
নতুন জায়গা মানেই নতুন সব মানুষজন আর গল্প। তাই ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে গেল পুপের। ঘরে আটকা পড়ে থাকতে কার ভালো লাগে? কয়েক সপ্তাহ আগে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগার পর থেকেই সে বাড়িতে থাকছে। মা তাকে ইশকুলে পাঠাতে ভরসা পাচ্ছে না। এদিকে শুধু বই পড়ে আর ছবি এঁকে সময় কাটছে না। কোনও খেলার সাথী নেই কাছাকাছি। বারোতলা ফ্ল্যাটের বারান্দায় বসে থাকলে শুধুই কতগুলো ছোটো-বড়ো বাড়ি দেখা যায়। কিছুটা দূরে একটা কীসের যেন কারখানা আছে, চিমনি দিয়ে বগবগিয়ে ধোঁয়া বেরোয় দিনরাত। একটা দুটো গাছ চোখে পড়লেও, তাদের পাতা একটুও নড়ে না। সন্ধের পর সামান্য বাতাস জানালা দিয়ে ঢোকে ঠিকই, কিন্তু সেটাও সব দিন নয়। এ-সবের মাঝে এমনিতেই দমবন্ধ হয়ে যায় পুপের।
হয়েছে কী, পুপেকে ক’টা দিন কোথাও রেখে আসবার প্রস্তাব দিয়েছে মাসিমণি। মা তাতে রাজি। পুপের মেসোর এক আত্মীয় থাকেন দূর-পাহাড়ে। যাওয়ার সব ব্যবস্থা হয়ে গেল কয়েক দিনেই। পুপের সঙ্গে যাবে মাসিমণি। সেখানে দুটো দিন কাটিয়ে মাসিমণি ফিরে আসবে কলকাতায়। সপ্তাহ খানেক পরে পুপেকে ফিরিয়ে আনবে মা। ঝটপট নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিল পুপে। মায়ের দেওয়া নতুন দুটো বইও ব্যাগে পুরল। একটি বই নিল গেইম্যান-এর ছবিতে গল্প ‘কোরালিন’ এবং অন্যটি সত্যজিৎ রায়ের ‘সেরা সত্যজিৎ’। আর নিয়েছে তার হলুদ ডায়েরিটি। ক্লাস ফাইভের মেয়ে পুপে কি ছোটো আছে আর? সে এখন হাই-স্কুলে পড়ছে। দিদুন যে গল্পগুলো শোনাত, সেখানেও তো ছোটো রাজপুত্ররা কত কত জায়গায় পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চেপে ঘুরে বেড়াত। তবে সে কেন মা-বাবাকে ছেড়ে থাকতে ভয় পাবে মিছিমিছি!
পুপে যাচ্ছে ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম প্যারেন-এ। সেখানে আছে দুরন্ত এক পাহাড়ি নদী—জলঢাকা। আর সে-নদীর উপত্যকাতেই গ্রামটা পাহাড়ের কোলে ধাপে ধাপে ঢেউ খেলে ওপরের দিকে উঠে গিয়েছে। নদীর অন্য পাশে আছে উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের ওপারে অন্য এক দেশ, যাকে আমরা ভুটান বলি। নদীর পাড়ে, পাহাড়ের গায়ে পাইন, দেবদারু, রডোডেনড্রন ইত্যাদি গাছের রাজত্বের মাঝে রয়েছে অচেনা রঙিন বুনোফুল আর ফার্নের ঝোপ।
নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন থেকে অনেকটা পথ তাদের গাড়িতে যেতে হচ্ছে। পুপের গাড়ি চড়ার অভ্যাস আছে। শহরাঞ্চল পেরোলে মাসিমণি গাড়ির কাচ নামিয়ে দিয়েছিল। গাড়ি যত ডুয়ার্সের বনাঞ্চলে প্রবেশ করেছে, বিশুদ্ধ বাতাস ফুসফুসে টেনে নিয়েছে পুপে।
চলার পথে একজায়গায় গাড়িটা থেমেছিল। একটি হাতি বড়ো গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল সেখানে। পুপে নেমে খুব কাছ থেকে হাতিটিকে দেখল। মাসিমণি বলল, “দেখেছিস পুপে, চিড়িয়াখানার হাতিদের চাইতে এই হাতিটা কত বেশি তরতাজা?”
“কিন্তু মাসিমণি, ওকে যে বেঁধে রাখা হয়েছে।”
“ও এখানকার বনদপ্তরের পোষা হাতি, বুঝলি। হয়তো একটু পরে বনের মধ্যে নিয়ে যাবে, আর তখন পায়ের বেড়ি খুলে দেবে। এখানে কেউ পশুপাখিদের কষ্ট দেয় না।”
“আরও অনেক হাতি আছে এখানে?”
