এই লেখকের ধারাবাহিক লেখা- আজটেকদের দেশে

তোমরা নিশ্চয়ই জানো, অনেক হাজার বছর আগে, এই পৃথিবী ভর্তি ছিল, নানা ফুলপরী, বামন, লালপরী, নীল পরী এই সব মজার জিনিসে। এ ছাড়া সব পশুপাখিই মানুষের মত কথা বলত। হয়তো অনেকে আজকের মানুষের চেয়েও ভাল কথা বলত। প্রত্যেকটা ফুলেই একটা ফুলপরীও থাকত, যারা গান গাইত, নাচত। ঘাসের মাথায় মাথায় নেচে বেড়াত বামনেরা।
তখন তো আর কোন শহর, নগর, রাস্তা ঘাট, বাড়ি ঘর রেল, কলকারখানা ইত্যাদি কিছুই ছিল না। কাজেই সব কিছু ছিল নিস্তব্ধ, শান্ত। সব জন্তু জানোয়ার জঙ্গলে খুব আনন্দেই থাকত। তখন তো, আসলে ওই পরীরা নিজেদের আনন্দের জন্য জীবজন্তুকে মারত না। ফুলেরাও খুব আনন্দে গন্ধ ছড়িয়ে ফুটত। তাদের তো আর কেউ ছিঁড়ত না।
সেই সমস্ত সুন্দর দিনে, জঙ্গলের মাঝে এক জায়গায় ছিল একটি সুন্দর লেক। তার চারধারে ভর্তি ছিল, অনেক পদ্ম, শালুক আর নানাধরণের ফুল পাতা দিয়ে। এই দীঘিটা এতই পরিষ্কার আর স্বচ্ছ ছিল যে, আশেপাশে যত ফুলপরী লালপরীরা থাকত আর খেলে বেড়াত, তারা প্রতিদিন সকালে এখানে এসে পদ্মের উপর, শালুকের উপর বসত। পরিষ্কার আয়নার মত জলে পড়ত তাদের ছায়া। তারা প্রাণভরে তা দেখত।
জলে যে সমস্ত সোনালি মাছেরা খেলে বেড়াত, তারা সেই ছবি দেখে রায় দিত, কে কত সুন্দর। আর এটি শোনার জন্য সব পরীরা উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করত। রায় শুনে তারা হৈ হৈ করত। তা দেখে সোনালি মাছেরা মজা করে জলে আলোড়ন তুলত।
এই রকম একদিন এসেছিল সুন্দরী পরী রাজকুমারী নার্সিসা। সে তার সোনালি চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে মিষ্টি গলায় বলল, “সোনালি মাছ, সোনালি মাছ, বলতো কে হল সেরা সুন্দরী?”
সব সমস্ত মাছেরা এবং আশপাশের প্রকৃতি বলে উঠল, “এই বিশাল আকাশের নীচে, নার্সিসাই সেরা সুন্দরী।”
এই কথা শুনে সে রোজ মাথা উঁচু করে গর্বিত ভাবে বাড়ি ফিরত। আশে পাশের ছোটো ছোটো পাখিরা, তার প্রশংসা করত, ছোটো ব্যাং আর খরগোশ এবং বামনেরাও তার এত প্রশংসা করত, যেন সেই বনের রানি।
কিন্তু বার বার এই কথা শুনতে শুনতে তার মনে একটি খারাপ ফল ফলল। সে এইসব শুনতে শুনতে সে উদ্ধত আর আত্মাভিমানী এবং গর্বিত হয়ে পড়ল। ফলে তার বাবা মাও মেয়ের এই অহংকার দেখে খুব অসুখী হয়ে পড়ল।
সে সকালে দুপুরে কিংবা রাতে বেরিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শালুক ফুলের পাপড়ির উপর বসে জলে নিজের ছায়া দেখত। আর শুনত, হাওয়া, জলের ঢেউ, ফুল, পশু পাখি সবার মুখে তার সৌন্দর্যের প্রশংসা।
