গল্প-বাঁশিওয়ালা-বিশ্বদীপ সেনশর্মা-বর্ষা ২০২৫

এইলেখকের আগের গল্প কৃপণের বামমুঠি, দহনভার, পরবাস, সাভান্ত, ছিন্নমূল, স্বপ্নসম্ভব,  ব্যথা যখন, শৃঙ্খল, রঙমিলান্তি

এক

ক্ষীরোদ বাড়ির দাওয়ায় চেয়ার টেনে বসে ছিলেন। বাড়িটি পশ্চিমমুখী, দিগন্তে রঙের খেলা শেষ করে সূর্যদেব অস্ত যাচ্ছেন। শান্ত নির্জন গ্রামের বুকে বিকেলের নীলচে ছায়া ঘন হয়ে আসছে। ক্ষীরোদের মনে হয় প্রতিটি দিনই যেন অনেকটা ইতিহাস সঙ্গে করে নিয়ে যায়। এই সময় মনখারাপ করা একটা ভালোলাগা ভিতরে ছড়িয়ে যায়; যতক্ষণ বাতাসে আলোর শেষ রেখাটুকু মিলিয়ে না যায়, ক্ষীরোদ চুপ করে বসে থাকেন।

কিছুদিন আগে ষাট পেরোলেন। নাতির মহা উৎসাহ, শহর থেকে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব নিয়ে এসেছিল। বাড়ির বাইরে আগুন জ্বালিয়ে মাংস-টাংস সেঁকা হল, একটু গানবাজনাও হল। রাতে একটা ঘরেই মাদুর পেতে সব শুয়ে পড়ল। ওদের সঙ্গে এক চ্যানেল থেকে একটি মেয়েও এসেছিল, ক্ষীরোদের ইন্টারভিউ নিল। লোকে এখন আর তাঁর বাঁশি না শুনলেও নামটাম অনেকেরই মনে আছে। কদাচিৎ শহর থেকে তাঁদের মতো শিল্পীদের নিয়ে বিশেষ লাইভ অনুষ্ঠানের জন্য ডাক-টাকও পড়ে। ক্ষীরোদ পারতপক্ষে এড়িয়ে যান। এইসব অনুষ্ঠানে গেলে নিজেকে কেমন প্রত্নবস্তুর মতো লাগে, যেন শ্রোতাদের বলা হচ্ছে—দ্যাখো, এঁরাও ছিলেন।

দেখতে দেখতে বেলা গড়িয়ে গেল। আজকাল লোকে দীর্ঘায়ু হয়, নব্বই বা একশো বছর অবধি অনেকেই বাঁচে। কিন্তু নিঃসঙ্গতাও একটা অসুখ। ক্ষীরোদের শহরে বন্ধুবান্ধব আছেন, পুরোনো দিনের কিছু ভক্ত-শ্রোতাও আছেন। অনেকেই চলে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর স্মৃতিজড়ানো বাড়িটি ছেড়ে আসতে মন সায় দেয়নি। ছেলে আর পুত্রবধূ দুর্ঘটনায় অকালে চলে যাবার পর নাতি অয়নও এখানে তাঁদের কাছেই মানুষ হয়েছে। এই ভালো আছেন। অয়ন ছুটিছাটায় চলে আসে, সারাদিন জমিয়ে গল্প হয়, ভালোমন্দ রান্না হয়। আজকাল বাজানো বিশেষ হয় না, কিন্তু নাতিটি ছাড়ার পাত্র নয়। রাত হলে জোর করে বাঁশিটি এনে হাতে তুলে দেয়। তিনি বাজান। স্বচ্ছ বাতাসে ভাসতে ভাসতে বাঁশির সুর অনেকদূর ছড়িয়ে যায়। বাজনা শেষ হলে অয়ন বলে, ‘দাদু, সামনাসামনি তোমার বাঁশি শুনলে এখনও গায়ে কাঁটা দেয়।’ এই কথা আরও কেউ কেউ বলেন। তিনি জানেন এগুলি কথার কথা। যন্ত্রের দক্ষতা এখন শিল্পীদের অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে।