“অনেক আছে। শুধু হাতি কেন, চিতা, বাইসন আর হরিণ আছে। ময়ূর ও বাঁদর আছে।”
“আমি তবে ওদের রোজ দেখতে পাব?”
“উঁহু, আমরা যেখানে যাচ্ছি, সেখানে ওরা নেই। তবে তুমি ময়ূর দেখতে পাবে। শুনেছি ভল্লুক আছে। তবে লোকালয়ে তারা আসে না খুব একটা।”
“আমি তা’লে ওখানে যাব না।”
“বোকা মেয়ে, বনের মধ্যে কারও বাড়ি থাকে বুঝি? তোর মা যখন তোকে নিতে আসবে, বলবি ফরেস্ট ঘুরিয়ে দেখাতে।”
দেখতে দেখতে পুপেরা পৌঁছে গেল দোতলা ছোট্ট বাড়িটায়। বাড়ির সামনে কতরকমের ফুলের গাছ। কাচের জানালাগুলো ভারি সুন্দর। পুপের ঘরটা দোতলাতেই। জানালার পাশে বিছানা। পরদা সরালেই পাহাড় আর গাছ দেখা যায়। আবার নীচে বয়ে চলেছে জলঢাকা। এরকম নদী পুপে আগে কখনও দেখেনি। জলের নীচে নুড়ি বিছানো, আবার জলের মধ্যে থেকে মাথা তুলেছে অনেক বড়ো বড়ো পাথরের চাঁই। বোল্ডার বলা হয় ওগুলোকে। জল তাতে ধাক্কা খেয়ে স্রোতের শব্দ তীব্র করে তুলছে। ঘরে ঢুকে জানালার বাইরে তাকিয়ে এক নিমেষে মন ভালো হয়ে গেল পুপের।
(২)
শোঁ-শোঁ-শোঁ-শোঁ-শোঁ…
রিরিং-রিরিং-রিরিং-রিরিং-রিরিং…
টুপ-টুপ-টুপ-টুপ-টুপ…
কুর-কুর-কুর-কুর-কুর…
ক্যঁয়া-ক্যঁয়া-ক্যঁয়া-ক্যঁয়া-ক্যঁয়া…
মাসিমণি কলকাতায় ফিরে গিয়েছে। তাতে একটুও অসুবিধা হচ্ছে না পুপের। বাড়িটাতে সে ছাড়া আরও দুজন আছেন। তাঁদের নাম পুপে দিয়েছে—পাহাড়বুড়ো আর পাহাড়বুড়ি। পাহাড়বুড়ো ভীষণ মজার দাদু। তিনি নাকি এককালে সৈনিক ছিলেন। অবসরের পর এখানে বাড়িটা খুব শখ করে বানিয়েছেন। সম্পর্কে তাঁরা মেসোর কাকা-কাকিমা হন। পুপের আগমনে ভীষণ খুশি হয়েছেন। পাহাড়বুড়ো এই ক’দিনে তাকে কয়েকটি ভূতের গল্প বলেছেন। আর পাহাড়বুড়ি যে কী সুন্দর রান্না করেন, যে-কোনো স্তুতিবাক্য কম পড়ে যায়! পুপে ঠিক করেছে, মা এলে পাহাড়বুড়ির বিশেষ কয়েকটি রান্না শিখে নিতে বলবে।
কলকাতার ধোঁয়াশা, গরমের কষ্ট এখানে নেই। হালকা ঠান্ডা থাকে দিনের বেলায়, বিকেল গড়ালেই গায়ে সোয়েটার চাপাতে হয়। মাঝে-মধ্যে মেঘ করে বৃষ্টি নামে।
দুটো বইয়ের মধ্যে ‘কোরালিন’ পুপে পড়ে ফেলেছে। আবার ‘সেরা সত্যজিৎ’ থেকে অনেকগুলো গল্পও পড়া হয়ে গিয়েছে তার। ‘সুজন হরবোলা’ পড়ে ভালো লেগেছে। হরবোলারা কণ্ঠে কতরকমের শব্দ করতে পারে! গল্পটা পড়ার পর থেকে পুপে চেষ্টা করছে প্রকৃতির নিজস্ব শব্দগুলো মন দিয়ে শোনার। কলকাতার রাস্তাঘাটে গাড়ির আওয়াজ, মানুষের কোলাহলে কোনও সুর থাকে না। কিন্তু পাহাড়ি গ্রামের নিস্তব্ধতার মাঝে বেজে ওঠে কত কত সুর। এখনও পর্যন্ত পুপে পাঁচটি শব্দের কথা ডায়েরিতে লিখে রেখেছে। যেমন, দোতলার একাংশের টিনের চালে কুয়াশা ঘন হয়ে ঝরে পড়লে নির্দিষ্ট লয়ে শব্দ হয় ‘টুপ-টুপ-টুপ’; আবার বৃষ্টির সময় এটাই আরও দ্রুততার সঙ্গে ধ্বনিত হয়। নদীটার স্রোতের শব্দ নিশ্চুপ রাতে বিছানায় শুয়ে শুনলে পুপের মনে হয়, কারা যেন ঘুমপাড়ানি কোরাস গাইছে। তবে ‘ক্যঁয়া-ক্যঁয়া-ক্যঁয়া’ শব্দটা মোটেও মিষ্টি নয়। প্রথমবার শুনে তার গা ছমছম করে উঠেছিল। পাহাড়বুড়িকে জিজ্ঞেস করাতে বলেছেন, “এই শব্দটা তুমি এখানে রোজ শুনতে পাবে। তবে ভয় পেও না। ময়ূরের ডাক। একটু কর্কশ হয়।”
