
পাখি দেখার সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িয়ে আছে পাখির ডাক। কোনও জায়গায় পাখি দেখতে পা ফেলতেই চারপাশের পাখির কিচিরমিচির ডাক শুনেই আমরা তাদের উপস্থিতি বুঝতে পাই। পাখিরাও মানুষ বা বন্য জীবদের মতোই ডাকের দ্বারা তাদের জীবনের বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি যেমন দুঃখ, কষ্ট, সুখ বা আনন্দ প্রকাশ করতে পারে।
প্রতিটি পাখি পরস্পরের ভাষা বুঝতে পারে। প্রকৃতিই এটা শিখিয়েছে তাদের। পাখিরা আত্মরক্ষা বা শত্রুদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বিশ্বব্যাপী এমন একটা সর্বজনীন ভাষা রপ্ত করছে যে সেই ভাষাটা প্রতিটি প্রজাতির পাখি বুঝতে পারে। আবার পাখিদের ভাষাও বুঝতে পারে শিকারি পাখিরা ও অন্য পাখিখেকো বন্যপ্রাণীরা।
পাখিরা গান গায় নির্ভুল স্বরলিপিতে। কোনও ভুল থাকে না। সুর ও নৃত্যের জন্য তো বটেই, নানাভাবে আমরা পাখিদের কাছে ঋণী। কিন্তু পাখিরা আমাদের কাছে ঋণী নয়। একদিন মানুষ গানের সুর-ছন্দ ও নাচের তাল-লয়-মুদ্রা পাখিদের কাছ থেকেই শিখেছিল।
যে-কোনো প্রজাতির নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ নির্ভর করে তথ্য পাঠানো এবং গ্রহণ করা এমন একটি বিন্যাসে যা উভয়পক্ষ বুঝতে পারে। পাখিদের ক্ষেত্রেও তা তাই। পাখিদের শোনা ও দেখার ইন্দ্রিয় বেশ উন্নত। তাই তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রধানত এই দুটি মাধ্যম ব্যবহার করে।
পাখিদের শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ:
পাখিদের জগতে যোগাযোগ তাদের ডাক এবং গানের মাধ্যমে দু-ভাবেই হয়ে থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা পাখির শব্দকে তাদের বার্তা ও কাজের উপর ভিত্তি করে আলাদা করে থাকেন। পাখির গলায় ডাক ও গান দুটোই আছে। পাখির গান হল পাখির এক বিশেষ শব্দ যা মানুষের কানে সুরেলা শোনায়। গান এবং ডাক বা কলের পার্থক্য করা যায় এর জটিলতা, দৈর্ঘ্য ও প্রসঙ্গের উপর ভিত্তি করে।
পাখির গান:
পাখিরা সাধারণত প্রজননজনিত কারণে গান করে। কিছু পাখি খুব সুমিষ্ট গান গায়, অন্যরা তেমন প্রতিভাধর নাও হতে পারে। যা-হোক, তারা যেভাবেই শব্দ করুক না কেন অন্য পাখিরা বার্তাটি পরিষ্কার বুঝতে পায়।
পাখির গান মূলত পুরুষ পাখির কণ্ঠেই শোনা যায়। স্ত্রী পাখিরা গান গাইতে পারলেও তা তেমন সুরেলা বা মিষ্টি হয় না। পুরুষ পাখির গান তার সঙ্গী স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করার জন্য দরকারি বা তার প্রতিবেশীদের কাছে একটি বার্তা হতে পারে যে সে এখনও তার সঙ্গীর কর্তা। সাধারণত পুরুষ পাখি সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য গান গাওয়া বসন্তকাল বা পূর্বরাগের সময় থেকে শুরু করে ও তার গানের পুনরাবৃত্তি করবে যতক্ষণ না সে তার স্ত্রীর সঙ্গে জুটি বাঁধে। এমনকি তারা জুটিবদ্ধ হওয়ার পরেও পুরুষ তার সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধন বজায় রাখার উপায় হিসাবে গান চালিয়ে যেতে যায়।
স্ত্রী পাখিও সাথীর খোঁজ করে। তারা হয়তো অনেক পুরুষ পাখির গান শোনে, পুরুষ সঙ্গী বেছে নেওয়ার আগে বিভিন্ন এলাকায় যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত একজনকে বরমাল্য পরিয়ে দেয়। প্রজনন ঋতুতে বেশিরভাগ পাখির একটি নিশ্চিত অঞ্চল প্রয়োজন। এখানেই তারা বাসা বাঁধার ও বাচ্চদের বড়ো করার, খাবার জোগাড়ের উপযুক্ত জায়গা বেছে নেয়। একই প্রজাতির বা অন্য পাখিদের থেকে তাদের অঞ্চল রক্ষার জন্যও পুরুষরা গান করে।
