বই পড়া বাংলাদেশের বই-রাশা-মীম নোশিন নওয়াল খান

আলোচনা করছেনঃ মীম নোশিন নাওয়াল খান

bookpurono04ক্লাসের একটা ছেলে রাইসাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখেছেঃ

রাইসা,

মাছের কাঁটা খায় বাইছা বাইছা।

সেই থেকে রাইসা নামটা একদম পছন্দ না মেয়েটির। সে ভেবে ফেলল, নামটা পাল্টে ফেলবে। প্রথমে সবাই ঠাট্টা মনে করলেও সে হাল ছাড়ল না। দুই-তিন বছর পর সবাই তার নামটা ভুলেই গেল। সে হয়ে গেল “রাশা।”

রাশা ভালো ছাত্রী, স্কুলে ভালো ফলাফল করে। কিন্তু হঠাৎ বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় জীবনটা একদম এলোমেলো হয়ে গেল তার। বাবা আরেকটা বিয়ে করে কানাডায় চলে গেলেন। প্রথমে মায়ের কাছে থাকলেও কিছুদিন পর মা-ও তাকে ফেলে আরেকটা বিয়ে করে ফেললেন। অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার আগে রাশাকে তিনি রেখে এলেন তার নানির কাছে।

নানিকে রাশা আগে দেখে নি। আম্মুর মুখে শুনেছে নানি পাগল। কেন নানি পাগল হয়েছেন সেই গল্প আম্মু কখনও করেন নি। রাশারও জানা হয় নি। অজপাড়াগাঁয়ে নানির কাছে যখন আম্মু সত্যিই তাকে রেখে এলেন, তখন একটু একটু করে সবটা জানা হল তার। জানা হল, তার নানা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকাররা তাকে মেরে ফেলার পরই নানি পাগল হয়ে যান।

গ্রামে গিয়ে শুরু হয় রাশার নতুন জীবন। প্রথমে সেই জীবনটা তার কাছে ছিল খুব কঠিন। কিন্তু ধীরে ধীরে গ্রামের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয় রাশা। তাদের মতোই দস্যিপনায় কেটে যায় তার দিনগুলো। শহর ছেড়ে গ্রামে এসে ভর্তি হয় গ্রামের স্কুলটিতে। সেই স্কুলের হয়ে সে সায়েন্স অলিম্পিয়াডেও অংশ নিতে যায়। কিন্তু এখানেও মুশকিল। রাশার স্কুলের নামটা পাশের গ্রামের এক প্রভাবশালী রাজাকারের নামে। সে কিছুতেই তার পরীক্ষার খাতায় ওই নাম লিখবে না। ফলে অলিম্পিয়াডে ফার্স্ট হওয়া সত্ত্বেও পুরস্কারটি তাকে দেওয়া হয় না। পরবর্তীতে রাশার এই সাহসী কাণ্ডের পর স্কুলটির নাম পাল্টে একজন শহিদ মুক্তিযোদ্ধার নামে রাখা হয়। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় একটা বিরাট সমস্যা।

রাশার এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পাশের গ্রামের সেই রাজাকার ক্ষেপে ওঠে। সে রাশাকে খুঁজতে থাকে তাকে মেরে ফেলার জন্য। তারপর কী হল? সেই গল্প কিন্তু আমি আর বলব না। বাকী গল্পটুকু জানতে হলে তোমাকেই পড়তে হবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস “রাশা।”

একজন কিশোরীর জীবনে পারিবারিক টানপোড়েনের প্রভাব, শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এক কিশোরীর সাহস- সবকিছু নিয়ে দুই মলাটের ভেতরে অসাধারণ এক কাহিনী “রাশা”।

বইটি প্রকাশ করেছে তাম্রলিপি। প্রথম প্রকাশিত হয়েছে ২০১০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ, অলংকরণ করেছেন সুমন ওয়াহিদ। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২৭০ টাকা।