প্যারেনে আসার পর সে এখনও ময়ূর দেখেনি। আসলে খুব একটা বাইরে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। যে-ক’টা দিন মাসিমণি ছিল, সবসময় তাকে নজরে রাখত। তারপর পুপে নিজেও বই পড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে দু’-একবার পাহাড়বুড়োর সঙ্গে ঝালং বাজারে ঘুরে এসেছে। ছোটো ছোটো কয়েকটি দোকান রয়েছে। তবে রোজকার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়া যায়। শাকসবজি আসে গাড়ি করে, দূর থেকে। এছাড়া সে পাহাড়বুড়ির সঙ্গে ছোটো চার্চ আর মনাস্টেরিতে ঘুরে এসেছে। চারদিকটা বড়োই শান্ত ও স্নিগ্ধ। জলঢাকা ছাড়াও আর একটা ছোটো নদী ও ঝরনা আছে। ছোটো নদীটার ওপর যে ব্রিজ আছে, তার ওপর দাঁড়ালে নদীটাকে রূপকথা মনে হয়। কে যেন পাথর দিয়ে নদীপথ সাজিয়ে দিয়েছে। আর তার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে সরু জলরেখা কুল কুল করে। আবার আচমকা এদিক-সেদিক পাখি ডেকে ওঠে—কুর-কুর-কুর… কলকাতায় পুপে সবচে’ বেশি শুনতে পেত কাকের কা-কা ডাক।
তবে ফোফো না থাকলে এখানেও বড্ড একা একা লাগত পুপের। প্রথম দিনেই ফোফোর সঙ্গে বেশ ভাব জমে গিয়েছিল তার। লোমওয়ালা ছোট্ট মিষ্টি কুকুর এই ফোফো। লেজটা দোলালে ঝাড়ুর মতন দেখতে লাগে। ওকে দেখলেই পুপের টিনটিনের পোষ্য খুদে কুট্টুসের কথা মনে পড়ে। সে যেখানে যাবে, তার সঙ্গে সঙ্গে যাওয়া চাই ফোফোর। ফোফোকে খুবই ভরসা করেন বুড়ো-বুড়ি। অবশেষে ফোফোর জন্যই বলা যায়, পুপে একা একা আশপাশটাতে যাওয়ার অনুমতি পেল। এমনিতে প্রতিবেশীরা এই দুজন বুড়ো-বুড়িকে চেনেন এবং খুব ভালোবাসেন। তাই পুপে বাইরে গেলেও তাঁদের বিশেষ চিন্তার কারণ ছিল না।
বাড়িটাকে প্রথম দিন দেখে পুপের বেশ অদ্ভুত মনে হয়েছিল। এটা কেমন বাড়ি! দোতলার বারান্দা থেকে বেরোলেই পাকা রাস্তা, আবার নীচের তলা দিয়ে কিছুটা হাঁটলেই একেবারে নদীর পাড়। পরে সে খেয়াল করেছে, গ্রামের অধিকাংশ বাড়িই এরকমভাবে তৈরি পাহাড়ের ধাপ কেটে।
নীচের তলার ছোটো উঠোনটা পেরিয়ে দুটো বড়ো পাথরের চাঁই রয়েছে। সেগুলোর মাঝখান দিয়ে একটা পাথুরে রাস্তা বৃত্তাকারে ঘুরে গিয়ে নদীর ধারে নেমে যায়। তারপর বাঁদিকে পাথরের ওপর পা ফেলে অনেকটা পথ যাওয়ার একটা পায়ে-চলা রাস্তা আছে। পুপে সে-রাস্তাটা ধরে চলেছে ফোফোর সঙ্গে। ফোফো আগে আগে এগিয়ে যাচ্ছে, আর সে পিছনে। ফোফো যেন পুপের গাইড। এভাবে পাথর ভেঙে হাঁটতে হাঁটতে তারা অনেকটা পথ চলে যায়। কিন্তু পুপের এতে একটুও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে না। অথচ সে সিঁড়ি ভেঙে ওঠা-নামা করতে পারত না। পুপের মনে হল, ভেতরের খারাপ রোগটা তাকে যেন ছেড়ে গিয়েছে। কথাটা ভেবে মনে মনে আনন্দ পেল। এই খুশিতে ফিরে গিয়ে মাসিমণিকে একটা বই উপহার দেবে। মাসিমণি মাকে না জানালে তার তো এখানে আসাই হত না।
