কৌশানীর আগের গল্প-বন্ধু ভূত , সিমলার সিংজি

স্কুবা ডাইভিং অনেকের কাছেই নিছক প্যাশন। সারা পৃথিবীতে অনেক মানুষই স্কুবা ডাইভিং করেন। কিন্তু সেই প্যাশনটাকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রের আবর্জনা সাফ করার চেষ্টা যে একটা ব্যতিক্রমী, তা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। এই প্রসঙ্গে চলে আসবে চেন্নাইয়ের কারাপাক্কামের ছোট্ট স্কুবা ডাইভার থারাকাই আরাথানার কথা। মাত্র ১০ বছর বয়সি থারাকাই সমুদ্র পরিষ্কারের দায়িত্ব নিয়েছে। সপ্তাহে দু-তিনদিন সে সমুদ্রে ডাইভ দেয়। সমুদ্রের প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করেই বিপন্ন সামুদ্রিক জীবকে রক্ষা করে চলেছে সে।
থারাকাইয়ের বাবা অরবিন্দ একজন পেশাদার স্কুবা ডাইভিং ইন্সট্রাক্টর। তাঁর নিজের স্কুবা ডাইভিং শেখানোর স্কুলও রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টও বটে। ২০০৭ সাল থেকে তিনি সমুদ্রের তলা থেকে প্লাস্টিক তুলে আনার কাজ করছেন। তাই বাবার অনুপ্রেরণাতেই মাত্র ৫ বছর বয়স থেকেই থারাকাই সমুদ্রের তলদেশ পরিষ্কার করার মিশন শুরু করে দিয়েছে। প্রথমবার সমুদ্রে ডাইভ দিতে গিয়ে ও দেখতে পেয়েছিল, একটা কচ্ছপ মাছের জালে আটকে পড়ে আছে। তক্ষুনি ও জাল থেকে কচ্ছপটাকে বের করে দিয়েছিল। আর তারপর থেকেই বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবদের বাঁচানোর তাগিদ অনুভব করেছে সে।
থারকাইয়ের কথায়, স্কুবা ডাইভিং তার কাছে ঠিক ধ্যানের মতো। গভীর জলে না থাকে কোনও আওয়াজ, না থাকে দূষণ; কোরালের মাঝখানে খেলা করে রঙিন মাছ। চারদিকের অজস্র মাছ, সি-হর্স, জেলিফিশ, ডলফিন— ওরাই তার বন্ধু। ওই ছোট্ট বয়েসেই সে অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘PADI Junior Open Water Diver’ সার্টিফিকেট।
সমুদ্রের তলা থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ কেজি প্লাস্টিক ও আবর্জনা তুলে এনেছে থারাকাই। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল, জাল, র্যাপার অনেক ক্ষেত্রেই সামুদ্রিক কচ্ছপ, মাছ, ডলফিনের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সমুদ্র রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে থারকাই কভেলং থেকে নীলঙ্করাই পর্যন্ত টানা ১৮ কিলোমিটার সাঁতার কেটেছে। সমুদ্রের ২০ ফুট গভীরে গিয়ে ভরতনাট্যম পরিবেশন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার প্রধান উদ্দেশ্যই প্লাস্টিকমুক্ত সমুদ্র নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। এমনকি থারাকাই স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গেও নিয়মিত কথা বলে, ওয়ার্কশপের মাধ্যমে মানুষকে সমুদ্রের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করে চলেছে এবং সাড়াও পাচ্ছে। ওর মতো অনেক বাচ্চাই এখন সমুদ্র পরিষ্কারে নামছে।
থারাকাইয়ের বাবার কথায়, পরিবেশ বাঁচাতে ছোটো ছোটো পদক্ষেপ নিতে হবে। বাচ্চাদের শেখাতে হবে আগে নিজের বাড়িকে, স্কুলকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে। তারপর ধীরে ধীরে রাস্তাঘাট, চারপাশ। প্লাস্টিক তৈরি যদি পুরোপুরি বন্ধ না হয় তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম গুরুতর সমস্যায় পড়তে চলেছে, এই নিয়ে উনি যথেষ্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাই তিনি নিজের মেয়েকে এই কাজে নামতে উৎসাহ দিয়েছেন।
মেয়ে বাবার মান রেখেছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য বয়সটা যে কোনও ব্যাপার নয়, খুদে যোদ্ধা থারাকাই সেটা প্রমাণ করেছে। পরিবেশ রক্ষার তার এই প্রয়াস ও সাহসিকতা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।