ঋতা বসুর আরো গল্প: শিকার ও শিকারী, মিষ্টিবুড়ির কাণ্ড, ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি, মৌটুসীর বাসা, বিজু যা দেখে, আলো ছায়ার খেলা , সুশোভন বাগচির এক্সপেরিমেন্ট, ডাইনীর প্রতিশোধ, বাঘু মেঘনা ও পিন্টুমামা, সোনা আর কোলা, নিউ মার্কেটে

ত্রৈলোক্যর ফুটো কপাল। যাই করতে যায় বাধা পড়ে। যিনি তার নামকরণ করেছিলেন সেই পরলোকগত ঠাকুরদাকে একবার হাতে পেলে সে দেখে নিত। এই নামকরণের জন্যই তিন লোক অর্থাৎ স্বর্গ মর্ত্য পাতালের যত দুর্ভোগ তার ঘাড়ে এসে পড়েছে। তাকে জব্দ করবে বলেই যেন সবাই উঠে পড়ে লেগেছে। বাইরের লোকেরা তো আছেই তার সঙ্গে তার নিজের সংসারও তাল মিলিয়েছে। গিন্নি ছায়া রানি বিয়ের পর প্রথম কদিনই যা একটু ছায়ার মতো পেছনে পেছনে ঘুরেছিল। তারপর দেখা গেল ত্রৈলোক্যর কথাটা ছাড়া সে সবার কথা শুনছে। সংসারের হাজার কাজের মধ্যে তার ছায়াটা কোথায় মিলিয়ে গেল। দুঃখের কথাটা বলবে তারও উপায় নেই। অথচ কি না করে চলেছে সে এই সংসারের জন্য!
অফিসে তার দু’ধাপ নীচের এই সেদিনের ছোকরা জয়দেব প্রমোশন পেয়ে চলে গেল হেড অফিসে। যাবার আগে গায়ে জ্বালা ধরানো কি মিষ্টি মিষ্টি কথা! “আপনার আশীর্বাদ না থাকলে হতই না। আপনাকে দেখে দেখে কাজ শিখেছি। আপনি কি আজকের লোক?”
এই কথাটার মানে কী? কবেকার লোক বলে তাকে একরকম অপমানই তো করা হল। ঘুরিয়ে বোঝাতে চাইল, আপনি সেই একই পোস্টে পড়ে থেকে কলম ঘসছেন। আমার কেমন প্রমোশন হয়ে গেল।
তেতো মনে বাড়ি ফিরে দেখে সরকার থেকে পাড়ায় পাড়ায় যে সোলার আলোটা লাগাচ্ছে সেটা তার অন্যতম অপছন্দের মিত্রবাড়ির একদম সামনে। তাদের দরজার ঝকঝকে আলোটা মুখ ভেংচাচ্ছে তাকে।
গনগনে মন নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই একটা বিকট গন্ধ। ঠিক যা ভেবেছেন তাই। এই ফলের গন্ধ নাকে গেলেই তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন সেই কাঁঠালের কোয়া ছাড়াতে ব্যস্ত ছায়ারানি সঙ্গে সবজান্তা বড় শালা। তাকে দেখেই আহ্লাদে গলে গিয়ে বলে উঠলেন, “দেখো, একেবারে সোনার মতো রং। খেতেও অমৃতের মত।”
নিজের তালে দুই ভাইবোন এমনই মত্ত যে লক্ষই করছে না ত্রৈলোক্যর মুখটা যে ক্রমশ মেঘের মতো হয়ে উঠছে। এঁচোড়ে পাকা শালা বঙ্কু বলল, “অ জাঁইবাবু, ফলের রাজা কাঁঠাল। তা আপনি খান না এ বড়ো লজ্জার কথা!”
বাঘের মতো গরগর করে ত্রৈলোক্য বলে, “কার লজ্জা? আমার না কাঁঠালের?”
মাছি ওড়ানোর মতো করে কথাটা উড়িয়ে বঙ্কু বলে, “আরে রাজার আবার লজ্জা কী? তার কি প্রজার অভাব?”