একদিন, তার বেচারি মা, একা তার নলখাগড়ার জঙ্গলের প্রাসাদে বসে তাকিয়েছিল সেইদিকে, তার মেয়ে যেখানে গিয়ে বসে থাকে। হঠাৎ তার চোখে পড়ল এক ঝাঁক ফুল, যাদের নাম ‘আমাকে ভুলো না।’ তাদের এত সুন্দর নরম রঙ, বিনয়ী মিষ্টি চেহারা দেখে তার মনে হল, এবং দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে ভাবল, আমার যদি এ রকম আরও একটি নীল চোখের বিনয়ী, মিষ্টি মেয়ে থাকত, খুব ভাল লাগত।
এই দুঃখিনী মায়ের এই দুঃখের কথা আর ইচ্ছার কথা জেনেছিল পরীদের রানি। সে তখন তাকে একটি সুন্দর ছোট্ট মেয়ে উপহার দিল, যার একমাথা কোঁকড়া সোনালি চুল এবং সুন্দর দুটি ঊজ্বল নীল চোখ রয়েছে। তার এই রূপ দেখে তার বাবা মা নাম দিল সেই ফুলের নামে ‘আমাকে ভুলো না।’
আত্মাভিমানী নার্সিসা কিন্তু ছোটো বোনের ব্যাপারে বিশেষ কোন আগ্রহই দেখাল না। সে নিজের রূপ, গয়না জামাকাপড় নিয়েই ব্যস্ত থাকত। সে হিংসায় বোনকে নানারকম ভাবে উত্যক্ত করতে চাইত, তাকে নানা রকম কাজ করতে বলত চাকরের মত। কিন্তু বোন তার সুন্দরী দিদির জন্য খুশি মনে যা সম্ভব তাই করত।
সময় দ্রুত কেটে যায়। যত দিন যায় ‘আমাকে ভুলো না’(আভুনা) বড়ো হতে থাকে। সেই সঙ্গে সে আরও সুন্দরী ও মিষ্টি স্বভাবের হতে থাকে। তার চুল হয় লম্বা সোনালি ও চকচকে, তার ত্বক একেবারে পরীদের চেয়েও সুন্দর, চোখ গুলো আরও গভীর এবং নীল সেই ফুলের মত। তার মা বাবা উভয়েই এখন মেয়ে নিয়ে খুব খুশি।
সকাল হতেই নার্সিসা যখন তার স্তাবকের দলের সঙ্গে সেই দীঘির ধারে যায় আর নিজের প্রশংসা শুনতে থাকে, তখন বোনটি মায়ের সঙ্গে সেলাই বোনা বা সংসারের নানা কাজে সাহায্য করে, বাবার সঙ্গে হাসি মজা গল্প করে।
একদিন যখন ছোটো মেয়ে,আভুনা বাবার বাগানে খেলছিল, সে দেখল একটা সুন্দর প্রজাপতি ঘাসের উপর বসে আছে। সে পা টিপে টিপে তার কাছে এল আরও ভাল করে দেখার জন্য। তখনই প্রজাপতিটা উড়ে গেল বাগানের আর এক দিকে। সে কখনও এত সুন্দর ছবির মত একটা জীব দেখে নি। সে যখন আবার তার কাছে এল, প্রজাপতিটা আবার উড়ে গেল অন্য দিকে। এইভাবে সে সারাক্ষণ প্রজাপতির পিছনে ছোটাছুটি করতে লাগল। শেষে সে পৌঁছে গেল দীঘির ধারে আর পদ্মপাতায় যেখানে প্রজাপতি বসে আছে। কিন্তু সে ঝুঁকে পড়ে দেখতে গিয়ে দেখল টলটলে জলে খেলে বেড়াচ্ছে সুন্দর সোনালি মাছের দল এবং আরও কত সুন্দর মাছেরা যাদের সে জীবনে কখনও দেখে নি। তারা ঝুঁকে পড়া ‘আমাকে ভুলো না’-কে দেখে সুন্দর সুরে সবাই মিলে গান গেয়ে উঠল,
এমন সুন্দর মেয়ে আভুনা
এমন সুন্দর মেয়ে আভুনা
সবার চেয়ে সুন্দর
এই সব দেখে সে কী করবে ভুলেই গেল। শেষে একটা সোনালি মাছ তার কাছে এসে বলল, তুমি কি আমাকে সুযোগ দেবে তোমাকে পিঠে নিয়ে ঘোরার। আমি খুব খুশি হব তাহলে।
সে তখন এক লাফে তার পিঠে উঠল। কিন্তু এই ধরণের বাহনে চেপে, এই আতিথেয়তায়, এত ভালবাসায় সে একেবারে আশ্চর্য হয়ে গেল, কারণ তার কাছে এটা সম্পূর্ণ নতুন ব্যাপার।
