ছড়া-অশরীরী জয়ঢাকি-দেবায়ন কঙ্কতিকা-শরৎ ২০২৩

chhoradebayankankatika
বছর কুড়ি, না না থুরি, বছর পঁচিশ হবে
সে এক ব্যাপার, ঘটনাটা বলছি শোনো তবে।
আধ খাওয়া এক যুবক দেহের ময়না তদন্তের,
রিপোর্ট বলছে, এ কাজ মানুষ-খেকো শ্বদন্তের।
কেউ বলে, সব বাজে কথা, কেউ-বা বেজায় ভোকাল
কেউ বা বলে, শ্যামা চেনে, সে এলাকার লোকাল।
সবাই মিলে খুঁজতে গেল, শ্যামাচরণ কই?
সে এসে বাঘ চিনিয়ে দেবে সেই আশাতেই রই।
শ্যামাচরণ শেষমেশ তাঁর দিলেন চরণধূলি,
এমন সময় ভিড়ের মধ্যে জনৈকের এই বুলি—
ভেস্তে দিল, কেঁচিয়ে দিল যা ছিল সব প্ল্যানে,
কেননা সে চেঁচিয়ে উঠে হঠাৎ বলে, ক্যানে…
শ্যামাচরণ? শ্যামাই তো ঠিক? বিপত্তারণ নয়?
বাঘ বললেই ঘোগ উঁকি দেয়—কতকিছুই হয়!
শুনেই শ্যামা অ্যাবাউট টার্ন, উঠলে রাগে হেঁকে
এগিয়ে এলেন বৃদ্ধ সে এক, বললে তারে ডেকে
ও শ্যামাভাই, শোন না রে ভাই, করিস না বাপ রাগ
নামটা কী বল? চিনবি তো তুই, তোর এলাকার বাঘ!
অনেক চেষ্টা, মানভঞ্জন, বেদম পীড়াপীড়ি
মুখ খুললেন শ্যামা, আগে খাওয়াও একটা বিড়ি।
জ্বালিয়ে বিড়ি, উড়িয়ে ধোঁয়া বললে শ্যামাচরণ
কালচে ডোরা কাটার ফাঁকে হলদে ছিপে গড়ন।
ইয়াব্বড় লম্বা দাঁতে কামড়ে দিলেই ব্যস,
বই পড়া আর গান গাওয়া সব ওইখেনেতেই শ্যাষ।
তোমরা সবাই আজ থেকে ভাই সাবধানেতেই থেকো,
যেমন-তেমন নয় এ ব্যাটা বেজায় মানুষখেকো।
গন্ধ পেলেই ধরতে শিকার রুদ্ধশ্বাসে ছোটে,
মন খানেকের কম মাংসে মন ভরে না মোটে।
শার্দূল সে এই যাত্রায় খেইয়েছে পেট ভরে,
মন বলে, ফের মিলবে দেখা হপ্তা তিনেক পরে।
ক’দিন ধরে কালনা জুড়ে সবকিছু থমথম,
হঠাৎ হোটেল প্রিয়দর্শিনী লোকজনে গমগম।
জবর খবর, বাঙালি বাঘ, আজ সকালেই বাগে
বললে সবাই, চল যাওয়া যাক ১০৮ এই আগে।
জয়ঢাকি দল সদলবলে মহাদেব মন্দিরে
দেখতে গেল নরখাদক চারপেয়ে বন্দিরে।
এতক্ষণে ভিড় কাটিয়ে সামনে এলাম সবে,
কেউ কি জানত, আমার সাথেই সার্কাসটা হবে!
খাঁচা কোথায়, এ তো দেখি শেকলখানাও ছেঁড়া
এ যাত্রায় আর ঘরের পথে হবে না বুঝি ফেরা।
ভূতের রাজার বর নেই আমার, যদিও-বা গান ধরি
কোরো নাকো রাগ মামা, আমি তোমার পায়ে পড়ি।
যেই না গাওয়া, অমনি হওয়া সঙ্গী আমার সব
হঠাৎ করে থেমে গেল সকল কলরব।
কী ভয়ানক কেস খেয়েছি পড়ল তখন মালুম,
মামা যখন কানের কাছে বলল এসে, হালুম।
বাঘটা এল, ঘাড় ঝাঁকাল, হাই তুলল বসে
পায়ের তলার মাটি আমার হালকা গেল খসে।
বন্ধুরা সব ভিডিও তুলছে, দিচ্ছে তালিয়া
মন বলছে, অব তেরা ক্যায়া হোগা কালিয়া?
কালনা এসে ডালনা হব, এমনটা কে জানত?
সাহসে আর কুলোচ্ছে না, দিলাম এবার ক্ষান্ত।
ব্যাঘ্র-বিকট গর্জনে যেই চমকে ওঠে পিলে,
বোঝার আগেই টুকুস করে ফেলল আমায় গিলে।
সেই থেকে এই বনবাদাড়ে, মন্দিরেতেই থাকি
কালনাবাসী ভালনারেবল অশরীরী জয়ঢাকি।

জয়ঢাকের ছড়া লাইব্রেরি

Leave a Reply