গল্প-অ্যানাকোন্ডার সোনার দাঁত-জে. বি. এস. হ্যালডেন-অনু: তাপস মৌলিক-শরৎ’২৬

ব্রেজিলের মানাওস শহরে একসময় একজন বিরাট ধনী ব্যক্তি থাকতেন। তাঁর নাম ছিল পাওলো মারিয়া এনকারনাকাও এস্প্লেনডিডো। তাঁর দুটো সোনার খনি আর একটা রুপোর খনি ছিল।
তুমি হয়তো ভাবছ, রুপোর খনির তুলনায় স্বর্ণখনি থেকে বেশি পয়সা পাওয়া যায়, কারণ সোনার দাম রুপোর থেকে বেশি; কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ সময় সোনার খনি থেকে যত না পয়সা আসে খনির পেছনে খরচা হয় তার বেশি। সোনার খোঁজে যেখানে খনন করা হয় প্রায়ই দেখা যায় সেখানে সোনা যা মিলল তাতে খোঁড়াখুঁড়ির খরচই উঠল না।
সেনর এস্প্লেনডিডোর সোনার খনি দুটো অবশ্য সেরকম ছিল না। সে দুটো থেকে তিনি যথেষ্ট পয়সা কামিয়েছিলেন, তবে রুপোর খনিটা থেকে রোজগার করেছিলেন আরও অনেক বেশি। তিনি যে এত ধনী হয়েছিলেন তার একটা কারণ খনি শ্রমিকদের তিনি মজুরি দিতেন খুবই কম। তাই লোকে তাঁকে খুব একটা পছন্দ করত না।
লোকের হাতে যখন প্রচুর পয়সা আসে তখন কেউ কেউ হাসপাতাল বা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিতে সেই পয়সা খরচ করে, কেউ কেউ আবার পার্ক কিংবা আর্ট গ্যালারি বানায়। এসব ক্ষেত্রে বলা যায় যে পয়সাটা কাজে লাগল। অন্যরা হিরে কিংবা রেসের ঘোড়া কেনে, যা কারও কোনো কাজে লাগে না। সেনর এস্প্লেনডিডো ছিলেন এই দ্বিতীয় ধরনের লোক, যারা বেকার পয়সা ওড়ায়। তবে যেহেতু তিনি থাকতেন ব্রেজিলের ওরকম একটা জায়গায়, তাঁর পয়সা খরচের ধরনটা ছিল ইংল্যান্ডের ধনকুবেরদের থেকে আলাদা। ওই অঞ্চলের রাস্তাঘাট এতই খারাপ ছিল যে গাড়ি চালিয়ে কোনো মজা নেই। তাই সেনরের গাড়ি ছিল মাত্র একটি। কিন্তু তাঁর মোটর বোট ছিল তিনটি, কারণ ব্রেজিলের ওই অংশে যাতায়াতের জন্য লোকে সড়কপথের থেকে নদীপথ বেশি ব্যবহার করে।
মানাওস শহরটা ঠিক সেই জায়গায় যেখানে আমাজন আর রিও নেগ্রো নদী মিলিত হয়েছে, তাই সেনরের বোটিং করার সুযোগ ছিল প্রচুর। তাঁর বোট তিনটির সমস্ত আসবাবপত্র ছিল রুপোর তৈরি, স্রেফ দেখনদারির জন্য। স্ত্রীকে সেনর বেশ কয়েকটি হিরের বালা গড়িয়ে দিয়েছিলেন; আর বালাগুলি বেশ বড়ো বড়ো করেই গড়াতে হয়েছিল, কারণ তাঁর স্ত্রী ছিলেন বিশালবপু। তাঁর বাড়িতে অনেককিছুই ছিল সোনার, নিজের স্বর্ণখনি থেকে তোলা সোনা দিয়ে তৈরি। সমস্ত কাঁটাচামচ সোনার, দাঁত মাজার ব্রাশের হাতল সব সোনার, সোনার ছাইদান আর সাবান রাখার কৌটো, দরজার হাতল সব সোনার, আর সপ্তাহের সাতদিন পরার জন্য আলাদা আলাদা সাতটা সোনার ঘড়ি।
বাড়িতে সেনর একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা তৈরি করেছিলেন; প্রচুর জন্তুজানোয়ার ছিল তাঁর সংগ্রহে। জীবজন্তুর প্রতি ভালোবাসা ছিল সেনরের চরিত্রের একমাত্র ভালো দিক। যে মানুষ জীবজন্তু ভালোবাসে তাকে হাজার হোক এক্কেবারে খারাপ লোক বলা যায় না। নেংটি ইঁদুরের থেকে বড়ো যাবতীয় প্রজাতির প্রাণী যা ব্রেজিলে পাওয়া যায় তার কিছু না কিছু নমুনা সেনরের চিড়িয়াখানায় ছিল। ছিল সাতটি ব্রেজিলিয় কুমির, যাকে কেমান বা কাইম্যান বলা হয়। এদের প্রায় ভারতীয় কুমিরের মতোই দেখতে, তবে এদের নীচের চোয়ালের দু-পাশে দুটো বড়ো বড়ো দাঁত থাকে আর ঠিক সেই জায়গায় ওপরের চোয়ালে থাকে দুটো গর্ত। উত্তর আমেরিকার কুমিরদের থেকে এরা আলাদা। একেকটা প্রায় কুড়ি ফিট অবধি লম্বা হয়।