সে যখন পাড়ে পৌঁছাল,এতই আশ্চর্য হয়ে গেল যে, সোনালি মাছ এবং অন্যান্য মাছেদের ধন্যবাদ দিতেও ভুলে গেল। তার বদলে নেমে, ছোট্ট ছোট্ট পায়ে দৌড়ে মায়ের কাছে চলে গেল। ওদিকে মা- ও অনেকক্ষণ চিন্তা করছিল। সে তো চিন্তায় পড়ল, নার্সিসা যদি বোনের এই সব কথা, শোনে নিশ্চয়ই কিছু ক্ষতি করতে পারে।
পরদিন নার্সিসা নিজেকে আরও বেশি সুন্দর করে সাজাল, কারণ সে এখনও নিজের রূপের প্রশংসা শুনতে খুবই ভালবাসত। তারপর সে মায়ের বাগান ছাড়িয়ে হাঁটা দিল দীঘির দিকে। অন্যদিন কাঠবিড়ালিরাও তার গুণগান করতে করতে তার সঙ্গে এগোত। আজ কি হল,কেউ নেই কেন! অবশ্য তাদের একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তারা যেন আরও কোন সুন্দরীকে নিয়ে আলোচনা করছে। এটা তো সত্যিই আশ্চর্যের যে, নার্সিসা এত সুন্দর সেজেছে, তার এত সুন্দর মসৃণ ত্বক, এত সুন্দর সোনালি চুল, এত সুন্দর নীল চোখ, তবু তারা অন্য কিছু বিষয় পেয়েছে আলোচনার।
সে দৌড়ে গিয়ে পদ্মপাতার উপর উঠে বসল, জলের দিকে তাকাল। কিন্তু কি আশ্চর্য, অন্য দিন এতক্ষণে সোনালি মাছের দল ও অন্যান্য নানা রকমের মাছেরা তার গুণগান আর প্রশংসায় তার চারিদিক মুখর করে তুলত, আজ তারা সবাই চুপচাপ। সে হতাশ হল। বরং সে দেখল, সবাই নিজেদের মধ্যে অন্য কিছু নিয়ে ফিসফাস আলোচনা করছে।
সে তখন মিষ্টি সুরে গান করে জিজ্ঞাসা করল,
সোনালি মাছ বলতো, সবচেয়ে সুন্দরী কে তোমার চোখে-
তার উত্তরে, সে আশ্চর্য হয়ে শুনল,
হ্যাঁ, আভুনা হল সেরা সুন্দরী, যে তোমার থেকেও সুন্দরী।
নার্সিসা যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে তখন রেগে আগুন হয়ে পাথর ছুঁড়ে তাদের মারতে গেল। জলে ঢেউ উঠল। মাছেরা গভীর জলে ডুব দিল আর গান গাইতে লাগল,
আভুনা, সুন্দরী আভুনা
সে রেগে আগুন হয়ে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দৌড়াল। যাওয়ার সময় সে শুনল, রাস্তার ব্যাঙেরা গাইছে
ছোট্ট আভুনা, নীল চোখের আভুনা,
সেই সেরা সুন্দরী এই পরী রাজ্যে
একই গান গাইছে, রাস্তার কাঠবিড়ালি, গাছের পাখি… তার সব রোজকার বন্ধুরা।
সে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে দেখে আভুনা মাকড়সার জাল দিয়ে একটা পোশাক বানাচ্ছে। দেখে রেগে তার হাত ধরে বলল, “ওটা রাখো আর আমার সঙ্গে এসো।”
আভুনা তো দিদির সব কথা, বিনা বাক্যব্যয়ে করতেই অভ্যস্ত। কাজেই সে ভয়ে ভয়েই চলে এল দিদির কাছে।
নার্সিসা তাকে নিয়ে এল একটা পুরানো শুকনো কুয়োর কাছে, যেটির গভীরতা পৃথিবীর মাঝখান পর্যন্ত। বলল, “আমার তাঁত বোনার মাকুটা এর মধ্যে পড়ে গেছে। ওটা না পেলে আমার কাপড় বোনার অসুবিধা। তুমি যাও ওটা খুঁজে আনো।”
বোন বলল, “কিন্তু মা বলেছে, এর কোন তলই নেই এত গভীর। কাজেই আমি কোথায় খুঁজব তোমার মাকু?”
