পুজোর নাটক- অক্টোপাসের দাঁত-রাজীব রায়  গোস্বামী শরৎ’২৬

জয়ঢাকের নাট্যশালা:
হাবুদের ডালকুকুরে , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুরাতন ভৃত্য যোগীনদাদা –রবীন্দ্রনাথের কবিতার নাট্যরূপঃ  (তাপস শঙ্কর ব্রহ্মচারী)   রাজপুত্তুর(কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)    সেলফিশ জায়েন্ট- (অনুপম চক্রবর্তী,) পুজোর প্রস্তুতি  (আশুতোষ ভট্টাচার্য), অমৃতযাত্রী(কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)চিচিং ফাঁক(কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)নিউটনের সঙ্গে একবেলা(বামাচরণ  ভট্টাচার্য), ঘ্যাঁঘাসুর (কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়),  গুরুদক্ষিণা (কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়) ,  বোম্বাগড়ে গুপিবাঘা(সাগ্নিক ভট্টাচার্য), কুমিরের বন্ধু (কিশোর ঘোষাল), আশ্চর্য প্রদীপ (কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)

চরিত্রলিপিঃ দারোগা-বটুকেশ্বর, নেতা-পশুপতি গড়াই, সেলুনের মালিক-বেংকটাকালী এবং চায়ের দোকানি। 

[মঞ্চে আলো এলে দেখা যায় দারোগা সাহেবের ঘর। বহুদিন পর কাল রাতে বেশ ভালো ঘুম হয়েছে। তাই সকাল থেকেই বটুক দারোগার মনটা বেশ ফুরফুরে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজের পাতা উল্টাচ্ছিলেন, মাঝে মাঝে গুন গুন করে গানও গাইছিলেন দু-এক কলি, কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন। দরজায় পশুপতি গড়াই। লম্বুপানা ঘেঁটি থেকে বেগুনপানা মুখটি উচ্চুঙ্গু করে দাঁড়িয়ে। যেন ডুব সাঁতারে এই ঘাটে এসে ভেসে উঠলেন ফস করে। লোকটা যখন তখন যে কোনও কিছু নিয়ে থানায় চলে আসেন। ভাবখানা এমন, পুলিশ যেন পোষা পাখোয়াজ। যেমন খুশি বাজালেই হল। অন্য কেউ হলে অ্যাদ্দিনে চটকে চচ্চড়ি বানিয়ে দিতেন কিন্তু পশুপতি এলাকার মান্যিগন্যিদের একজন। কাজেই ঘেট্টিগোল্লা দেওয়ার সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলোয় না। ] 

পশুপতিঃ (মৃদু হেসে বলেন)  হে হে সক্কালবেলাই বিরক্ত করলাম…।

দারোগাঃ না না বিরক্তির কী আছে… হে হে…। ঈশ্বরের দর্শন পাওয়া আর আপনার মতো মানুষের দেখা পাওয়া… দুটোই বড়ো কপাল করলে মেলে। 

পশুপতিঃ এ আপনার রাগের কথা বটুকবাবু। কিন্তু কী করব বাধ্য হয়ে আসতে হল। 

পশুপতিঃ (সামনের খালি চেয়ার দেখিয়ে দেন দারোগা বটুকেশ্বর। বসতে বসতে পশুপতি বলেন)  আসলে হয়েছে কী… পিতৃদেবের নীচের দাঁতের পাটিটা খুঁজে পাচ্ছি না …হে হে। 

দারোগাঃ সোনা না প্ল্যাটিনাম? 

পশুপতিঃ আজ্ঞে ! 

দারোগাঃ বলছি আপানার বাবার দাঁতগুলো কি সোনা দিয়ে বাঁধানো ছিল?

পশুপতিঃ আজ্ঞে না তো ! কেন !

দারোগাঃ দাঁতের জন্য থানায় চলে এসেছেন তো…  তাই বললুম আর কি। তা ছবির আর দাঁত দিয়ে কী হবে !