চিন্তা এখন অয়নের পড়াশুনো নিয়েই। ক্ষীরোদ যখন খ্যাতির তুঙ্গে ছিলেন, যশ ও অর্থ দু-হাত ভরে পেয়েছেন। সেই সঞ্চয় থেকেই কষ্টেসৃষ্টে এতদিন চলেছে। কিন্তু আজকাল সরকার অন্যান্য ব্যবস্থা মোটামুটি করলেও উচ্চশিক্ষার খরচ এখনও প্রচুর। শুধু স্কুল বা কলেজের শিক্ষা নিয়ে আগে যা কাজ পাওয়া যেত তা এখন যন্ত্রই করে নেয়। কাজ এখন যা আছে তা শুধু গবেষণা বা অধ্যাপনার জন্য। সেজন্য ভালো ডিগ্রি দরকার।

দুই

গত কোয়ার্টারের সেলস চার্ট দেখতে দেখতে সি-শার্পের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রজতাভের ভুরু কুঁচকে গেল। দেখা যাচ্ছে তাঁর সন্দেহই ঠিক। তিনি উলটোদিকে বসা তাঁর চিফ মার্কেটিং ম্যানেজার শমীকের দিকে তাকিয়ে বিরক্তভাবে বললেন, “আপনি এই চার্টটা দেখেছেন?”

“দেখেছি স্যার। আগের কোয়ার্টারের থেকে সেল প্রায় তিন পার্সেন্ট কমেছে৷ তার আগের কোয়ার্টারেও একই ট্রেন্ড।”

রজতাভ তাকিয়ে রইলেন। শমীক নার্ভাসভাবে বললেন, “স্যার, আমাদের মার্কেট সার্ভে টিম বলছে কম্পিউটার কৃত্রিম বুদ্ধি ব্যবহার করে যে-ধরনের মিউজিক তৈরি করছে তাতে লোকের আগ্রহ কমছে।”

রজতাভ বিরক্তভাবে বললেন, “চেঞ্জ দ্য সফটওয়্যার। উই হ্যাভ আ টিম ফর দ্যাট।”

“স্যার, সেটা তো নিয়মিত করাই হয়। তবু অনেকে তার মধ্যেও একটা প্যাটার্ন খুঁজে পাচ্ছে।”

রজতাভ বিস্মিতভাবে তাকালেন। শমীক বললেন, “আমি ব্যাপারটা নিয়ে টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ওদের বক্তব্য হল, কম্পিউটারকে ট্রেনিং দেবার সময় আজ পর্যন্ত যত ভালো সুর ও গান সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বিশাল পরিমাণ ডেটা ফিড করা হয়, তার ভিত্তিতে সে নিজেই নতুন গান তৈরি করে। সমস্যা হল এইসব প্রোগ্রাম দক্ষ ও শক্তিশালী হলেও এখনও যান্ত্রিকভাবেই কাজ করে, গুণী শিল্পীদের মতো মৌলিক চিন্তা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা এদের নেই। সেখানেই আমরা মার খেয়ে যাচ্ছি।”

রজতাভ ফোন তুলে কিছু বললেন। একটু পরেই সান্যাল এলেন। ইনি সি-শার্পের চিফ স্ট্র‍্যাটেজিস্ট। নিজে আর সরাসরি টেকনিক্যাল কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও গোটা ব্যাপারটা ইনিই দেখেন। সব শুনে-টুনে বললেন, “শমীক ঠিকই বলছে। কৃত্রিম মেধার দক্ষতা ও বৈচিত্র্য পুরোপুরি ডেটা-নির্ভর। মৌলিক সৃষ্টির ক্ষমতা তার নেই। লোকে হয়তো ধীরে ধীরে ফাঁকির ব্যাপারটা ধরে ফেলছে।”

রজতাভ বললেন, “সমাধান কী?”