“তুমি যদি না যাও, আমি তোমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেব। জানো তো, আমার গায়ের জোর বেশি,” রাগ দেখিয়ে নার্সিসা বলল।
বেচারি আভুনা কী আর করে, তাকে তার দুষ্টু দিদির হাত থেকে বাঁচানোরও কেউ নেই। সে তখন কুয়োর পাড়ে মায়ের কথা চিন্তা করছিল, এই সময় দুষ্টু দিদি তাকে এক ধাক্কা মেরে ফেলে দিল কুয়োর মধ্যে।
সে পড়ছে পড়ছে, অন্ধকার গর্তের মধ্যে ঘন অন্ধকারে সে জ্ঞান হারাল। সে যেন অন্ধকারে দেখল তার দিদির ভয়ংকর ক্রুর হাসি মুখ তার সামনে।
আভুনা পড়ছে পড়ছে, অন্ধকার ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। হঠাৎ একটি তীব্র আলোর রেখা ক্রমশ এগিয়ে এল। সে চোখ খুলল। দেখল কী সুন্দর এক আশ্চর্য জায়গায় সে এসে পড়েছে। সেখানে গাছপালাগুলো অদ্ভুত আকৃতির। সব ফুল পাতাগুলোও সুন্দর। তারা যেন তাকে জড়িয়ে ধরছে। এরকম জায়গাতে সে কিন্তু ভয় পেল না একদম।
সে এখানে বড়ো একা বোধ করতে লাগল, তার মায়ের কথা মনে হতে লাগল। আর সে ভাবতে লাগল,এখানে তাকে এমন কেউ নেই যে, হাত ধরে মায়ের কাছে নিয়ে যাবে।
হঠাৎ সে শুনতে পেল, একটা তীক্ষ্ণ আওয়াজে কেউ তার নাম ধরে ডাকছে।
সে আশ্চর্য হয়ে দেখল, একটা অদ্ভুত দর্শন বুড়ি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে এত খাঁজ পড়েছে, যে চোখটাও দেখা যাচ্ছে না। মুখটা যেন একটা বড়ো কেমন ঝুলে পড়েছে আর নাকটা কেমন হুকের মত উঁচু।
এ সব দেখে সে তো ভয়ই পেয়ে গেল। তার মাথাটা বিশাল বড়ো, এবং সমস্ত শরীরটা বয়সের জন্য ঝুঁকে পড়েছে। তার হাত পা গুলো সরু সরু আর লম্বা, যাতে রয়েছে লম্বা লম্বা পাখির মত নখ। হাতে রয়েছে একটি বাঁকা লাঠি। এমনভাবে তাকিয়ে রয়েছে যেন একটা বুড়ো বাজ পাখি একটা চড়ুইয়ের দিকে চেয়ে রয়েছে।
বুড়ি জিজ্ঞাসা করল, “আভুনা, কাঁদছ কেন?”
সে ভয়ে উত্তরই দিতে পারল না। শুধু বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে রইল। শেষে বলল, “আমি এখানে ভীষণ একা। আমার দিদি আমাকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে। আমি অনেক গভীরে পড়ে গেলাম। আমি কোথায় এসেছি জানিই না। আমার মা নিশ্চয়ই খুব কাঁদছে আর খুব খুঁজছে আমাকে। আমি তো কোন রাস্তায় এসেছি, জানিই না, কাজেই ফিরে যেতেও পারব না একা একা। তুমি যদি পরী হও, আমাকে আমার মায়ের কাছে রেখে এস, আমি সব করে দেব, তুমি যা চাইবে।”
বুড়ি বলল, “আমি তো দেখছি তুমি আমার কোন কাজেই আসবে না। তাহলে শুধু শুধু তোমার জন্য আর মাথা ঘামাব কেন!”
“কিন্তু আমি তোমার জন্য সুতো কাটতে পারি, সেলাই করতে পারি,আমি খুব মজার খাবার বানাতে পারি, তোমার চুল আঁচড়ে দিতে পারি, ঘর মুছতে পারি।” বলল আভুনা।
“হুঁ, আমার অবশ্য একজন সব সময় কাজের লোকের খুব দরকার ছিল। তা, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, তুমি খুব কাজের। পারবে হয়তো। যদি তুমি আমার সব কাজ করতে রাজি থাকো আর আমার সঙ্গে যেতে পারো, তাহলে ভেবে দেখতে পারি, তোমার জন্য কী করতে পারি।”
“কিন্তু তা কী করে হবে? আমার মা আর বন্ধুরা আমার জন্য কাঁদছে আর আমি এখানে তোমার কাছে আটকা পড়ে থাকলে কী করে চলবে?”