যাই হোক, একটা জায়গার পর শুরু হল চড়াই। নদীটা হালকা বাঁক নিয়ে খানিকটা নীচে নেমে গিয়েছে, আর পথটা পাহাড়ের দিকে উঠেছে ক্রমশ। ফোফো লেজ নাড়িয়ে তরতর করে উঠে গেল। কিন্তু এ-জায়গাটা চড়তে পুপের সামান্য সমস্যা হচ্ছে। আসলে যারা আমাদের মতন সমতলে থেকে অভ্যস্ত, তাদের পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটতে কষ্ট হয়। পুপে লম্বা শ্বাস টেনে বলল, “ফোফো, দাঁড়া রে। আমাকে রেখে এগোস না।”
ফোফো কী যে বুঝল কে জানে, তবে মনে হয় বুড়ো-বুড়ির সঙ্গে থেকে সে নেপালি ভাষার পাশাপাশি একটু একটু বাংলা শিখে নিয়েছে। ফোফো উত্তর দিল, “ঘো-উ ঘো-উ, উ-উ-উ-ই।” অর্থাৎ, ‘পুপে তুমি এসো, আমি অপেক্ষা করছি।’
হঠাৎই কোথা থেকে পুপের পেছনে দমকা হাওয়া উঠল। সে যেন প্রায় বাতাসের পিঠে চেপে পাকদণ্ডির চড়াই বেয়ে ফোফোর কাছে পৌঁছে গেল। হাওয়াতে ফোফোর গায়ের লোম হুশহাশ উড়ছে। পুপে হাওয়ার দিকে মুখ ঘুরিয়ে চাইতেই দেখল, তারই বয়সি একটি ছেলে মিটিমিটি তাকিয়ে রয়েছে। পুপে কিছু বলার আগে সে নিজেই বলল, “কী সুন্দর হাওয়াটা, তাই না?”
পুপে ভূতের গল্প, রহস্য গল্প অনেক পড়েছে। ছেলেটিকে দেখে তার সন্দেহ হল। ভূত নয় তো? না, তা হবে কী করে? অচেনা কিছু দেখলে সাধারণত কুকুররা অস্বাভাবিক আচরণ করে। কিন্তু ফোফো আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে, যেন সে ছেলেটিকে চেনে। আর সত্যি করেই ফোফো ছেলেটিকে চেনে। ফোফো ছুট্টে গেল ছেলেটির দিকে, আর দু-পা তুলে দিল গায়ের ওপর। ছেলেটিও ফোফোর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিচ্ছে।
পুপের চিন্তা কিছুটা কমল বইকি। তবু সন্দেহ যাচ্ছে না, কারণ যারা খারাপ হয়, তারা এলাকার পোষ্যদের আদর করে এবং খাবার দিয়ে বশ করে নেয় আগে থেকে। কটমট দৃষ্টিতে ছেলেটিকে দেখে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল পুপে, “কে তুমি? দেখে মনে হচ্ছে তুমি এখানকার কেউ নও। তবে? আমাদের পিছু নিয়েছ কেন?”
ছেলেটি পুপের রাগ দেখে খিলখিল করে হাসে।—“তুমি তো খুব রেগে গেলে দেখছি! ভয় পেও না আমাকে। আমি মরুত। তোমার মতনই এখানে ঘুরতে এসেছি।”
মরুত? এ কেমন অদ্ভুত নাম! পুপে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “কিন্তু তোমাকে তো এদিকে আসতে দেখলাম না। হাওয়ায় উড়ে এলে বুঝি?”
ছেলেটা শরীর দুলিয়ে হেসে ওঠে এবার।—“কী বোকা মেয়ে তুমি! আরে, আমি তো হাওয়াই। মরুত মানে জানো? হাওয়া।”
“বিচ্ছিরি নাম। তা তুমিও কি আমার মতো একা এসেছ?”
