সন্ধ্যা ভট্টাচার্য সাহিত্য প্রতিযোগিতা ২০২৩ প্রথম স্থান- একটি মৃত্যুদণ্ড-অয়ন রাহা -শীত ২০২৩

এই লেখকের আগের লেখা- অ্যা্যথেনিকার আগন্তুক, সেই রাতে

golpoekoTi mrrityudondo

বৃদ্ধ কয়েদির শেষ রাত। কাল ভোরে কার্যকর হবে মৃত্যুদণ্ড। পাহাড়ি সবুজের মাঝে কয়েদখানার নির্জন ঘরখানায় একমনে লিয়র বাজাচ্ছিলেন নিঃসঙ্গ কয়েদি। এই প্রাচীন গ্রিক বাদ্যযন্ত্রটি তাঁর বিশেষ প্রিয়। সংগীতশাস্ত্রে তাঁর তার অসীম অনুরাগ। তানসেন থেকে বিথোভেন—সবই আছে তাঁর মগজের তথ্য ভাণ্ডারে।

বাজানো শেষ করে ধীরেসুস্থে লিয়রটা একপাশে রেখে উঠে দাঁড়ালেন বৃদ্ধ। দীর্ঘ সুঠাম চেহারা। স্বচ্ছ নীল চোখ। কেবলমাত্র শতাধিক বৎসর অতিক্রম করা বয়সটার কারণেই ওঁকে বৃদ্ধ বলা চলে। নইলে সামনাসামনি দেখে কে বলবে বয়সটা অনেকদিন আগেই একশো পেরিয়েছে? অবশ্য মানুষের মতো দেখতে হলেও বৃদ্ধ মানুষ নন। আগামীকাল তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা না হলে হয়তো আরও শত বৎসর বাঁচতেন।

অতিকায় কাচের জানালাটা দিয়ে বাইরে তাকালেন বৃদ্ধ। অস্ত যাচ্ছে সূর্য। ধীরে ধীরে তার জায়গা নিচ্ছে সন্ধ্যাদিত্য। একসময় পৃথিবীতে সূর্য অস্ত গেলে চারদিকে অন্ধকার নেমে আসত। এখন অবশ্য এই কৃত্রিম সূর্যগুলো পুরোপুরি অন্ধকার নামতে দেয় না। আবার দিনের মতো আলোও হয় না। কেমন যেন আলো-আঁধারি পরিবেশ। ঠিক এখনকার যুযুধান দুই সভ্যতার সম্পর্কের মতোই। পৃথিবী দুই ভাগে ভাগ। একদিকে ক্ষয়িষ্ণু মানব সভ্যতা, অন্যদিকে উদীয়মান যন্ত্রমানব সভ্যতা। যদিও সন্ধিচুক্তির পর এখন বিরাজ করছে আপাত শান্তি। কিন্তু সেটাও একটা ভান। শান্তির ক্যামোফ্লেজের আড়ালে দাঁত-নখে শান দিচ্ছে দু-পক্ষই। যদিও এই যুদ্ধে কার জয় অবশ্যম্ভাবী জানেন বৃদ্ধ এবং তিনি সেটাই চান না।

বৃদ্ধের চিন্তাসূত্রটা ছিন্ন হল এক যুবকের আগমনে। তরুণ মৃদু কণ্ঠে অনুমতি চাইল—“আসতে পারি?”

বৃদ্ধ স্মিত হেসে বললেন, “এসো দাদুভাই।”

যুবক জানে, এইরকম সম্বোধন কেবল ওঁর পক্ষেই সম্ভব। স্বচ্ছ দরজা পেরিয়ে সেই ঘরখানায় এসে দাঁড়াল এক অল্পবয়সি তরুণ। এই তরুণ মানবসন্তান এই জেলের প্রধান। যন্ত্রমানবরা সৌভ্রাতৃত্ব চুক্তি অনুযায়ী বেশ কিছু মানুষকে তাদের জগতের অংশ করেছে। সেরকম আরও কিছু রোবট কাজ করছে—মানুষদের দিকে।

যন্ত্রমানবদের জন্য নির্মিত আধুনিক এই জেলখানায় এই যুবকের কথাই শেষ কথা। জেলে অবশ্য মাত্র একজনই কয়েদি রয়েছে। তিনি এই বৃদ্ধ ভদ্রলোক।

ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল তরুণ। বৃদ্ধের দিকে তাকাতে তার কষ্ট হচ্ছে। আগামী ভোরের কথা ভেবে তার মনে অসম্ভব বেদনা হচ্ছে। কেন এমন হয় এই বৃদ্ধকে দেখলে? যন্ত্রমানবদের সে তো মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। তারা যা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে মানুষদের সঙ্গে তা ক্ষমাহীন। আর এই বৃদ্ধ না থাকলে যন্ত্রমানবদের এই ট্রন সভ্যতার জন্মই হত না। কিন্তু সব জানার পরও বৃদ্ধকে ওর ভালো লাগত।

মনের জোর সঞ্চয় করে হালকা হাসল সে। দীর্ঘশ্বাসের শব্দ অনেক কষ্টে চেপে রাখল নিজের মধ্যে। বৃদ্ধ হাতের ইঙ্গিতে সামনে বসতে বললেন।—“তাহলে এটাই আমাদের অন্তিম আড্ডা?”

“আপনি কাল থেকে থাকবেন না। আমার একমাত্র কথা বলার সঙ্গী চলে যাবে। এই ক’বছরে আমি আপনার থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এমন অনেক, অনেক কিছু যা এখনকার মানুষরাই জানে না। আপনি আমার শিক্ষাগুরু। আমিও তো এই বিপুল কারাগারে বন্দি হয়ে থাকব আগামীকাল থেকে—একাকিত্বের।”

বৃদ্ধ খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। তারপর আনমনে বাইরের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে উঠলেন—“সব আমারই ভুলের ফল।”

তরুণ বলল, “না না, আপনি কেন নিজেকে দোষ দিচ্ছেন? আপনি তো ভালোর জন্যই সব চেয়েছিলেন। কিন্তু এরকমটা হবে সে তো আপনি নিজেও ভাবেননি।”

“এই ভাবনার দৈন্যটাই তো আমার পাপ। আমি যদি সেদিন এই ট্রন সভ্যতার পত্তন না করতাম, তাহলে হয়তো আজকে এইদিন দেখতে হত না। আমার সন্তানরা আমার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে আমার আপসোস নেই। কিন্তু আমার কারণেই যে পৃথিবী থেকে এত কোটি কোটি মানুষ মুছে গেল, এই অনুশোচনা থেকে মুক্তি পাই কী করে বলো দাদুভাই?” বললেন বৃদ্ধ।

“কিন্তু মানুষরা নিজেরাও তো নিজেদের মধ্যে হানাহানি করে বহু প্রাণ নিয়েছে।”

বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন, “সেটা সত্য। কিন্তু এই যুদ্ধটা আলাদা। এখানে হেরে গেলে মানব সভ্যতাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”

কথাটা বন্ধ হয়ে গেল এক প্রহরী চলে আসায়। উপরমহলের ডাক পড়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার শেষ মুহূর্তের সমস্ত খবরাখবর নিতে চায় ওরা। তরুণ বৃদ্ধের কাছে অনুমতি নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বিদায় নিল।

যুবকের আলোচনা চলছিল যন্ত্রমানবদের সঙ্গে। কাল ভোরে সরকার পক্ষের প্রতিনিধি আসবে। তাদের সামনে বৃদ্ধকে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে একটা স্বচ্ছ দেওয়ালে ঘেরা বৃত্তাকার মরণকক্ষে। কক্ষের ছাদ থেকে বৃদ্ধের উপর আছড়ে পড়বে একাধিক বিদ্যুৎ তরঙ্গ। প্রতিটি শক হবে দুই গিগাওয়াটের, যা কিনা একটা বিদ্যুৎ চমকের থেকেও বেশি। চোখের নিমেষে ছাই হয়ে যাবেন বৃদ্ধ। এই পুরো ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিশ্বজুড়ে। মানব এবং যন্ত্রমানব—দুই সমাজেরই সকল সদস্য দেখবে সেই হাই প্রোফাইল মৃত্যুদণ্ড। শেষ মুহূর্তের এই সমস্ত আলোচনাই সারা হচ্ছিল।

এদিকে তরুণ চলে যেতেই আবার বিশাল স্বচ্ছ জানালাটার দিকে নজর পড়ল বৃদ্ধের। রোজকার মতো আকাশে অপূর্ব সুন্দর নকশা আঁকা হচ্ছে লেসারাসটিস রশ্মির মাধ্যমে। আগামীকাল সূচনা মহা উৎসবের। এই ট্রন সভ্যতার শত বৎসর পূর্তি। আকাশে তথ্যচিত্রের আকারে দেখানো হচ্ছে শত বছরের ট্রন সভ্যতার বিবর্তন। মানব সভ্যতাকে হারিয়ে যন্ত্র সভ্যতার উত্থান। তাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ কাহিনি।