ছায়ারানি হাত নেড়ে বললেন, “রাজা প্রজা বুঝি না। বাবা বলতেন বালিশ নেই? কাঁঠাল মাথায় শুয়ে থাক। পাখোয়াজ নেই গানের আসরে? কুছ পরোয়া নেহী। একটা শক্ত দেখে কাঁঠাল থাকলেই হবে। সবথেকে বড় কথা তোকে সবার সঙ্গে ভাগ করে খেতেই হবে। কিপ্টে হওয়া সম্ভবই না!”
আড়চোখে তার দিকে ইঙ্গিতটা ত্রৈলোক্যর দৃষ্টি এড়াল না। দুই ভাইবোন কাঁঠালের রূপ গুণ বর্ণনায় এমন মত্ত হয়ে রইল যে ত্রৈলোক্যর কথা তারা ভুলেই গেল।
ঘরে বাইরে এই উপেক্ষা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। আজই তো বাসে কন্ডাকটরকে সমানে ডেকেই চলেছেন টিকিটটা নেবার জন্য সে ব্যাটা আসেই না।
মাথাঠান্ডা রেখে নরম গলায় যেই বলেছেন, “আজ কি বাস কম্পানি ফ্রি রাইড দিচ্ছে?”
সঙ্গে সঙ্গে হাটুর বয়সী কন্ডাকটরটা বলে উঠল, “কেন কাকু কি বরযাত্রীর জন্য বাস ভাড়া নিয়েছেন?”
দুই মহিলা লেডিস সিট থেকে তার দিকে তাকিয়ে নিজেদের মধ্যে কী যেন বলাবলি করল। ত্রৈলোক্যর কান অপমানে ঝাঁ ঝাঁ করছিল। বহুকষ্টে নিজেকে সামলালেন। কন্ডাকটরটা কাছে এসে পয়সা নিয়ে বলল, “টিকিট না কেটে যাবেন কোথায়? নামবেন তো পোস্টাপিস মোড়ে। তার তো দেরি আছে।”
ত্রৈলোক্য দাঁতে দাঁত চিপে চুপ করে রইল। তিনি অনায়াসেই বলতে পারতেন “দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ইয়ার্কি না মেরে এক পা ভেতরে এসে টিকিট কাটলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয় শুনি?”
আজকাল রাগ হলেই মোঙ্গল দস্যু চেঙ্গিস খাঁর মতো চারদিক লন্ডভন্ড করে ফেলতে ইচ্ছে করে। তার দরকারটা কি কারও চোখেই পড়ে না?সেইজন্য সবকিছুই তিনি শেষে পান। কাজের মেয়ে ইলা ভাঁজ করা জামাকাপড় রেখে যাবার পর গেঞ্জিটা খুঁজেপেতে গলদঘর্ম অবস্থা। সব জামাকাপড়ের নীচে এমন করে রাখা যে চোখেই পড়ে না। ফতুয়াটা পাচ্ছেন না দুদিন ধরে। ইলাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, “কি রে সবার সব এসেছে। আমারটা কই?”
-তোমারটা ছায়ায় শুকুচ্ছে।
-কেন সবারটা রোদে আমারটা ছায়ায় কেন? সবার পরে দিবি বলে?