“তাহলে তুমি থাকো। আমি তো বলেইছি, কী করলে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।”
“তা যদি না করতে চাও, থাক একলা। আমি চললাম, অনেক কাজ আছে আমার। তোমার সঙ্গে বকবক করে লাভ নেই। তবে যদি তুমি মত বদলে রাজি হও, হাতে তিনবার তালি দিও৷ আমি এসে হাজির হব।” এই বলে সে একটা বিদঘুটে হাসি হেসে তাকে ফেলে রেখে চলে গেল। আভুনা দেখল, এত বড়ো জায়গায় সে একেবারে একা, নিঃসঙ্গ।
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে রাত নামতে লাগল যেন তাড়াতাড়ি। অন্ধকার হয়ে এল। চারিদিকে বিদঘুটে সব আওয়াজ হতে লাগল। জ্বলজ্বলে ভাঁটার মত চোখগুলো তার দিকে যেন এগিয়ে আসতে লাগল। চাঁদটা এক অদ্ভুত রহস্যের মায়াবী জ্যোৎস্না ছড়াতে লাগল চারিদিকে, গেছোভূত আর ঘেসোভূতরা এগোতে লাগল লাফাতে লাফাতে।
আভুনা ভাবল, আমাকে যদি এভাবে রাত কাটাতে হয় আমি ভয়েই মরে যাব। এখন যদি মা ওর কান্না শুনে এগিয়ে আসে, নিদেন যদি ওই বিটকেল পরী বুড়িটাও আসে, তবেই একটু বাঁচোয়া। অন্তত যা হোক কিছু হলে, সেটাই এই অবস্থার থেকে ভাল। বাধ্য হয়ে সে তখন ছোট্ট ছোট্ট হাতে তিনটে তালি দিল। সঙ্গে সঙ্গে সেই বুড়ি গায়ে ছেঁড়া সবুজ কম্বল জড়িয়ে, লাঠির উপর ভর দিয়ে এসে হাজির হল।
তাকে দেখেই আভুনা বলে উঠল, “আমাকে এখান থেকে নিয়ে চল। তুমি যা বলবে, সব করে দেব। আমি যদি এখানে থাকি ভয়েই মরে যাব।”
বুড়ি বলল, খুব ভালো। তুমি আমার সঙ্গে আমার প্রাসাদে চল। আর কিন্তু মনে রেখ, এর বদলে তুমি আমাকে সুতো কাটতে, সেলাই করতে, রান্না করতে আর ঘরের কাজে সাহায্য করবে। আমিও অবশ্য তোমাকে সাহায্য করব।”
“আচ্ছা, তাহলে আমার মাকে জানিয়ে দিও যে, আমি ভাল আছি আর খুব শীঘ্র তার কাছে ফিরে যাব।”
সেই শুনে বুড়ি তার লাঠিটা মাথায় তিনবার ঘোরাল। অমনি কোথা থেকে একটা বড়ো ব্যাঙ হাজির হল আর বলল, “কী আদেশ?”
বুড়ি বলল, “তোমার যা বলার একে বলে দাও। ও ঠিক তোমার মায়ের কাছে সব খবর পৌঁছে দেবে সকালের মধ্যেই।”
“ব্যাঙ ভাই, তুমি আমার মাকে বোলো, আমার দিদি আমাকে ঠেলে কুয়োয় ফেলে দিয়েছে। কিন্তু আমি বেঁচে আছি আর ভালো আছি। একটা ভালো পরীর কাছে আমি আছি তার কাজ করে দেওয়ার জন্য। যতদিন না সে ছাড়ে ততদিন এখানে থাকব।”
গ্যাঙর গ্যাঙ বলে ব্যাঙ চলে গেল।
বুড়ি বলল, “চলো এক্ষুনি আমার বাড়িতে গিয়ে রাতের বিছানা করে দাও। আমার ছেলে অপেক্ষা করছে। তুমি তার সমস্ত ব্যবস্থা করে দাও।”
তখন বুড়ি আবার লাঠি ঘোরাল মাথার উপর। অমনি দুটো কালো বাদুড় হাতে দুটো ঝাঁটা নিয়ে হাজির হল। বুড়ি একটার উপর চড়ে বসল, আর আভুনাকে বলল অন্যটার উপর বসতে।
যখন অনেক উপরে উড়তে লাগল, আভুনা-র খুব ভয় করতে লাগল কারণ এরকম ঝাঁটার উপর ওড়ার কোন অভিজ্ঞতা তো নেই। শেষে তারা নামল একটা সুন্দর প্রাসাদের সামনে যেটা পুরো কাচের তৈরি। তার সোনালি থাম আর স্ফটিকের চূড়া ঝকঝক করছে। কিন্তু কোন জনমনুষ্যও নেই, সেই প্রাসাদে কিংবা আশেপাশের মাঠেও। তার চারিদিকে বিশাল বিশাল ভূতুড়ে গাছ আর বড়ো বড়ো সুগন্ধী ফুলের বাগান রয়েছে। আভুনা ভাবল, যার এত বড়ো সুন্দর প্রাসাদ রয়েছে, সে ওরকম ছেঁড়াখোঁড়া পোশাাকে রয়েছে কেন!