পশুপতিঃ আজ্ঞে ঠিক বুঝলুম না দারোগা সাহেব। 

দারোগাঃ বলছি আপনার পিতৃদেব শ্রীযুক্ত রমাপতি গড়াই, দিন তিনেক আগেই তো অমৃতধামে যাত্রা করেছেন। কি ঠিক কিনা?

পশুপতিঃ আজ্ঞে হ্যাঁ। 

দারোগাঃ একটি দিনও বিছানায় পড়ে থাকেন নি। আর এ এসি নয়, এক চান্সে কনফার্ম। ডাক আসার সঙ্গে সঙ্গেই ধেই ধেই করে চলে গেছেন। তাই বলছি ছবির আর দাঁত দিয়ে কী হবে!

পশুপতিঃ ( দারোগার কথা শেষ করার আগেই বলে ওঠেন) উহুহু… বিষয়টা লাইফ অ্যান্ড ডেথের নয় বটুকবাবু। বিষয়টা সেন্টিমেন্টের। যদি বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে আমি এটা নিয়ে এতটা আবেগতাড়িত হতাম না…বিশ্বাস করুন…। ভাবতাম যা গেছে তা গেছে। আসলে উনি আর আমাদের মধ্যে নেই বলেই…।”  ( কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বার দুয়েক ফোৎফোৎ করেন, তারপর পাঞ্জাবির পকেট থেকে রুমাল রার করে চোখদুটো মুছে নেন। ) 

দারোগাঃ  বুঝতেই পারছেন আমাদের ফোর্স কম। সিরিয়াস বিষয়গুলোই…

পশুপতিঃ ( হাউমাঊ করে বলে ওঠেন) কাল থেকে আমার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে চলেছে মিঃ মাইতি। আর আপনি বলছেন সিরিয়াস নয় ! আমি মানছি…আমি মানছি ফোর্স কম কিন্তু পুলিশের অসাধ্য কিছুই নেই। 

দারোগাঃ (তড়িঘড়ি বলে ওঠেন)  আমার একটা সম্ভাবনার কথা মাথায় আসছে পশুপতিবাবু। 

পশুপতিঃ দয়া করে বলুন মিঃ মাইতি। 

দারোগাঃ আজ্ঞে ডেডবডির সঙ্গে …আসলে আপনার বাবা তো উইদাউট নোটিশে…আই মিন একেবারে হঠাৎ করেই চলে গেলেন। হয়ত দাঁত সমেতই গেছেন। বাঁধানো পাটি আর খোলার সময় পান নি।

পশুপতিঃ ডোম…! (বিকট চিৎকারে একটা শব্দ বলে খানিক চুপ করে থেকে তারপর বাক্য শেষ করেন) না স্যার সে সুযোগ নেই। ডোম বলেছিল বাইরের কিছু নিয়ে বডি যাতে না ঢোকে। তাই আংটি মাদুলি সব আমরা চেক করেই নিয়েছিলুম। 

দারোগাঃ হ্যাঁ সে তো জানি। কিন্তু দাঁত ! 

পশুপতিঃ সেটা আলাদা করে দেখার আর প্রয়োজনই হয় নি। হাঁ করা অবস্থাতেই তো বাবা চলে গেলেন। এমনিতেই সবকিছু দেখা যাচ্ছিল। উপরের পাটিটা অরিজিনাল ছিল, নীচেরটাই বাঁধানো হয়েছিল। কিন্তু ছিল না। তখন ভেবেছিলাম বাড়িতেই আছে। কিন্তু পরে আর খুঁজে পাই নি।  

দারোগাঃ পেটে চলে যায়নি তো?

পশুপতিঃ সে সম্ভাবনাও নেই। বাথরুমে স্ট্রোক হয়ে মারা গিয়েছেন। পোস্টমর্টেম হয়েছিল। সেরকম কিছু হলে রিপোর্টে কি আর থাকত না!