“না। আমি মায়ের সঙ্গে এসেছি। চলো ওদিকটায় গিয়ে বসি।”
ফোফো যখন ছেলেটিকে চেনে, তবে ভয়ের কিছু নেই। পুপে, মরুত আর ফোফো একটা বড়ো পাথরের ওপর গিয়ে বসল। এখান থেকে নদীটাকে অনেক দূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
মরুত জানতে চায়, “তুমি এখানে কি একা-একাই ঘুরতে এসেছ? ছোটোরা তো একা ঘুরতে পারে না।”
কথাটা শুনে রাগ হল পুপের। প্রথমত সে ছোটো নয় এবং এখানে সে মাসিমণির সঙ্গে এলেও বর্তমানে একাই থাকছে পাহাড়বুড়ো ও পাহাড়বুড়ির কাছে। তাই মুখ ঘুরিয়ে রাখল। উত্তর দিল না। মরুত ছোটো ছোটো নুড়ি কুড়িয়ে পকেটে রাখছে। নিজের মনে বিড়বিড় করে বলছে, “ভেনাস, নেপচুন, ইউরেনাস, প্লুটো…” তারপর পুপের দিকে একটা লাল নুড়ি তুলে এগিয়ে দেয় মরুত।—“এটা তুমি নাও। এটা হল মার্স। আমাদের লাল টুকটুক মঙ্গলগ্রহ।”
লাল নুড়িটা বেশ সুন্দর। একটুখানি রাগ কমল পুপের।—“আমাকে মাসিমণি এখানে নিয়ে এসেছে। আমার একটা অসুখ করেছিল। একদিন স্কুলে দম নিতে পারছিলাম না। কয়েকদিন ধরে কষ্ট হচ্ছিল। তারপর ডাক্তার-আঙ্কল বললেন, শ্বাসকষ্ট অনেকেরই হয়… আমাদের ওখানে দূষণ, ধুলো খুব… পরে নাকি ঠিক হয়ে যাবে।”
মরুত ফোফোকে আদর করতে করতে বলল, “জানি। এজন্য তোমাদের শহরে আমি আর মা বেশিদিন থাকি না। সবাই গাছ কেটে ফেলছে। ধুলো আর ধুলো চারদিকে। এছাড়া আছে গাড়ির ধোঁয়া, কারখানার ধোঁয়া। আমার খুব মনখারাপ হয়।”
“তুমি আমাদের কলকাতায় গিয়েছ?”
মরুত ঠোঁট ওলটে ‘হ্যাঁ’ জানায়। তারপর বলে, “শুধু তোমাদের শহর নয়, আমি অনেক অনেক জায়গায় ঘুরেছি। এই পশ্চিমবঙ্গের কথা বললে, আমার তো সবটাই ঘোরা হয়ে গিয়েছে।”
“মিথ্যে। তা কখনও হয় নাকি?”
“বাহ্ রে, আমি তো বাতাস। মরুত। সব জায়গায় যেতে পারি। যেখানে বেশি গাছ, সেখানেই আমার থাকতে ভালো লাগে।”
“তোমার মা বুঝি তোমাকে এই গল্পগুলো বলে, আর তুমি আজগুবি কল্পনা করো?”
“আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা—আমার মা মেঘ-বৃষ্টি নিয়ে আসে আঁচলে বেঁধে। মেঘেরা এই পাহাড়ে এসে থাকে প্রথমে। তাই তোমাদের বর্ষাকালের শুরু হয় উত্তরের পাহাড়ের কোলে। তারপর ক্রমশ মেঘের দল চলে যায় তোমাদের দিকে। কিন্তু তোমাদের ওখানে গাছ কম থাকায় অনেক মেঘই যেতে চায় না। বাচ্চা মেঘেরা তো আরওই যায় না। আচ্ছা, তোমরা গাছ লাগাও না কেন?”