স্বরধ্বনি:
পাখিরা শব্দ তৈরি করতে শ্বাসনালী বা ট্র্যাকিয়ার নীচে অবস্থিত অস্থিনির্মিত সিরিঙ্গস (Syrinx) ব্যবহার করে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বায়ু থলি (Air sacks)। বাতাস সংলগ্ন পর্দা বা মেমব্রেনকে কম্পিত করে স্বর উৎপন্ন করে। পাখির বাচ্চাও ডিম ফুটে বেরোনো স্বজাতির পাখিদের ডাক শুনে বড়ো হয় ও অনেক অভ্যাসের মাধ্যমে শব্দ করতে শেখে।
পাখিরা সবধরনের তথ্য আদানপ্রদান করতে ছোটো শব্দ ব্যবহার করে। পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য কিছুটা অস্পষ্ট স্বরে ডাকে, বিশেষত যখন তারা একে অপরের সংস্পর্শে থাকার জন্য ঘুরে বেড়ায়। এই ডাকগুলি একটি জোড়া বা গোষ্ঠীর প্রতিটি পাখির পক্ষে শোনার জন্য জোরে হওয়া উচিত, তবে এতটা জোরে নয় যে তারা শিকারিদের অযথা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ম কলগুলি সাধারণত অপেক্ষাকৃত জোরে কর্কশ ধরনের হয়। তার মাধ্যমে এলাকার অন্যান্য পাখিদের সতর্ক করে ও শিকারিকে তাড়িয়ে দেয়।
পাখির ডাকের তাল বা লয় আছে। পাখির ডাক খুব দ্রুত বা ধীর লয়ে হতে পারে। টুনটুনি দ্রুত লয়ে ডাকে। আবার কুবো, ঘুঘু, পায়রা ইত্যাদির ডাক খুব ধীর লয়ে শোনা যায়। সব পাখির ডাক এক স্কেলে হয় না। আবার অনেক পাখির ডাকে অনেকরকম তীক্ষ্ণতা বা স্কেলের পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন কোকিলকে এক-এক দফায় সাত-আটবার ডাকতে শোনা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিবারের ডাক আগের তুলনায় তীক্ষ্ণ থেকে তীক্ষ্ণতর হয়। শালিক, গোশালিক, বুলবুলি ইত্যাদি পাখিদের ডাকে বিভিন্ন তীক্ষ্ণতা মিলেমিশে থাকে। কিন্তু কুবো পাখির ‘কুব কুব‘ বা ডাহুক পাখির ‘কুক কুক’ একই পর্দায় বা লয়ে জড়িয়ে থাকে। সাধারণত দেখা গেছে ছোটো পাখির স্বর হয় স্পষ্ট বা তীক্ষ্ণ, আবার বড়ো আকারের পাখিদের ডাক বেশ গম্ভীর। বেশ সুমিষ্ট গান গাইতে পারে আমাদের পরিবেশে পরিচিত প্রথমেই বলতে হয় দোয়েলের কথা। বিশেষ করে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে খুব ভোরবেলায় তার কণ্ঠে শিস আমাদের মন মাতিয়ে দেয়। এছাড়াও আছে শ্যামা, দামা প্রভৃতি গায়ক পাখি।
এমনিতে প্রতিটি প্রজাতির পাখির জন্য আছে আলাদা ভাষা ও কণ্ঠস্বর। পাখিদের ডাক বা গানকে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় : (১) স্বাভাবিক বা প্রকৃত ডাক/গান, (২) আনন্দের গান, (৩) বাসা বাঁধার গান, (৪) বাসায় ডিম হওয়ার গান, (৫) বাসায় ছানা হওয়ার গান, (৬) বাসায় ছানাদের খাওয়ানোর গান, (৭) ছানাদের উড়তে শেখানোর গান, (৮) বিপদসূচক গান, (৯) ছানাদের সতর্ক সংকেত দেওয়ার গান, (১০) ধমকের ভাষা, (১১) ছানা হারানোর কান্না, (১২) কষ্টের ভাষা, (১৩) ভয়ের ভাষা, (১৪) দৃশ্য ভাষা। এদের নৃত্যে থাকে সঠিক তাল-লয়-ছন্দ। এক্ষেত্রে পাখিরা ব্যবহার করে দৃশ্য ভাষা।
অ–স্বরধ্বনি (Non Vocal Call):
তবে কিছু পাখি অন্য উপায়ে শব্দ উৎপন্ন করে। কাঠঠোকরা পাখি যখন কোনও বড়ো গাছের উপর চঞ্চু দিয়ে আঘাত করে, তখন মনে হয় তারা কোনও বস্তুর উপর ড্রাম বাজাচ্ছে। পেঁচা ও আরও অনেক পাখি একসঙ্গে তাদের পরস্পর দুটি চঞ্চু দিয়ে আঘাত করে একপ্রকার শব্দ করে। পায়রা এবং পেঁচারা বিপদসংকেত দিতে অথবা স্ত্রী পাখিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ডানা ঝাপটায়, যাকে অনেকে ডানা তালিও বলে।
