চুমকি চট্টোপাধ্যায়ের আরো গল্প
আজব মানুষের গজব কাহিনী, ভগবানের বেটা বেটি, শুদ্ধ ভক্তের ঘড়ি, জ্বর গাছ, হরিদ্রাবৃত্ত, কঙ্কাল কান্ড, আহা কী আনন্দ

“টিকুদাদা, গাছপালার ফাঁক দিয়ে নীলচে সবুজমতো কী দেখা যাচ্ছে রে? দিনের বেলা দেখা যায় না, আমি নজর করে দেখেছি। রাত্তির হলেই দেখা যায়। বেশ রহস্যজনক!”
টিকু খুলে যাওয়া হাওয়াই চটির স্ট্র্যাপ লাগাতে ব্যস্ত ছিল। আর্যর কথা শুনে বলল, “কোথায়?”
“এখানটায় আয়। জানালা দিয়ে দেখ, ওই যে গাছপালার ফাঁক দিয়ে সবজেমতো।”
জানালা দিয়ে তাকিয়ে টিকু বলে, “আরে ধুর পাগল, ওটা তো বলাইকাকার রেশন দোকানের দোতলার বারান্দায় টাঙানো প্লাস্টিক রে! দিনের বেলা গুটিয়ে রাখে তাই দেখা যায় না। রাতে নামিয়ে দেয়। তুই আবার এতে রহস্য পেলি কোথায়?” বলে হ্যা হ্যা করে হাসতে থাকে টিকু।
আর্য লজ্জা পেয়ে যায়। বলে, “আমি তো এখানে থাকি না। তাই সবই আমার কাছে নতুন লাগে।”
“নতুন নয়, বল রহস্যময় লাগে। রহস্য-রোমাঞ্চ-খুনজখম পড়ে পড়ে তোর মাথাটা গেছে আর্য।”
গরমের ছুটিতে বড়ো পিসির বাড়ি বেড়াতে এসেছে আর্য। টিকু ওর পিসতুতো দাদা। আড়াই বছরের বড়ো। ওদের বাড়ি মধ্য কলকাতায়। পুরোনো আমলের বড়ো বাড়ি। উঁচু উঁচু কড়িবরগার ছাদ। জানালাগুলো দু-ভাগে ভাগ করা। ডবল ডবল পাল্লা। কাঠের পাল্লা খড়খড়ি দেওয়া আর ভেতরের পাল্লা ফ্রেম করে কাচ বসানো। খড়খড়ির জানালার মস্ত একটা সুবিধে আছে। প্রয়োজনে পুরো জানালা না খুলে খড়খড়ি ফাঁক করেই দেখা যায়। পাশের বাড়িতে হামেশাই তুমুল ঝগড়া লাগে। বড়ো পিসির শাশুড়ি তখন খড়খড়ি ফাঁক করে দেখে।
আর্যরা ফ্ল্যাটে থাকে। সেখানে এ-সমস্ত রোমাঞ্চকর ব্যাপার-স্যাপার নেই। ফ্ল্যাট ব্যাপারটা বোরিং লাগে আর্যর। একমাত্র সুইমিং পুল থাকাটাই যা সুবিধের। ছুটি পেলেই তাই বড়ো পিসির বাড়ি চলে আসে সে।
টিকুদাদাও খুব মজার। কী দারুণ লাট্টু ঘোরায়! লাট্টুতে লেত্তি পাকিয়ে প্রথমে মেঝেতে ছাড়ে। লাট্টু বনবন করে ঘুরতে থাকে। সেই অবস্থায় হাতের তালুতে তুলে নেয় টিকুদাদা। আর্য অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি লাট্টু ঘোরাতে।
আর্য গোয়েন্দা গল্প পড়তে খুব ভালোবাসে। সব গোয়েন্দা চরিত্রই ওর প্রিয়। গোয়েন্দাদের বুদ্ধি ওকে খুব ভাবায়। মা বলে, “বুদ্ধি তো লেখকের। তিনিই তো রহস্য তৈরি করছেন, আবার জটও ছাড়াচ্ছেন।”
আর্যর তবুও গোয়েন্দা চরিত্রগুলোকেই সত্যি মনে হয়। গোয়েন্দা গল্প পড়ে পড়ে ওর ভেতরেও রহস্য সমাধান করার প্রবল একটা ইচ্ছে জাগে মাঝে মাঝে। কিন্তু রহস্যই তো খুঁজে পায় না যে, সমাধান করবে! এই নিয়ে বন্ধুরা খুপ খ্যাপায় আর্যকে। স্কুলে অনেক সময় এর পেন ওর ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়ে আর্যকে বলে, “অ্যাই, আমার পেন পাচ্ছি না। আর্য, গোয়েন্দাগিরি কর তো, যদি খুঁজে পাস।”
আর্যর গোমড়া মুখ দেখে ওর মা বুঝতে পারেন আর্যর মনখারাপ। জিজ্ঞেস করেন, “কী রে, কী হয়েছে? বন্ধুরা খেপিয়েছে?”
