের বীজ, লেবুর খোসা, ফ্লিস ফুলের শেকড় বা অ্যালো ভেরা গাছের পাতার রস আর আদা।
ইয়োদের শ্যাম্পু ঘরে বানানোর পদ্ধতি
- প্রথমে চাল ভালো করে পরিষ্কার করে ঘষে ঘষে ধুতে হবে, (ইয়ো গ্রামের মহিলারা চাল ভিজিয়ে বেশ কিছুদিন রেখে দেন যাতে তা খানিক গেঁজে যায়।)
- তারপর এই চাল ভালো করে ফুটিয়ে সেই চালের মাড় (যা আমরা ভাত গালার পর ফেলে’দি) একটা পাত্রে ছেঁকে রেখে সেই মাড়ে লেবুর খোসা, চায়ের বীজ, ফ্লিস ফুলের শেকড় আর আদা দিয়ে ভালো করে জ্বাল দিতে হবে।
- এরপর এই মিশ্রণকে ঠান্ডা হতে ও গেঁজে উঠতে দিতে হবে।
- মিশ্রণ পুরো ঠান্ডা ও খানিক গেঁজে গেলে তা ছেঁকে বোতলবন্দী করে রাখা যেতে পারে। সাধারণত এই মিশ্রণ অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় যদি ফ্রিজে রাখা হয়, (ইয়োদের গ্রামে ফ্রিজ বন্দী করতে হয় না তা ঠান্ডার জায়গা বলে।)
- চুল ধোয়ার আগে এই মিশ্রণ বা শ্যাম্পু ঘণ্টাখানেক মাথা ও চুলে মেখে রেখে দিতে হয়
চালের জল (মাড়)

চালের মাড়ে অনেক রকম ভিটামিন ও মিনারেল উপস্থিত। এছাড়াও এতে গুরুত্বপূর্ণ স্টার্চ, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা চুলের জন্য উপকারী। এতে অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দীর্ঘ, স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল চুলের বৃদ্ধিতে দুর্দান্ত কাজ করে। মাড়ে উপস্থিত প্রোটিন চুলের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে এবং চুল ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে। ইয়ো মহিলারা তাদের চাল সেদ্ধ জল বা মাড়কে কয়েকদিন ধরে কাঠের পাত্রে জমিয়ে রেখে গ্যাঁজান যা সাধারণ চালের জলের চেয়ে বেশি শক্তিশালী কারণ এতে আরও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি হয়। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি চুল এবং ত্বকের কোষের ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে ।
লেবুর খোসা
এতে ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন সি এবং খনিজ যেমন আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি রয়েছে যা চুলের বৃদ্ধির জন্য উপকারী। এতে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে যা স্বাস্থ্যকর কোষ তৈরি করতে এবং কঠোর পরিবেশের সংস্পর্শে আসা ত্বকের ফোলা ভাব এবং বলিরেখা কমাতেও সাহায্য করে। এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় চুলে খুশকির সমস্যা মোকাবিলা করে। লেবুর খোসা কোলাজেন প্রোটিনের উৎপাদন বাড়াতেও সাহায্য করে যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা এবং দৃঢ়তা বজায় রাখতে অপরিহার্য। ইয়ো মহিলারা সাধারণত বাতাবি লেবু জাতীয় ফলের খোসা ব্যবহার করে।
চায়ের বীজ বা তুষ
ইয়ো মহিলারা তাদের শ্যাম্পুতে চায়ের বীজ বা তুষ ব্যবহার করে। চায়ের তুষ লংজিং চা (এক ধরনের গ্রিন টি) প্রক্রিয়াকরণের পর উপজাতক হিসেবে পাওয়া যায়। যা ফেলে দেওয়া হয়। এই অঞ্চলে এই চা প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। চায়ের তুষ ও বীজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা চায়ের ক্যাটেচিন নামে পরিচিত যৌগ থেকে আসে। চায়ের তুষ চুল পড়া রোধে এবং মাথার ত্বকে চুলকানি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ফ্লিস ফুলের শেকড় (মোরগ ফুল জাতীয় গাছ)
ফ্লিস ফুলের শেকড় চীনা ওষুধের সবচেয়ে বিশিষ্ট ভেষজগুলির মধ্যে একটি। এটিতে বার্ধক্য বিরোধী এবং আয়ুবর্ধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা চুলের জন্য উপকারী। এটি চুলের পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং চুল পড়া বন্ধ করে। ফ্লিস ফুলের শেকড়ের পরিবর্তে আলুভেরা গাছের কষও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আদা
আদা পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা চুলে খুশকির মতো সমস্যা সমাধানে এমনকি চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।
যদিও যতদূর জানা গেছে বর্তমানে এই গ্রাম ও আশপাশের খানিক অঞ্চল ছাড়া চাল থেকে তৈরি এই অনন্য সাধারণ শ্যাম্পুর বিদ্যে আরও কোথাও সেভাবে বেঁচে নেই। অথচ হান আমলে (৮ থেকে ১২ শতকে) চীন এবং জাপানে মহিলাদের মধ্যে এই পদ্ধতিতে তৈরি শ্যাম্পুর বহুল চল ছিল। কিন্তু চর্চা আর বিদ্যা সংরক্ষণের অভাবে সে-সবের অপমৃত্যু হয়েছে। চুল ভালো রাখার রহস্য শুধু রয়ে গেছে মুখে মুখে সংস্কৃতি টিঁকিয়ে রাখা এক পাহাড়ি গ্রামের মাঝে। তবে বর্তমানে গ্রামের সব মহিলারই যে লম্বা চুল রাখেন তা কিন্তু নয়। যতই গ্রামের মহিলারা এই শ্যাম্পু তৈরির কায়দা কানুন বলে দিন লম্বা আর ঘন কালো চুলের আসল রহস্য কিন্তু লুকিয়ে আছে ওই অঞ্চলের জল আর আবহাওয়ায়।

ছবি – ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত