এই লেখকের আগের গল্প-বিপিনবাবু ও হারু নাপিতের ভূত, ছাগলে কী না খায়

বঙ্কুবাবু লোকটি মোটের ওপর খারাপ নন। নাদুসনুদুস, গোলগাল চেহারার বঙ্কুবাবুর সংসারে আছেন তাঁর বিধবা মা, বউ বিভাবরী, ছেলে লাট্টু আর মেয়ে ঘুঁটি। তিনি দশটা-পাঁচটার চাকরি করেন শহরে আর থাকেন ঘুরঘুট্টিপুর গ্রামে। তাঁর গ্রামের এইরকম অদ্ভুত নাম কেন, তা নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলে থাকেন, তবে এই নামটার মধ্যে কেমন যেন একটা ভূত ভূত গন্ধ আছে বলে সবাই মনে করেন। সে যাই হোক, জন্ম থেকে এখানেই তাঁর পড়াশোনা, বড়ো হয়ে ওঠা। এই জন্মস্থানটি তাঁর বড্ড প্রিয়। অফিস পাঁচটায় ছুটি হলে কী হবে, ট্রেন ধরে গ্রামে পৌঁছতে তাঁর সাতটা বেজে যায়। আবার সেখান থেকে বাড়ি পৌঁছতে আরও একঘণ্টা। স্টেশন থেকে বাড়ি আসার একটা শর্টকাট রাস্তা তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির পাশ দিয়েই যায়, কিন্তু বঙ্কুবাবু ভুলেও সেই রাস্তায় হাঁটবেন না। কারণ ছোটবেলার এক ঘটনা। কিন্তু এত কিছুর পরেও শহরে চাকরি পেয়েও তিনি সেখানে যাননি শুধুমাত্র গ্রামের সঙ্গে তাঁর এই প্রাণের টানের জন্য। একমাত্র খবরের কাগজ পড়া ছাড়া তাঁর আর কোনও শখ নেই। হ্যাঁ, এই মোবাইল আর ইন্টারনেটের যুগেও তিনি খবরের কাগজ ছাড়া থাকতে পারেন না। তিনি এখনও সাইকেল চালিয়ে হাটে যান, ঠাকুর-দেবতা, জ্যোতিষে তাঁর বিশাল ভক্তি আর ভূতে তাঁর সাংঘাতিক ভয়। ভূতের ভয় ছাড়া আর অন্য কোনও বাতিক বা দোষ আছে বলে তাঁর অতি বড়ো শত্তুরেও বলতে পারবে না। তবে এই ভূতের ভয় পাওয়ার পেছনে কিন্তু একটা ঘটনা আছে।
একবার হয়েছে কী, সে একেবারে বঙ্কুবাবুর ছোটবেলার কথা—গ্রামের স্কুলে ক্লাস এইটে পড়েন তখন। পাড়ার সবাই আর বন্ধুরা তখন বঙ্কুবাবুকে বঙ্কা বলে ডাকে। একদিন ঘোষপাড়ার গুলটে বলল, “বঙ্কা চল, আজ তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির তেঁতুল গাছ থেকে তেঁতুল চুরি করব।”
তেঁতুলে বুড়ির আসল নাম যে কী, তা কেউ জানত না। বুড়ির বাড়ির বিশাল তেঁতুল গাছের জন্য বুড়ির নাম হয়ে গিয়েছিল তেঁতুলে বুড়ি। ওই তেঁতুল বিক্রি করেই বুড়ির একার সংসার চলত। থাকার মধ্যে বিশাল জমির মধ্যে দুই কামরার একটা ঘর। আত্মীয়স্বজন কেউ ছিল কি না তাও গ্রামের লোকেরা জানত না। বুড়ির বাড়িতে পারতপক্ষে কেউ যেত না, তবে ছেলেছোকরারা তেঁতুল চুরি করতে যেত। বুড়ির খ্যানখ্যানে গলা, শনের নুড়ির মতো চুলে উঁচু করে ঝুঁটি বাঁধা, ফোকলা দাঁত আর দড়ির মতো রোগা চেহারা দেখে যেসব ছেলেরা ভয় পেত তাদের মধ্যে বঙ্কুবাবু ছিলেন একজন। ছিলেন বললে অবশ্য ভুল বলা হবে। যদিও বুড়ি এখন বেঁচে নেই, তবে তিনি এখনও বুড়িকে মানে বুড়ির ভূতকে বেশ ভয় পান।
সেদিন তো তেঁতুলের লোভে গুলটের লিডারশিপে পাঁচজন মিলে বেরোলেন চুরি করতে। ভরদুপুর, চারদিক শুনশান। তেঁতুলে বুড়ির বাড়িতে পৌঁছে বঙ্কুবাবুকে নীচে পাহারায় রেখে বাকি চারজন গাছে উঠল। আর ঠিক সেই সময় বুড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে এল।—“ক্যা রে? ক্যা? তোরা কি আমায় একটু জিরোতেও দিবি না?” বলতে না বলতেই বুড়ি নীচে দাঁড়ানো বঙ্কুবাবুকে দেখতে পেয়েই খপাৎ করে তাঁকে ধরে বললে, “চুরি করা হচ্ছিল? আমি বেঁচে থাকতে আমার বাড়ি থেকে কেউ একটা কুটো পর্যন্ত নিতে পারবি না। আমি যদি মরেও যাই তাহলেও তোরা আমার বাড়ির ধারেকাছে এলে ভূত হয়ে তোদের ঘাড়ে চাপব।”
বুড়ির এইরকম হুমকি শুনে সবাই তো পড়ি কি মরি করে পালিয়েছিল, কিন্তু বঙ্কুবাবুর সেদিন শুধু মনে হচ্ছিল বুড়ি তো তাঁকেই ধরে কথাগুলো বলল, যদি সত্যিই ভূত হয়ে তাঁর ঘাড়ে চাপে! ভগবানের কাছে হাতজোড় করে সেদিন বঙ্কুবাবু প্রার্থনা করেছিলেন যে বুড়ি যেন এখন অনেকদিন বাঁচে। কিন্তু বিধি বাম। পরের দিন সকালে খবর পাওয়া গেল যে তেঁতুলে বুড়ি সেই তেঁতুল গাছের তলায় মরে পড়ে আছে। সাতসকালে বুড়ি তেঁতুল গাছের তলায় কী করছিল, তা নিয়ে গ্রামের লোকেরা অনেক জল্পনাকল্পনা করল এবং শেষ পর্যন্ত সবাই এটাই সিদ্ধান্ত এল সবাই যে বুড়ি এবার থেকে ওই তেঁতুল গাছেই বাসা বাঁধল। বুড়ির কেউ ছিল না বলে গ্রামের লোকেরাই চাঁদা তুলে তার শ্রাদ্ধশান্তি করলে, কিন্তু ভুলেও আর কেউ সেই তেঁতুল গাছের তেঁতুল চুরি করতে যেত না। তবে বুড়ির বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াত সবাই করত, কারণ স্টেশন থেকে গ্রামে ঢোকার ওটাই শর্টকাট রাস্তা। তবে ওই পাশের রাস্তায় কেউ কোনোদিন বুড়ির ভূত দেখেছে, এমনটা শোনা যায়নি।
কিন্তু বঙ্কুবাবুর ধারণা যে বুড়ি ওইখানেই আছে, কারণ বুড়ি একদিন বঙ্কুবাবুকে আর একটু হলেও ধরে ফেলেছিল আর কি। এটা সেই ছোটবেলার বুড়ি মারা যাওয়ার কিছুদিন পরের ঘটনা। বর্ষার সময়। সকাল থেকেই হালকা হালকা বৃষ্টি পড়েই চলেছে। বঙ্কুবাবুর বাবার সেদিন স্টেশনে ট্রেন ধরতে হবে, সঙ্গে রয়েছে ভারী সব জিনিসপত্র। তাই বাবার ভার কিছুটা লাঘব করার জন্য বঙ্কুবাবুকেও যেতে হয়েছিল বাবার সঙ্গে স্টেশনে। যাবার সময় তো সঙ্গে বাবা ছিলেন, কিন্তু ফেরার সময় তো একা। একবার ভাবলেন ঘুরে-ঘুরেই যাই, বাড়ি ফিরতে সময় লাগে তো লাগুক। কিন্তু আবার এই বৃষ্টির মধ্যে এতটা রাস্তা জলকাদার মধ্যে যেতে হবে ভেবে তিনি ভেবেছিলেন যে দিনের বেলায় তো আর ভূত-পেত্নীরা বেরোয় না, তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির সামনের রাস্তা ধরেই চলে যাই। কিন্তু ওই রাস্তায় ঢোকার মুখেই নামল মুষলধারে বৃষ্টি। আকাশ কালো করে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এল। আর সেই সময় বঙ্কুবাবু ঠিক তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির তেঁতুল গাছের সামনে। ঠিক তেঁতুল গাছের সোজাসুজি রাস্তার দুই ধারে বেশ কতগুলো দেশি খেজুরের গাছও ছিল। খেজুর গাছ যদিও ওই বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য খুব একটা কাজের নয়, তবুও গাছগুলো পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একটু ঘন হওয়ায় বৃষ্টিতে আর এগোতে না পেরে বঙ্কুবাবু সেই খেজুর গাছের তলাতেই দাঁড়ালেন। কিন্তু খেজুর গাছের তলায় কি আর ওই বৃষ্টি মানে? আর সামনে তাকালেই সেই বুড়ির তেঁতুল গাছ। কী জানি, বুড়ি গাছের ওপর থেকে বঙ্কুবাবুকেই লক্ষ করছে কি না; সেদিন তো তাঁকেই বুড়ি বলেছিল যে ভূত হয়ে ঘাড়ে চাপবে। এই কথা চিন্তা হতেই ‘যা থাকে কপালে’ বলে বঙ্কুবাবু খেজুর গাছের তলা থেকে ছুট লাগাবেন ভাবছেন, এমন সময় কে যেন পিছন থেকে তাঁর জামাটা টেনে ধরেছিল। ভয়ে তো তখন তিনি কাঠ—এ নিশ্চয়ই তেঁতুলে বুড়ি। সেদিন তেঁতুল চুরি করার জন্য এবার দেবে তাঁর গলাটা টিপে। আর কিছু ভাবতে পারেননি বঙ্কুবাবু, মাথা ঘুরে সেখানেই পড়ে গিয়েছিলেন। জ্ঞান এলে দেখলেন যে তিনি গ্রামের বুড়ো বটগাছের বাঁধানো চাতালে শুয়ে আর তার মুখের ওপর অনেকগুলো কৌতূহলী মুখ ভিড় করে আছে। সেই ভিড়ের মধ্যে গুলটেও ছিল। গুলটে জিজ্ঞেস করল, “কী রে বঙ্কা, মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলিস নাকি ওখানে? আমি আর রামা ওদিক দিয়েই আসছিলাম, তখন তোকে দেখতে পেয়ে ধরাধরি করে নিয়ে এলাম।”
গুলটের কথা শুনে বঙ্কুবাবু তখন শুধু বলতে পেরেছিলেন, “ভূ-ভূ-ভূত।”
“ভূত? কোথায় ভূত?” গুলটে জিজ্ঞেস করেছিল।
“তেঁতুলে বুড়ির ভূত, আমার জামা টেনে ধরেছিল।”
এই কথা শুনেই একটু ভেবে গুলটে হো হো করে হেসে ওঠে।—“আরে বঙ্কা, তুই নিজের মনে-মনেই ভূত ভেবে নিয়েছিস। তেঁতুলে বুড়ির ভূত, থুড়ি পেত্নীর কি আর কোনও কাজ নেই যে তোর জামা টেনে ধরবে ? শোন, তুই খেজুর গাছের সামনে দাঁড়িয়েছিলি, ওখানেই খেজুর গাছের কাঁটায় তোর জামা আটকে গিয়েছিল। আর তুই কিনা ভাবলি যে তেঁতুলে বুড়ি তোর জামা টেনে ধরেছে!”
