ছড়ার পাতা-পদ্য লেখা শেখা- পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়-শীত ২০২৫

এই লেখকের আগের ছড়া- নিপাতনে সিদ্ধ, ডানপিটে, কানাঘুষো, খানা খাজানা, দুই খুকি

দুটো মানুষ বেঁটে।
গোঁফ-দাড়ি সব ছেঁটে।
খাতার মধ্যে কী যেন সব লিখছে।
সামনে গিয়ে দেখি
কাণ্ড বটে সে কি?
দুজন তারা পদ্য লেখা শিখছে!
‘হিমলি রিমলি ঝিমলি।
মুখে তাদের ইমলি।
কী যে বেজায় দাঁত টকেছে তাতে!
খাবারগুলো তাইতে।
পারছে না কেউ খাইতে।
গাদাগুচ্ছের রয়ে যাচ্ছে পাতে!’
কিছু এমনতর।
ছোটো এবং বড়ো।
হঠাৎ করে চোখে পড়ল তাই।
চমকে উঠে কী যে!
মনে হচ্ছে নিজের
এক্কেবারে খুশির সীমা নাই।
কিন্তু, মাথায় হাত!
অবাক হবার ধাত।
অনেকরকম প্রশ্ন এল মনে!
মানুষ দুটো বেঁটে।
সকল কিছু ছেঁটে।
পদ্য কেন লিখছে অকারণে?
লিখছে, সে ঠিক আছে।
যার শখ তার কাছে!
সঙ্গে কেন মুড়িয়েছে গোঁফ-দাড়ি?
সাহসে ভর করে।
অথবা ডর ভরে।
তাদের কি এ জিগেস করতে পারি?
প্রথম ভাবি, না না!
এসব ভাবা মানা।
কিন্তু তবু এও কি মানা যায়?
কেন পাচ্ছি ভয় এ?
ভাবছি রয়ে সয়ে।
নিজের ভয়ে বড্ড হাসি পায়।
শেষে এঁকে-বেঁকে।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে।
করেই ফেলি আমার প্রশ্ন দুটো।
যেই না প্রশ্ন চালা।
অবাক হওয়ার পালা।
জবাব আমায় বানাল খড়কুটো।
বলল তারা হেসে।
‘তোমায় ভালোবেসে।
বলছি এটা, কাউকে বলো নাকো।
নেহাত তুমি স্বীয়।
আমাদের খুব প্রিয়
বন্ধু এবং আশেপাশেই থাকো।
পদ্য লিখি রেগে।
যেন, কামান দেগে!
কারণ, এখন যার যা খুশি লেখে।
তাইতে সিধাসাধা।
বলছি শোনো দাদা।
পদ্যগুলোয় নোংরা যাচ্ছে মেখে।
এ কলঙ্ক কার?
তোমার বা আমার।
বোদ্ধা বলবে, এরা পারে না কিছু।
তাইতে সঙ্গে সঙ্গে।
রাগ ধরেছে অঙ্গে।
ফলে এমন ভাবনা কিছুমিছু।
লিখব এমনভাবে।
তারা ঘাবড়ে যাবে।
যারা আমাদের করছে নিন্দামন্দ।
তখন দেখবে ভয়ে।
তাদের সাহস ক্ষয়ে।
করছে এমন নিন্দা করা বন্ধ।’
পরের প্রশ্ন তারই,
‘লম্বা এ গোঁফ দাড়ি।
কাটছি কেন? এও কি বোঝা মানা?
এটাও দেব বলে?
সেসব লম্বা হলে।
ঢাকবে না এ পদ্য-খাতা খানা?
সমস্যা নয় তাতে?
তেমন না হয় যাতে।
যত্ন করে কেটেছি গোঁফ-দাড়ি।’
কয় দু-বেঁটে, ‘কবে?
(তোমার) একটু বুদ্ধি হবে।
এমন বোকার সঙ্গে চলতে পারি?
প্রশ্নগুলো ভালো।
এক্কেরে জমকালো।
সঙ্গে দোসর দিব্যি বুকের পাটা।
কিন্তু কেন কেন?
তোমার বুদ্ধি হেন?
বুঝলে না এ তুচ্ছ ঘটনাটা?’

জয়ঢাকের ছড়া লাইব্রেরি

Leave a Reply