ধাঁধা
প্রথম ধাঁধা
তুমি আর তোমার চার বন্ধু মিলে প্যারামাউন্টে শরবত খেতে গেছ। মেনুকার্ডে দেখা গেল নটা নতুন ধরণের বিদেশি শরবত আছে। তাদের কোনটা কী দিয়ে তৈরি সেসব রেসিপি গোপন ব্যাপার। প্রত্যেকের রঙ আলাদা। তাদের নাম কেলুরাম, পিণ্ডারি, হৈহয় , গারুন্টাক, আইলিম, ডুন্ডুভ, দুন্দুভি, রামরাজত্ব আর প্যাঁদানি। দোকানদার বললেন, শোনো হে ছোকরারা, প্রতি রাউন্ডে একেকজন একটা করে শরবতের অর্ডার দিতে পারবে। তবে হ্যাঁ, পাঁচজনের অর্ডারি শরবত একটা ট্রেতে করে এনে দেয়া হবে। কোনটার নাম কী বলে দেয়া হবে না। তিন রাউন্ডের পর পাঁচটা শরবতের একটা করে গেলাস সামনে এনে সাজিয়ে দেব। কোনটার কী নাম যদি বলে দিতে পার তবে তোমাদের শরবত উৎসব ফ্রি।
পারবে নাকি?
দ্বিতীয় ধাঁধা
অনাথ আশ্রমে থাকে অসীম। সেখানে রোববারে যতখুশি কাপকেক খেতে দেয়। প্রত্যেকটা কাপকেক খেলে বাটিতে তাতে খানিক অবশিষ্ট পড়ে থাকে। দেখা গেছে, তিনটে কাপ কেকের অবশিষ্টাংশ চেঁছেমুছে একত্র করলে একটা গোটা কাপকেক হয়। সেইটেকে খেলে আবার বাটিতে একটা কাপকেকের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকে।
এক সোমবার অসীম বসে বসে দেখছে তার কাছে দশটা অবশিষ্টাংশের বাটি পড়ে আছে। তার ইচ্ছে সে পাঁচটা গোটা কাপকেক খায়।
এতে তো পাঁচটা গোটা কাপকেক হবে না! পাশের বেডের সুশান্ত ভারী গুণ্ডা। তার কাছে অনেকগুলো কাপকেকের অবশিষ্টাংশ আছে। অসীম বলল, “আমায় কটা দিবি রে?”
“আমার থেকে একটাও যদি কমে তাহলে এমন পেটাবো না!” সুশান্ত বাঁকা হেসে বলল।
অসীম তাও তার থেকে ধার নিল, কিন্তু খাওয়ার শেষে দেখা গেল সুশান্তর ভাগের একটাও কমেনি। কী করে হল?
তৃতীয় ধাঁধা
তোমায় তোমার আট সৈনিকের সঙ্গে রাজা গ্রেফতার করেছেন। তারপর জানিয়েছেন, আফিং খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে তোমাদের মরুভূমির মধ্যে একটা চৌরাস্তায় ছেড়ে দিয়ে আসবেন। সেখান থেকে উত্তর-দক্ষিণ-পুব-পশ্চিমে চারটে রাস্তা যায়। চারটেতেই আট ঘন্টা হাঁটলে একটা করে গ্রামে পৌঁছোবে। ওর মধ্যে একটা গ্রামের নাম জীবনগ্রাম। সেখানে যদি পৌঁছোও তাহলে তোমরা বাঁচবে, আর বাকি গ্রামগুলোয় পৌঁছোলে হয় তোমাদের ফের ফিরে আসতে হবে চৌরাস্তায় আর নাহয় ফাঁসি যেতে হবে। রাস্তা ছেড়ে এলোমেলো ঘুরলে মৃত্যু। তোমাদের হাতে সময় চব্বিশ ঘন্টা। এর মধ্যে সঠিক গ্রামে না পৌঁছোলে ফাঁসি। চৌরাস্তায় জ্ঞান ফিরতে দেখলে রাজা তোমার পকেটে একটা স্লিপ দিয়ে রেখেছেন। তাতে লেখা, তোমার দলের দুটো লোক আমার হয়ে স্পাইগিরি করছে। তারা তোমায় ঠিকও বলতে পারে, ভুলও বলতে পারে।সত্যি বা মিথ্যে কথা বলবার ব্যাপারটা ছাড়া তারা তোমার আর সব আদেশ মানবে কিন্তু তারা চায় তুমি জীবনগ্রাম খুঁজে না পাও।
তুমি কী করবে এবারে? বাঁচবে কেমন করে?
চতুর্থ ধাঁধা
নীচের অংকটা ভুল।একটা কাঠি সরিয়ে সেটাকে ঠিক অংকে বদলে দাও (তিনটে উত্তর হতে পারে।)

পঞ্চম ধাঁধাঃ
এখানে কটা বল আছে?

ষষ্ঠ ধাঁধাঃ
লম্বা গলা পেটটা বিশাল
মুখের ছিদ্র সুচি
দাঁত জিভ নেই রাতের বেলা
তরল খাবার রুচি।
খাবার হলে বন্ধ তার
রাতের বেলায় অন্ধকার
সপ্তম ধাঁধা
ফল আছে জল আছে পাতা? আছে তাও
ধোঁয়া কি আগুন, জল যা চাবে
তা পাও
দোতলাটা খাড়া ভারী একতলা গোল
মুখে মুখ রেখে বলে একটাই বোল
অষ্টম ধাঁধা
এসে দেখি তোরা নেই,
এলি খেলি নাওয়ালাম
ধোয়ালাম
তবু ফের চলে গেলি
যাবার সময় আবার দেখি
তোরা কেউ নেই
নবম ধাঁধা
খালেবিলে তোর বাসা
মোর বাসা গাছে
মরণে মিলন হবে
ভাগ্যে লেখা আছে
হস্ত নাই পদ নাই
তোমার আমার
দোঁহে বিয়া দিয়ে খায়
দ্বিপদ চামার
দশম ধাঁধা
তুমিও যেমন আমিও তাই
দেখতে দুটি যমজ ভাই
আমার জন্ম, তোমার নাই
তোমার মুখে বাক্য নাই
আমার আছে জনম মরণ
হস্তপদ পেট
তোমার কেবল বদনখানি
তাও হয় না হেঁট