Toyঢাক- উড়ন্ত পৃথিবী- সমাদৃত দাস-শরৎ২০২৫

বয়স:- ১৫। শ্রেণি:- নবম। গোরাবাজার ঈশ্বর চন্দ্র ইনস্টিটিউশন (আই. সি. আই), মুর্শিদাবাদ

আগের গল্প- মিলির আঁকা ভুলুর ছবি হানাবাড়ির গল্প,  রাতের শিমুলতলা রাজবাড়ি

আজ বেশ কিছুদিন পর গ্রন্থাগারে গেছি। এখন গ্রন্থাগারে যাওয়াই হয় না। বিভিন্ন কাজের জন্য আর আজকাল বই পড়ার সময় একদম পাই না। গ্রন্থাগারে এসে চমকে উঠলাম, আগেও বহুবার এসেছি এখানে। কিন্তু এত নিরিবিলি পরিবেশে দেখিনি। পছন্দের একটা বই বেছে নিলাম। একটা চেয়ারে বসে পড়তে শুরু করতেই বিস্মিত হলাম! প্রচ্ছদে লেখা “বিষে বিষক্ষয়”, আর কী মারাত্মক ছবিটা! ভালো করে প্রচ্ছদটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। মনে হচ্ছিল পুরো যেন জীবন্ত!

বইটা কল্পবিজ্ঞানধর্মী। বইয়ের পাতা উলটাতেই বুঝলাম চমকের আরও অনেক বাকি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, বইটিতে কিন্তু কোনো লেখকের নাম নেই। বইয়ের প্রথম পাতা খুলতেই বড়ো বড় করে সতর্কবার্তা লেখা, “নিজ দায়িত্বে পড়ুন। পাতা ওল্টালেই বিপদ।”

আমি সাধারণত খুব একটা ভয় পাই না। আমি পরের পাতা উল্টাতেই একটা চিত্র-নিদর্শন দেখতে পেলাম। অদ্ভুত! একদিকে একটা জেট বিমান, অন্যদিকে নৌকার ছবি। হঠাৎই চোখ পড়ল ছবিটার দিকে, দেখতেই আবারও একই লেখা, “পরের পাতা উল্টালেই বিপদ।”

আমি ভাবলাম এইভাবে কি ভয় দেখায় নাকি লেখক! অতএব না ভেবে পাতাটা উল্টাতেই, আমার সারা শরীর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠল। দেখলাম একদল ভিনগ্রহী আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। হঠাৎই নীচে চোখ রাখতেই চমকে উঠলাম, সেখানে গভীর সমুদ্র! আবার দেখলাম আমি মহাশূন্যে উড়ছি। দেখলাম কিছু পাখি উড়ে যাচ্ছে, তবে আমরা সাধারণত যে পাখি দেখি, এরা সেরকম নয়। ওদের গায়ে পালক নেই, গড়নটা বেশ লম্বা। পাখিগুলো আমাকে দেখে চড়কির মতো পাক খেতে থাকল।

আমি এখন মহাশূন্যে মেঘের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে, চাঁদ যেন ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে! একটা জিনিস দেখে আমি আরও অবাক হয়ে গেলাম, আমার শরীরে দুটো ডানা এলো কী করে! ওই ডানার দাপটে আমি পাড়ি দিচ্ছি দূর-দূরান্তে। হঠাৎ নিজের শরীরটায় স্পর্শ করলাম, করতেই চমকে উঠলাম। আমার সেই মানব শরীর যেন বিলীন হয়ে গেছে। একটা পাখির শরীর ধারণ করেছি আমি। কিন্তু, কথা বলতে পারছি, চিৎকার করতে পারছি। বুঝলাম, এ এক কঠিন রাজ্যে এসে পৌঁছেছি।

দূরে দেখলাম একটা বিমান আমার দিকেই তেড়ে আসছে। বিমানটা কিন্তু সাধারণ বিমান নয়, ওর চাকা নেই, পাখনা নেই। আমিও ওর দিকে সজোরে ধাক্কা মারলাম। ছিটকে গিয়ে পড়লাম যেন নীলাভ সমুদ্রে। তারপর কীভাবে ফিরেছি, সেই স্মৃতি বিলোপ হয়ে গেছে আমার।

খুদে স্রষ্টাদের সমস্ত কাজের লাইব্রেরি

 

Leave a Reply