চিড়িয়াখানায় আরও ছিল তিনটে জাগুয়ার এবং দুটো অ্যানাকোন্ডা। অ্যানাকোন্ডা হল ভারতের অজগরের মতো বিরাট সাপ, ব্রেজিলে থাকে। এরা বিষাক্ত নয়, তবে মানুষকে পাকে পাকে পেঁচিয়ে ধরে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে পিষে ফেলতে পারে আর দুরন্ত গতিতে সাঁতার কাটতে পারে।
অ্যানাকোন্ডা দুটোর একটা ছিল স্ত্রী প্রজাতির। সেনর এস্প্লেনডিডো সোনার বাটিতে করে সোনার চামচ দিয়ে সেটার ডিমসেদ্ধ খেতেন। তিনি বলতেন সে ডিম নাকি দুর্দান্ত খেতে, তবে তাঁর যেরকম হামবড়াই করার স্বভাব ছিল তাতে কথাটা সত্যি কিনা সন্দেহ। আমি অবশ্য কস্মিনকালে অ্যানাকোন্ডার ডিমসেদ্ধ খাইনি, তাই সঠিক বলতে পারব না। সেনর ছাড়া মাত্র একজনের কথাই আমি জানি যিনি অ্যানাকোন্ডার ডিম খেয়েছেন, তিনি অভিযাত্রী মিঃ ম্যাকসস্ট্রিচ। একবার এক অভিযানে গিয়ে তিনি একসঙ্গে তিন-তিনটে অ্যানাকোন্ডার ডিম খেয়েছিলেন। অবশ্য তার আগে এক হপ্তা তাঁর খাবার জোটেনি, তাই সে ডিম যে তাঁর ভালো লেগেছিল তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
যে কোনো প্রজাতির কুমিরদের মতোই ব্রেজিলিয় কুমির বা কেমানরা খুব বোকা হয়, সাধারণত নতুন কোনো বিদ্যে শেখা এদের দ্বারা সম্ভব নয়। এদের মাথাটা বিরাট হলে কী হয়, সে মাথায় ঘিলু খুবই অল্প। মানুষ, বাঁদর কি কুকুরের কথা ছেড়েই দিলাম, কুমিরদের মস্তিষ্ক খরগোশের মস্তিষ্কের থেকেও ছোটো। তাই বিশেষ কিছু পারে না এরা। কুকুরের মস্তিষ্ক তুলনায় বড়ো, তারা হাজারটা নতুন বিদ্যে রপ্ত করতে পারে। মানুষের মস্তিষ্ক আরও বড়ো, তাই তারা লক্ষ লক্ষ জিনিস মগজে পুরে রাখতে পারে।

সেনরের চিড়িয়াখানার সাতটি কুমিরের মধ্যে একটি স্ত্রী-কুমিরের মাথায় ঘিলু নিশ্চয়ই একটু বেশি ছিল, কারণ সেটা একটা-দুটো খেলা শিখতে পেরেছিল। কুমিরটার নাম ছিল রোজা। পেদ্রো রডরিগেজ নামে একটি লোক চিড়িয়াখানার যাবতীয় জন্তুজানোয়ারের দেখভাল করত। জীবজন্তু খুবই ভালোবাসত সে, আর অসীম ধৈর্য ছিল তার। এই পেদ্রোই রোজাকে কিছুটা শিখিয়ে-পড়িয়ে নিয়েছিল। ‘রোজা’ বলে ডাক দিলেই জল থেকে বেরিয়ে আসত কুমিরটা। আরও বেশ কিছু বিদ্যে রোজা রপ্ত করেছিল। ল্যাজ আর পেছনের দু-পায়ে ভর দিয়ে সে উঠে বসতে পারত, তারপর বিরাট এক হাঁ করত যাতে লোকজন তার মুখে খাবার ছুড়ে দিতে পারে। এছাড়া ল্যাজটা ঘুরিয়ে এনে নিজের মুখে পুরে দিতে পারত কিংবা বেড়ালের মতো নিজের ল্যাজ তাড়া করে ঘুরপাক খেতে পারত। রোজার সঙ্গী পুরুষ কুমিরটির নাম ছিল জোয়াও। ইংরেজিতে যার নাম ‘জন’, পর্তুগিজ ভাষায় তাকে ‘জোয়াও’ নামে ডাকে। এই জোয়াও ছিল মহামূর্খ, লোভী, পেটুক আর ভীষণ বদমেজাজি। তবে অন্য পুরুষ কুমিরদের ওপর খুব মেজাজ দেখালেও রোজার কাছে জোয়াও ছিল এক্কেবারে জব্দ। খাবারের ভাগ দেওয়ার ব্যাপারে টালবাহানা করলেই ল্যাজের বাড়ি মেরে তাকে ঠান্ডা করে দিত রোজা।

একদিন সেনর এস্প্লেনডিডো তার চিড়িয়াখানায় এসে পেদ্রোকে জিজ্ঞেস করলেন, “কেমন আছে আমার পোষ্যরা সব?”
