অনন্যা দাশ -এর সমস্ত লেখা একত্রে

রাতের বেলা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতে গা-টা ছমছম করে উঠল রাকার। এত রাতে সে কোনোদিন কলেজে আসেনি। সন্ধে সাতটার পর সে কখনও এখানে থাকেনি আর তখনও লোক থাকে ক্যাম্পাসে। এখন একদম খাঁ খাঁ। পার্কিং লটের নীলচে আলোগুলোতে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোকে অন্য গ্রহের স্পেস ক্রাফটের মতন দেখতে লাগছে। খুবই কম কয়েকটা গাড়ি। দিনের এই লটটাতে পার্কিং করার জায়গাই পাওয়া যায় না। সত্যি বলতে কি, এত রাতে আসার রাকার কোনও ইচ্ছেই ছিল না, কিন্তু নিজের বুলের জন্যেই আসতে হল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সে। রাত সাড়ে এগারোটা বাজে। আসলে আজকের দিনটাই ছিল অন্যরকম। রাকার পি.এইচ.ডি ক্যান্ডিডেসি পরীক্ষা ছিল আজ। এত দূর মার্কিন দেশে পড়তে এসে প্রথম পরীক্ষায় হোঁচট খেলে তো সব স্বপ্নের বারোটা বেজে যাবে। তাই সকাল থেকেই চাপ। এদিকে পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট হয়েছে বিকেল চারটে। তাই সবকিছু শেষ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে সাতটা বেজে গেল। ফেল যে করে দেয়নি ওকে সেটাই মঙ্গল, যদিও কমিটির একজন প্রফেসর বেশ বাগড়াই দিচ্ছিলেন। নেহাত ওর অ্যাডভাইসর প্রফেসর কনরের প্রচুর ক্ষমতা আর অনেকদিনের অভিজ্ঞতা তাই এ-যাত্রা ওর উদ্ধার হয়ে গেল, না-হলে রাকাকে হয়তো আবার পরীক্ষা দিতে হত। ভাগ্যিস, এ প্রফেসর কনরের কাছে জয়েন করেছিল। বাড়ি ফিরে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। ঘুম ভাঙল রাত এগারোটায়, তাও খিদের চোটে।
ম্যাগিটা রান্না করতে করতে রাকার খেয়াল হল তার মোবাইল ফোনটা নেই। অর্থাৎ, তাড়াহুড়োতে ফোনটা সে কলেজেই ফেলে এসেছে। ওর বয়সের আরও বহু ছেলেমেয়েদের মতোই ফোন ছাড়া চোখে অন্ধকার দেখে সে। তাছাড়া মা-বাবুইকে ফোন করে জানাতে হবে যে সে পরীক্ষায় পাশ করেছে। এতক্ষণে তাঁরা হয়তো ঘুম থেকে উঠে ফোন করতে শুরু করে দিয়েছেন আর কোন উত্তর না পেয়ে দুশ্চিন্তা করছেন। অগত্যা কলেজে গিয়ে ফোনটাকে নিয়ে আসতেই হবে। সেই জন্যেই রাতের বেলায় কলেজে আসা।
গাড়িটাকে পার্ক করে, লক করে হাঁটা দিল রাকা। পার্কিং লট থেকে মিনিট পাঁচেকের হাঁটাপথ। চাইলে সিকিউরিটিকে ফোন করা যেত, কিন্তু কলেজের ক্যাম্পাস যথেষ্ট নিরাপদ বলেই জানে সে। লাল-সবুজ যন্ত্রটার সামনে ব্যাজটা ধরতেই দরজা খুলে গেল। কলেজের ভিতরটায় আবছা আলো জ্বলছে বটে, কিন্তু চারদিক যক্ষপুরীর মতন ফাঁকা। দিনের বেলা যেখানে একগাদা লোকের মেলা, রাতে সেখানে কেউ নেই দেখে অদ্ভুত লাগছিল। নিস্তব্ধ ভাবটা মন্দ লাগছিল না রাকার। সে গান গাইলেও কেউ শোনার নেই। লিফটের জন্যে বোতাম টিপে অপেক্ষা করতে করতে সে গুনগুন করে গান ধরল—‘আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে।’ লিফট চলে এল মুহূর্তের মধ্যে।