দারোগাঃ তবে তো ঠিকই আছে। পেটে কিম্বা কেওড়াতলায় যদি মিসিং না হয়  তবে দাঁত ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে।

[কথপকথনের মধ্যেই চায়ের দোকানি হাজির হয়। কাপগুলো নিতে এসেছে। দু একখানা বাক্য তার কানে গিয়েছিল] 

চায়ের দোকানিঃ স্যার বেংকটাকালীর সেলুনে…,মানে আপনাকে যে  হাতকাটা মনা, পাতলা হারাধন, ৬ নম্বর ঝঙ্কুর খবর টবর দেয় আর কি…

দারোগাঃ হ্যাঁ সে তো বুঝলুম। তুই আসল কথাটা বল…। কী ! বেংকটাকালীর সেলুনে কী !

চায়ের দোকানিঃ আমি কালকেই দেখেছি। চা দিতে গিয়েছিলুম। তখনই দেখলুম। দেখেই আমার মনে হয়েছিল দুম করে একখানা দাঁতের পাটি এইভাবে গড়াগড়ি দিচ্ছে কেন ! 

দারোগাঃ (দু-এক মুহূর্ত হাঁ করে থেকে শুধোন) কী ! কী দেখেছিস ভালো করে খুলে বল হতভাগা!

চায়ের দোকানিঃ আজ্ঞে দাঁত। বড়ো আয়নার সামনে শোকেসের উপর রাখা। সাদা আলোয় ফকাফকাচ্ছিল। একবার খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন স্যার। 

      দারোগাঃ(পশুপতির দিকে তাকিয়ে) আপনার বাবা কি ঐ সেলুনে যেতেন?

পশুপতিঃ হ্যাঁ যেতেন তো। বেংকটাকালীর সেলুনেই যেতেন। 

দারোগাঃ অ্যাঁ…এ তো খুব সহজ কথা নয় ! যে নিখোঁজ হওয়া বস্তুটি নিয়ে তখন থেকে এতোল বেতোল চলছে, সেটা কিনা কালী বগলদাবা করে দিব্যি চুপ করে বসে আছে! তবে…

পশুপতিঃ তবে ! 

দারোগাঃ তবে… একখানা দাঁতের পাটি নিয়ে যে তার কী লাভ, সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না!

[বটুকেশ্বর এবং পশুপতি দুজনের চোখই গোল হয়ে গিয়েছিল চায়ের দোকানির কথা শুনে। দোকানি কাপ নিয়ে দাঁড়িয়েই ছিল। দারোগা তাকে বলেন] 

দারোগাঃ  তুই যাবার সময় বেংকটাকালীকে বলে যা, যে আমি তাকে এক্ষুনি দেখা করতে বলেছি।  

[ থানার উল্টোদিকেই সেলুন। দারোগা সাহেবেরও নিয়মিত পদধূলি পড়ে ক্ষৌরকর্মের জন্য। চুল দাড়ি সাফা হওয়ার পর মাথায় যখন তবলা বাজায় কালী, তখন আয়েসে চোখ বুজে আসে বটুকেশ্বরের। শিবনেত্র হয়ে সুখদুঃখের গল্প জোড়েন।  মাঝে মাঝে কালীর কাছ থেকে হাতকাটা মনা, পাতলা হারাধন, ৬ নম্বর ঝঙ্কুর খবরাখবরও পান। কাজেই বেংকটাকালীর সঙ্গে দারোগার ভালোই আলাপ পরিচয় আছে। তলবের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাজির হয় কালী। চেনাজানা থাকলেও অসময়ে পুলিশি তলবে সে খানিক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। জড়সড় হয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। বাজখাঁই হাঁক দেন দারোগা সাহেব]   

দারোগাঃ উহু ঐখানে নয়। কাআআম ইন। ভিতরে আসতে হবে। ভিতরে। ( বেংকটাকালী কাছে এসে দাঁড়াতেই বলেন) ওহে বেংকটা তোমার ওখানে নাকি একটি বেওয়ারিশ দাঁতের পাটি গড়াগড়ি খাচ্ছে!”