পেদ্রো বলল, “সব্বাই খুব ভালো আছে স্যার, শুধু পুরুষ অ্যানাকোন্ডাটার দুটো দাঁত ভেঙে গেছে, তবে আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই সে দুটো ফের গজিয়ে যাবে।”
“মূর্খ,” ধমকে উঠলেন সেনর, “একটা পূর্ণবয়স্ক অ্যানাকোন্ডার দাঁত আবার গজাবে কী করে?”
পেদ্রো আমতা আমতা করে বলল, “তাই তো স্যার‍! ঠিক বলেছেন।”
পেদ্রো জানে, সেনরের সঙ্গে তর্ক করার কোনো মানে হয় না। যদি সে একশোভাগ নিশ্চিতও হয় তবু চুপ করে থাকাই শ্রেয়। তাঁর প্রভুটি বড্ড কুটিল মনের মানুষ, কেউ ভুল ধরলেই প্রচণ্ড রেগে যান।
এরপরই সেনরের মাথায় একটা দুর্দান্ত বুদ্ধি এল। তিনি ভাবলেন, অ্যানাকোন্ডাটার দাঁত দুটো সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দিলে কেমন হয়? তাহলে তিনি হবেন পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যার পোষা সাপের দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো। সোনার চামচ, সোনার ঘড়ি, সোনার লবণদানি এসব তো অনেকেরই থাকে। ভারতবর্ষের কোনো কোনো রাজা-মহারাজার কাছে কত অদ্ভুত অদ্ভুত সব জিনিস আছে সোনার তৈরি। পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার আখুন্দ-এর সাতজন স্ত্রী ছিলেন, প্রত্যেকের নাকে ছিল সোনার নাকছাবি। বেলুচিস্তানের লাসবেলা রাজ্যের জাম বা প্রধানের রয়েছে সোনার তৈরি সতেরোটা দাঁত খোঁচানোর কাঠি, তোতাপাখিদের জন্য পাঁচটা সোনার খাঁচা আর পিঠ চুলকোনোর একটা সোনার হাত। ভূপালের বেগমের ছিল একটা সোনার তৈরি সেলাই মেশিন। খুবই বুদ্ধিমতী ছিলেন বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা, তবে সর্বক্ষণই মাথা-মুখ সব কালো কাপড়ে ঢেকে রাখতেন, কেউ মুখ দেখে ফেললেই নাকি সর্বনাশ। আর স্পিতি প্রদেশের নোনো-র আছে একটি সোনার থুকদান। (তোমরা হয়তো ভাবছ আমি বানিয়ে বানিয়ে লিখছি, স্পিতি প্রদেশের নোনো আবার কে? কিন্তু মোটেই বানিয়ে লিখিনি আমি। হিমালয় পর্বতমালায় সত্যিই স্পিতি নামে একটি উপত্যকা রয়েছে, বত্রিশ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং আটাত্তর ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, আর সেখানকার রাজা বা প্রধানকে সত্যিই ‘নোনো’ বলা হয়। লোকজন কিংবা জায়গার যদি এরকম মজার মজার নাম হয় তাহলে আমার কিছু করার নেই!)
