জয়ঢাকে প্রকাশিত রতনতনু ঘাটী র সমস্ত লেখার লাইব্রেরি

সেদিন দেখি তাল-সুপুরি বনের পাশে
দাঁড়িয়ে ছিল শূর্পণখা রাক্ষুসীটা।
সন্ধে তখন নেমেই গেছে, নয়তো বাকি,
“মনে রাখিস,মারতে পারি এই ঘুঁষিটা!”

বলেই আমি ছুটছি জোরে মাঠ পেরিয়ে
দানব-ডোবা দিঘির পরে থমকে দেখি
মেঘ পেরিয়ে আসছে হেঁটে তারকাসুর
হাঁক ছাড়ছে, “আলেনটেকি, আলেনটেকি!”
এর মানে কি ডিকশনারি ঘাঁটলে পাব?
মেল করব দেবকীনাথ বসুর কাছে?
বাংলাতে সে একশোই পায়, সেই পারবে!
তাকিয়ে দেখি, বকাসুরটা ঝুলছে গাছে।
মেল না করে চেঁচিয়ে বলি, “ঝুলছ কেন?
পড়লে যাবে হাত-পা ভেঙে, হাসপাতালে…”
হিড়িম্বাটা কানের কাছে মুখটা এনে
জীবনমুখী গান শোনাল তালবেতালে।
সান্ধ্য জগিং সারছে একা নিশুম্ভটা
বলল হেঁকে, “টলিকটোমা টলিকটোমা!
সিক্সে পড়ো, এর মানেটা জানবে কবে?
বাংলা জানে দানবকুলে অসিতলোমা।”
ও মা, এটাই বাংলা নাকি? কেমন ছিরি!
বাংলা সারের কাছে তখন জানতে গেছি,
ভয় পাইনি, আকাশছোঁয়া আঁকশি দিয়ে
জটাসুরের জটার ফাঁকে চাঁদ পেড়েছি।
সে চাঁদ নিয়ে আমি যখন ফিরছি বাড়ি
কণ্বমুনির তপোবনের পাশের ঝিলে
ক্ষীরের পরে ভাসছে কত মুড়কি-মোয়া
সাঁতার কাটে দৈত্য এবং দানব মিলে।
যেই বলেছি, “নামব নাকি? সাঁতার জানি!”
রাক্ষসীরা উড়াল দিল বাংরিপোসি,
হঠাৎ দেখি দাঁত ভেঙাল আমার দিকে
নীলচে-রঙা পূতনা আর কুম্ভীনসী।
ভাবছি আমি কেমন করে ফিরব বাড়ি?
কাশ ফুটেছে, ঢাক বাজছে অনেক দূরে…
পথের বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে দুর্গা মা যে
আমায় নিতে পাঠিয়ে দিল মহিষাসুরে।
ছবি- মৌসুমী
জয়ঢাকের ছড়া সংগ্রহ