গুলটের কথা শুনে সবাই হেসেই খুন আর বঙ্কুবাবু তো লজ্জায় লাল।
সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও নিজের ওপর প্রচণ্ড রাগ হয় বঙ্কুবাবুর। তবে তার মানে এটা কিন্তু একেবারেই নয় যে তিনি তেঁতুলে বুড়ির ভূতের কথা বিশ্বাস করা ছেড়ে দিয়েছেন। এখনও তিনি অফিস থেকে ফেরার সময় ঘুরে-ঘুরেই আসেন, ভুলেও তিনি তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির সামনে দিয়ে আসেন না।
সেদিন মাসের প্রথম শনিবার, অফিস সেদিন দুটো পর্যন্ত। শ্রাবণ মাস, সকাল থেকেই ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়েই চলেছে। অফিস দুটোয় ছুটি হলে কী হবে, ট্রেন লেট থাকার জন্য বঙ্কুবাবু যখন গ্রামের স্টেশনে নামলেন তখন সন্ধ্যা নামছে। বৃষ্টির জন্য চারপাশে লোকজন নেই বললেই চলে। ব্যাগ থেকে ছাতাটা নিয়ে স্টেশন থেকে বেরোনোর সময় বঙ্কুবাবু খেয়াল করলেন যে একদম শেষের বেঞ্চের ওপর হরিহরবাবু বসে আছেন। হরিহরবাবু তাঁদের গ্রামেরই লোক। বয়স হয়েছে, তবে বেশ ডাকাবুকো। ভূতে তিনি একদম বিশ্বাস করেন না। এই বৃষ্টিবাদলার ছমছমে সন্ধ্যায় হরিহরবাবুর মতো একজনকে সঙ্গী হিসাবে পাওয়া গেছে ভেবে বঙ্কুবাবু একটু খুশিই হলেন।
“কী হল হরিহরবাবু, আপনি এখন এখানে বসে আছেন? কেউ আসবে নাকি?”
“না, না। কে আর আসবে? তা আপনি কি বাড়ি ফিরছেন? চলুন, আপনার সঙ্গেই আমিও বাড়ির দিকে যাই।”
হরিহরবাবুর প্রস্তাবে খুশিই হলেন বঙ্কুবাবু। এতটা রাস্তা একা একা আর তাঁকে যেতে হবে না। কিন্তু স্টেশন থেকে বেরিয়ে যেই বঙ্কুবাবু সেই ঘুরপথে উঠতে যাবেন, সঙ্গে সঙ্গে হরিহরবাবু বললেন, “সে কি মশাই, আপনি এত ঘুরে ঘুরে বাড়ি যান? এই তো শর্টকাট রাস্তা রয়েছে, এই বৃষ্টিতে এত ঘুরবেন কেন?”
বঙ্কুবাবু তার উত্তরে চুপ করে আছেন দেখে হরিহরবাবু মুচকি হেসে বললেন, “আপনি তেঁতুলে বুড়িকে এখনও ভয় পান বুঝি? আরে মশাই, আজ আপনাকে এমন সাহস দিয়ে দেব যে এরপর থেকে ভূত নিয়ে আপনার ধারণাই বদলে যাবে। চলুন আমার সঙ্গে।”
হরিহরবাবুর জোরাজুরিতে বঙ্কুবাবু আর কিছু বলতে পারলেন না, একটু কিন্তু কিন্তু করে তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির দিকের রাস্তায় পা বাড়ালেন।
“আপনি যখন সঙ্গে রয়েছেন তখন আর ভয় কী?” বঙ্কুবাবু একটু যেন আশ্বস্ত হয়ে হরিহরবাবুকে বললেন।
“সেই তো, ভয় কী? ভূতকে আবার ভয় কী? আরে বাবা, ভূতও মানুষের মতোই। শুধু ভূত হলে শরীরটা একটু ধোঁয়ার মতো হয়ে যায়, এই আর কি? চলুন, চলুন, পা চালান, ওই তো তেঁতুলে বুড়ির বাড়ি চলে এল বলে।”
হরিহরবাবু কথার সঙ্গে সঙ্গে যেন ছুটছিলেন। বৃষ্টির জল যেন তাঁর গায়ে লাগছিলই না। বঙ্কুবাবু একহাতে ছাতা আর একহাতে ব্যাগ নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে তাঁর সঙ্গে যেন পেরে উঠছিলেন না। এর মধ্যে হরিহরবাবু তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির কথা বলায় বঙ্কুবাবুর পা যেন যেখানে ছিল সেখানেই আটকে গেল।