সুতরাং সেনর পেদ্রোকে বললেন, “জ্যাকিন্টোর দাঁত দুটো সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়ার জন্য এখনই দাঁতের ডাক্তারকে খবর দিতে যাচ্ছি আমি।”
সেই পুরুষ অ্যানাকোন্ডাটার নাম ছিল জ্যাকিন্টো।
মানাওস শহরে খুব ভালো একজন দাঁতের ডাক্তার ছিলেন। তাঁর নামটা আমি ভুলে গেছি, তবে তাতে কিছু আসে যায় না। সেই ডাক্তারবাবু সেনর এস্প্লেনডিডোর বেশ কিছু পোকায় খাওয়া দাঁতের গর্ত সোনা দিয়ে বুজিয়েছিলেন, আর কয়েকটা দাঁত একেবারে নিরেট সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন। সেনর যখন মুখ হাঁ করতেন মনে হত যেন ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের ভল্ট খোলা হয়েছে যেখানে সমস্ত পাকা সোনার বাট রাখা হয়।
আর মাত্র একজনের কথা আমি জানি সেনরের মতো যার মুখ ভর্তি সোনা ছিল। সে লোকটা ছিল কানাডার ইউকন নদীর এক নাবিক। কানাডার ক্লনডাইক নদীর উজানে ইউকন উপত্যকায় প্রচুর সোনা পাওয়া যায়, সোনা সেখানে ভীষণ সস্তা। সাধারণ কোনো জিনিস যেমন একটা পাউরুটি কিংবা একটা বইয়ের বিনিময়ে তুমি বেশ খানিকটা সোনা পেয়ে যাবে, অর্থাৎ সোনা বাদে সবকিছুই বেশ দামি। ইউকন নদীর সেই নাবিকটির সঙ্গে আমার আলাপ হয় মেসোপটেমিয়ায়। গত যুদ্ধের সময় একটা জাহাজে সৈন্যদের নিয়ে সে টাইগ্রিস নদীর উজানে তুর্কিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিয়ে যেত। আমি তার জাহাজে সৈন্য হিসেবে গেছিলাম। লোকটা প্রচুর মদ খেত আর বড্ড মুখখারাপ করত।
যাই হোক, একটা অ্যানাকোন্ডার দাঁত বাঁধাতে হবে শুনে সেই দাঁতের ডাক্তার মোটেই খুব একটা খুশি হলেন না। তিনি বললেন, “মানুষের দাঁত বাঁধাই, কারণ জানি যে যতই ব্যথা লাগুক মানুষটা আমায় খেয়ে ফেলবে না; কিন্তু ওরকম একটা বিরাট সাপ, দাঁতে ব্যথা পেলে যদি সে আমায় গিলে ফেলে? কিংবা পেঁচিয়ে ধরে পিষে ফেলে?”
সেনর তাঁকে ভরসা দিয়ে বললেন, “আরে তুমি এসো-না, প্রথমে জ্যাকিন্টোকে দেখে ওর দাঁতের মাপটা নিয়ে যাও। তারপর দাঁত দুটো বানিয়ে যখন ওর মুখে বসাতে আসবে তখন সে যাতে তোমায় কামড়ে না দেয় তার যাবতীয় ব্যবস্থা আমরা করব।”
বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর ডাক্তারবাবু বললেন, মানুষের বেলায় তিনি যা ফিজ নেন তার তিন গুণ পারিশ্রমিক দিলে তবেই তিনি করবেন কাজটা। সেনর রাজি। সুতরাং সেনরের বিলাসবহুল মোটর বোটে চড়ে ডাক্তারবাবু এলেন জ্যাকিন্টোকে দেখতে এবং মাপজোক তুলে বাড়ি গিয়ে দুটো সোনার দাঁত বানিয়ে ফেললেন। ইতিমধ্যে পেদ্রো ভেবেচিন্তে একটা ফন্দি বার করল যাতে দাঁত বাঁধানোর সময় সাপটাকে বশে রাখা যায়।
জ্যাকিন্টো ছিল আঠারো ফিট লম্বা, পেদ্রো তাই সেই মাপের একটা লোহার পাইপ জোগাড় করল, তারপর পাইপের একদিকের মুখ একটা মজবুত কাপড়ের ঢাকা দিয়ে বেঁধে দিল। কাপড়টার কেন্দ্রে রইল দড়ির ফাঁস দেওয়া একটা গোল ছ্যাঁদা, কোলবালিশের খোলের মুখের মতো, দড়ি ধরে টান মারলেই ছ্যাঁদাটা বন্ধ হয়ে যাবে। পাইপের অন্য মুখটা রইল খোলা।