আর্য মুখ নীচু করে। ওর মা বলেন, “তুই পাত্তা দিস কেন? যেদিন সত্যি সত্যি রহস্যের সমাধান করবি, সেদিন দেখবি ওরা সব অবাক হয়ে চুপ করে যাবে।”
সমাধান যে করবে সে-রহস্য কোথায়? আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও তো রহস্য বের করতে পারছে না বেচারা আর্য।
এই তো কিছুদিন আগের কথা। মা গেছিল দিদার কাছে। আর্যকে বলাই ছিল। কেউ যখন বেরোয়, নির্দিষ্ট একটা জায়গায় মেন দরজার চাবি রাখা থাকে। যে আগে ফেরে সে চাবি বের করে দরজা খুলে নেয়। আর্য স্কুল থেকে ফিরে দেখে মেন দরজায় তালা নেই। তার মানে মা ফিরে এসেছে। বেল বাজায় আর্য। মিনিট পাঁচেক বাদে দরজা খুলে দেয় আর্যর ছোটো মামা মানস। ঘুমিয়ে পড়েছিল, তাই দেরি হল খুলতে। আর্য তো অবাক হয়ে যায় ছোটো মামাকে দেখে। মা তো বলেনি ছোটো মামা আসবে যে! তাছাড়া চাবি কোথায় থাকে জানল কী করে ছোটো মামা? রহস্যটা কী?
“তুই হাত-মুখ ধুয়ে আয়, তারপর দেখাচ্ছি কী এনেছি তোর জন্যে।”
“মা কি জানত তুমি আসবে?”
“না রে। একটা কাজে এদিকে এসেছিলাম, তাই ভাবলাম একবার ঘুরে যাই।”
“কিন্তু ছোটো মামা…”
“কী? কীসের কিন্তু?”
“তুমি ভেতরে ঢুকলে কী করে?”
