বয়স:- ১৫। শ্রেণি:- নবম। গোরাবাজার ঈশ্বর চন্দ্র ইনস্টিটিউশন (আই. সি. আই), মুর্শিদাবাদ
আগের গল্প- মিলির আঁকা ভুলুর ছবি হানাবাড়ির গল্প, রাতের শিমুলতলা রাজবাড়ি, উড়ন্ত পৃথিবী

অবনিকারা বড্ড গরিব। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। কুঁড়ে ঘরের ফুটো হওয়া চালের ফাঁকেই জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখে। ওর বাবা পেশায় ঘরামি। তবে বাবা ঘরামি হলেও মেয়ে অন্ত প্রাণ! মেয়ে যা চায়, তিনি চেষ্টা করেন মেয়েকে সবটুকু তাঁর উজাড় করে দিতে। আসলে তাঁর সাধ অনেক কিন্তু সাধ্য কম! অবনিকা বাবার কথা জানে, তাই বাবাকেও খুব ভালবাসে। আর তাই অন্য মেয়েদের মতো ‘বাবা এটা কিনে দাও – ওটা কিনে দাও…’ বলে বাবার কাছে বায়না করে না।
এরকমই একদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় একজন লোক ঘিরে ধরেছিল ওকে। লোকটা খুব ভালো করেই জানত, এই সময়েই একা একা বাড়ি ফেরে অবনিকা। অবনিকাও ওকে দেখে বুঝেছিল ওর কোনো বদ মতলব আছে। লোকটা ওকে ঘিরে ধরে রেখেছিল। লোকটা অনেক দামি দামি চকোলেট ওর সামনে বাড়িয়ে ধরে গোল গোল চোখ করে লোভনীয় দৃষ্টিতে বলল, “খুকি খাবে নাকি চকলেট? এই দেখো কত রকমের বিদেশি চকলেট!”
অবনিকা জানত, এগুলো ওকে ধরার একেকটা কৌশল বা ফাঁদ। ও বইয়ে পড়েছিল দুষ্টু লোকদের কাছ থেকে কোনো কিছু নিতে না। অবনিকা সঙ্গে সঙ্গে লোকটাকে সপাটে চড় মেরে বলল, “আপনি কি আমাকে ভিক্ষা দিচ্ছেন? মনে রাখবেন আমি গরিব হতে পারি কিন্তু লোভী নই!”
অবনিকার রুদ্র রূপ দেখে থমকে দাঁড়িয়েছিল লোকটা! ওরা এরকম প্রতিবাদী অবনিকাকে আশা করেনি বোধহয়…
খুদে স্রষ্টাদের সমস্ত কাজের লাইব্রেরি