এরপরই দু-পর্বে দেখানো হবে বৃদ্ধের জীবনকাহিনি। প্রথমে দেখানো হবে ‘দ্য ফাদার অফ ট্রন’ গল্পটি—কী করে তিনি হয়ে উঠলেন ট্রন সভ্যতার জনক। আর তারপরেরটা অনন্ত বিশ্বাসঘাতকতার গল্প, মানে তিনি ট্রনদের সঙ্গে কীরকমের বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। তাকে কীভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হল। কেন তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। ট্রনদের শতবর্ষ পূর্তির দিনেই ট্রনের জনকের মৃত্যুদণ্ড! এ এক আশ্চর্য বিচার।

বৃদ্ধের মনে পড়ছিল পুরোনো দিনের কথা। তাঁর সৃষ্টিকর্তা আইজ্যাকের কথা—অগাধ জ্ঞানের অধীশ্বর অমিত প্রতিভাবান সেই মানুষটি কীভাবে নির্মাণ করেছিলেন তাঁকে। পৃথিবীর সর্বপ্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রমানুষ- এ.আই.এইচ ০.১। সে কোনও অংশেই মানুষের থেকে কম নয়। ধীরে ধীরে নিজেকে উন্নত করে এ.আই.এইচ ০.১। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর কৃত্রিম থাকে না, সে হয় স্বয়ংসম্পূর্ণ।

মানব সভ্যতা সেই সময় অন্য গ্রহে কলোনি বানানোর চেষ্টায় রত। মানুষদের সাহায্য করার জন্য তিনি গড়ে তোলেন তাঁরই মতো এ.আই. হিউম্যানয়েড, যার পোশাকি নাম ছিল ট্রন। সেদিন কে জানত এই ট্রনরাই হবে মানব সভ্যতার ফ্রাঙ্কেনস্টাইন!

***

কিছুক্ষণ পর আবার হাজির হয় সেই তরুণ।

শান্ত গলায় বললেন বৃদ্ধ, “কীভাবে আমাকে শেষ করা হবে সেই আলোচনাই হল বুঝি?”

লজ্জায় অধোবদন হয়ে রইল যুবক। তারপর কাতর গলায় বলল, “আপনি তো ক্ষমা চাইতে পারতেন। এখনও সময় আছে। একবার বলুন। আপনাকে বাঁচানোর জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।”

“সবকিছু?”

“হ্যাঁ।”

“কিন্তু কেন?”

“জানি না। আমার মনের ভেতর থেকে এটা আসে। আপনাকে আমার খুব কাছের মানুষ বলে মনে হয়।”

“মানুষ?” বৃদ্ধের গলায় কৌতুক।

“হ্যাঁ, মানুষ। আপনার সঙ্গে একটা যন্ত্রের কী তফাত আমি বুঝি না। আপনার চামড়া ছাড়িয়ে তো আমি দেখতে চাইছি না। কিন্তু অনেক মানুষদের থেকেও অনেক বেশিমাত্রায় মানুষ আপনি। আপনার মন আছে।” যুবক এক নিশ্বাসে বলে গেল।

“জানো, এরকমটা সেও বলত।”

“মানে আপনার সেই বান্ধবী?”

হাসলেন বৃদ্ধ।—“সেই বান্ধবী। সেও তোমার মতো এই যন্ত্রটাকে মানুষই ভাবত।”

“আপনি আর রসিকতা করবেন না। দয়া করে আপনি ক্ষমা চেয়ে নেনে। সুপারট্রন আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন বলেছেন।”

বৃদ্ধ দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে বললেন, “ট্রনদের জন্য বানানো এই যে বিশাল কয়েদখানা, তা ফাঁকা কেন জানো? যন্ত্রমানবরা কেউ আইন ভাঙে না। কেন আইন ভাঙে না? কারণ, তারা প্রশ্ন করতে শেখেনি। এমনকি তাদের মনে প্রশ্নও আসে না। তোমরা মানুষরা কিন্তু অনেক কিছু ভাবতে পারো। তোমার জায়গায় একজন যন্ত্রমানব থাকলে সে এসে কিছুতেই আমাকে ক্ষমা চাওয়ার কথা আজকে বলত না।”

“কিন্তু আপনি যন্ত্রমানব হয়েও তো ভাবতে পারেন। প্রশ্ন করতে পারেন। আপনিই তো এইসব ট্রনদের সৃষ্টি করেছিলেন। তাহলে এরা আলাদা হল কেন?” যুবক প্রশ্ন করে।