“হা-হা-হা-হা, এই কথা! আমি তো দিদিভাইকে ফোন করেছিলাম দরজায় তালা দেখে। দিদি গেছে মাকে দেখতে। ওই বলে দিল চাবি কোথায় আছে। আমি তালা খুলে ঢুকে পড়লাম।”
শুকনো হেসে ঘরে ঢুকে গেল আর্য। ওর ছোটো মামা মিটিমিটি হাসছে দেখল। সবাই আর্যর রহস্য খোঁজা নিয়ে মজা করে।
ছোটো মামা আর্যর জন্যে একটা বই নিয়ে এসেছে। খুব মজার বই। সাধারণ জিনিস দিয়ে নিজে নিজে বানানো যায় এমন কিছু যন্ত্রপাতির হদিস দেওয়া আছে বইটাতে। আর্যর বেশ পছন্দ হল বইটা।
এখন সময় পেলেই বইটা নিয়ে বসে খুটখাট করে আর্য। দুটো জিনিস বানিয়েও ফেলেছে ইতিমধ্যে। একটা গ্রিটিংস কার্ড যেটা খুললেই হ্যাপি বার্থডে সুরটা বাজবে, আর একটা সুগন্ধী মোমবাতি। এই মোমবাতি জ্বালালে যে কেবল সুন্দর গন্ধ বেরোবে তাই নয়, পোকামাকড়ও ধারে-পাশে আসবে না। রহস্যের ভূত মাথা থেকে গেছে আপাতত।
***
রিমলিদিদির বিয়ে। রিমলি হল আর্যর জেঠুর মেয়ে। আর্যরা সবাই এসেছে। বৌভাত কাটিয়ে ফিরবে। কয়েকদিন তুমুল আনন্দ করা যাবে। নিজের তৈরি পারফিউম সঙ্গে করে এনেছে আর্য। ওর সমবয়সি বেশ কয়েকজন আছে এখানে। তাদের উপহার দেবে ঠিক করেছে।
জেঠুর বাড়ি আসতে দুর্দান্ত লাগে আর্যর। তার প্রধান কারণ হল, বাড়ির ছাদের বাগান। ছাদে যে এমন বাগান হয় তা না দেখলে কেউ ভাবতেই পারবে না। কী নেই সেই বাগানে! ফুল, ফল, সবজি—সব আছে। পাতিলেবু, গন্ধরাজ লেবু, পেয়ারা—এমনকি সবেদা অবধি ফলে আছে ছোটো ছোটো গাছে। জেঠিমা বলে, “যেটা ইচ্ছে খা, আমাদের তো খাওয়ার লোক জোটে না।”
আর্যর আবার গাছ থেকে ফল ছিঁড়তে মায়া লাগে। একটা প্রশ্ন জেগেছে ওর মনে। সেটা হল, পাতিলেবু আর গন্ধরাজ লেবু ফল না সবজি? কমলালেবু, মুসম্বি লেবু, বাতাবিলেবু তো ফল। জেঠুকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
সবজির মধ্যে লাউ, সজনে ডাঁটা, বেগুন, টমেটো, পালং শাক, আরও নানান শা—সব আছে। আর ফুল! ওরে ব্বাবা, সে তো ছাদ আলো করে আছে। সব ফুলের নাম জানে না আর্য। গাঁদা ফুল অবশ্য চেনে। এক-একটা গাঁদা কী বড়ো বড়ো!
গাছের গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে নীচ থেকে শাঁখের আওয়াজ কানে আসে ওর। নিশ্চয়ই কিছু হচ্ছে। এখনও ছাদের একটা অংশে যাওয়া বাকি। থাক, পরে দেখব ভেবে সিঁড়ির দিকে দৌড় লাগায় আর্য।
নীচে এসে দেখে রিমলিদিদি খেতে বসেছে। আইবুড়োভাত। ওরে-ত্তারা! কত্ত রকম খাবার রে বাবা! বড়ো একটা থালা—ওই যে কাঁসা না কী বলে, তাতে ভাত—এক, দুই… পাঁচ রকমের ভাজা সাজানো। থালা ঘিরে বাটির মালা। তাতে কী কী আছে অত বুঝল না আর্য। তবে বিশাল সাইজের চিংড়ি আর মটন যে আছে, সেটা দেখতে পাচ্ছে। রিমলিদিদি তো ওই রোগাপটকা, অ্যাত্ত খেতে পারবে!