“ও হরিহরবাবু, একটু আস্তে হাঁটুন, আমি যে আপনার সঙ্গে পেরে উঠছি না।”
“এই তো আমি আপনার পাশেই রয়েছি।” বঙ্কুবাবুর একদম পাশ থেকে হরিহরবাবু বলে উঠলেন।
এই তো একটু আগেই বঙ্কুবাবুর মনে হয়েছিল উনি অনেকটা এগিয়ে গেছেন, কিন্তু উনি তো পাশেই রয়েছেন। বঙ্কুবাবু ভাবলেন যে এত বৃষ্টির মধ্যে এই অন্ধকারে তিনি ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেননি।
“এই দেখুন, কথা বলতে বলতে তেঁতুলে বুড়ির বাড়ির সামনে চলে এসেছি। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন যে তেঁতুলে বুড়ি এখন তেঁতুল গাছে বসে পা দোলাচ্ছে আর সুযোগ পেলেই আপনার ঘাড় মটকাবে? আরে না মশাই, না। ভূত বলে কি তাদের ঘাড় মটকানো ছাড়া অন্য কোনও কাজ নেই? ওসব আপনাদের মতো মানুষদের বানানো।”
বঙ্কুবাবুর মুখে তখন কোনও কথা সরছে না। কোনোরকমে ঢোঁক গিলে বললেন, “আসলে আমি তো আপনার মতো সাহসী নই, আর ভূতেদের নিয়ে আমার এত কথা জানাও নেই।”
“আরে, আমিও কি আগে এত কথা জানতাম?”
“আগে জানতেন না? কবে থেকে জানলেন?” বোকার মতো প্রশ্ন করেন বঙ্কুবাবু।
“এই তো, আজ সকাল থেকে। ওই তো, আমার ভাগনে ভন্তুকে ট্রেনে তুলে দিতে এসেছিলাম। তখন ওখানেই কেমন যেন বুকে একটু ব্যথা হল, সব কেমন ধোঁয়া-ধোঁয়ামতো হয়ে গেল। তার বেশ কিছুক্ষণ পর দেখলাম শরীরটা দিব্যি হালকা ঝরঝরে লাগছে, একদম পালকের মতো হালকা। সেই তখন থেকে স্টেশনেই ঘুরপাক খাচ্ছিলাম, বেরোনোর রাস্তাটা কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছিল। তেঁতুলে বুড়ির সঙ্গেও দেখা হল। ও এখন স্টেশনেই আছে। এই বৃষ্টিতে ও গাছে থাকে না। তারপর আপনার সঙ্গে দেখা হল। আপনি বাড়ি যাওয়ার কথা বললেন, তখন আপনার সঙ্গে বেরিয়ে এলাম। আপনি আমার উপকার করলেন, তাই আমিও আপনাকে সঙ্গে করে তেঁতুলে বুড়ির বাড়িটা পার করে দিলাম। তাই তো বলছিলাম যে ভয় পাবেন না। তেঁতুলে বুড়ির ভূত এখন স্টেশনে আছে। আপনি ওর বাড়ির সামনে দিয়ে নিশ্চিন্তে যেতে পারেন। আপনাকে ট্রেন থেকে নামতে দেখেই বুড়ি আমাকে বলছিল, বঙ্কু আমাকে এখনও ভয় পায়। ওইজন্যই তো আমি এলাম, যাতে আপনার আর ভয় না লাগে।”
বঙ্কুবাবু হরিহরবাবুর শেষের কথাগুলো আর পরিষ্কার শুনতে পেলেন না। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগে তিনি বেশ বুঝতে পারলেন যে তেঁতুলে বুড়ির বাড়ি তিনি নিরাপদে পার করে এসেছেন ঠিকই, কিন্তু যাঁর সঙ্গে তিনি এতটা রাস্তা এলেন, তিনি হরিহরবাবু নন, হরিহরবাবুর ভূত।
এই গল্পটা আমার দারুণ পছন্দ হয়েছে। পড়েও শুনিয়েছি আমার বাচ্চাকে।