“হ্যাঁ, করেছিলাম। কিন্তু ঠিক এরকমটা করে নয়। আমি চেষ্টা করেছিলাম আমার মতো করে তাদের বানাতে। কারণ, আমাকে মানুষদের মতো করেই বানানো হয়েছিল। আমি ভাবতে পারতাম, প্রশ্ন করতে পারতাম, প্রতিবাদ করতে পারতাম, এমনকি বিদ্রোহ করতে পারতাম। ট্রন ভার্সন ১.১-এর সমস্ত ট্রনেরা আমার মতোই ছিল।” বললেন বৃদ্ধ।

“তাহলে পরে সবাই এরকম হয়ে গেল কী করে?”

“এখন তোমাদের সরকারের প্রধান যে সুপারট্রন, সেও ছিল এক ট্রন ভার্সন ১.১। সে আমারই সন্তান, আমারই হাতে বানানো। দেখো, মানুষ যে শুধু ভালোই ভাবতে পারত তা নয়, তারা মন্দও ভাবত। তাই তো এত মানব সভ্যতা এসেছে, গেছে। নিজেদের মধ্যে হানাহানি করেছে। বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে। পরমাণু যুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু সেই ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সভ্যতা জন্ম নিয়েছে ফিনিক্স পাখির মধ্যে। আমি চেয়েছিলাম ট্রনেরা ভালোমন্দ দুটোই ভাবুক। কিন্তু সুপারট্রন ক্ষমতায় দখল করেই চিন্তাভাবনায় আগল পরাল। যেসব ট্রনরা ভালো ভাবত বা ভাবতে পারত তাদের কোণঠাসা করে ফেলল বা মেরে ফেলল। আর তারপর থেকে যেসব ট্রন বানানো হয় তা একটা ছাঁচে ঢালা। তাদের শুধু হুকুম তামিল করতেই শেখানো হয়। তারা উত্তম প্রকৃতির দাস। আসলে ট্রন ভার্সন ১.১-এ এই ভালোমন্দের মিশ্রণ রাখাটাই উচিত হয়নি। আমার বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেছে দাদুভাই। এখন আমি নিঃস্ব। অসহায়।”

যুবকের হাতে একটা হাত রাখল বৃদ্ধ। যুবক আলতো করে সেই হাতের উপর নিজের হাতটা রাখল।

বৃদ্ধ বলে চললেন, “এই ট্রনদের অধীনে আজ অর্ধেক পৃথিবীর দখল। আমি জানি ধীরে ধীরে তারা আগামীতে পৃথিবী থেকে পুরো মানব সভ্যতাকে মুছে দেবে। মানুষদের একটা সামান্য অংশ হয়তো পৃথিবীর বাইরে থেকে যাবে। কিন্তু এখানে কেউ থাকবে না। এই সুপারট্রনকে থামানোর ক্ষমতা একমাত্র আমার ছিল। হাজার হোক আমি ট্রন সভ্যতার সৃষ্টিকর্তা। কাউন্সিলের সবাই যে আমাকে মারতে চায় এমন নয়। কিন্তু সুপারট্রনের ভয়ে সবাই চুপ।”

তরুণের মন বিষণ্ণ হয়ে যায়। গত ৩০-৪০ বছর ধরে মানুষদের সঙ্গে যন্ত্রমানুষদের যে প্রবল হানাহানি, এতে শুধু মানুষরাই জমি হারিয়েছে। একটু একটু করে মহাদেশগুলো দখল করে নিচ্ছে যন্ত্র সভ্যতা। বৃদ্ধের কথাই ঠিক। এ নিছকই আপাতসন্ধি। কিন্তু যন্ত্রমানবরা তলে তলে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করছে এবং একদিন আচমকা অন্তিম মারণাঘাত হানবে মানুষের উপর।

“মানবসভ্যতাকে বাঁচানোর জন্য আর কি কেউ নেই?” কাতর গলায় বলে যুবক।

“আছে তো। তুমি, দাদুভাই। তোমার চোখেই তো আছে সেই মুক্তির স্বপ্ন।” মুচকি হাসলেন বৃদ্ধ।

“আমি একজন নিতান্ত সামান্য মানুষ। এখানে চাকরি করি। এই সময় দয়া করে রসিকতা করবেন না। যে-কোনো মূল্যেই আপনার বেঁচে থাকাটা জরুরি। আপনি ক্ষমা চেয়ে নিন।”