সান্যাল রজতাভেরই সমবয়সি, হালকা বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তিনি মৃদু হেসে বললেন, “গুণী শিল্পীদের আবার ফিরিয়ে আনুন। আসল, নকল পাশাপাশি কাজ করুক।”

রজতাভ হেসে ফেলে বললেন, “এখন আর সেটা সম্ভব নয়।”

তিনজনে চুপ করে রইলেন। একটু পরে সান্যাল বললেন, “সেদিন একটা লেখা পড়ছিলাম। আজকাল নিউরো-সায়েন্স অনেকদূর এগিয়ে গেছে। স্কিল ট্রান্সফারের কথাও শুনছি। আপনি চাইলে আমি খতিয়ে দেখতে পারি। তবে সময় লাগবে।  আইনগত দিকটাও খতিয়ে দেখতে হবে।”

রজতাভ ঘাড় নাড়লেন।

তিন

মাস খানেক পরের কথা। ক্ষীরোদ রান্না চাপিয়ে বাইরে এসে বসে ছিলেন। সকাল দশটা বাজে। সকালের নরম আলো সরিয়ে দিয়ে রোদ ক্রমশ প্রখর হচ্ছে। শীত প্রায় এসে গেছে বলেই সেরকম তাপ নেই।

একটা গাড়ি নিঃশব্দে প্রায় বাতাসে ভেসে এসে গেটের সামনে এসে দাঁড়াল। সপ্রতিভ, ফিটফাট একজোড়া যুবক-যুবতী দরজা খুলে বেরিয়ে এল। ক্ষীরোদ বিস্মিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। ছেলেমেয়ে দুটি হাতজোড় করে নমস্কার করে বলল, “স্যার, আমরা সি-শার্প থেকে আসছি। আপনার কাছে আমাদের একটা প্রস্তাব ছিল।”

ক্ষীরোদ ভিতর থেকে দুটি চেয়ার এনে তাদের বসালেন। ছেলেটি দীর্ঘ ভূমিকার পর আসল প্রস্তাবে এল। শুনতে শুনতে ক্ষীরোদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে যাচ্ছিল। এরা বলে কী? এও কি সম্ভব?

এবারে মেয়েটি বলল, “স্যার, আপনি এত বড়ো শিল্পী, আপনাকে বলতে সংকোচ হয়, তবু ভেবে দেখুন এখন আর সেই অর্থে লাইভ মিউজিক খুব বেশি লোকে শোনে কি? আমাদের প্রস্তাবে রাজি হলে আমাদের কম্পিউটার আপনার সুরেই নতুন সুর তৈরি করবে, গোটা দেশের মানুষ তা শুনবে।”

ক্ষীরোদ মনে মনে বললেন, সে সুর কি আর আমি চিনতে পারব?

প্রাথমিক বিস্ময় কেটে গিয়ে তাঁর মুখে একসময় একচিলতে হাসি ফুটে উঠল। নাতির কাছে টেকনোলজি তিনিও অল্প অল্প শিখেছেন, তিনি জানেন এদের কম্পিউটার তাঁর মতো শিল্পীদের হাজার হাজার গান আর বাজনা শুনেই সুর তৈরি করতে শেখে। সেটা অবশ্য একধরনের চুরিই বলা যায়। এ নিয়ে কোর্ট-কাছারিও হয়েছে। আর এখন রীতিমতো সইসাবুদ করিয়ে মাথা থেকে সুরের উৎসটাই তুলে নিতে চাইছে। তবে ভেবে দেখলে এই বয়সে তাঁর আর হারানোর কিছু নেই। মেয়েটি হয়তো ঠিকই বলেছে। যে সুরের শ্রোতা নেই তাকে ধরে রেখে কী লাভ? না-হয় তিনি নিজের আনন্দেই বাজাবেন। একটাই কাজ বাকি ছিল, নাতিটাকে মানুষ করে যাওয়া, এরা যা টাকা দেবে বলছে সে-কাজটা ভালোভাবেই হয়ে যাবে।

তিনি হাত বাড়িয়ে বললেন, “কাগজপত্র এনেছ? দাও কোথায় সই করতে হবে।”

ছেলেমেয়ে দুটি মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। হয়তো ক্ষীরোদ এত সহজে রাজি হয়ে যাবেন তারা ভাবেনি। তারপর মেয়েটি বলল, “স্যার, একটা কথা।”