জ্যাকিন্টো আর তার সঙ্গিনী থাকত চিড়িয়াখানার বাগানে খোলা আকাশের নীচে এক বিরাট চৌবাচ্চায়। অন্যান্য জায়গার চিড়িয়াখানার সাপেদের মতো ওদের ঘরের ভেতর রাখার দরকার ছিল না। ব্রেজিল লন্ডনের মতো ঠান্ডার দেশ নয়। ইংল্যান্ডে সাপেদের গরম জায়গায় রাখতে হয়, কারণ ওদের রক্ত ঠান্ডা, তাই ওরা মানুষ কিংবা কুকুর, ঘোড়া কি পাখিদের মতো দেহের ভেতর থেকে তাপ উৎপাদন করে নিজেদের শরীর গরম রাখতে পারে না।
পেদ্রো করল কী, অ্যানাকোন্ডাদের সেই চৌবাচ্চার একদিকের দেয়ালে একটা গর্ত করে সেই গর্ত দিয়ে লোহার পাইপের খোলা মুখটা চৌবাচ্চার ভেতর ঢুকিয়ে দিল। তারপর সে একটা গিনিপিগ ধরে আনল। ব্রেজিলে গিনিপিগের কোনো অভাব নেই, ওই একটা দেশ যেখানে গিনিপিগেরা অগুন্তি জন্মায়। এরপর জ্যাকিন্টোর সঙ্গিনীকে চৌবাচ্চার একদিকে আটকে রেখে গিনিপিগটা চৌবাচ্চার ভেতর ছেড়ে দিল পেদ্রো। গিনিপিগটা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে লুকোনোর জন্য লোহার পাইপটার খোলা মুখের ভেতর ঢুকে পড়ল, আর জ্যাকিন্টোও তাকে তাড়া করে সরসর করে ঢুকতে শুরু করল পাইপের মধ্যে। মুহূর্তের মধ্যে গিনিপিগটা পাইপের অন্য মুখ দিয়ে ছুটে বেরিয়ে পালিয়ে গেল। পেছন পেছন এসে যেই না জ্যাকিন্টো পাইপ থেকে তার মাথাটা বার করেছে অমনি একজন দড়ির ফাঁসে দিল এক হ্যাঁচকা টান। ফাঁসটা জ্যাকিন্টোর ঘাড়ের ওপর এঁটে বসে গেল, ফলে তার মাথাটা কেবল বেরিয়ে রইল পাইপের মুখ থেকে আর শরীরের বাকি অংশ রয়ে গেল পাইপের ভেতর। এরপর চিড়িয়াখানার কর্মীরা মিলে সাপ সমেত লোহার পাইপটা তুলে এনে চৌবাচ্চার গর্তটা বুজিয়ে দিল যাতে জ্যাকিন্টোর সঙ্গিনী বাইরে বেরিয়ে আসতে না পারে।
ছবিতে যেমন দেখতে পাচ্ছ, মোট চারজন লেগেছিল পাইপ সমেত জ্যাকিন্টোকে তুলে আনতে। একদম সামনে যাকে দেখা যাচ্ছে সেই হল পেদ্রো। সেনর এস্প্লেনডিডো এবং তাঁর স্ত্রী পেছনে দাঁড়িয়ে দেখছেন সব। জ্যাকিন্টোর মুখ থেকে তার লম্বা জিভটা বেরিয়ে রয়েছে, কারণ প্রচণ্ড রাগে সে তখন ক্রমাগত হিস হিস করছিল। ছবিটা যিনি এঁকেছেন তিনি সেই হিস হিস শব্দটা কীভাবে আঁকতে হয় জানতেন না, তাই তোমরা দেখতে পাচ্ছ না।
এরপর পাইপ সমেত জ্যাকিন্টোকে মোটর বোটে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হল সেই দাঁতের ডাক্তারের কাছে। দেখে বেজায় ঘাবড়ে গেলেন ডাক্তারবাবু, ঢক ঢক করে এক গ্লাস ব্র্যান্ডি খেয়ে কাজ শুরু করলেন শেষে। প্রথমে লোহার পাইপটা এমনভাবে একটা টেবিলে রাখা হল যাতে কেবল জ্যাকিন্টোর মাথাটা টেবিলের কানার বাইরে বেরিয়ে থাকে। তারপর জ্যাকিন্টোর ঠিক মুখের সামনে ঝুলিয়ে ধরা হল আরেকটা গিনিপিগ। যেই না জ্যাকিন্টো গিনিপিগটা গেলার জন্য বিরাট এক হাঁ করেছে অমনি পাশ থেকে তার ওপর-নীচ দুই চোয়ালের মাঝে একটা লাঠি ঢুকিয়ে দিল পেদ্রো, তারপর সে আর আরেকজন মিলে শক্ত করে ধরে রইল লাঠিটা যতক্ষণ ডাক্তারবাবু কাজ করেন।
বেচারা জ্যাকিন্টো তার মুখও বন্ধ করতে পারল না, এদিক ওদিক মাথাও ঘোরাতে পারল না। ডাক্তারবাবু তাঁর কাজ শুরু করলেন। তখন জ্যাকিন্টোর সেই প্রবল হিস হিস শব্দ যদি শুনতে তোমরা! একটা স্টিম ইঞ্জিন বহুক্ষণ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বয়লার ফেটে যাওয়ার ভয়ে ট্রেনের ড্রাইভার যখন বাধ্য হয়ে কিছু স্টিম ছেড়ে দেন তখন যেমন প্রবল ফোঁস ফোঁস শব্দ হয় ঠিক সেরকম।
