ছড়ার পাতা-খানা খাজানা-পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়-বর্ষা২০২৫

এই লেখকের আগের ছড়া- নিপাতনে সিদ্ধ, ডানপিটে, কানাঘুষো

পনেরোটা দইবড়া
খান দুই পরোটা,
কাঁচা লংকার সাথে
এলাচের বড়টা,
সাথে দিয়ে গোটা কুড়ি
ঘিয়ে ভাজা ডালপুরি,
খল-নুড়ি দিয়ে ছেঁচে
কাঁসা থালে ধর ওটা।
ধরেছিস? এর পরে
তাতে দিয়ে তিনখানা,
ফ্রেশ রসুনের বাটা
ম্যারিনেট কর টানা,
এরপরে হাত যেই
ব্যথা হয়ে যাবে, সেই
সে ব্যথাটা ভুলে তাতে
জিরে ছুঁকে ঝোল বানা।
না না, খেয়ে নিস না রে
ওরে ওটা তাড়াতাড়ি,
সব ব্যাপারেই দেখি
তোর বড়ো বাড়াবাড়ি।
আরও আছে, আরও আছে,
বলি না এ কারও কাছে,
তাহলে রেসিপি নিয়ে
পড়ে যাবে কাড়াকাড়ি।
ঝোল যেই গেল হয়ে
ভেজে ফেল গোটা দুই,
বিল থেকে ধরে আনা
টাটকা না, পচা রুই
গন্ধ বেরোলে তাতে,
বুঝবি উঠেছে জাতে,
খেলা আরও জমে যাবে
মেশালে পিটুলি পুঁই।
শেষ নয়, তার সাথে
এক কেজি আলুভাতে,
পাতিলেবু দিয়ে মাখ
টকসানি হয় যাতে,
সঙ্গে ঘিয়ের দলা,
আধকাঁচা পাকা কলা,
যেন সব মিলেমিশে
মণ্ডটা পড়ে পাতে।
জমল না স্বাদে বুঝি?
আরে আরে রাম রাম।
তুই বেরসিক নাকি,
নাই কোনও কামধাম?
শোন, এর সাথে আরও
যেটা খুবই রসে গাঢ়
সেরকম মিশিয়ে দে
হাতে গড়া কালোজাম।
এও যদি মনোমতো
হল না রে, উচ্ছে
কেটে কেটে মিশিয়ে দে
সোজা গাদাগুচ্ছের।
খুশি হয়ে যাবে মন,
নয় সে তো অকারণ,
একবার দেখ শুনে
এ কথাটা তুচ্ছের।
কীরকম খেতে হল
এ কথাটা না ভেবে,
করে দে তা ভাগাভাগি
যত খুশি যে নেবে।
দাম নিবি? উরি বাবা!
তুই দেখি বেড়ে হাবা!
রেসিপি কে দিয়েছে এ
সে জবাব কে দেবে?
আমি থাকি বহুদূরে,
নয় তোর সীমানায়,
মারধোর কী যে খাবি
তার কোনও সীমা নাই।
তাতে আমি যদি হাসি,
ভাববি কি, ভালোবাসি?
ঠ্যালা সামলা রে, তোর
স্বাস্থ্যের বিমা নাই!

জয়ঢাকের ছড়া লাইব্রেরি

Leave a Reply