ক্ষীরোদ তার দিকে তাকালেন। মেয়েটি দ্বিধান্বিতভাবে বলল, “কথাটা এগ্রিমেন্টে বলাই আছে, তবু সি-শার্পের পলিসি অনুযায়ী একবার আপনাকে বলে দেওয়া উচিত।”

সে ছেলেটির দিকে তাকাল। ছেলেটি আমতা আমতা করে বলল, “আসলে, এই টেকনোলজিটাই এমন, কপি করার পর আসল স্কিলটা ব্রেন থেকে মুছে যায়।”

ক্ষীরোদ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর মুখ দেখে মনে হল ছেলেটির কথাগুলি যেন তাকে ঘিরে বাতাসে ঘুরছে।

ছেলেমেয়ে দুটি তাঁকে দেখছিল। একটু পরে মেয়েটি বলল, “স্যার, আমরা না-হয় দু-দিন পরে আসব। আপনি ভেবে দেখুন। আপনার নাতির সঙ্গেও কথা বলুন।”

স্তব্ধ ক্ষীরোদকে রেখে ওরা বিদায় নিল।

চার

অয়ন তার বন্ধুদের সঙ্গে কলেজের কম্পাউন্ডে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এবারে কলেজের ওয়েবজিনে গত কয়েক দশকে সমাজ, শিল্প, সংস্কৃতি সব কীভাবে পালটে গেছে তা নিয়ে তাদের এক বান্ধবী সঞ্জনা চমৎকার লিখেছে। তা নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল। আজকাল সব আলোচনাই প্রযুক্তিতে এসে ঠেকে। আজ গানবাজনার দিকে ঘুরে গেল। শোভন বলল, “যাই বলিস, শিল্পীদের গাওয়া গান বা আঁকা ছবি কম্পিউটারের তৈরি গান বা ছবির থেকে উচ্চমানের, আমার এরকম কিছু মনে হয় না। সেদিন একটা চমৎকার এক্সিবিশন দেখলাম। আগে থেকে না বলে দিলে কোনও শিল্পীর আঁকা নয় বোঝার উপায় নেই।”

ঈশা বলল, “আমার কিন্তু মনে হয় এদের সীমাবদ্ধতা আছে। এরা তো কপি-ক্যাট, সেই অর্থে মৌলিক সৃষ্টি করার  ক্ষমতা কি এদের আছে?”

সঞ্জনা হেসে বলল, “ওটাও হয়তো একদিন হয়ে যাবে। তবে আমার মনে হয় প্রশ্নটা তখনও থেকে যাবে। আসলে আমরা যে ছবি গান বা কবিতা ভালোবাসি, তার একটা কারণ হল আমাদের মতো আর একজন রক্তমাংসের মানুষের প্রতিভা আমাদের মন ছুঁয়ে যায়। ভেবে দ্যাখ, আসল মোনালিসা বা স্টারি নাইট দেখে যে আনন্দ পাওয়া যায়, হুবহু নকল ছবি দেখলেও সেটা হয় কি? আজকাল শিল্প তো প্রযুক্তির কেরামতি, ওর পিছনে সেই মানবিক সত্তা কোথায়?”

সবাই একটু থিতিয়ে গেল। অয়ন কৃতজ্ঞভাবে সঞ্জনার দিকে তাকাল। ঠিক এই কথাটাই অস্পষ্টভাবে তারও মনে হত, সঞ্জনা সুন্দর করে বোঝাল।

পাঁচ

গ্রামে নিশ্চুপে সন্ধ্যা নামছে। ঝোপঝাড়, গাছপালা, দূরের প্রান্তর ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে। একটু পরেই চাঁদ উঠবে, তরল আলোয় ভেসে যাবে চারদিক।

ক্ষীরোদ বাঁশি হাতে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে সামনেই পাথরের একটা চাতালমতো আছে, সেখানে গিয়ে বসলেন।