মরুতের কথা শুনে আশ্চর্য হল পুপে। তার বয়সি একটা ছেলে, কত গুছিয়ে গল্পের মতো করে কথা বলতে পারে! কিন্তু পুপের কাছে মরুতের প্রশ্নের উত্তর ভালো জানা নেই। মাসিমণি বা মা থাকলে হয়তো বলতে পারত।
হঠাৎ আকাশে গুড়গুড় করে মেঘ ডেকে ওঠে। হালকা বিদ্যুতের ঝলক খেলে গেল। আর নিমেষে চারদিকটা কালো করে এল। পাহাড়বুড়ি গতকালই বলেছিলেন, এখানে বর্ষা তাড়াতাড়ি চলে আসে। তবে সারাবছরই কমবেশি বৃষ্টি হয়। ঘরে ফিরতে হবে পুপেকে।
মরুত আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “মা ডাকছে আমাকে। আজ চলি। তোমরা এদিকে এলে আবার দেখা হবে।”
পুপেও উঠে পড়ল। ফোফো আবার আগে আগে চলেছে। পুপের পেছনে মরুত। পাকদণ্ডির উৎরাই ধরে নামতে সমস্যা হল না। নুড়ি-পাথর বিছানো নদীর পাশের পথটাতে এসে পুপে মরুতকে কিছু একটা বলতে পিছন ফিরে তাকাল—মরুত নেই। গেল কোথায় ছেলেটা? বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করেছে। পুপে আর ফোফো এক ছুটে বাড়িতে পৌঁছল। মরুত নিশ্চয়ই অন্য পথ চেনে, তাই তাকে নিয়ে পুপে বেশি চিন্তা করল না।
(৩)
দেখতে দেখতে প্রায় এক মাস হতে চলেছে। দিনগুলো যেন কীভাবে কেটে গেল। পুপের মা ফোন করেছিল। এ-সপ্তাহের শেষে আসবে পুপেকে নিয়ে যেতে। এখানকার জলবায়ুতে সত্যি করেই ম্যাজিক আছে। পাহাড়ি রাস্তায় চলতে-ফিরতে বা সিঁড়ি ভেঙে ওঠা-নামা করতে পুপের কোনও শ্বাসকষ্ট হয়নি। তার মনও খুব ভালো আছে এখন।
আবার পুপে, মরুত আর ফোফো— থ্রি মাস্কেটিয়ার্সের বন্ধুত্ব এই ক’দিনে বেশ জমে উঠেছে। মরুত পুপেকে দূরদূরান্তের অনেক গল্প শুনিয়েছে। তাদের আসল ঘর নাকি দক্ষিণ সাগরের কোথাও একটা। সেখান থেকে প্রতিবছর সে মায়ের সঙ্গে এখানে ঘুরতে আসে। সব কথা হলুদ ডায়েরিতে লিখে রেখেছে পুপে। প্রফেসর শঙ্কুর গল্পের আশ্চর্য আবিষ্কার ও ঘটনাগুলোর মতোই মরুত তার কাছে এক আশ্চর্য বন্ধু। আজ আবার পুপের সঙ্গে মরুতের দেখা করার কথা আছে। সে ভেবে রেখেছে, মা এলে মরুতকে একদিন তাদের বুড়ো-বুড়ির বাড়িতে ডাকবে মধ্যাহ্নভোজে। তাই আজই নিমন্ত্রণ সেরে রাখবে। মরুত যদি আবার তার মায়ের সঙ্গে অন্য কোথাও বেড়াতে চলে যায়, তখন আর নিমন্ত্রণ করা যাবে না।
নদীর পাড়ে দেখা হল ওদের। প্রতিবারই ছেলেটা অবাক করে দেয় পুপেকে। সে যে কোন পথ দিয়ে আসে, আর কোন পথ ধরে ফিরে যায়—পুপে বুঝতে পারে না। এমনকি পুপে আর ফোফো যেখানেই থাকুক, মরুতের কথা মনে মনে ভাবলেই সে মুহূর্তেই হাজির হয়ে পড়ে। এজন্য প্রথম দিনের সন্দেহটা পুপের মনে মাঝে-মধ্যে ঘুরপাক খায়—মরুত ‘পান্ত ভূতের জ্যান্ত ছানা’ নয় তো? নাকি সে সত্যিই হাওয়া?
মাঝে দু’-একদিন পুপে সত্যজিৎ রায়ের কয়েকটি গল্প মরুতকে পড়ে শুনিয়েছে। পুপে নিজেও যে গল্প লেখার চেষ্টা করছে, সেটাও জানিয়েছে। ‘কোরালিন’ বইটা পুপে সঙ্গে এনেছে। মরুতের হাতে বইটি দিয়ে বলে, “এই বইটি তুমি সঙ্গে নিয়ে যেও। এখানে একটা মেয়ে আছে, সে আমার মতো। আর একটা ছেলেও আছে। ঠিক তোমার মতো। তবে ফোফো নেই, তার বদলে আছে একটা কালো বিড়াল।”
মরুত বইটি পেয়ে খুশি হয়।—“আমাকে এই প্রথম কেউ বই উপহার দিল।”
“পড়ে জানিও।”
এই কথা শুনে মরুতের মুখ শুকিয়ে যায়।—“আমি পড়ে জানাব কী করে তোমাকে? তুমি চলে যাবে শহরে। আমি মায়ের সঙ্গে যাব অন্য জায়গায়। পরের বছর যখন ফিরব, তখন কি আমাদের দেখা হবে?”