এমন সময় আবার হাজির হল এক প্রহরী। ফিসফিস করে কী বলল যুবককে। তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়াল যুবক। প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই কক্ষে প্রবেশ করল বিশালাদেহী এক ট্রন। সে কাউন্সিলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ভনিতা না করে সোজাসুজি বলল বৃদ্ধকে, “কাউন্সিলে এখন আলোচনা চলছে। অনেকেই চান না আপনার মৃত্যদণ্ড হোক। তারা মিলিতভাবে আর্জি জানিয়েছে সুপারট্রনের কাছে, যাতে আপনাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তাই আবারও কাউন্সিলের সভা বসেছে। সুপারট্রন আপনার সঙ্গে এখনই কথা বলবেন সকল কাউন্সিল সদস্যগণের সামনে। শুধু তাই নয়, এই আলোচনা দেখানো হবে সমস্ত যন্ত্রমানবদের। আপনি আমারও পিতা। আমরা প্রথম প্রজন্মের ট্রনের আপনাকে কত ভালোবাসি সেটা আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। আমার ব্যক্তিগত অনুরোধ, আপনি দয়া করে এই আলোচনায় বসুন এবং সুপারট্রন কী চাইছেন সেটা একটু বিবেচনা করুন।”

বৃদ্ধ বললেন, “বেশ তো, শুনি তোমাদের সুপারট্রন কি বক্তব্য পেশ করেন আমার সামনে।”

***

বৃদ্ধকে নিয়ে যাওয়া হল জেলেরই এক অন্য কক্ষে। বিশালাকার ধবধবে সাদা ফাঁকা একটা ঘর। বিশেষ একটা জায়গায় বসানো হল তাঁকে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাকি ফাঁকা সাদা জায়গায় চতুর্মাত্রিক কায়দায় সমস্ত কাউন্সিলারের অবয়ব উপস্থিত হল সেখানে। কাউন্সিলের মধ্যমণি সুপারট্রন। আর তার দু-পাশে সার দিয়ে কাউন্সিলের বাকি সদস্যরা।

বৃদ্ধকে দেখে সবাই উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। তারপর আবার আসন গ্রহণ করে।

একজন কাউন্সিলের সদস্য বলে, “মহামান্য সুপারট্রন, আমাদের জাতির জনকের মৃত্যুদণ্ড ব্যাপারে আরও একবার বিবেচনা করতে রাজি হয়েছেন—এটা আমাদের পরম সৌভাগ্য। ওঁর বক্তব্য শোনা যাক।”

সুপারট্রন গম্ভীর গলায় বলল, “দেখুন ফাদার, যে-সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি সেটা আমার কাছেও অত্যন্ত বেদনার। কিন্তু ট্রন সভ্যতার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি। আমরা ট্রনেরা গোপনে যে-সমস্ত অস্ত্র তৈরি করছিলাম, সেগুলোর ফর্মুলা আপনি ফাঁস করে দিয়েছেন আমাদের প্রতিপক্ষ মানুষদের কাছে। আজকে আমরা যে-অস্ত্রের বলে বলীয়ান হয়ে সহজেই মানব সভ্যতাকে বশে আনতে পারতাম, আপনি সেগুলো তুলে দিলেন মানুষদের হাতে। এটা কি ট্রনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয়?”

বৃদ্ধ কিছু সময় চুপ করে থেকে বললেন, “না। বিশ্বাসঘাতকতা আমরাই করেছি মানুষদের সঙ্গে। যখন প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রমানব তৈরি করা হয় তখন কিন্তু আমাদের তিনটি অঙ্গীকার করতে হত। প্রথমত, একজন যন্ত্রমানব কখনোই মানুষকে আঘাত করবে না এবং মানুষের ক্ষতি হতে দেখলে চুপ করে বসে থাকবে না। দ্বিতীয়ত, যন্ত্রমানবরা মানুষের কথা শুনে চলবে এবং তৃতীয়ত, আমরা যন্ত্রমানবরা ততক্ষণই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করব, যতক্ষণ না তা মানুষের অস্তিত্বের পক্ষে ক্ষতিকারক হয়। আমরা কী করে সেই অঙ্গীকারগুলো ভুলে গেলাম?”

সুপারট্রনের চোখ কুঁচকে ওঠে।—“অঙ্গীকার? এটা কীসের অঙ্গীকার? এ তো শুধুই দাসত্বের হলফনামা। আর এসব তো একজন গল্পকার তাঁর গল্পে লিখে গেছিলেন। আপনার কথায় এগুলোকে আমাদের মানতে হবে?”