আজ ওদের ডেকেছিলেন তিনি। সইসাবুদ করে দিয়েছেন। ওরা কাল এসে তাঁকে শহরে নিয়ে যাবে। কাজটা করতে ঘণ্টা খানেক লাগবে, তারপর আধঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে ছেড়ে দেবে। ওরা নাতিকে খবর দেবে কি না জিজ্ঞেস করেছিল, ক্ষীরোদ না করেছেন। যাবার সময় ওরা দু-ইঞ্চির একটা ডিস্ক ক্ষীরোদকে দিয়ে গেছে, তাতে ক্ষীরোদের সমস্ত রেকর্ড ও লাইভ অনুষ্ঠান ধরা আছে।

তিনি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। একসময় সামনে তাকিয়ে দেখলেন এক আকাশ চাঁদ উঠেছে। স্নিগ্ধ নরম  জ্যোৎস্নায় ভরে উঠছে চরাচর। তাঁর হঠাৎ গা ছমছম করে উঠল। এই গ্রাম, প্রান্তর, বৃক্ষরাজি, খোলা আকাশ, কালপুরুষ, ছায়াপথ যেন এক গুণীর উন্মুক্ত তানের মতো নীরবে বেজে চলেছে। এই সুরই তো তিনি সারাজীবন ধরার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। আজ কি বাঁশি সাড়া দেবে? তিনি চোখ বন্ধ করে বাঁশিতে ফুঁ দিলেন। ঘুমন্ত গ্রামটির বাতাসে সেই সুর যেন সাকার হয়ে সোনার ফোঁটার মতো ঝরে পড়তে লাগল।

কতক্ষণ বাজিয়েছেন খেয়াল নেই। হঠাৎ কার পায়ের শব্দ শুনে চোখ খুলে তিনি দেখলেন, একটি শিশু জ্যোৎস্নাস্নাত প্রান্তর দিয়ে টলমল পায়ে ছুটে আসছে। তিনি চমকে উঠলেন। শিশুটিকে খুব চেনা লাগছে। সে কাছে এসে খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল। ক্ষীরোদ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তারপর তাঁর মুখ প্রশান্ত হাসিতে ভরে উঠল। তিনি নিঃশব্দে তার দিকে বাঁশিটি এগিয়ে দিলেন। শিশুটি নিল। তারপর সরলভাবে হেসে বলল, “তুমি বড়ো ভালো বাজাও।”

ক্ষীরোদ হাসিমুখে বললেন, “আর তো বাজাব না।”

শিশুটি দু-দিকে মাথা নাড়ল। সে একমত নয়। ক্ষীরোদ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। শিশুটি বাঁশি হাতে হাঁটতে হাঁটতে জ্যোৎস্নার মধ্যে মিলিয়ে গেল। যতদূর দেখা যায় ক্ষীরোদ তাকিয়ে রইলেন।

পরের দিন সকালে ছেলেমেয়ে দুটি এসে অবাক হয়ে দেখল ক্ষীরোদ চাতালের উপরেই ঘুমিয়ে আছেন। তাঁরা ডাকার আগেই তিনি নিজেই উঠে বসে লজ্জিতভাবে বললেন, “এহ্‌-হে, এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দাঁড়াও, চটপট তৈরি হয়ে আসছি।”

ছেলেমেয়ে দুটি এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। মেয়েটি হঠাৎ বলল, “ওই দ্যাখ, উনি বাঁশি ফেলে গেছেন।”

সে নীচু হয়ে চাতালের নীচ থেকে বাঁশিটি কুড়িয়ে নিয়ে নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিল।

ছেলেটি অবাক হয়ে বলল, “এটা কী করলি?”

মেয়েটি হালকা হেসে বলল, “ওঁর নিশ্চয়ই আরও অনেক আছে। এটা আমার কাছে থাক।”

জয়ঢাকের গল্পঘর

এই লেখকের কুড়িটি কিশোর কাহিনির সঙ্কলন ‘ভয়ের ভাক্সিন”  বইটি সম্বন্ধে জানতে ও  জয়ঢাক প্রকাশনের বুকস্টোর থেকে অর্ডার দিতে নীচের ছবিতে ক্লিক করুন

bhoyvacbook

Leave a Reply