বৈজ্ঞানবিকের দপ্তর-রসায়নের ছড়া-অমিতাভ প্রামাণিক

biggan10বোরন কেন যে ফোড়ন কাটে রে,সবাইকে শুধু জ্বালাতে!

আলু মিনিমাম না জুটলে চলে অ্যালুমিনিয়াম থালাতে?

গালে আম নিয়ে গ্যালিয়াম ভাবে,কীসেতে ইন্ডিয়াম?

ইন্দ্রের থালে আম যদি থাকে,তা কি নয় থ্যালিয়াম?

এদের বাচন নেহাৎই পাঁচন,এরা নয় মোটে হীন

গ্রুপ থ্রিতে এরা ভিড় করে আছে,যোজ্যতা তাই তিন।

এই থিকে থ্রি-এ বলা হয়,আর থ্রি-বিতে রয়েছে অন্য

মেটালেরা, থ্রি-এ গ্রুপ থার্টিন বলা হয় তারই জন্য।

সবচে’ দূরের কক্ষে এদের তিনটে ইলেকট্রন –

দুটো এস-এ থাকে,একখানা পি-তে,ঘুরে চলে বনবন।

চারখানা ধাতু,বোরন অধাতু,সবাই কঠিন হলে

মন্দ হত না,তবে গ্যালিয়াম এমনি থাকে তরলে।

তিন যোজ্যতা,তা নিয়ে বোরন কারো কাছে কাছে ঘোরেন!

তিনটে এইচ জুড়ে গিয়ে তাতে পরিণত হয় বোরেন।

কিন্তু তাতে তো ঝামেলা মেটেনা,বাঁধেনা যে ভালো গাঁট –

তিনে তিনে হয় ছ’ইলেকট্রন,ভালো হতে লাগে আট।

এই কারণেই বোরেনেরা সব জুড়ে নিজেদের মাঝে

ডাই-,ট্রাই- এই জাতীয় বোরেন হয়ে বেশ জোড়া সাজে।

বোরিক অ্যাসিড হয় জুড়ে তিন হাইড্রক্সিল ধাগা

সোডিয়াম টেট্রাবোরেট হল সোনার সেই ‘সোহাগা’!

বোরো-দিয়ে যত ক্রিম মাখো,যথা বোরোলীন,বোরোপ্লাস

বোরন যৌগ জীবাণু মারায় ওতে তুরুপের তাস।

ল্যাবরেটরিতে অথবা কিচেনে ‘বোরোসিল’ গ্লাস দেখে

ঘাবড়ে যেওনা,বোরো-সিলিকেটকেই সংক্ষেপে লেখে।

অ্যালুমিনিয়াম সবচেয়ে বেশি সহজলভ্য ধাতু।

বাসনপত্রে ব্যবহার ভারি,বাটিভরা খাও ছাতু!

পলিমাটি যত,যাতে চাষ হয়,নদীনালাদের পেট

ভরে থাকা মাটি অধিকাংশই অ্যালুমিনো-সিলিকেট।

হালকা এবং সহজেই মেলে,তড়িৎচালক ভারি,

ইলেকট্রিকের তারে তাই এর ব্যবহার জোরদারই।

সাজগোজ কারো সম্পূর্ণ কি জেমস্টোন পরা বিনা?

রুবি-স্যাফায়ার – জেনে রেখো এরা কেলাসিত অ্যালুমিনা।

রুবিতে কিছুটা ক্রোমিয়াম থাকে,তাই চুনি হয় রাঙা

স্যাফায়ার নীল,আয়রন আর টাইটানিয়ামে চাঙা।

বেরিলিয়াম অ্যালুমিনোসিলিকেট হল এমেরাল্ড,গ্রিন

এটাই যখন নীলরঙা,তার নাম অ্যাকোয়ামেরিন।

অ্যালাম মানে তো ফটকিরি,জানো,লাগে জলশুদ্ধিতে।

অ্যালুমিনিয়াম আর এক মেটাল সালফেট এতে মিতে।

বাকি যে মেটাল,তাদের ব্যাপারে বড়ো হয়ে জেনে নিও।

রসায়ন খুবই মজার জিনিস,অবশ্য-পঠনীয়।

1 thought on “বৈজ্ঞানবিকের দপ্তর-রসায়নের ছড়া-অমিতাভ প্রামাণিক

Leave a Reply