প্রফেসর কনরের গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরি সাততলায়। সেখানেই কাজ করে রাকা। লিফট সাঁ সাঁ করে সাততলায় নিয়ে চলে গেলে তাকে। লিফট থেকে নেমে ল্যাবের দিকে এগিয়ে গেল সে। ল্যাবে ঢোকার আগেই সামনের ঘরটার দিকে চোখ গেল। দরজায় গায়ের স্বচ্ছ কাচের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে যে ঘরটায় আলো জ্বলছে। শুধু তাই নয়, মন দিয়ে শুনলে একটা শব্দও শোনা যাচ্ছে—ঘুট ঘুট ঘুট! রাকা চমকে উঠে থমকে দাঁড়াল। বেশ কয়েকদিন ধরেই ওদের ল্যাবের টেকনিশিয়ান জিনা প্রফেসর কনরের কাছে নালিশ করছিল যে ওদের ল্যাবের থ্রি-ডি প্রিন্টার কেউ একজন বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করছে। প্রিন্টারের জন্যে কেনা ফিলামেন্ট হু হু করে শেষ হয়ে যাচ্ছে আর প্রিন্টারটাকেও রোজ সকালে ক্লান্ত দেখায় এবং সেটা গরম থাকে যাতে বোঝা যায় যে রাতে কেউ সেটাকে ব্যবহার করেছে। কলেজের সিকিউরিটিকে বলা হয়েছে, কিন্তু কোনও ফল হয়নি। ল্যাবের লোকজন ছাড়া অন্য কার আর ইচ্ছে করবে সারারাত বসে থেকে চোর ধরতে? আর তাও ওইসব তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে। প্রফেসর কনর ওইসব ছোটোখাটো ব্যাপার নিয়ে মোটেই মাথা ঘামান না, কিন্তু টেকনিশিয়ান জিনা উঠেপড়ে লেগেছিল চোর ধরার জন্যে। যদিও সেও কিছু করতে পারেনি অনেক চেষ্টা করেও। রাকা শুনেছে, ল্যাবের অন্য দুজন সদস্য চার্লি আর ডিলনও নাকি চেষ্টা করেছিল কয়েক রাত পাহারা দিয়ে, কিন্তু কাউকে না ধরতে পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছে। থ্রি-ডি প্রিন্টারে অনেক কিছুই তৈরি করা যায় সঠিক ফর্মুলা ঢোকালে। রাকার কাছে যেমন একটা পেনসিল হোল্ডার, একটা ছোটো স্টার ট্রেকের বেবি ইয়োদার মূর্তি ইত্যাদি কয়েকটা জিনিস আছে যেগুলো সে নিজে থ্রি-ডি প্রিন্টারে বানিয়েছে। ইন্ডিয়া যাওয়ার সময় টিনটিনের একটা মূর্তি বানিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। সন্তুটা বড্ড টিনটিনের ফ্যান।
বর্তমানে ফিরে এসে ল্যাবের লোকজনের কথা ভাবতে লাগল রাকা। জিনা বয়স্ক টেকনিশিয়ান। অনেকদিন ধরে ল্যাবে রয়েছে। ল্যাবে কোথায় কী রাখা আছে সব তার নখদর্পণে। চার্লি আর ডিলন দুজনে একেবারে আলাদা স্বভাবের। চার্লি খুব পরিপাটি গুছোনো। তার কাজ একেবারে নিখুঁত আর ডিলন ঠিক তার উলটো। তার চুল উসকোখুসকো, জামাকাপড় এলোমেলো, যেন সবসময় অন্য কিছু ভেবে চলেছে। প্রফেসর কনরের কাছে বেশ কয়েকবার বকুনি খেয়েছে সে অন্যমনস্ক হয়ে থাকার জন্যে। যদিও বকুনি খেয়েও তার কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই, সে সবসময় হাসছে। তবে সারা কলেজে সবাই জানে যে কেউ বিপদে পড়লে আর কেউ সাহায্য করুক না করুক, ডিলনের কাছে সবসময় সাহায্য পাওয়া যাবে। প্রফেসর কনরও তাই মজা করে ডিলনকে বলেন, “ডিলন, তুমি যদি তোমার সমাজসেবার কাজ ছেড়ে ল্যাবের কাজে মন দিতে তাহলে অনেক কিছু করে ফেলতে পারতে।”
ডিলনও কম যায় না। প্রোফেসারের কথা শুনে সে হেসে বলে, “সবকিছুর সঙ্গেই তো ল্যাবের কাজ করছি প্রফেসর!”