–বা রে তুমি সেদিন অত চেঁচালে তোমার জামার রঙ উঠে যাচ্ছে বলে তাইতে মা বলল, ছায়ায় দিতে।
এইরকম প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে। ছেলেমেয়েরাও বাবাকে বেশি ঘাঁটায় না। মুশকিলে পড়েন ছায়ারানি। রবিবার সন্ধে বেলা টিভিতে একটা পারিবারিক চক্রান্তের মধ্যে বুঁদ হয়ে চা বিস্কুট খাচ্ছিলেন ছায়ারানি। ইলা বাড়ি চলে গিয়েছে। ত্রৈলোক্য সান্ধ্যভ্রমণ সেরে চা বলে একটা হাঁক দিলেন। ছায়ারানি গড়িমসি করে উঠতে উঠতে শোনেন ত্রৈলোক্য বলছে, “সরকারের উচিত বোকা বাক্স আইন করে বন্ধ করে দেওয়া। মা ঠাকুমাদের দেখেছি…”
কথা শেষ হবার আগেই ছায়ারানি বিস্কুটের কৌটো আর চায়ের কাপ ঠক করে নামিয়ে আবার চক্রান্তের জালে। কৌটো খুলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে ত্রৈলোক্য। সমস্ত বিস্কুট ভাঙা। তিনি কি রাস্তার কুকুর? কৌটোটা ছায়ারানির সামনে ফেলে দিয়ে বলল, “বারোমাস সংসারের জন্য খেটে এই আমার পাওনা? নিজেরা আগে সব আস্ত বিস্কুট খেয়ে আমার জন্য এগুলো রেখেছো?”
ছায়ারানি টিভির থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন, “কালই তুমি এই বিস্কুটের প্যাকেটটা কিনে এনেছো। তোমাকে দেখেই দোকানি ভেঙে চুরচুর হয়ে যাওয়া প্যাকেট গছিয়েছে। অন্য লোক নিতই না।”
নিজের ঘরে থুম হয়ে বসে ত্রৈলোক্যনাথ ভাবতে থাকে, একটা লোকেরও কি সবার আগে তার কথা ভাবার সময় নেই? তার দিকে চোখ পড়তে নেই? ছোটো থেকে বড়ো, ঘর থেকে বাইরে, সবাই মিলে সারাক্ষণ ষড়যন্ত্র করছে কী করে তাকে জব্দ করা যায়?
চায়ের গেলাসে চুমুক দিতে দিতে এই সমস্ত ভাবছিল সে পাড়ার চায়ের দোকানটার বেঞ্চিতে বসে। প্রতিটা চুমুকের সঙ্গে মনটা তেতো হয়ে যাচ্ছিল কেন কে জানে।
হঠাৎ পাশ থেকে টুক করে একেবারে মনের কথাটা কে যেন বলল, “এটা কি চা না কাঠ পচা জল?”
ত্রৈলোক্য তাকিয়ে দেখল কপাল আর ভুরু দুটো কোঁচকানো, নাকের দুপাশে গভীর খাঁজ। দেখেই মনে হল এতদিনে একটা মনের মতন মানুষের দেখা পেল ত্রৈলোক্য। এরপর কখন যে ভাব জমে উঠে উঠল দুজনের মধ্যে সে তারা নিজেরাই জানে না। সবাই পাল বাবু বলে ডাকে বলে বেশ কিছুদিন ত্রৈলোক্য জানতেই পারেনি যে দুজনের নামেও এত মিল। ত্রৈলোক্যর একমাত্র বন্ধুর নাম ত্রিভুবন পাল।
মনের মধ্যে যত কথার বুজকুড়ি কাটে, চারদিকে যত অনাচার অনিয়ম দেখেন বলতে গেলেই কুরুক্ষেত্র সেসব দুই বন্ধু দিনের শেষে নিজেদের মধ্যে প্রাণখুলে বলাবলি করে। একদিন ছেলে দরজা খুলে অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে দেখেও কোন মন্তব্য না করে গটমট করে নিজের ঘরে চলে গেল সে। ঘর থেকেই শুনল ছেলে উত্তেজিত হয়ে মা কে বলছে, “বাবা গুনগুন করে গান গাইছিল, আমি পষ্ট দেখেছি।”
এসব আর গায়ে মাখে না ত্রৈলোক্য। পালবাবুর সঙ্গে গবার চায়ের দোকানে চা মাখন রুটি দিয়ে সান্ধ্য টিফিন সারার সময়টায় যা আরাম – মনে হয় কে যেন ডলে ডলে সারা গায়ে তেল মাখিয়ে দিচ্ছে। পালবাবুরও যে তাই মনে হয় এটা সে খুব ভাল করে বুঝতে পারে।
এইরকমই একটা জমজমাট আড্ডা শেষে দুই বন্ধু যখন উঠি উঠি করছে একটা লোক যেন মাটি ফুঁড়ে এসে দাঁড়াল তাদের সামনে। লাল ফতুয়া হলদে লুঙ্গি মাথায় ছোটো একটা টিকি। দৈর্ঘে প্রস্থে দুই বন্ধুকে এক করলে যা দাঁড়াবে এই লোকটা একাই সেটা। এক দৃষ্টিতে তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “লাগবে নাকি?”
