
জুতো বানাই জুতো সারাই মেশিন ছাড়াই আমরা,
মাল-মশলা উচ্চ দরের, খাস বিলিতি চামড়া।
জুতো সারাই, জুতো বাড়াই পরমায়ু ঢের জানবে,
নইলে কি আর কইলে মুখে তোমরা আমায় মানবে?
নতুন জুতো পরবে যারা করবে তো ভয় ফোস্কার,
আমার কাছেই হদিস পাবে—কারণটা কী, দোষ কার?
জুতো পরে পড়লে কড়া মেজাজ চড়া হচ্ছে,
সুকতলাতে ধরল ছাতা, পেরেকগুলোর মরচে।
ছ’বছরের খোকন বেড়ে দশ বছরে পড়ল,
বয়স বাড়ার সাথেই যে তার জুতোও বাড়া ধরল।
বাপ-আদুরে যাদুর বাতিক—নতুন স্টাইল—ছুঁচ্লো,
আমার কাছে যেই এনেছ কান্নাটি তার ঘুচল।
ছেলের জুতো বাপের বানাই, বাপ হয়ে যায় কন্যা
জুতো পেয়ে সেই কন্যার চোখের জলের বন্যা!
চাকরি খুঁজে ক্ষয়েছে হিল, যেই চাকরি জুটল
ফুস মন্তর! ক্ষয়ে যাওয়া নতুন হয়ে উঠল!
ফটিকবাবুর কালো জুতো একটি জোড়াই মাত্র,
কালোকে লাল দিলাম করে, সাজল বিয়ের পাত্র।
এই তো সেদিন দোকান নিয়ে মেলায় গেলাম ব্যান্ডেল,
মিলিটারি জুতোয় সেথা বানিয়ে দিলাম স্যান্ডেল!
কেলোর জুতো, হুলোর জুতো, বুধি গাইয়ের ক্ষুর তে
জুতো দেব, আরাম পাবে চলতে ফিরতে ঘুরতে।
বাঘ-ভালুকে পরবে জুতো, পরবে যেদিন হস্তী,
সেদিন আমার সত্যিকারের মিলবে যে ভাই স্বস্তি!
মনে মনে ভাবছি বসে যখন যাব আগ্রা,
তাজমহলের চারটি পায়ে পরিয়ে দেব নাগরা।
এক-ঠেঙে ওই মনুমেন্ট তো একটা জুতোই পরবে,
শহিদ মিনার সেজে তখন উঠবে ফুলে গর্বে!
চাঁদে নাকি নেই কোনও জীব, মঙ্গলেও নাই কি?
তাদের জুতো আমিই দেব, —দোহাই কালী মাইকি!
অলঙ্করণ- শ্রী ধীরেন বল
জয়ঢাকের ছড়া লাইব্রেরি এই লিংকে