তা চার্লি আর ডিলন পালা করে রাত জেগে পাহারা দিয়েও কাউকে ধরতে পারেনি। ল্যাবের ঢোকার কোব বেশ কয়েকবার বদল করা হয়েছে, কিন্তু তাতেও কোনও ফল হয়নি।
ঘরে আলো আর ওই ঘুট ঘুট শব্দ শুনে রাকার মনে হল থ্রি-ডি প্রিন্টারের ঘরে চোর ঢুকেছে। সেই চোর আবার মেশিনটাকে চালাচ্ছে তাই ওই শব্দ। একটু ভয়ই করছিল। সে কি পুলিশ বা কলেজের সিকিউরিটিকে ডাকবে? তারপর তার মনে হল দেখাই যাক না কে। যেই হোক সে নিশ্চয়ই ওই কলেজেই কাজ করে, না-হলে এত রাতে গেট দিয়ে ঢুকতেই পারত না। ঘুট ঘুট ঘুট করে মেশিন চলছে।
রাকা টুকটুক করে দরজায় কোড নম্বরটা টাইপ করে এক ঝটকায় দরজাটা খুলে ভিতরে ঢুকে পড়ল। ভিতরে মেশিনটা প্রাণপণে ঘুরে ঘুরে কছু একটা বানিয়ে চলেছে লম্বা মতন আর ঘরের অন্য প্রান্তে একটা এয়ারে ডিলন নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোচ্ছে। রাকার মুখ থেকে মনে হয় আশ্চর্যসূচক কোনও শব্দ বেরিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল আর তাই শুনে সজাগ হয়ে উঠল ডিলন।
রাকা অন্য কিছু না বলে শুধু বলল, “আমার ফোনটা ফেলে গিয়েছিলাম ল্যাবে তাই এত রাতে আসতে হল। থ্রি-ডি প্রিন্টারের চোরকে ধরে ফেলতে পারব আশা করিনি।”
ডিলনের চোখ ছোটো হয়ে গেছে। রাকার একটু ভয় করল। ডিলন ওকে আঘাত করে বসবে না তো? পরক্ষণেই তার মনে হল, না, ডিলন ওইরকম নয়। ওর কথা শুনে ডিলন শুধু একটা শুকনো হাসি হেসে বলল, “আগামীকাল তো শনিবার। তোমার কিছু কাজ আছে? একটু সময় দিতে পারবে?”
রাকা ওর প্রশ্ন শুনে হকচকিয়ে গিয়ে বলল, “না, কাজ কিছু নেই। পরীক্ষার জন্যে বিস্তর খাটুনি গেছে তাই এই উইক-এন্ডটা বিশ্রাম করব ভেবেছিলাম।”
“ঠিক আছে। তাহলে সকাল এগারোটা নাগাদ কলেজের পার্কিং লটে চলে এসো। তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। আর আমার একটা অনুরোধ, আমাকে যে এখানে দেখেছ সেটা কাউকে বলার জন্যে সোমবার অবধি অপেক্ষা কোরো প্লিজ। ওইটুকু সময় চাইছি আমি তোমার কাছে।”
রাকা ভেবে দেখল, সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করলে কোনও ক্ষতিই হবে না। সে ডিলনকে পরদিন দেখা করবে বলে গুড নাইট জানিয়ে ল্যাব থেকে ফোনটা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। সত্যিই মা-বাবা অনেকবার ফোন করে ওকে না পেয়ে খুব চিন্তা করছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক জেনে তাঁরা শান্ত হলেন।
॥ ২॥
পরদিন ঘুম থেকে উঠে পাউরুটি আর অমলেট খেয়ে কলেজের পার্কিং লটে পৌঁছে গেল রাকা। একটু পরেই নিজের ঝরঝরে হন্ডা সিভিক নিয়ে ডিলন এসে হাজির। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সারারাত ঘুমোয়নি। সেটা হয়তো ঠিকই, সারারাত ধরে কী থ্রি-ডি প্রিন্ট করেছে কে জানে।
রাকাকে দেখে সে একগাল হেসে বলল, “রেডি?”
রাকা বলল, “হ্যাঁ, রেডি। তবে আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
ডিলন বলল, “হ্যারিসবার্গের একটা বাড়িতে। যেতে বেশিক্ষণ লাগবে না। এই মিনিট পনেরো।”
রাকা জিজ্ঞেস করল, “কেন যাচ্ছি জিজ্ঞেস করা যেতে পারে?”
ডিলন বলল, “হ্যাঁ, একটা বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে। তার নাম অ্যালিস। তাকে একটা উপহার দিতে যাচ্ছি। এর বেশি এখন আর কিছু বলতে চাই না। ওখানে গিয়েই দেখে নিও।”
ডিলনের কথামতো মিনিট পনেরোর মধ্যেই তারা গন্তব্যে পৌঁছে গেল। হ্যারিসবার্গ শহরের একটা নিম্নবিত্ত ঘিঞ্জি এলাকা। ছোটো একটা একতলা বাড়িতে গিয়ে দরজার বেলটা বাজাল ডিলন। একজন মহিলা এসে দরজা খুললেন। তাঁকে দেখে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।—“কী দরকার? কাকে চাই?”