চাক্ষুষ যোগাযোগ:
পাখিরা শব্দ ছাড়াও নীরবে নির্বাক যোগাযোগ করতেও সক্ষম। তা হয় কেবল দেহের নড়াচড়া ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে। শারীরিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি ‘প্রদর্শন‘ বা Display বলে পরিচিত। সহজে বার্তা পৌঁছে দেবার জন্য পাখিরা দেহের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করা আমাদের চারপাশের পাখিদের পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায়। যেমন মাথার নড়াচড়া বা ববিং, কাত হওয়া, ডানার নড়াচড়া যেমন কাঁপান, উপর-নীচ তোলা, উপুড় হয়ে শুয়ে সঙ্গীনীর মনযোগ আকর্ষণ করা, পালক বা ঝুঁটি ফুলিয়ে কোনও বার্তা দেওয়া ইত্যাদি।
আবার কিছু পাখি কোরিওগ্রাফ করা নাচ বা উড়ন্ত দক্ষতায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শন করতেও দেখা যায়।
পাখিরা কি অন্য প্রজাতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে?
পাখিরা অন্য প্রজাতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা যায় বিশেষত যখন কিনা তারা বিপন্ন বোধ করে। যখন কোনও একটি পাখি আক্রমণের শিকার হয়, তখন প্রায়শই আক্রমণকারীকে আটকানোর জন্য নিজেকে আরও হিংস্র ও ভয়ংকর দেখানোর চেষ্টা করে। পেঁচা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। পাখিরা যখন বিড়াল, সাপ অথবা শিকারি পাখির দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন পাখিরা সতর্কবার্তা, কণ্ঠের ডাক, চিৎকার করতে দেখা যায়। আবার পাখিরা যখন সরাসরি বিপদের মধ্যে থাকে না কিন্তু বিপদের আঁচ করতে পারে, তখন তারা বিপদসংকেত কল করে ও এলাকার অন্যান্য পাখিদের সতর্ক করে।
পাখিরা কীভাবে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ করে?
পাখিরা দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেবার সময় নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে আওয়াজ করে। এই ধরনের যোগাযোগের অনেক সুবিধা আছে। যেমন যখন তারা ঝাঁকে উড়ে চলে তখন একজন আর একজনকে না দেখলেও চলে। বন ও জলাভূমির মতো ঘন পরিবেশে বা অন্ধকারের সময়ও তা কাজে লাগে।
পাখিরা কতদূর যোগাযোগ করতে পারে?
পাখির ডাক কতটা দূরত্ব পর্যন্ত শোনা যাবে তা কতগুলি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন আশেপাশের পরিবেশ, আবহাওয়ার অবস্থা, শব্দের মাত্রা ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ইত্যাদি। সহজ ও কম তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ, যেমন উটপাখির ডাক বেশি দূরত্বের যোগাযোগের জন্য উল্লেখযোগ্য।
পেঁচারা তাদের কম তরঙ্গ দৈঘ্যের্র কারণে ও বাধা কম হলে রাতে দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ করার প্রবণতা রয়েছে। পেঁচা প্রায়শই বড়ো অঞ্চল দখল করে ও তাদের প্রতিবেশীদের ডাক শনাক্ত করার জন্য প্রখর শ্রবণশক্তি রয়েছে। মেরু বা সাদা পেঁচা প্রায় এক হাজার একরের বেশি এলাকা ধরে রাখে এবং সাত মাইল পর্যন্ত শুনতে পায়।
ডাকের সাহায্যে পাখিরা কীভাবে খাদ্যের সন্ধান করে?
পাখিরা সাধারণত দৃষ্টিশক্তির সাহায্যে খাবার খুঁজে নেয়। তবে অন্যান্য পাখির শব্দের বিষয়ে তারা অত্যন্ত সজাগ থাকে। কোনও পরিবেশে খাবারের চারপাশে পাখিদের উত্তেজিত ডাক সম্ভবত সেই এলাকার অন্যান্য ক্ষুধার্ত পাখিদের কাছে খুব আকর্ষণীয়।
উড়ন্ত অবস্থায় পাখিরা কীভাবে যোগাযোগ করে?