তারপর তাদের জন্য অপেক্ষা না করেই গলাটা আরও নামিয়ে এনে বলল, “বাঘের তেল, গন্ডারের শিং, হাতীর দাঁত, কুমীরের শিং? সংসার হাতের মুঠোয় রাখতে চাস কি না বল?”
যাদের বলছে তারা দুজনেই একেবারে স্ট্যাচু। লোকটার গলা, চোখের দৃষ্টি তাদের আঠার মতো এক জায়গাতেই আটকে রেখেছে। লোকটার কথা যেন কত দূর থেকে ভেসে আসছে, এতই মৃদু আর ফিসফিসে–”সাপের বিষও আছে। কিন্তু সে বোধহয় বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। তোরা হ্যান্ডল করতে পারবি না।”
লোকটা বলে কি? মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে না পেরে দুই বন্ধু চোখ চাওয়াচায়ি করে। তাই দেখে লোকটা হতভম্ব দুই বন্ধুকে তার পেছন পেছন হাঁটার ইশারা করে রাস্তা পেরিয়ে গেল লম্বা পা ফেলে। দুজন সম্মোহিতের মতো তাকে অনুসরণ করল।
একটা সরু গলির মুখে অপেক্ষাকৃত নির্জন জায়গায় এসে লোকটা বলল, “বাঘের তেজ, বাঘের চলা,বাঘের দম্ভ সে তো এমনই এমনই আসে না। সবাইকে বশ করতে চাইলে একটু কষ্ট তো করতেই হবে।”
দুজন নিশ্বাস বন্ধ করে একসঙ্গে বলে ওঠে, “করব। কী করতে হবে?”
“বাঘের তেলই একমাত্র ওষুধ। যে বনে বাঘ থাকে সেই বন দমবন্ধ করে থাকে। সেই বনের কি তাপ! ঢুকলেই টের পাবি এখানে বাঘ আছে। সংসারও মানুষের বানানো জঙ্গল। পশুরাজ নিজে তো আসবে না! তার তেজ পাঠিয়ে দেয় বোতলে করে। কিন্তু সে জিনিস যে বড্ড দামি! তোরা কি পারবি?”
-পারতেই হবে। ত্রৈলোক্য বলে।
-দক্ষিণা কত?এবারে পালবাবু।
টাকার অঙ্কটা শুনে দুজনেই একটু থতিয়ে যায়।
“কাল এই সময়ে এই জায়গায়”, বলে লোকটা সরু গলির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।
ত্রৈলোক্য একটু কিন্তু কিন্তু করে বলল, “ব্যাঙ্ক একেবারে খালি হয়ে যাবে তবু এ জিনিস ছাড়া ঠিক হবে না। কি বলেন?”