ডাক্তারবাবু খুবই ভয়ে ভয়ে কাজ করছিলেন। মনোবল অটুট রাখতে মাঝখানে ফের একবার মদ্যপান করে নিতে হল তাঁকে। যাই হোক, সোনার দাঁত দুটো শেষমেশ জ্যাকিন্টোর চোয়ালে বেশ ভালোভাবেই সেট করে গেল। তাকে চিড়িয়াখানায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে ফের তার চৌবাচ্চায় ছেড়ে দেওয়া হল। সেনর এস্প্লেনডিডোর গর্বের আর সীমা রইল না, তিনি তাঁর গিন্নি এবং সমস্ত বন্ধুদের ডেকে এনে দেখালেন তাঁর পোষা অ্যানাকোন্ডার সোনার দাঁত।
জ্যাকিন্টো কিংবা তাঁর সঙ্গিনী অবশ্য তেমন খুশি হল না। অন্য কোনো পদার্থের তুলনায় সোনা ভালো কীসে সেটাই তারা বুঝল না। বলতেই হবে এ ব্যাপারে মানুষের থেকে সাপেদের বিবেচনা বেশি যুক্তিযুক্ত। আমার মনে হয় সোনার খনির পেছনে মানুষ বড্ড বেশি সময় নষ্ট করে, ফালতু যত রাজ্যের ঝামেলা নেয়। তারপর যদি সোনা পায়ও, তাতে কী এমন হাতিঘোড়া হয়? লোহা কি রাবারের মতো সোনা কাজেও লাগে না, চকোলেটের মতো খেতেও সুস্বাদু না, আবার ফুল, ছবি কি স্ফটিকের মতো দেখতেও ভালো না।
এরপরে কী ঘটতে চলেছে সেটা তোমরা আন্দাজ করতে না পারলেও পেদ্রো খুব ভালোমতোই জানত। একদিন জ্যাকিন্টোকে দেখতে এসে সেনর আবিষ্কার করলেন, সাপটার দুটো সোনার দাঁতের মধ্যে একটা নেই, সে জায়গায় দেখা যাচ্ছে একটা সাধারণ দাঁত। ভয়ংকর রেগে গিয়ে একটা বড়ো লাঠি নিয়ে চিৎকার করতে করতে তিনি পেদ্রোকে তাড়া করলেন, “ব্যাটা বদমায়েশ, চোর কোথাকার! সোনার দাঁতটা খুলে নিয়ে সেখানে সাধারণ একটা নকল দাঁত বসিয়ে দেওয়া হয়েছে! আমি কিছু বুঝি না ভেবেছিস? আজই তোকে বরখাস্ত করব আমি, কয়েদখানায় পাঠাব তারপর।”
কথা হচ্ছে, সাপেদের দাঁত মানুষের দাঁতের মতো নয়। মানুষের ক্ষেত্রে কিছু দাঁত জীবনে দু-বার গজায়, কোনো কোনো দাঁত মাত্র একবারই। ছ-সাত বছর বয়সে মানুষের দুধের দাঁত পড়ে গিয়ে নতুন দাঁত গজায়, বুড়ো বয়সে সেই দাঁতও যখন পড়ে যায় বা তুলে ফেলতে হয় তখন নকল দাঁত দিয়ে বাঁধানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। দাঁতে পোকা লেগে যাতে গর্ত না হয়ে যায় সে ব্যাপারেও সাবধান থাকতে হয়, নইলে দাঁত তুলে ফেলতে হবে। খুব বিরল এবং ব্যতিক্রমী কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় দু-নম্বর দাঁত পড়ে যাওয়া বা তুলে ফেলার পর সে জায়গায় ফের তিন নম্বর দাঁত গজিয়েছে। আমার গিন্নির এরকম হয়েছে। কিন্তু সাপ, গিরগিটি, কুমির অর্থাৎ সরীসৃপদের কথা আলাদা। তাদের একই জায়গায় অজস্রবার দাঁত গজাতে পারে, একটা পড়ে গেলে সে জায়গায় আরেকটা গজায়। পেদ্রো সেটা জানত। এমনকি রোজা নামের কুমিরটার পড়ে যাওয়া পুরোনো দাঁত জমিয়ে তাই দিয়ে একটা হার বানিয়ে সে তার স্ত্রীকে উপহার দিয়েছিল।
পেদ্রো জানত জ্যাকিন্টোর দুটো ভাঙা দাঁতের একটার গোড়া স্বাভাবিকভাবেই পড়ে গিয়ে সেখানে নতুন দাঁত গজিয়েছে, আর খসে যাওয়া দাঁতের গোড়াটার সঙ্গে তার ওপর বসানো সোনার নকল দাঁতটাও রয়েছে। নিশ্চয়ই জ্যাকিন্টোর চৌবাচ্চার ভেতরেই কোথাও না কোথাও পড়ে রয়েছে সেটা। সে ভেবেছিল চৌবাচ্চার ভেতরে নেমে খুঁজে দেখবে একবার, কিন্তু দাঁতের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে জ্যাকিন্টো তার ওপর এমন খেপে আছে যে আর সাহস হয়নি পেদ্রোর। নিঃশব্দে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকলেও পেছন থেকে এসে জ্যাকিন্টো যদি তার পায়ে কামড় দেয় তাহলে কী হবে? গরিব মানুষ পেদ্রোর জুতো কেনার পয়সাও ছিল না।