আর্যকে দেখতে পেয়ে রিমলি ডাকল—”আর্য আয়, আমার পাশে বোস। টুপাই, তুইও আয়। আমাকে হেল্প কর খেতে।”
পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠল, “রিমলির পাশে আজ যে বসে খাবে, তারও তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যাবে।”
সবাই হেসে উঠল। আর্য বলল, “সে যাই হোক, এমন দারুণ দারুণ খাবার ছাড়া যাবে না।”
এবার সবাই জোরে হেসে উঠল।
***
আজ রিমলিদিদির বিয়ে। গোটা বাড়ি টুনি বাল্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো বিশাল গেট তৈরি হয়েছে। সবকিছু ঘুরে ঘুরে দেখছে আর্য। বাড়িতে এখন অনেকগুলো বাচ্চা ছেলেমেয়ে। যদিও বাচ্চা বললে আর্য খুব রেগে যায়।
ভোর রাত্রে শাঁখের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল আর্যর। দেখল মা পাশে নেই। তার মানে কিছু একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে। উঠে পড়ে খাওয়ার ঘরে গিয়ে দেখল, রিমলিদিদি কী একটা খাচ্ছে। পরে মাকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিল, এই অনুষ্ঠানকে বলে দধিমঙ্গল।
আর্যর মনে হল, দই শুভ বলেই পরীক্ষা দিতে যাবার সময়ে মা কপালে দইয়ের ফোঁটা দেয়। রিমলিদিদির খাওয়া হয়ে গেলে যে-যার জায়গায় ফিরে গেল। তখন ভোরের আলো ফুটেছে। আর্যর আর শুতে ইচ্ছে করল না। ছাদে যেতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু ছাদের দরজায় এখন তালা দেওয়া। বনমালীদাদু উঠে দরজা খুলবে, তারপর ছাদে যাওয়া যাবে।
বনমালীদাদু এই বাড়িতে অনেক বছর আছে। জেঠু প্রায় ভাইয়ের মতোই দেখে দাদুকে। বাড়ির সম্পূর্ণ দেখাশোনা বনমালীদাদুই করে। কোথায় পাইপ ফাটল, কোথায় জানালার পাল্লার কব্জা খুলল—সব দাদুই দেখে। সবথেকে বড়ো ব্যাপার হল, ছাদের বাগানের যত্ন পুরোপুরি বনমালীদাদুই নেয়।
এদিক ওদিক করতে করতে বাড়ির সবাই ঘুম থেকে উঠে পড়ল। ছোটোরা হইহই চিল্লামিল্লি করতে লাগল। আর্য গুটিগুটি ছাদে উঠতে যাচ্ছিল, শিমুলপিসি দেখতে পেয়ে বলল, “এই ছেলে, কোথায় যাচ্ছিস? জলখাবার খেয়ে যা।”
লুচি, আলুর দম, বেগুন ভাজা আর রসগোল্লা পেট ঠেসে খেল সবাই। বিয়েবাড়ির খাবারের স্বাদই আলাদা।
আর্যর বাবা বলল, “সবাইকে দেখছি, কিন্তু বনমালীকাকা কই? খেতে এল না তো!”
“গাছ নিয়ে পড়ে আছে দেখ গে যা। সব গাছে জল দিয়ে, পড়ে থাকা পাতা সাফ করে তবেই শান্তি কাকার। আসবে ঠিক। এই সন্তু, বর আনতে যাবার গাড়িটা ভালো করে সাজাস কিন্তু। আর্যবাবু, যাবে নাকি বর আনতে?” জেঠু বলল।
আর্য মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই ছাদের দরজা খুলেছে। আর্য ছাদের দিকে গেল। কাল যে অংশটা দেখা হয়নি, আজ দেখে নেবে বলে। ছাদে গিয়ে না-দেখা অংশটায় গিয়ে দেখে বনমালীদাদু শুয়ে আছে। জল দেবার ঝাঁঝরিটা কাত হয়ে পড়ে আছে। দাদুর আলগা হওয়া ডানহাতে খুরপি।
আর্য অবাক হবার আগেই বনমালী চোখ খুলে বলে, “অ্যাই, তুই এখানে কী করছিস?” তারপরেই সটান উঠে বসে খুরপি দিয়ে পাশের টবের মাটি খোঁচাতে থাকে।
আর্য জিজ্ঞেস করে, “তুমি এই খরখরে ছাদে শুয়ে ছিলে কেন? তুমি খাবে না?”