“খুব ঠিক কথা। তবে আমার টাকা তো সব গিন্নির নামে। আমি নাকি আলাভোলা ডান বাঁ জ্ঞান নেই। হাতখরচটুকু দিয়ে মাইনের সবটাই তিনি গাপ করে নেন। তবে আমিও এবার এস্পার ওস্পার করেই ছাড়ব।”
পরদিন পালবাবু এল সর্দি কাশি জ্বর নিয়ে। বলল, “সারাদিন শুয়েই আছি। শরীরটা সময় বুঝে বিগড়োল। সবটা টাকার যোগাড় করতে পারিনি। দেবে কিনা জানি না।”
“আমি কিছু বাড়তি রেখেছি সঙ্গে।” কৈলাশ বলল, “আর তাতেও না কুলোলে ফোনটা দিয়ে দেব। একেবারে নতুন।” তারপর কী মনে পড়ায় পাঞ্জা তুলে হাতের আংটিটা দেখিয়ে বলল, “আরে সলিড সোনার তৈরি এই আংটিটাই তো রয়েছে।
পালবাবুও নেচে উঠে বললেন, “তাই তো! আমার হাতেও তো রয়েছে। বাঘের তেলটা পেয়ে গেলে তো আর গিন্নিকে ভয় করার প্রশ্ন নেই!”
কালকের লোকটা হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে এসে দাঁড়াল। এক মুহূর্তের মধ্যে বিনা বাক্যব্যায়ে বেচাকেনা সব শেষ। দুজনের থেকে টাকা ঘড়ি ফোন আংটি নিয়ে দুজনকে ঘন তরল ভর্তি দুটি ছোটো শিশি দিয়ে লোকটা যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল। যাবার আগে বলে গেল, “আটচল্লিশ ঘণ্টা বাদে তেলটা ঠিক রাত বারোটায় ব্রহ্মতালুতে ঘসে ঘসে লাগাবি। তারপর থেকে হাঁটবি চলবি হাতে হাতে গরমটা টের পাবি। এই যে পকেটে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিস বদলটা এখন থেকেই শুরু হয়ে গেল।”
দুই বন্ধু অনেকক্ষণ হাতে নিয়ে বসে রইল গা গরম করা জিনিসটা। অন্য দিনের থেকে একটু বেশি দেরি হয়ে গেল বাড়ি ফিরতে। দরজা খুলেই ছায়ারানি কলকল করে শুরু করলেন, “এত দেরি? আমি তো ভাবছিলাম ছেলেকে থানায়…”
কথা শেষ করতে না দিয়েই পেছনে তিনজোড়া অবাক দৃষ্টিকে হাতের ইশারায় তুচ্ছ করে ত্রৈলোক্য ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’ গাইতে গাইতে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন।
আটচল্লিশ ঘণ্টা ও অপেক্ষা করতে হল না। পরদিন চায়ের দোকানে গিয়ে দেখে পুলিশের একটা দল তার জন্যই অপেক্ষা করছে। পালবাবুর ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, “এনাকে চেনেন?”
তখনও ভেতরে গমগম করছে বাঘের তেজ। বললেন, “চিনি মানে? আমরা এক গেলাসের বন্ধু।”
“তাহলে তো আপনাকেও একবার থানায় আসতে হচ্ছে। এর কর্মকান্ডের খবর আপনিই জানবেন তাহলে।”
এইসময়ে পাড়ার মাতব্বর নাড়ুবাবু এগিয়ে এসে পুলিশকে খুব নরম গলায় বললেন, “স্যার আপনি যা ভাবছেন তা নয়। ইনি এ পাড়ার বহুদিনের বাসিন্দা। এখানেই আলাপ-সালাপ। মনে হয় না এদের ডেরা জানেন বলে।”
ততক্ষণে ত্রৈলোক্যর তেজ ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গিয়েছে। ন্যাকড়ার পুতুলের মতো লতপত করছে সে। চারপাশের হট্টগোলের মধ্যে পুলিশ প্রধানের গম্ভীর গলা কানে এল। ত্রৈলোক্য দুঃখ পাবে না খুশি হবে বুঝতে পারল না। কানের কাছে সেই জোরালো গলাটা বলছে, “ধানবাদের একটা কেপমারের দলের পালের গোদা হল আপনাদের পালবাবু। কয়েকটা জায়গায় লোক ঠকিয়ে বেড়াচ্ছে জানতাম। আমরা কিছুতেই ধরতে পারছিলাম না। এই শহরে ঢুকেছে খবর ছিল, এদের জালে আপনিই প্রথম।”





