বয়স:-১৩। শ্রেণি:- সপ্তম। স্কুলের নাম:- গোরাবাজার ঈশ্বর চন্দ্র ইনস্টিটিউটশন (আই.সি. আই)

ফুলতলির মাঠ। কী সুন্দর নাম না জায়গাটার? এই ছোট্ট শহরে একটি মিষ্টি মেয়ে বাস করে যার নাম মিলি। মিলি এখন ক্লাস ওয়ানে পড়ে। এখন সকালবেলা আর সেইসঙ্গে আজ রবিবার, তাই সকাল বেলাতেই প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তে গেছে মিলি। হঠাৎই হাঁফাতে হাঁফাতে কলিং বেল বাজাল মিলি।
ঘরের ভেতর থেকে মা বললেন,”যাচ্ছি।”
কিছুক্ষণের মধ্যেই মা দরজা খুলে দিলেন। মেয়েকে হাঁফাতে দেখে মা জিজ্ঞাসা করলেন,”কী রে মিলু কী হয়েছে তোর? হাঁফাচ্ছিস কেন?”
মিলি একটু দম নিয়ে বলল,”আমি তো এখন ড্রয়িং করতে বসব। তাই স্যারের বাড়ি থেকে দৌড়ে বাড়ি চলে এলাম। আগামীকাল তো ড্রয়িং কম্পিটিশন রয়েছে।”
মা আর কিছু বললেন না। মিলি দৌড়ে পড়ার ঘরে চলে গেল। ড্রয়িং খাতা আর পেন্সিল, কালার পেন্সিল নিয়ে বসে পড়ল। ভাবতে শুরু করল কী আঁকা যায়? হঠাৎই মনে পড়ল পাড়ার ভুলু কে আঁকলে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমন কাজ। দ্রুত আঁকতে শুরু করে দিল মিলি। বিকেলে তিতলি রা জানলার পাশে ডাকতে শুরু করলে ঘুম ভেঙে গেল মিলির।
“আরে!” এতক্ষণ যে আমি ঘুমিয়েই পড়েছিলাম। হাত – পা ধোয়া বা খাওয়াও তো হয়নি। মা – ই বা কোথায়? এতগুলো প্রশ্ন মাথায় নিয়ে মা কে ডাকতে গেল মিলি। রান্নাঘরে মা কে ডাকতে গেল মিলি। রান্নাঘরে মা কে দেখতে পেলে মিলি একটু ধমকের সুরে বলল,”তুমি আমাকে ডাকোনি কেন? ড্রয়িংটাও তো ইনকমপ্লিট থেকে গেল। আমার খাওয়াও তো হয়নি। “
মা কিন্তু রাগলেন না বরং মধুর গলাতেই বললেন,”আসলে তুই তো একটু শুয়ে পড়েছিলিস টেবিলে মাথা রেখে। তাই আর ডাকিনি। এখন বরং একটু কিছু খেয়ে নিয়ে ফুলতুলির মাঠে খেলতে চলে যা।”
মায়ের এই প্রস্তাবে আদুরী মেয়ে মিলি রাজি হয়ে গেল। আর মিলিরা যে মাঠটাতে খেলতে যায় ওটার নামই ফুলতুলির মাঠ। ওই মাঠের নাম অনুসারেই এই শহরটার নাম হয়েছে। মিলি খাওয়া – দাওয়া কোনোরকমে শেষ করে দ্রুত বেড়িয়ে পড়ল খেলতে। কিছুক্ষণ খেলার পর হঠাৎই বাবা কে মাঠের পাশ দিয়ে যেতে দেখে দৌড়ে চলে এল বাবার কাছে। বন্ধুরা বলল,”কী রে মিলি আজ বুঝি আর খেলবি না?”
মিলি চটপট বলে দিল,”না,আজ থাক। কাল খেলব কেমন?”
বাবাকে টেনে হিঁচড়ে পড়ার ঘরে নিয়ে গেল মিলি। অর্ধ-অঙ্কন চিত্রটাকেই বাবাকে দেখাল মিলি। আর সেইসঙ্গে আবদারের সুরে বলে উঠল,”বাবা, তুমিই বাকিটা না হয় শেষ করে দাও কেমন?”
বাবা মেয়েকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। তাই ওই অবস্থাতেই মেয়ের আবদার পূরণ করলেন। মিলি যে ভুলুর ছবিটা আঁকছিল, ওই ছবিটাকেই আরো একটু সুন্দর করে তুললেন বাবা। ছবিটাকে যত্ন করে মিলি রেখে দিল। দেখতে দেখতে রাত কেটে গেল ক্রমশ। পরের দিন ড্রয়িং কম্পিটিশনে ওর আঁকাটা নিয়ে গেল স্কুলে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল ওর আঁকাটাই ফার্স্ট হল কম্পিটিশনের মধ্যে এবং ওর আঁকা টাকেই ক্লাস রুমের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেদিনের বিজয়ী হওয়ার জন্য এতটাই উচ্ছাস হয়েছিল মিলি যে ওয়াটার বটলটা বাড়িতে নিয়ে আসতেই ভুলে গিয়েছিল। পরের দিন সকালে যখন রমামাসি যখন ক্লাস রুমটা পরিষ্কার করছিলেন তখন হঠাৎই ভয় পেয়ে গেলেন ওয়াটার বটলের সামনে ঘেউ ঘেউ করা একটা কুকুর দেখে। আঁতকে উঠলেন তিনি। হেডমিস্ট্রেস কে ডাকলেন রমা মাসি।
হেডমিস্ট্রেস পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখে বললেন,”কই কিছুই নেই তো।”
তবুও রমা মাসি ভয় পেয়েছিল বলে ছবিটাকে খুলে মিলির হতেই দিয়ে দিলেন তিনি। মুড অফ হয়ে গেল মিলির। তার চোখ দিয়ে জলের ধারা বয়ে গেল। তার ও বাবর যৌথ অঙ্কন চিত্রেরই এমন অবস্থা? ছবিটা বাড়িতে নিয়ে গেল না মিলি। ছবিটা তো ভুলুরই তাই ছবিটাকে ভুলুর কাছেই রেখে দিল মিলি। যাকে বলে ভুলুর ছবি ভুলুর কাছে। ভুলু ছবিটাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করল। যতই হোক একটা অন্য কুকুর বলে কথা তাই না?
খুদে স্রষ্টাদের সমস্ত কাজের লাইব্রেরি