পেদ্রো আগেই আন্দাজ করেছিল যে তার মনিব লাঠি নিয়ে তার পেছনে তাড়া করতে পারে, আর সেক্ষেত্রে সে কী করবে সেটাও মনে মনে ভেবে রেখেছিল। সে সোজা কুমিরদের পুকুরটার পাড়ে গিয়ে রোজার নাম ধরে হাঁক দিল। রোজাও সঙ্গে সঙ্গে জল থেকে খড়মড় করে উঠে এসে ল্যাজ আর পেছনের দু-পায়ে ভর দিয়ে সোজা হয়ে বসে পড়ল। সেনর এস্প্লেনডিডো লাঠি উঁচিয়ে পেদ্রোকে তাড়া করে আসছিলেন। পেদ্রো দৌড়ে এসে খাড়া হয়ে বসে থাকা রোজার চারদিকে গোল হয়ে ঘুরতে শুরু করল, পেছন পেছন সেনর।
রোজা দেখল তার পুকুরপাড়ে এসে একটা ধুমসো লোক তার বন্ধুকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করেছে, দেখে সে বেজায় খেপে গিয়ে বিশাল এক হাঁ করে বিদঘুটে একটা ডাক ছাড়ল, রেগে গেলে কুমিরেরা যেরকম আওয়াজ করে। ডাকটা অনেকটা সাপের হিস হিস, মানুষের নাক ডাকার শব্দ, কুকুরের ঘেউ ঘেউ আর শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত মেশালে যেরকম হবে সেরকম।
ডাকটা যদি শুনতে চাও তো চিড়িয়াখানায় গিয়ে কুমিরদের যিনি দেখভাল করেন তাঁকে অনুরোধ করে দেখতে পারো কোনো একটা কুমিরকে একটা খোঁচা মারতে। ভাগ্য ভালো থাকলে কুমিরটা তখন সেরকম আওয়াজ করবে। তবে তুমি নিজে কক্ষনো কুমিরকে খোঁচাতে যেও না। দুটো কারণে। এক, রেলিং-এর ওপর দিয়ে ঝুঁকে খোঁচা মারতে গিয়ে তুমি নিজেই উলটে কুমির ভর্তি পুকুরে পড়ে যেতে পারো। দুই, কোনো নিরাপত্তারক্ষী যদি দেখে ফেলে তুমি কুমিরদের খোঁচাচ্ছ তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিড়িয়াখানা থেকে বার করে দেবে, আর কোনোদিন ঢুকতে দেবে না। ব্যাপারটা ভাবতেও খারাপ লাগছে, যদিও পুকুরে উলটে পড়ে কুমিরের পেটে যাওয়ার মতো অতটা খারাপ নয়। (গল্পটা লেখার পর একদিন চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখি ওরা কুমিরদের পুকুরটা তারজালি দিয়ে ঘিরে দিয়েছে, তাই এখন চাইলেও তুমি সে পুকুরে উলটে পড়তে পারবে না।)
রোজা ছিল কুড়ি ফিট লম্বা একটা অতিকায় কুমির, চিড়িয়াখানায় সাধারণত যেসব কুমির থাকে দৈর্ঘ্যে তাদের প্রায় দ্বিগুণ, চওড়াতেও তাই। বুঝতেই পারছ সে যে বিদঘুটে ডাকটা ছেড়েছিল সেটা কতটা জোর আর ভয়ংকর ছিল। সেই সঙ্গে ওরকম বিরাট একটা হাঁ, ওপর আর নীচের চোয়ালে করাতের মতো ধারালো দাঁতের সারি, ঠিক যেন নরকের দ্বার। সেই দৃশ্য দেখে আর ডাক শুনে সেনর এমনই ঘাবড়ে গেলেন যে টাল সামলাতে না পেরে ঝপাস করে পড়ে গেলেন পুকুরে।
তখন ছিল কুমিরদের খাওয়ানোর সময়। পুকুরের একেবারে কিনারায় এসে বিরাট এক হাঁ করে অপেক্ষা করছিল জোয়াও, রোজার পুরুষ সঙ্গী। পড়বি তো পড়, সেনর গিয়ে পড়লেন ঠিক তার মুখের ভেতর। এত তাড়াতাড়ি জোয়াও তাঁকে খেয়ে ফেলল যে সেনরের মুখের জ্বলন্ত চুরুটে জোয়াও-এর জিভে ছ্যাঁকা লেগে গেল। তবে সেনরের একটা পা সে রোজার জন্য রেখে দিল, পাছে তার ল্যাজের ঝাপটা খেতে হয়!