বেংকটাঃ (কথা শুনে প্রথমটায় কিছুই ঠাহর করতে পারে না। খানিক সময় নিয়ে বলে) আজ্ঞে। কোনও কাস্টমার ফেলে গেছে…। আপনি স্যার কী করে জানলেন!

দারোগাঃ যা জানতে চাইছি তার উত্তর দাও। দাঁতের পাটি তোমার দোকানে কেউ ফেলে যাবে কেন !

বেংকটাঃআসলে স্যার একবার এক কাণ্ড হয়েছিল। একজনের ছিল নকল দাঁত। দাঁড়ি কামাতে গিয়ে হল কী স্যার…”

দারোগাঃ কী হল !

বেংকটাঃ খুলে পেটে চলে যাওয়ার উপক্রম হল। কোনোরকমে সে যাত্রা অঘটনের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলুম স্যার। কিন্তু তারপর থেকে সাবধান হয়ে গেছি স্যার। ফলস হলেই খুলে রাখতে বলি।

(বেংকটার পিছু পিছু চায়ের দোকানিও হাজির হয়েছিল। সে ধুয়ো ধরে)

চায়ের দোকানিঃ ফলস হলেই খুলে রাখতে বলে। 

(পশুপতি অনেকক্ষণ চুপ করেছিলেন। এইবার হাউমাউ করে ওঠেন]    

    পশুপতিঃ ঐটা আমার বাবার পাটি। এক্ষুনি ফেরত চাই। 

[কালী এতক্ষণে খানিক থিতু হয়েছে। সে পশুপতির ধমকে আর নতুন করে বিচলিত তো হয়ই না বরং ঘেটি টেটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। দারোগা বলেন]  

দারোগাঃ কী হল কালী ! দাঁড়িয়ে রইলে যে !

বেংকটাঃআজ্ঞে স্যার উনি বললেই তো আর আমি দিয়ে দিতে পারি না।

[বেংকটাকালীর বাক্যি শুনে পশুপতির চোখজোড়া স্যাটেলাইটের মতো হয়ে যায়] 

  পশুপতিঃ আমার বাপের জিনিস আমাকে ফেরত দিতে তোমার কী অসুবিধা হে শুনি !  এই মুহূর্তে আমার বাবার পাটি ফেরত চাই।  

[বেংকটাকালীও ঠ্যাটা কম না। ঘাড় বাঁকা অবস্থাতেই বলে]

বেংকটাঃ আজ্ঞে স্যার প্রমাণ….।  

পশুপতিঃ প্রমাণ ! আমি কি মিথ্যা কথা বলছি অ্যাঁ ! 

বেংকটাঃ আজ্ঞে সত্য মিথ্যার ব্যাপার নয় স্যার। যদি ভুল হয়? আমার এখানে অনেকেই আসেন, নকলি নিয়ে। আমি আপনাকে দিয়ে দিলাম, এইদিকে  দেখা গেল ঐ পাটি অন্য কারও… তখন ! জেনুইন লোক খুঁজতে এসে পেলেন না…। তখন আমি কেস খেয়ে যাব স্যার।”  

পশুপতিঃ জেনুইন ! আমি জেনুইন নই অ্যাঁ ! 

বেংকটাঃ আজ্ঞে স্যার আপনি আমার ব্যাপারটা… 

পশুপতিঃ (কালীর কথা শেষ হওয়ার আগেই পশুপতির মুখ থকে ঘট করে একটা শব্দ ছিটকে বার হয়) নীচের। 

বেংকটাঃ কী স্যার ! 