“আমি ডিলন। অ্যালিসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”
“ও। ভিতরে এসো। অ্যালিসকে ডেকে দিচ্ছি।”
ওরা ভিতরে ঢুকে রঙচটা সোফায় বসল। একটু পরেই অ্যালিস এসে ডুকল। বছর এগারো বয়সের একটা মিষ্টি মেয়ে। কিন্তু রাকা অবাক হয়ে দেখল, তার দুটো হাতই নেই।
ডিলন তার পিঠ ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বার করে অ্যালিসের দিকে এগিয়ে দিল। জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে প্যাকেটটা নিল অ্যালিস আর খুলতেই আনন্দে ঝলমল করে উঠল তার মুখ। ভিতরে রয়েছে থ্রি-ডি মেশিনে তৈরি দুটো কৃত্রিম হাত! একেবারে আধুনিকভাবে তৈরি।
অ্যালিসের মা ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “জন্ম থেকেই ওর হাত দুটো নেই। ওর বাবা একটা সাধারণ চাকরি করতেন। অ্যালিসের জন্মের ছ’মাস পরেই মারা যান। অ্যালিসের এক বড়ো দিদি আর এক বড়ো দাদা আছে। আমার একার আয়ে চারজনের সংসার টানা খুব কঠিন, তাই অ্যালিসকে নতুন টেকনোলজির হাত আর কিনে দিতে পারিনি।”
অ্যালিস ইতিমধ্যে ডিলনের সাহায্যে ঝটপট হাত দুটোকে লাগিয়ে ফেলেছে কাঁধের সঙ্গে। লাগিয়েই এক ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। একটু পরেই ফিরে এল একটা ড্রাম আর সেটাকে বাজাবার দুটো কাঠি নিয়ে। ডিলনের তৈরি কৃত্রিম হাত দিয়ে অনায়াসেই ড্রামের কাঠি দুটোকে ধরে বাজাতে লাগল সে।
চোখে জল নিয়ে ওর মা বললেন, “এতদিনে ও স্বচ্ছন্দে ড্রাম বাজাতে পারবে। ওর খুব শখ আর পারেও, কিন্তু আগের হাতগুলো দিয়ে ওর কাঠি ধরতে খুব কষ্ট হত। কাঠিগুলো ফস্কে পড়ে যেত বার বার। এখন ও ড্রাম বাজানো ছাড়াও আরও অনেক কিছু খুব সহজে করতে পারবে।”
ডিলন শুনে বলল, “হ্যাঁ, আমি ওকে দেখেছিলাম প্যারেডে ব্যান্ডের সঙ্গে বাজাতে। তখনই আমার মাথায় আসে ওর জন্যে বিশেষ রকমের কিছু একটা তৈরি করার কথা। ডিজাইনটা জোগাড় করে অ্যালিসের মাপ নিয়ে বানাতে কয়েকদিন সময় লেগে গেল। মাপ-টাপ ইত্যাদি নেওয়ার ব্যাপারে ওর স্কুলের টিচাররা খুব সাহায্য করেছেন।”
অ্যালিসের মার তৈরি কুকি আর কেক খেয়ে কলেজে ফেরার পথে ডিলন বলল, “এইসব কারণের জন্যে মাঝে মাঝে রাতে ল্যাবের থ্রি-ডি প্রিন্টারটা ব্যবহার করি। কৃত্রিম হাত-পা বানাই বসে বসে। আমার এক বন্ধু আছে অর্থোপেডিক্স ডিপার্টমেন্টে। সে-ই আমাকে ডিজাইনগুলো সাপ্লাই করে। কিছুটা ফিলামেন্ট ইত্যাদি আর আমার কিছুটা সময় দিয়ে যদি কয়েকজন মানুষের জীবনে কিছু পরিবর্তন আনা যায় তাহলে ক্ষতি কী? আসলে ভালো কোয়ালিটির কৃত্রিম অঙ্গ কেনার সাধ্যি তো সবার থাকে না। যাক, এবার বলটা তোমার কোর্টে। তুমি চাইলে জিনা আর প্রফেসর কনরকে বলতে পারো। আমি কিছু মনে করব না।”
রাকা মনস্থির করেই ফেলেছিল। সে বলল, “আমাকে কী ভেবেছ? আমি মোটেই কাউকে কিছু বলব না। ভারি তো কিছুটা ফিলামেন্ট আর মেশিনের কিছুটা সময়। তার থেকে অ্যালিসদের মুখের হাসিটা অনেক বেশি দামি! বরং মেশিন চালাতে কিছু সাহায্য লাগলে আমাকে জানিও। আড়ালে থেকে এত বড়ো মহৎ কাজ করে চলেছ তুমি।”
ডিলন হেসে ফেলে বলল, “যাক বাবা বাঁচালে! ল্যাবের লোকজনের ব্যাপারে আমি খুব ভাগ্যবান সেটা বলতেই হবে, কারণ চার্লিও ওই এক কথাই বলেছে।”