অতএব, সেনর এস্প্লেন্ডিডোর জীবনের সেখানেই পরিসমাপ্তি। তাঁর সোনার হাতঘড়িটা জোয়াও-এর পেটের ভেতর কতদিন চলেছিল কেউ জানে না। জোয়াও ঘুমোত পুকুরের এক্কেবারে মধ্যিখানে। কুমির ভর্তি পুকুরে নেমে সাঁতরে মাঝখানে গিয়ে বিশাল এক ঘুমন্ত কুমিরের পেটে কান লাগিয়ে ঘড়ির টিক টিক শব্দ শুনবে এরকম কোনো সাহসী লোকের খোঁজ কেউ দিতে পারো আমায়? তাহলে জানা যায় ঘড়িটা চলছে কিনা!
পেদ্রোকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হল, কিন্তু বিচারপতি তার মুখে পুরো ঘটনা শুনে বললেন, “উচিত শাস্তি হয়েছে সেনরের। তোমার কোনো দোষ নেই, তুমি বেকসুর খালাস।”

পরের সপ্তাহে মিঃ ফিশ নামে এক আমেরিকান সাহেব সেনরের বিধবা স্ত্রীর কাছ থেকে রোজাকে কিনে নিলেন এবং পেদ্রোকে তার দেখভাল করার জন্য নিযুক্ত করলেন। পেদ্রো আর রোজা এখন একটা সার্কাসে খেলা দেখায়। রোজা আরও দুটো নতুন খেলা রপ্ত করেছে। সে এখন পাক্কা সাহেবদের মতো মুখে পাইপ টানতে পারে আর বাজনার তালে তালে মাটিতে ল্যাজ আছড়াতে পারে। সেনর এস্প্লেনডিডো পেদ্রোকে যা মাইনে দিতেন পেদ্রো এখন তার পনেরোগুণ পারিশ্রমিক পায়। সে সার্কাস যদি কখনও তোমার শহরে আসে তাহলে দেখতে যেও, ভুলো না।
———-

লেখক পরিচিতি:
জন বার্ডন স্যান্ডারসন হ্যালডেন, সংক্ষেপে জে বি এস হ্যালডেন (জন্ম: ৫ নভেম্বর ১৮৯২, অক্সফোর্ড, ইংল্যান্ড – মৃত্যু: ১ ডিসেম্বর ১৯৬৪, ভুবনেশ্বর, ভারতবর্ষ) ছিলেন একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক। প্রাণিবিদ্যা, বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স, অভিব্যক্তি ও অভিযোজন, গণিত এবং পরিসংখ্যানবিদ্যায় তাঁর বহু মূল্যবান অবদান রয়েছে। বিজ্ঞান ছাড়া দর্শন এবং সাহিত্য জগতেও ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। সংস্কৃতসহ এগারোটি ভাষা জানতেন তিনি। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডনে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা ও গবেষণা করার পর ১৯৫৭ সালে প্রশান্তচন্দ্র মহালানবীশের আমন্ত্রণে কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক ও গবেষক হিসেবে যোগ দেন হ্যালডেন এবং ১৯৬১ সালে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। বিজ্ঞানকে সাধারণের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। জীবনে বহু পুরস্কার তিনি পেয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্রান্সের লিজিয়ঁ দ্য অনার (১৯৩৭) এবং ডারউইন মেডাল (১৯৫৩)। চারশোর ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং অসংখ্য প্রবন্ধ ছাড়া হ্যালডেন বিজ্ঞান, রাজনীতি, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে চব্বিশটি বই লিখেছেন। ‘My Friend Mr. Leaky’ ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর একমাত্র গল্পগ্রন্থ (১৯৩৭) যা থেকে ‘The Snake With The Golden Teeth’ গল্পটি জয়ঢাকের পাঠকদের জন্য অনুবাদ করে দেওয়া হল।

Leave a Reply