“এটা তো ভেবে দেখিনি। তুমি আমাদের কলকাতায় এলে দেখা হবে নিশ্চয়ই, অথবা আমি এখানে এলে…”
“এখানে আমি আসবই। তবে তোমাদের কলকাতায় আমার ভালো লাগে না। আমার মতো ছোটোদের খুব কষ্ট হয়। মা থাকে মাত্র ক’টা দিন।”
“কেন? তোমারও বুঝি আমার মতো কোনও অসুখ আছে?”
মরুত বইটি খুলতেই পাতাগুলো ফরফর করে নিজে থেকে হাওয়ায় একটার পর একটা উলটে যেতে থাকে। কিন্তু তার সেদিকে মন নেই। কিছুটা আনমনেই বলে, “তোমাদের ওখানে যদি অনেক গাছ থাকত, আমি কত সহজেই থাকতে পারতাম। গাছে গাছে কথা বলে, ঠিক খুঁজে নিতাম তোমাদের ঠিকানা। তোমরা কেন গাছ কেটে ফেলো? জানবে, যত গাছ থাকবে, তত হাওয়া হবে, মেঘ ভাসবে, বৃষ্টি ঝরে পড়বে মাটিতে, দূষণ কমবে। আর তত বেশি তুমিও আমাকে খুঁজে পাবে, আর তোমার অসুখটা কোনোদিন ফিরে আসবে না। অন্যরাও ভালো থাকবে।”
পুপের এবার নিজেকে সত্যি একটি ছোটো মেয়ে মনে হল। সে যদি বড়ো হত, তবে অনেক গাছ লাগাত আর গাছ কেটে বড়ো বড়ো বাড়িঘর, কারখানা ইত্যাদি নির্মাণ করতে দিত না।
পুপে বলে, “মরুত, ফিরে গিয়েই চেষ্টা করব আমার স্কুল আর আবাসনে অনেক অনেক গাছ লাগাতে। আর তোমার কথা সবাইকে বলব। তারা বুঝবে নিশ্চয়ই।”
এবার মরুত যেন একটু খুশি হয়।—“তুমি শুরু করো। একদিন তোমার মতো অনেকেই গাছের যত্ন নেওয়া শুরু করবে। আমি কথা দিচ্ছি, তোমার গাছের টানে আমি কলকাতায় পরের বার গিয়ে জানিয়ে আসব বইটি আমার কেমন লাগল। তখন আর একটা বই দিও।”
কথাগুলো শেষ করেই মরুত তার দুই হাত শরীরের দু-দিকে প্রসারিত করে দেয়। তারপর আঙুলগুলোকে বাতাসে খেলায়, যেন সে এক অদৃশ্য পিয়ানো বাজিয়ে সুর তুলছে—
ডু-ডু-ডুরা-ডুহ-ডুরা-ডুহ-ডুরা
উড়ে যাও সবুজ পাইন পাতা
খেলব আমরা, রঙিন মাছেরা
ডু-ডু-ডুরা-ডুহ-ডুরা-ডুহ-ডুরা
শান্ত হয়ে যায় খরস্রোতা নদীর জল। নদীর বুকে পাথরের মাঝে জেগে ওঠে ক্ষুদ্র জলঘূর্ণি। ঘূর্ণিটা একটু একটু করে নদীতল থেকে ওপরের দিকে উঠছে। ঘূর্ণির জলের সঙ্গে পাখনা মেলে বৃত্তাকারে ঘুরছে রঙিন সব ছোটো মাছেরা। তারাই মুখ খুলে আর বন্ধ করে ওই শব্দটা তুলছে—ডু-ডু-ডুরা-ডুহ-ডুরা-ডুহ-ডুরা… চোখ বুজে মরুত তার অদৃশ্য পিয়ানো বাজিয়ে চলেছে। ঘূর্ণির তালে তালে মৃদু বাতাস ঢেউয়ে দুলিয়ে দিচ্ছে ঘাসেদের মাথা, আর দূরের পাইন গাছগুলো থেকে সবুজ পাইন পাতা পাখিদের মতো দলবেঁধে তৈরি করছে অদ্ভুত সব জ্যামিতিক আকার। কোথা থেকে একটা বড়ো সাদা প্রজাপতি উড়ে এসে বসেছে ফোফোর মাথায়।
পুপে কি কোনও স্বপ্নের জগতে আছে?