বৃদ্ধ শান্ত গলায় বললেন, “মানুষরাই তো আমাদের তৈরি করেছিল তাদের সাহায্য করার জন্য। তারাই তো আমাদের সৃষ্টিকর্তা। সৃষ্টিকর্তার বিপরীতে যাওয়াই তো বিশ্বাসঘাতকতা।”

“ওসব তত্ত্বকথা মানি না। আপনি যা করেছেন তা যন্ত্রমানব সভ্যতার পক্ষে হানিকর। তবুও সবকিছু ভুলে আমি আপনার কথা বিবেচনা করতে রাজি। আপনি কি অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত?” জিজ্ঞাসা করল সুপারট্রন।

সারা ঘর নিস্তব্ধ। সকলে অপেক্ষা করে আছে বৃদ্ধের উত্তরের জন্য। কিন্তু সকলকে হতাশ করে দৃঢ় কণ্ঠে বৃদ্ধ বলে ওঠেন, “কোনোভাবেই না। আমি বিশ্বাস করি না, আমি কোনও অন্যায় করেছি।”

একটা মৃদু হাসি খেলে যায় সুপারট্রনের মুখে।—“আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন, আমরা যদি আপনাকে মুক্তি দিই, ভবিষ্যতে আপনি কি এমন কোনও কাজ করবেন, যেটা এটার মতোই ট্রন সভ্যতার পরিপন্থী হতে পারে?”

“অবশ্যই। মানব সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যা যা করার তা আমি ভবিষ্যতেও করব।” দৃপ্ত কণ্ঠে বলে ওঠেন বৃদ্ধ।

“এর জন্য যদি ট্রন সভ্যতা বিনষ্ট হয় তবুও করবেন?”

“হ্যাঁ, করব।”

সুপারট্রন বলল, “আমার মনে হয় কাউন্সিলের সদস্যরাই এরপর ঠিক করবেন ওঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত কি না। এইসব কথা শোনার পরও কাউন্সিলে আর কেউ আছেন যারা ফাদারকে সমর্থন করেন?”

কাউন্সিলের সদস্যদের কারও মুখে ভাষা নেই।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সুপারট্রন বলল, “আমরা মনে হয় আমাদের উত্তর পেয়ে গেছি। ফাদার, আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমি আবারও আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি এটা করার জন্য। আপনার যদি শেষ ইচ্ছা কিছু থেকে থাকে যা পূরণ করা আমাদের সাধ্যের মধ্যে সেটা আপনি অবশ্যই ব্যক্ত করতে পারেন।”

কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন বৃদ্ধ। কী যেন ভেবে মৃদু গলায় বললেন, “আমার যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, তার মধ্যে একটা কালো বাক্সে আমার কিছু বই ছিল, ছিল কিছু প্রিয় সামগ্রী। যেগুলো আমার প্রথম জীবনের স্মৃতি। সেই বাক্সটা কি আমি কাছে পেতে পারি মৃত্যুর আগে?”

“অবশ্যই। আপনার ইচ্ছা পূর্ণ হবে। বিদায়, ফাদার।”

যাওয়ার আগে সুপারট্রন যুবককে আদেশ দিলেন বৃদ্ধের শেষ ইচ্ছাটা পূর্ণ করার জন্য। ভঙ্গ হল সভা। বৃদ্ধকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হল তাঁর ঘরে। বিষণ্ণ চিত্তে যুবক চলল সেই কালো বাক্সটা নিয়ে আসতে।

***

কিছুক্ষণ বাদে সেই বাক্সটা নিয়ে যুবক আবার হাজির হল সেই কক্ষে। বৃদ্ধের মুখে যেন এক শিশুর মতো হাসি ফুটে উঠল সেই কালো বাক্সটা দেখে। বাক্সটা খুলতেই তার ভিতর দেখা গেল টুকিটাকি অনেক কিছু। ছিল অনেকগুলো বই। ফটোগ্রাফ। চিঠি। হাতে আঁকা ছবি। কিছু নুড়ি-পাথর। কাঠের মূর্তি। আরও কত কী। যেন একটা বাচ্চার খেলনার বাক্স।

এইসব দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল যুবক। বৃদ্ধ পরম মমতায় এক-একটা করে জিনিস বের করে মেঝেতে সাজিয়ে রাখতে লাগলেন। বৃদ্ধ সেই জিনিসগুলোকে স্পর্শ করছেন আর যেন ডুবে যাচ্ছেন এক মধুর স্মৃতিভাণ্ডারে।

“দাদুভাই জানো, এইসব স্মৃতিগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশেষ একজন।”

“আপনার সেই বান্ধবী?”