প্রাসাদের সামনে নামতেই, সে বুড়িকে হাত ধরে নামাল। আর তখনই হলঘরের ভিতর ঢুকে সে দেখল, সেখানে বিশাল ভোজের ব্যবস্থা করা রয়েছে। সোনা রূপার থালায় দামি দামি ফল, ভাল ভাল খাবার, হিরের গ্লাসে ভালো পানীয় সব সুন্দর সাজানো আছে। আর তার সামনে বসে আছে ভীষণ সুন্দর এক রাজপুত্র। তার দিকে তাকিয়ে চোখ ফেরানো যায় না। আভুনা তো এত সুন্দর কাউকে দেখেইনি। কিন্তু তার চোখ আর মুখে ভীষণ দুঃখের ছাপ।
বুড়ি বলল, “ওটাই আমার ছেলে। আমি ওর ব্যাপারে খুবই গর্বিত, কেন না, ওই হচ্ছে এই পরীরাজ্যে সব চেয়ে সুন্দর ছেলে। কিন্তু আমি ওর বিয়ে দিতে চাই না, কারণ বিয়ে দিলেই ও আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। সেজন্য আমি কোন প্রাণীকেই কাছে আসতে দিই না। তারা এলেই ওর মাথায় সব বিয়ে এবং ভালবাসা বা তার সম্বন্ধে মিষ্টি মিষ্টি কথা ঢোকাবে। যেমন, পাখিকে আসতে দিই না। তারা এলেই মিষ্টি গান শোনাবে, ভালবাসার কথা বলবে। আমার বাড়িতেও কোন ঝি চাকর রাখি নি। তার ফলে কি হয়েছে, আমার সুতো কাটার কিংবা সেলাই করার কোন লোক নেই। আমি কেবলমাত্র কিছু শুকনো ফল খাই আর এই ছেঁড়া কম্বল গায়ে দিই। সেই জন্য আমার ঘরের পাশে শুধু বাদুড় চামচিকে আর ব্যাঙেদের দেখতে পাবে। এ ছাড়া কোন সুন্দর জিনিস দেখার কোন সুযোগ আমি রাখিনি। আমার একটা পুরানো বাদুড়ের চামড়া আছে। তুমি সেটা গায়ে দিয়ে সারাক্ষণ কাজ করবে আর আমার ছেলে মাঝরাত্রে যে তিন ঘণ্টা ঘুমোয় তখন তুমি সেই চামড়া খুলে থাকতে পারো।”
আভুনার মোটেই এই বুদ্ধি ভালো লাগল না। সব চেয়ে বড়ো কথা ওরকম একটা বিচ্ছিরি বাদুড়ের চামড়া পরে সারাদিন থাকা, ভেবেই গা ঘিন ঘিন করতে লাগল। কিন্তু তার কোন উপায় নেই। বুড়ির কথা শুনতেই হবে। বুড়ি থপথপ করতে করতে নীচে গিয়ে তার জন্য বাদুড়ের চামড়াটা নিয়ে এল। চামড়া পরে আভুনাকে এমনই দেখতে লাগছিল যে, তার মা- ই হয়তো তার নীল চোখের সুন্দরী মেয়েকে চিনতে পারবে না। বুড়ি তাকে বলল, “এবার তুমি তোমার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ো।” সে গিয়ে উপরের তলায় একটি পরিষ্কার খড়ের বিছানায় শুয়ে পড়ল। সে এতই ক্লান্ত ছিল যে, সঙ্গে সঙ্গে গভীর ঘুমের মধ্যে হারিয়ে গেল।
পরদিন সকালে সে উঠে তাড়াতাড়ি বাদুড়ের পোশাকটা পরে নিল। সারাদিন সে প্রাতরাশ বানাল, রান্না করল, সুতো কাটল, কাপড় বুনল। সে খাবার জায়গায় সেই রাজপুত্রকে দেখে, তার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। আহা বেচারি, ছেলেটি কিছুই সুন্দর জিনিস দেখতে পায় না, সুন্দর কথা শুনতে পায় না, এমন কি নতুন কাজের লোকটিও বাদুড়ের মত। সে দেখে আর কথা বলে শুধু মায়ের সঙ্গে।
আভুনা-র আশপাশে যে সমস্ত ব্যাঙ, চামচিকে বাদুড়রা ছিল তারাও বলল, তারা কি প্রচণ্ড দুঃখী ওই ছেলেটির জন্য। তারা চাইছে, কেউ ওকে ভালবাসুক, বিয়ে করুক, আনন্দ দিক। তাহলে বাড়িতে খুশির জোয়ার আসবে। কিন্তু সেটা তো অসম্ভব। কারণ বুড়ি সব সময় সতর্ক চোখ মেলে বসে থাকে। একমাত্র বুড়ি যখন রাত্রে নাক ডাকিয়ে ঘুমোয়, তখনই একমাত্র সময়। আভুনা ভাবল, সত্যিই তো। আহা ছেলেটি কোন সুন্দর জিনিসের সংস্পর্শে আসেনি। তার কোনো সুযোগও নেই। যদি তার জন্য কিছু করা যায়। বাদুড় তখন বলল, “তুমি যদি ঠিক ওই সময় আমার পিঠে বসতে পারো, আমি তোমাকে রাজপুত্রের ঘরে নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু ও তো তখন ঘুমিয়ে থাকবে। আমি জানি না তখন তুমি যদি যাও কী করতে পারবে।”
