বৈজ্ঞানিকের দপ্তর প্রতিবেশী গাছ-বনতুলসী অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বসন্ত ২০১৭

প্রতিবেশী গাছ-আগের পর্বগুলো

bigganprotibeshigaachh-mediumযে সময়ের কোথা বলছি সেই সময় চান্দু বোরদে ভারতের বিখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড়দের একজন। আমি তখন স্কুলে নীচু ক্লাসে পড়ি। ওঁর পুরো নাম অবশ্য চন্দ্রকান্ত গুলাব রাও ‘চান্দু’ বোরদে। আমরা চান্দু বোরদে নামেই বেশি জানি।

শীতকালেই ক্রিকেট খেলা হত। মাঝে মাঝে পাঁচ দিনের টেস্ট খেলা। এখনকার মত একদিনের পঞ্চাশ ওভার বা কুড়ি ওভারের খেলার প্রচলন হয় নি। আজকের মত টি ভি-তে খেলা দেখার কথা তখন স্বপ্নাতীত। এদেশে টি ভি এসেছে অনেক অনেক পরে। খুব বেশি হলে রেডিওতে খেলার ধারাবিবরণী শোনাটাই ছিল অনেক। ইডেনে টেস্ট খেলা হলে বাংলায় ধারাবিবরণী শোনার আলাদা আকর্ষণ ছিল।

শীতকালের অনেকটা সময় মামার বাড়িতে কাটত। তখন ধান ওঠার সময়। আর আমরা ছোটোরা সেই সময় মাঠে ক্রিকেট খেলে কাটাতাম। খেলার সময় চান্দু বোরদের নকল করে খেলা বা বল ব্যাট দিয়ে মেরে মাঠের বাইরে পাঠাতে পারলে মনে মনে নিজেকে বোরদে ভাবতে বড়ই ভালো লাগত।

তবে সবসময় তো ব্যাট করার সুযোগ হত না, ফিল্ডিংও করতে হবে। সেই সময় বল ধরতে একটু আধটু লাফঝাঁপ দিতেই হত। আর তার ফলশ্রুতি হিসাবে হাঁটু কিম্বা হাতের কনুই ছড়ে রক্তপাত ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। গ্রামের মাঠে ডেটল স্যাভলন আর কোথায়। ছুটে মাঠের ধারে গিয়ে বনতুলসী গাছের কয়েকটা পাতা ছিঁড়ে নিয়ে দুই হাতের তালুর মধ্যে পাতাগুলি কচলে নিয়ে পাতার রস কাটা জায়গায় লাগিয়ে নিতাম। খেলার সময় কেটে যাওয়া জায়গাগুলি কোনদিন সেপটিক হয়নি। এমন কি পরদিন ব্যাথার কথাও ভুলে গিয়ে আবার মাঠে ছুটতাম।

আজ এতদিন পরে ভাবি এই আগাছা বন তুলসী পাতার রস যেন ম্যাজিকের মত কাজ করত। বন তুলসী গাছ শহরে প্রায় দেখা যায় না এমন কি গ্রামেও অনেক কমে এসেছে। বর্তমান প্রজন্ম এই গাছ প্রায় চেনে না বললেই চলে।

বন তুলসী গাছটি ছোটো অথচ সোজা আকাশের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। ছোট্ট গাছের সরু কাষ্ঠল কাণ্ডকে ঘিরে রয়েছে অনেক ডালপালা। এই গাছটি যতটা লম্বা প্রায় ততটাই চওড়া। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই গাছটি শুধু আমাদের এই উপমহাদেশ নয় দক্ষিণ আমেরিকাতেও দেখা যায়। রেল লাইন বা রাস্তার ধারে, নদী ও পুকুরের পাড়ে, পতিত জমিতে এই গাছ জন্মায়। গাছে নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ফুল ফোটে। ইউফরবেসি পরিবার ভুক্ত এই গাছটির বিজ্ঞানসম্মত নাম Croton bonplandianum.

পাতা – বর্শার ফলার মত পাতাগুলি মোটামুটি দেড় থেকে দু ইঞ্চি লম্বা। গাঢ় সবুজ রঙের। পাতার ধার সামান্য ধারকাটা। পাতা এবং সবুজ ডালপালাগুলিতে সামান্য রোঁয়া রয়েছে। পাতাগুলি কচলালে রস বের হয়।

ফুল – ছোট্ট ছোট্ট সাদা ফুলগুলি দেখতে সুন্দর, লম্বা শীষের উপর অবস্থিত। ফুলগুলিতে পাঁচটি পাপড়ি রয়েছে।

ফল – ফলগুলি সবুজ, তিন কোণাকৃতি। ফল এবং পাতায় ছোটো ছোটো স্ফোটক বা আবের মত বৃদ্ধি দেখা যায়।

ভেষজ ব্যবহার –

১) কাটা ছেঁড়ায় পাতার রস লাগান হয়।

২) পাতার রস ত্বকের রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।

জয়ঢাকের বৈজ্ঞানিকের দপ্তর

 

1 thought on “বৈজ্ঞানিকের দপ্তর প্রতিবেশী গাছ-বনতুলসী অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বসন্ত ২০১৭

  1. এটা বন তুলসীগাছ নয়। বনতুলসী সুগন্ধি যুক্ত আর একটি উদ্ভিদ। এটা আপনি বন মরিচ গাছ বলতে পারেন। বনতুলসীর ছবি আমার কাছে আছে আপনি চাইলে দিতে পারি।

Leave a Reply