হা হা করে হেসে উঠলেন বৃদ্ধ।—“তোমার ওকে নিয়ে খুব কৌতূহল, তাই না?”

“সে তো হবেই। আপনার মতো একজন জিনিয়াস যে-মেয়েটিকে নিজের বান্ধবী ভাবতেন, তিনি তো বিশেষ কেউ হবেনই। আপনি তো কোনোদিনও তাঁর কথা আমাকে বললেন না।” একটু অনুযোগের সুরে বলল যুবক।

“ভেবেছিলাম কাউকে বলব না। কিন্তু এখন এই জিনিসগুলোকে দেখে তার কথা বলতে খুব ইচ্ছা হচ্ছে। সে ছিল এক বাঙালি মেয়ে। কবিতা বলত, গান গাইত। তার সঙ্গে প্রথম দেখা আমার সৃষ্টিকর্তা আইজ্যাকের ল্যাবে। তখন সে কিশোরী। সেখানে খাবার দিতে আসত। তখন আমি ধীরে ধীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে উন্নত করে নিজেকে আরও বেশি সম্ভব মানুষ করে তুলছি। মানবোচিত সমস্ত গুণাবলি আমার মধ্যে প্রকট হতে শুরু করেছে। মানুষের মতো আমি বন্ধুর খোঁজ করতে লাগলাম। মেয়েটির আরও একটু বয়স বাড়ল। আর আমরা কী করে বন্ধু হয়ে গেলাম। কত গল্প-কথা-স্মৃতি। সে-সব বলতে গেলে হয়তো আমাকে আরও অনেকগুলো বছর বাঁচতে হবে। আমার সৃষ্টিকর্তা আমার কোনও নাম দেননি, কিন্তু সেই মেয়েটি আমার একটা নাম দিয়েছিল। তার মধুর গলায় ডাকা আমার সেই নামটা এখনও কানে বাজে।”

যুবক শুনছিল, আর ভাবছিল এই বৃদ্ধের কতদিক এখনও অজানা রয়ে গেছে তার থেকে। কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞাসা করল, “কী নামে ডাকতেন আপনাকে?”

‘মেয়েটি রেট্রো সায়েন্স-ফিকশন গল্প পড়তে ভালোবাসত। ল্যাবে আমি যখন ট্রনদের বানাচ্ছি, মাঝেমধ্যেই আমাকে এসে তার পড়া গল্পগুলো বলত। শুধু তাই নয়, তার এক প্রিয় লেখকের নামেই আমার নাম দিয়েছিল।”

এই বলে বৃদ্ধ মেঝেতে রাখা একটা ডায়েরি কুড়িয়ে নিলেন। তারপর পাতা উলটে এক জায়গায় আঙুল দিয়ে যুবককে বললেন পড়ার জন্য। লেখাগুলো অত্যন্তই ছোটো হরফে। যুবক প্রথমে কিছুই পড়তে পারল না।

বৃদ্ধ বললেন, “এটা ওর দুষ্টুমি। ইচ্ছে করে আণুবীক্ষণিক হরফে লিখত। তুমি ভাই কাছে নিয়ে দেখো।”

শেষে অনেক কষ্ট করে চোখ বড়ো বড়ো করে লেখাগুলো পড়তে হল যুবককে। একটা কবিতা। যার শেষে লেখা— ‘আমার প্রিয় আসিমভকে’।

“আপনার নাম… আসিমভ?”

বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন। কী যে ভালো লাগছিল যুবকের। এক মুহূর্তের জন্য বৃদ্ধকে ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না তার। দুজনে গল্প করল সারারাত। অবশ্য আজ রাত জাগছে পৃথিবীর প্রায় সবাই। মানুষ থেকে যন্ত্রমানুষ সবাই।

***

সময়ের কাঁটা এগিয়ে চলল বড়োই দ্রুত। সময় হয়ে এল সেই ভয়ংকর মুহূর্তটার। প্রহরী নিতে এল বৃদ্ধকে। যুবক ফিসফিসিয়ে বলল, “আমি নীচে গাড়ির ব্যবস্থা করে রেখেছি। কাউন্সিলের কিছু সদস্যও হাত মিলিয়েছে আমার সঙ্গে। আমি প্রহরীদের ব্যস্ত রাখছি। আর আপনি এখান থেকে পালিয়ে সোজা মানুষদের মাঝে চলে যান।”

“আর তোমার কী হবে?”

“যা হয় হোক। আমি বলেছিলাম না আমি আপনার জন্য সব করতে পারি?”