কিন্তু আভুনা এ-ব্যাপারে এতই আগ্রহী ছিল যে, সে বলল, “ঠিক আছে, তুমি আমাকে ওই সময়েই নিয়ে চলো।”
সে সারাদিন ধরে অপেক্ষা করে, রাত্রে ঠিক সময়ে তৈরি হল, তার সুন্দর জামাটা পরে, সুন্দর সাজগোজ করে, মাথ্য একটা আভুনা ফুলের মালা নিয়ে, চলে এল সেই সিডার গাছের নীচে যেখানে বাদুড়ের অপেক্ষা করার কথা ছিল।
বাদুড়ও ঠিক সময় অপেক্ষা করছিল।
সে বাদুড়ের পিঠে উঠে বসে হাজির হল রাজপুত্রের ঘরে।
দেখল, সুন্দর রাজপুত্র ঘুমাচ্ছে অঘোরে। সে ধীরে ধীরে তার বিছানার কাছে গেল এবং তার মুখে হাল্কা করে একটা চুম্বন দিল। তার চোখ থেকে একটি বিন্দু চোখের জল তখনই বালিশের উপর গড়িয়ে পড়ল। সেটি তখনই একটি চমৎকার হিরের টুকরো হয়ে গেল। তারপর সে মাথার থেকে ফুলের মালাটা খুলে বিছানায় রেখে দিল।
এরপরে সে চুপি চুপি নিজের ঘরে ফিরে এল। তখনও বুড়ি নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে।
পরদিন সকালে রাজপুত্র জেগে উঠে ভাবল, গত রাত্রে বড়ো সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছি। এমন তো কখনও হয় না। সে যেন আবছা মনে করতে পারল, একটা সুন্দর প্রজাপতি তার জানালায় বসেছিল। তারপর এসে ওর গালে চুমু দিয়ে গেছে। কিন্তু—
এটা কি স্বপ্ন! তাহলে একটা আভুনা ফুলের মালা বিছানায় কোথা থেকে এল, তা ছাড়া এই সুন্দর উজ্জ্বল হিরের টুকরো, যেটি সেই প্রজাপতির ভালবাসার রূপ, সেটিই বা কোথা থেকে এল।
সে এগুলি তুলে নিয়ে জামার ভিতরে রেখে দিল। ভোর হতে তখনও দেরি আছে। রাজপুত্র চুপি চুপি দরজা খুলে বাইরে এল পা টিপে টিপে। তারপর বাগান পেরিয়ে বাইরের পৃথিবীতে এসে সে আশ্চর্য হয়ে গেল। এখানে সে কোনোদিন আসতে সাহস করেনি।
তার এত ভাল লাগল, নতুন এক অনুভূতি তাকে যেন নতুন এক জগতের সন্ধান দিল। সে দেখল, গাছপালাগুলো কি সুন্দর! তারা যেন কী নতুন কথা বলছে। যে প্রাণী ও কখনও দেখেনি, সেইরকম দুটি পাখি কিচির মিচির করছে আর বলছে ভালবাসার কথা।
তখন তার মনে হল, যে এই ফুলের মালা আর হিরের টুকরো রেখে গেছে, সে নিশ্চয়ই তার মায়ের প্রাসাদে নেই। যত দূরেই সে থাকুক, তাকে খুঁজে বের করতেই হবে।
সে চলতেই লাগল, চলতেই লাগল। সে জানত না কতদূর চলতে হবে। তার কাছে সারা পৃথিবীই নতুন আর রঙিন। তাই তার কোন ক্লান্তি নেই। জঙ্গলে কাঠবিড়ালিরা রঙিন রঙিন পাখিরা, মাঠে ঘাসে প্রজাপতিরা, জলে ঝকঝকে চঞ্চল মাছেরা সবাই খেলা করছে। এই সমস্ত দেখে সে আশ্চর্য হয়ে এগোতে থাকে। কিন্তু এত সব সুন্দর হলেও কাল স্বপ্নে দেখা পরীর মত কেউ যেন নয়।
সব শেষে ঘুরতে ঘুরতে সে সেই দীঘির ধারে এল, যেখানে নার্সিসা ও তার বাবা মা থাকত। সেখানে ক্লান্ত হয়ে সেই দীঘির ধারে বসল। হঠাৎ চোখে পড়ল,এক গুচ্ছ আভুনা ফুল ফুটে রয়েছে কাছেই। দেখে তার মনে হল, তার স্বপ্ন বুঝি সত্যি হবে না। হয়তো সেই সুন্দর নীল চোখওয়ালা পরী আসলে কোথাও নেই।
এমন সময় সে দেখল, একটি সুন্দরী মেয়ে তার দিকে আসছে। সে ভীষণ সুন্দরী, যদিও তার স্বপ্নে দেখা সুন্দরীর মত নয়। তবে এরও সোনালি চুল, নীল চোখ। তবু এ যেন সে নয়।
নার্সিসা যেমন নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়ে দীঘির ধারে গিয়ে বসে আর সোনালি মাছেদের জিজ্ঞাসা করে, তেমনই জিজ্ঞাসা করল, “বলতো তোমাদের চোখে সবচেয়ে সুন্দরী কে?”