পশুপতিঃ দাঁতের পাটি। নীচের। 

(বটুকদারোগা  চুপ করে ছিলেন। এইবার উনিও কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। বহুদিন ধরেই যা নয় তাই নিয়ে থানায় এসে ঝামেলা পাকাচ্ছেন এই পশুপতি। এইবার তাঁকে কিঞ্চিৎ শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া গেছে। দারোগা সাহেব বলেন)

দারোগাঃ পশুপতিবাবু,  দাঁতের পাটি যে নীচের, সেটা আপনি আগেও বলেছেন। সে আর নতুন করে জানবার কিছু নেই। এখন…কটা দাঁত আছে, সেটা যদি একটু বলেন তবেই বোঝা যাবে যে ঐ বস্তুটি রমাপতিবাবুর। 

পশুপতিঃ (এইবার রাগত স্বরে মুখ দিয়ে ছিটকে বার হয় আর একটা শব্দ) আটটায়ায়া…।

[এত চটজলদি উত্তর কেউ আশা করে নি। বটুক দারোগা বলে ওঠেন] 

দারোগাঃ আপনি নিশ্চয়ই বাঁধিয়ে এনে দিয়েছিলেন। তাই আপনার মনে আছে । 

পশুপতিঃ আজ্ঞে না। 

দারোগাঃ আজ্ঞে না ! 

পশুপতিঃ বাবা নিজের কাজ নিজেই করতেন। আসলে আমারও নীচের পাটির আটখানা দাঁত বাঁধানো। 

দারোগাঃ হ্যাঁ… সে না হয় হল কিন্তু আপনার নিজের বাঁধানো দাঁতের সঙ্গে বাবার বাঁধানো দাঁতের সম্পর্কটা তো ঠিক উদ্ধার করতে পারছি না!

পশুপতিঃ গৌরহরি গোস্বামীর নাম শুনেছেন?

দারোগাঃ কে গৌরহরি !

পশুপতিঃ ডেন্টিস্ট।  বাজারের মুখে চেম্বার…

দারোগাঃ হুমম শুনেছি।

পশুপতিঃ ওঁর কথাটা আমার এখনও মনে আছে। অক্টোপাসের বংশধর। অক্টোপাসের বংশধর বলেছিলেন উনি আমাকে। ভাবতে পারেন ! 

দারোগাঃ ঠিক কী বলতে চাইছেন একটু যদি বুঝিয়ে বলেন… 

পশুপতিঃ বলছি। বাবার দাঁত বিগড়েছিল আশিতে কিন্তু আমার এই বয়েসেই নীচের পাটি মোটামুটি সাফ। ভাবলুম বাঁধিয়েই ফেলি। গোঁসাই ডাক্তারের কাছে যেতেই তিনি দেখেশুনে একগাল হাসলেন। বললেন,বাব্বা এ তো দেখছি অক্টোপাসের বংশ। কথা শুনে আমি ভ্যবাচাকা খেয়ে গেছলুম । তারপর নিজেই বললেন …”

দারোগাঃ কী বললেন ! 

পশুপতিঃ বাবা নাকি আগের মাসেই দাঁত বাঁধিয়েছেন। তা… তেনারও নাকি আমার মতো আটখানাই বাঁধাতে হয়েছিল। নীচের পাটির। তাই নাকি আমাদের অক্টোপাসের বংশ…ভাবতে পারেন…

দারোগাঃ হুমম বুঝেছি।

পশুপতিঃ কী বুঝেছেন ! 

দারোগাঃ বুঝতে পারছি যে বেংকটার ওখানে পড়ে থাকা দাঁতের পাটি আপনার বাবার না হয়ে যায় না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কেউ কি ঢপ মারতে…সরি আই মিইইন মিথ্যে কথা বলতে পারে!  ওহে বেকংটাকালী এখনও দাঁড়িয়ে দেখছ কি ! যাও গিয়ে দাঁতের পাটিখানা নিয়ে এস।

বেকংটাকালীঃ আজ্ঞে ইয়েস স্যর …এক্ষুনি আনছি স্যার…

[ তিড়িং বিড়িং লাফ দিয়ে ছোটোে রমাপতির দাঁতের পাটি আনতে। ধীরে ধীরে আলো নিভে আসে]   

 *************************************************************

** স্বরচিত গল্প (আনন্দমেলা। নভেম্বর ২০২৩) ‘অক্টোপাসের দাঁত’ অবলম্বনে নাটকটি লিখিত।