কাতুকুতু -অথ গোদো-প্রণব কথা-তাপস মৌলিক-জয়ঢাক৪৯-বর্ষা ২০১৫

katukutu49

‘গোদো’ এবং ‘প্রণব’ তত্ত্ব সারা বিশ্বে একটি বিখ্যাত তত্ত্ব। তার সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই আমার এ লেখার দুরভিসন্ধি।

প্রথমেই বলি ‘গোদো’ আসলে কী তা আমি জানি না। ‘গোদো’ হচ্ছে এমন একজন লোক বা এমন একটি বস্তু যা পেলে আমাদের সবার সমস্ত আশাআকাঙ্খা চরিতার্থ হয়ে যাবে, গুল্মে গুল্মে পুষ্প ফুটবে, পাখিসব রব করবে এবং শুকোনো বাগান আবার সাজবে। এই গোদোকে নিয়ে গত ষাট বছর ধরে সারা বিশ্বে তোলপাড় চলছে। পৃথিবীর সমস্ত শ্রেণীর, সমস্ত বয়েসের লোক নাকি হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছে গোদোকে। খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। কেন পাচ্ছে না সেটা ‘গোদো’-র সংজ্ঞা দেখলেই দিব্যি বোঝা যাবে। ‘n সংখ্যক লোকের একটা দলের মধ্যে (n+1)-তম লোকটি হল গোদো।’ সংজ্ঞা থেকে গোদোর ব্যাপারটা বুঝে ফেলা চাট্টিখানি কথা নয়। এ বুঝতে গেলে উচ্চতর অঙ্কশাস্ত্রের অনেক কচকচির প্রয়োজন। ব্যাপারটা আমি একটু সোজা করে বলার চেষ্টা করছি।

প্রথমে বুঝতে হবে ‘প্রণব’ কাকে বলে। ‘প্রণব’-এর সংজ্ঞা হল – ‘n সংখ্যক লোকের একটা দলের মধ্যে n জনই প্রণব।’ অর্থাৎ কিনা আমরা সবাই এক একজন প্রণব। আমাদের সবার রাম, শ্যাম, ঘটোৎকচ ইত্যাদি ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও সমষ্টিগতভাবে আমরা সবাই প্রণব।

ধরা যাক একটা যাত্রীবোঝাই বাস যাচ্ছে। এখন, বাসের লোকেদের সাপেক্ষে বাসের প্রত্যেক যাত্রীই প্রণব, আর বাসের বাইরের লোকেরা গোদো। আবার যদি বাসের বাইরের বহির্বিশ্বকে একটা system ধরি, তবে বাসের বাইরের লোকেদের সাপেক্ষে ওরা নিজেরা সবাই প্রণব, আর বাসের লোকেরা গোদো। এখন ধরা যাক, একজন বাসে উঠছেন। বাসে ওঠার সেই তাৎক্ষণিক মুহূর্তে, সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সময়ে, তিনি বাসের লোকেদের কাছেও গোদো, আবার বাসের বাইরের লোকেদের কাছেও গোদো। এই সময়কে ধরে integrate করে ‘গোদো’-কে ধরা যেতে পারে। গোদোতত্ত্বের ব্যাপকতা ও জটিলতার আঁচ দেবার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।

পাশাপাশি প্রণব-তত্ত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। প্রণব যদি হয় matter, তবে গোদো anti-matter. And nothing else matters. গোদো-প্রণব সংস্পর্শে ধ্বংস অনিবার্য। বিদেশে গোদো-প্রণব সংঘাত ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদনের চেষ্টাও নাকি শুরু হয়েছে। প্রণব থিওরিতে অঙ্ক কষা খুব সহজ। ধরা যাক, একটা দলে ৬ জন লোক আছে। অর্থাৎ নিজেদের সাপেক্ষে তারা সবাই প্রণব। এখন, আরেকজন আগন্তুক এলে সেও প্রণব হয়ে যাবে। অর্থাৎ, প্রণব + ১ = প্রণব। অর্থাৎ, ১ = ০। এই থিওরিতে পড়াশুনো হয় এমন একটি স্কুল আমাদের এই দুর্গাপুরেই আছে। সে স্কুলে সব প্রণবেরা পড়ে। স্কুলটির নাম ‘প্রণবানন্দ (প্রণব হইয়া আনন্দ) বিদ্যাপীঠ’।

আমরা প্রায়ই দেখতে পাই, কোনও মেশিনের সমস্ত পার্টস খুলে ফেলে আবার জোড়া লাগাতে গেলে একটি পার্ট বাড়তি হয়। এটি হচ্ছে গোদো-পার্ট। এভাবে বিভিন্ন মেশিন বারবার খুলে ও ফিট করে অনেক গোদো-পার্ট ও তা থেকে আস্ত একটি গোদো-মেশিন তৈরি করা সম্ভব। জাপান এব্যাপারে শুনেছিলুম অনেক গবেষণা করছে। জানিনা কদ্দূর কী এগিয়েছে।

সবশেষে একটা উদাহরণ দিয়ে আলোচনা শেষ করব, যাতে ব্যাপারটা হাতের মধ্যে থাকে। অনেকের হাতে দেখবে ছ’টা আঙুল। ষষ্ঠ আঙ্গুলটি হচ্ছে ‘গোদো আঙুল’। ছ’টা আঙুল অবিশ্যি কারো পায়েও থাকতে পারে, কিন্তু একবার যখন ধারণাটা হাতের নাগালে এসেছে, আশা করি হাত ফস্কে সেটাকে আর পায়ে ঠেলবে না।

জয়ঢাকি কাতুকুতু লাইব্রেরি 

Leave a Reply