তারা আগের মতই উত্তর দিল, “যদিও সে এখানে নেই, তবুও আভুনা-ই হল সেরা সুন্দরী।”
সে শুনে খুব দুঃখ পেল। বুঝল, নিশ্চয়ই বোন এখনও বেঁচে আছে। সঙ্গে সঙ্গে রাজপুত্র এটা শুনে বুঝল, যে সে যাকে খুঁজছে সে এ নয়। তাহলে অন্য কোথাও সে আছে। তাকে খুঁজতে সে আবার এগোল।
তখন নার্সিসা জিজ্ঞাসা করল, “বলতো সোনালি মাছ, যে আমার থেকেও হাজার গুণে সুন্দরী, সে কোথায় আছে?”
“সে আছে, কাছাকাছিই-”
শুনতে পেয়ে রাজপুত্র চারপাশে তাকাল, ভাবল, তাহলে আমার কাছাকাছিই সে আছে! কিন্তু আমি তো তাকে দেখিনি। আমি তো চারধারে কুচ্ছিত বাদুড় আর চামচিকেদেরই দেখেছি বলে মনে পড়ছে।
এদিকে বেচারি আভুনা, যখন বুঝতে পারল, তার রাজপুত্র, তার খোঁজেই বেরিয়েছে, তখন সেও তার খোঁজে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করল। অবশেষে সে- ও একদিন সেই পুরানো দীঘির ধারে পৌঁছাল, যেখানে আছে সেই ফুল, পাখি, কাঠবিড়ালি, তার দিদি নার্সিসাস।
কিন্তু তার এসব দিকে এতটুকু মন ছিল না। সে একমনে খুঁজে যাচ্ছিল তার প্রিয় রাজপুত্রকে। সে চাইছিল, এই কুচ্ছিত বাদুড়ের চামড়াটা খুলে রাজপুত্রের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে, যে, সে-ই সেই সুন্দরী যে তার গালে চুমু দিয়েছিল। সে শেখাতে চাইল, ভালবাসা আর সৌন্দর্য কাকে বলে। তবু সে তার সেই বাদুড়ের চামড়াটা খুলতে সাহস করছিল না। কারণ, সে প্রতিজ্ঞা করেছিল, সেই বুড়ির কাছে, যে সে দিনের বেলায় এটা খুলবে না। তা ছাড়া দিদি যদি দেখতে পায় বা চিনতে পারে, এবারে সে নিশ্চয়ই মেরে ফেলবে তাকে।
কাজেই সে রাজপুত্রের কাছাকাছিই থাকল, এবং দেখল সে চিনতে পারে কি না। কিন্তু নার্সিসা, যখনই শুনল মাছেদের কাছে যে, তার বোন এখনও বেঁচে আছে এবং কাছাকাছিই আছে, সে চারধারে সজাগ দৃষ্টি রাখছিল। সে যেই বুঝতে পারল, এটাই তার বোন, সে দৌড়ে গিয়ে তাকে এক ধাক্কায় জলে ফেলে দিল। সেই আওয়াজ শুনে রাজপুত্র তাড়াতাড়ি জলে লাফিয়ে পড়ে সেই বাদুড়ের চামড়া পরা হাতটা ধরল। হাত ধরতেই তার গা থেকে চামড়াটা খুলে এল। সে দেখল যে, সে তো সেই সুন্দরীর হাত ধরে রয়েছে, যাকে সে স্বপ্নে দেখেছে। তাকে সে টেনে ডাঙায় নিয়ে এল।
এবার তো গল্পের এখানেই শেষ হল, নটে গাছটি মুড়োল।
বুড়ি আর কী করে! বাধ্য হয়ে ছেলেকে আভুনার সঙ্গে বিয়েতে অনুমতি দিতেই হল। এদিকে, নার্সিসাকে বাধ্য হয়ে বোনের বিয়ের ‘নিতকনে’ সাজতে হল।
ওদিকে রাজপুত্র আর ছোট্ট মিষ্টি সুন্দরী আভুনার বিয়ে হল সেই প্রাসাদে খুব ধুমধাম করে। পরীরাজ্যের রানি থেকে শুরু করে সবাই গাইতে লাগল,
“আমরা সবাই জানি, আভুনা-ই হল, এই রাজ্যের সব চেয়ে হল সুন্দরী পরী।”
ছবি- মৌসুমী রায়
জয়ঢাকের সমস্ত গল্প ও উপন্যাস