বনমালী বলে, “এমনি শুয়ে ছিলাম। কাজ করতে করতে হাত ব্যথা হয়ে গেছিল, তাই একটু বিশ্রাম নিলাম। যাচ্ছি নীচে, আগে এদের খাইয়ে নিই।”
আর্য ঘুরে ঘুরে গাছ দেখতে থাকে। এখানকার মানি প্ল্যান্টের কত বড়ো বড়ো পাতা! ওদের বাড়িতেও আছে মানি প্ল্যান্ট, কিন্তু পাতাগুলো ছোটো।
এক পাক ঘুরে এসে বনমালীকে আর্য জিজ্ঞেস করে, “দাদু, একদম কোনায় যে গাছটা আছে, ওটা কী গাছ গো?”
“ওটা আঁ-আঁ-আঁ…” চোখ উলটে কেমন করতে থাকে বনমালী। মুহূর্তের জন্য আর্যর মনে হয়, দাদু কি ভূত? কিন্তু কয়েক সেকেন্ডেই আবার ঠিক হয়ে যায় সে।
“তোমার কী হয়েছে দাদু? শরীর খারাপ?”
“অ্যাই ছেলে, বাজে বকছিস কেন বল দেখি? কিচ্ছু হয়নি আমার। তুই নীচে যা, বল গে আমি আসছি।”
নীচে নেমে আসে আর্য। গুটিগুটি পায়ে বাবার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বলে, “বাবা, বনমালীদাদুর কিছু একটা হয়েছে।”
তারপর ওর দেখা ঘটনাবলি জানায় বাবাকে।
“তাই নাকি? এ আবার কেন হচ্ছে! দেখছি।”
তারপর বনমালীকে জোর করে ডাক্তারখানায় নিয়ে গেলে পরে ইসিজি করতে বলেন। রিপোর্ট দেখে ডাক্তারবাবু জানান, হার্টের অবস্থা খারাপ। পেসমেকার বসাতে হবে।
বনমালীকে হাসপাতালে ভরতি করে ফিরে আসে ওরা। বিয়েবাড়িতে সানাই বাজতে শুরু করেছে। সকলেরই মন একটু ভারী। এতদিনের বিশ্বস্ত মানুষ, বাড়িটাকে প্রাণ দিয়ে আগলায় যে, সে বিয়ের আসরে থাকতে পারছে না, এটাই দুঃখের।
পরের দিন রিমলি চলে গেল শ্বশুরবাড়ি। তারপর দিন সকাল সকাল অপারেশন হয়ে গেল বনমালীর, বসে গেল পেসমেকার। রিমলির বৌভাতে সবাই খুব খুশি মনে গেল। তিনদিন পরেই নার্সিং-হোম থেকে ছাড়া পেয়ে গেল বনমালী।
আচ্ছা, বনমালী যে দু-দু’বার অজ্ঞানের মতো হয়েছিল, সে-ঘটনা তো ঘটেছিল ছাদে। আর্য সে-সময়ে ছাদে গেছিল বলে দেখতে পেয়েছিল। তার থেকেও বড়ো কথা, নীচে নেমে ব্যাপারটা ওর বাবাকে বলা। নাও তো বলতে পারত। ও এমনিই হচ্ছে ভেবে গুরুত্ব দিত না ওর বয়সি বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে। কিন্তু আর্যর গোয়েন্দা চোখ আর অনুসন্ধানী মন গুরুত্ব দিয়েছে এবং তার ফলে বেঁচে গেছে একটি মূল্যবান প্রাণ। এই নিয়ে সবাই আলোচনা করছে।
এই ঘটনার পর থেকে আর্যকে আর কেউ গোয়েন্দাগিরি নিয়ে খ্যাপায় না। উলটে সবাই বলে, আর্য খুব বুদ্ধিমান। কী দারুণ সমাধান করেছে সমস্যার!
প্রশংসা পেয়ে খুশি আর্য। কিন্তু একটা প্রশ্ন ওর মাথায় ঘুরঘুর করছে—আচ্ছা, ও যা করেছে সেটাকে কি গোয়েন্দাগিরি বলা যায়?
ছবি- স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়