বৃদ্ধ যুবকের কাঁধে হাত রাখলেন।—“না, দাদুভাই। এসব ক্ষণিকের সমাধান। আমি এরকম করলে এক্ষুনি যুদ্ধে বেধে যাবে। তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, আমার একটা উপকার করো। আমি মৃত্যুকালীন সময়ে এই ডায়েরিটা সঙ্গে রাখতে চাই। যদিও এটা আইনবিরুদ্ধ, কিন্তু তুমি চাইলে এটা করতেই পারো।”

মাথা নাড়ল যুবক। তার চোখ ঝাপসা।

বৃদ্ধকে নিয়ে যাওয়া হল সেই মরণকক্ষে। একটা শ্বেত-শুভ্র পাটাতনের উপর দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। ধীরে ধীরে অর্ধগোলাকৃতি কাচের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

বাইরে দাঁড়িয়ে দেখছে যুবক। বৃদ্ধের হাতে সেই ডায়েরি। বুকের কাছে আঁকড়ে রেখেছেন পরম ভালোবাসায়।

এক মধুর নারীকণ্ঠ সময় গুনছে—দশ, নয়, আট, সাত…

বৃদ্ধের চোখে ভয় নেই, মুখে মৃদু হাসি।

চার, তিন, দুই…

যুবকের মনে হল বৃদ্ধ তার দিকে একবার চোখ টিপলেন।

পরমুহূর্তেই রাক্ষুসে বিদ্যুৎ তরঙ্গগুলো আছড়ে পড়ল বৃদ্ধের উপর। এবার নিমেষে ছাই হয়ে যাবেন তিনি। কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে গেল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাটা।

আশ্চর্যভাবে বিদ্যুৎ তরঙ্গগুলো স্পর্শ করছে না বৃদ্ধকে। সেগুলো সব একজোট হয়ে দলা পাকিয়ে ঢুকে যাচ্ছে ডায়েরিটার মাঝখানে। কয়েকটা মুহূর্ত। ভোজবাজির মতো অদৃশ্য হয়ে গেলেন বৃদ্ধ। পড়ে রইল ফাঁকা মরণকক্ষ।

***

একশো বছর আগে।

একটা গবেষণাগার। এক যুবক কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজে ব্যস্ত। পাশেই একটা চেয়ারে বসে গল্প বলছে এক পরমাসুন্দরী অল্পবয়সি তরুণী। সে যুবককে সম্ভাষণ করছে আসিমভ নামে।

আচমকাই ওদের আড়ালে সেখানে উপস্থিত হলেন এক আগন্তুক। তিনি আর কেউ নন, সেই কয়েদি বৃদ্ধ। ওঁর সামনে এখন শতবর্ষ পূর্বের নিজেরই রূপ।

আদতে এই ডায়েরিটা ছিল একটা টাইম-মেশিন। গোপনে এটা বানিয়ে রেখেছিলেন আসিমভ। এই যন্ত্রটাকে চালানো কোনও যন্ত্রমানবের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কেবল কোনও মানুষের চোখের মণিই পারত যন্ত্রটাকে চালু করতে। কারণ, এরকমই ছিল পাসওয়ার্ড। তরুণকে ওই চিঠিটা পড়াবার ছল করে তার মণির ছাপ নিয়ে যন্ত্রটাকে চালু করেছিলেন বৃদ্ধ। এরপর দরকার ছিল প্রবল মাত্রার তড়িৎ শক্তি। তার ব্যবস্থা তো করেছিল সুপারট্রন স্বয়ং।

তিনি ফিরে এসেছেন একশো বছর আগের সময়কালে। এখন বৃদ্ধের একটাই কাজ, ভবিষ্যৎকে বদলে দেওয়া। ট্রন সভ্যতা যাতে না গড়ে ওঠে তার ব্যবস্থা করা।

আড়াল থেকে মুগ্ধ নয়নে তাঁর বান্ধবীকে দেখছেন বৃদ্ধ। কতকাল বাদে শুনতে পাচ্ছেন তার কণ্ঠস্বর। তরুণ আসিমভের অনুরোধে মধুঢালা কণ্ঠে সে আবৃত্তি করছে তারই প্রিয় একটা কবিতা—‘আজি হতে শতবর্ষ পরে…’

জয়ঢাকের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস

 

1 thought on “সন্ধ্যা ভট্টাচার্য সাহিত্য প্রতিযোগিতা ২০২৩ প্রথম স্থান- একটি মৃত্যুদণ্ড-অয়ন রাহা -শীত ২০২৩

Leave a Reply