এই কবির আগের ছড়া- অর্ধেক ভূত

গোঁফখানি তার খ্যাংরা ঝ্যাঁটা মুখ ভর্তি দাড়ি,
বেঁফাস কিছু বলেছ কি ভাঙবে হাটে হাঁড়ি।
কথায় কথায় ঘুসি পাকায় চেঁচায় প্রাণপণে,
‘হবে নাকি দশটা টাকা?’ শুধোয় জনে জনে।
কখন কী যে বলে কোনও মাথামুণ্ডু নাই,
লাফায় ঝাঁপায় দুনিয়া কাঁপায়, দিনরাত খাই খাই।
চলতে গেলে দুলতে থাকে টাকের ওপর টিকি,
হাঁচির সঙ্গে হেঁচকি ওঠে, আরও যে হয় কী কী।
এমনি করে দিন কেটে যায় চিন্তার নাই লেশ,
‘দেখে নিও আমরা কিন্তু জিতবই শেষমেশ।’
এই বলে সে মুচকি হাসে গা জ্বলে যায় রাগে,
এমন জানলে খরচ করে কে আর আসে আগে?
ভাবছ বুঝি কার কথা আজ বলছি ফলাও করে?
তালপাতার ওই সেপাই যে রোজ দাঁড়ায় পাড়ার মোড়ে।
ইশকুলে যে দারোয়ানের ঘণ্টা করে চুরি,
ক্লাস হয় না তাই তো বেজে গেলেও দশটা কুড়ি।
হেডমাস্টার ছুটে বেড়ান প্রাণ যে ওষ্ঠাগত,
ছাত্রেরা সব এদিক-ওদিক দুষ্টুমিতে রত।
নামের কোনও মা-বাপ নেই যার যা খুশি ডাকে,
একটা কিছু হলেই হল, অত কি মনে থাকে?
আসল কথা কেউ বকে না একটাই এর কারণ,
থিয়েটারে অ্যাক্টো করে রাগ করা তাই বারণ।
আসলে সে ছেলে ভালোই জানেন অন্তর্যামী,
ছবি দেখেই চমকে উঠি, আরে! এ যে আমি!
বিদঘুটে এই বদনখানি মেক-আপম্যানের হাত,
পাগলা দাশুর অভিনয়ে বাজার করি মাত।
আবার কখন সাজি মাতাল, টাকওলা পন্ডিত
কিংবা সেজে বদ্যি-হাকিম লোকের করি হিত।
আপিসবাবু, মাস্টারমশাই নেইকো বাছাবাছি,
বিমার দালাল, ভাবুক কবি, সবেই আমি আছি।
যখন যে পার্ট দেয় আমাকে জজ, মোক্তার, গায়ক
বুঝলে না তো? আমি হলাম থিয়েটারের নায়ক।
খারাপ কিছু বললে দাদা চাইছি আমি ক্ষমা,
দশ টাকা আর কোথায় পেলাম? করেই রেখো জমা।
জয়ঢাকের ছড়া লাইব্রেরি