অনেক পাখি রাতে দল বেঁধে ও ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলে। এটি তাদের শিকারি এড়াতে সাহায্য করে। তাহলে কীভাবে তারা একে অপরের সঙ্গে নিরাপদে যাত্রা করে, এমনকি অন্যান্য পাখি বিভিন্ন দিকে চলে যাওয়া এড়াতে পারে? সমাধান হল মৃদু ও নিয়মিত ডাকা যা পাখিদের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া নিশ্চিত করে সবাই একই যাত্রাপথের দিকে সহযাত্রী হয়ে উড়ে চলেছে। এই ‘ফ্লাইট কল’গুলি পাখিদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।
পাখিরা কীভাবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে?
পোষা পাখিরা মানুষের সঙ্গে অবশ্যই সখ্য গড়ে তোলে। পোষা পাখি প্রায়শই কণ্ঠে ও দৃশ্যতভাবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম। কিন্তু পাখি জগতে কিছু আকর্ষণীয় ঘটনা রয়েছে যেখানে বনের পাখি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বইকি। আফ্রিকার হানিগাইড সক্রিয়ভাবে সেখানকার লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মধুর অবস্থান জানাতে সহয়তা করে। আশ্চর্যজনকভাবে তারা মানুষের ডাকে সাড়া দেয়। মৌচাকের গাইড করে পাখিরা মোমের সন্ধান পায়, যা কিনা তারা খায়।
পাখিরা কি তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে?
পাখিদের মা-বাবা সাধারণত কোনও সুস্পষ্ট উপায়ে তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। যদিও কোনও প্রজাতির মা-বাবা তার ছানাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার ঘটনাও জানা যায়, যেমন সিগাল। প্রাপ্তবয়স্ক সিগালের চঞ্চুর রঙ লাল। এই বিশেষ রঙ বাচ্চাদের খাবারের জন্য আর্জি জানানোর এক পরোক্ষ বার্তা হিসাবে কাজ করে। শাবকরা লাল রঙ দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, তাই লাল দাগ ছাড়া অন্য কোন পাখি থেকে খাবার নেবার চেষ্টা করে না। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চারা যোগাযোগের জন্য সহজ শব্দের স্বর তৈরি করে যা দিয়ে তারা খাবারের আর্জি জানায়।
অনেক লোক তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় পাখির ডাক বা গান উপভোগ করে। পাখি বিশারদরা পাখির ডাক বা গান শুনে পাখিদের শনাক্ত করতে অনেক দূরে যান। কিংবদন্তি পাখি বিশারদ টেড পার্কার এইভাবে চার হাজারেরও বেশি পাখির শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু প্যাসারিফর্মিস বা দন্ডচারী বর্গের পাখিদের মধ্যে গান গাওয়া পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই বর্গে প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৫,৭০০। তার মধ্যো চার হাজার প্রজাতির পাখি আছে যারা গায়ক পাখি।
পাখি কেন গান গায়? তারা কেন ডাকে? গবেষণায় জানা যায়, পাখিদের শরীরে মেলাটোনিন হরমোন তাদের ডাককে নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের বাড়া-কমা, উষ্ণতার তারতম্য ইত্যাদিও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নেয়। তবে পাখির গান শেখার বেলায় এক-এক পাখির এক-এক কায়দা। তবে কিছু পাখি একেবারে অদ্ভুত। ওরা ইচ্ছে করেই অন্য পাখি বা প্রাণীর ডাক শিখে নকল করে। এদের বলে হরবোলা পাখি। এই হরবোলা পাখি কেন অন্যের ডাক নকল করে, বিজ্ঞানীরা এখনও তার উত্তর খুঁজছেন। তাই পাখিদের বিভিন্ন যোগাযোগের বিষয়ে তাদের ভাষার এক বিশেষ ভূমিকা আছে। তবে এই ভাষা শেখার জন্য পাখিদের কোনও পড়াশোনা করতে হয় না, স্কুলে যেতে হয় না। প্রতিটি প্রজাতির পাখি যার যার ভাষায় সমান দক্ষ। পাখিদের ভাষা বিশ্বে সর্বজনীন, কোনও আঞ্চলিক ভাষা নেই। এ এক আশ্চর্য বিস্ময় পাখিদের জগতে। পাখির গানে আজও ভোর নামে, আর নীড়ে ফেরা পাখির ডানায় সন্ধ্যা নামে আজও আমাদের দেশে।
লেখক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ একাডেমি, কলকাতা-র সদস্য
বনের ডায়েরি সব লেখা একত্রে