“মরুত, আমার ভয় করছে!” মৃদু স্বরে বলে পুপে।
এবার আস্তে আস্তে মরুত তার অদৃশ্য পিয়ানো বাজানো থামায়। জলের ঘূর্ণি নদীতে মিলিয়ে যায়। পাতাগুলোও পাইন গাছে ফিরে যায়। নদীতে আবার স্রোতের কোরাস শুরু হয়েছে। চারদিকে দেখে মনে হচ্ছে একটু আগে যেন কিছুই ঘটেনি।
মরুত পুপের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে।—“তুমি আমাকে বই উপহার দিয়েছ, কিন্তু আমি তোমাকে কী দিতে পারি? আমার কাছে তো কিছুই নেই। তাই এই ছোট্ট জাদু-মুহূর্তটা তোমার মতো একজন ভালো বন্ধুকে উপহার দিলাম।”
পুপে উপহার গ্রহণ করার মতো হাত দুটো বাড়িয়ে দিয়ে বলে, “নিলাম তোমার রিটার্ন গিফট। মরুত, আমি কথা দিলাম, কলকাতায় ফিরে গিয়েই আমি অনেক গাছ লাগাব। তখন তুমি আসবে অবশ্যই।”
“আমিও তোমাকে কথা দিচ্ছি, আমি যাব। তবে তখন হয়তো তুমি আমাকে দেখতে পাবে না, শুধু অনুভব করতে পারবে। এবার থেকে তুমি নিয়মিত স্কুল যাবে, বন্দি হয়ে ঘরে থাকবে না। তোমার ছোটো ছোটো গাছগুলোই তোমাকে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে চিরজীবন সাহায্য করবে।”
“আমার মা আসছে। তুমি পাহাড়বুড়োর বাড়িতে আসবে এই রবিবার। নিমন্ত্রণ রইল।”
মরুত ফোফোকে আদর করতে করতে বলল, “ফোফোর জন্য আমাকে ওই বাড়িতে মাঝে-মধ্যে যেতে হয়। তাই না রে ফোফো?”
সেদিনের পর মরুতের সঙ্গে আর দেখা হয়নি পুপের। মাকে মরুতের কথা বলেছে পুপে। মা বলেছিল, “গল্পের বই পড়ে তোমার মাথায় এই কল্পনা এসেছে। তবে তোমার গল্পটি বেশ সুন্দর।”
মায়ের কথা শুনে পুপের রাগ হয়—ছোটোদের কথাকে কেন বড়োরা মানতে চায় না! বড়োদের তার আজকাল খুব বোকা মনে হয়। না-হলে কেউ এভাবে গাছ কেটে ফেলে শহরটাকে নোংরা-আবর্জনা আর ধোঁয়ায় ভরিয়ে ফেলে?
“আমি মিথ্যে বলি না। মরুত আছে। আমি তোমার সঙ্গে বাড়ি যেতে পারি, কিন্তু আমাকে অনেক অনেক গাছ এনে দিতে হবে।”
“গল্পের বই তো আছেই, এবার তোমার গাছ চাই? আচ্ছা এনে দেব’খন। কিন্তু তোমাকে পড়া-লেখাটাও করতে হবে মন দিয়ে।”
“করব, সব করব।”
“গুড। আমি জানি তুমি আমার ওপর একটু একটু রাগ করো, তবে আমি চাই, মরুতকে নিয়ে তুমি সত্যি একটা গল্প লেখো।”
কয়েক মাস পরে।
‘মরুতকে নিয়ে তুমি সত্যি একটা গল্প লেখো।’— মায়ের এই কথাটা ভালো লেগেছিল পুপের। সে চেয়েছিল গল্পের মাধ্যমে তার মতো খুদেরা মরুতের কথা জানুক আর তারাও পুপের মতন গাছ লাগিয়ে পরিবেশকে সুস্থ করে তুলুক।
কিশোর পত্রিকায় পুপের ছোটো গল্পটা প্রকাশিত হয়েছে। সে এখন বারান্দায় তার নতুন গাছেদের মাঝে বসে অন্য গল্পগুলো পড়ছে। চারদিকে কেমন পুজো পুজো গন্ধ লেগে রয়েছে। বাবা বাড়ি ফিরবে আগামীকাল। তারপর তারা ঘুরতে যাবে। গ্রামের দিকে এই সময় অনেক কাশফুল দেখা যায়। গ্রামের পুজোতে নাকি অন্যরকম আনন্দ হয়। ভাবলেই পুপের মন নেচে উঠছে। সেখানে কি আবার মরুতের দেখা পাবে সে? নাকি দেখা হবে অন্য কোনও নতুন বন্ধুর সঙ্গে?
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হঠাৎই পুপের বারান্দার গাছগুলো হালকা বাতাসে দুলে উঠল। আর তার কোলে খুলে রাখা পত্রিকার পাতাগুলো হাওয়ায় একটার পর একটা উলটে গেল।
ছবি-মৌসুমী