
১৬ মার্চ ২০২২ রাতের কাঞ্চনকন্যার সওয়ারি আমাদের তিরিশ জনের দল চলেছি হাসিমারার উদ্দেশ্যে। ওখান থেকে আমাদের গন্তব্য জলদাপাড়া জঙ্গলের মধ্যে রিসর্ট। মার্চের মাঝামাঝি কলকাতায় বেশ গরম পড়েছে। পরদিন ভোরে এসি কামরার আরামে হালকা ঘুম ভাঙতেই দেখি নাগোরকোট স্টেশন পেরিয়ে গেল ট্রেন। দু-পাশে ঘন সবুজ গাছপালা ও চা বাগানের মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলেছে। ঠিক কলকাতার কাছের জেলাগুলোর মতো নয়, কেমন যেন নিস্তরঙ্গ গ্রাম্য জীবন। সামনে দলগাঁও স্টেশন। টিভিতে দেখেছি দলগাঁওয়ে মাঝে-মধ্যেই বুনো হাতির উপদ্রব হয়। জানালা দিয়ে বাইরে খুঁজলাম। না, বুনো হাতি দর্শন দিতে দাঁড়িয়ে নেই।
সবাই রেডি, হাসিমারা স্টেশন আসছে। প্ল্যাটফর্মে নেমেই মন ভালো হয়ে গেল। চারপাশের ঝাঁপিয়ে পড়া গাছপালার মধ্যে দুটো রেল-লাইনের পাত চলে গেছে। বোলেরো গাড়ি এল। এই গাড়িগুলোই আমাদের তিনদিনের জঙ্গল ভ্রমণের বাহন। চারপাশে শাল, শিশু, সেগুন, গামার ইত্যাদি গাছের জঙ্গল। গাড়ি চলেছে তার মধ্যে দিয়ে। সকাল একটু গড়িয়ে গেলেও ভোরের মতো ঠান্ডা আবহাওয়া, গাছে গাছে নানারকম পাখির ডাকাডাকি। মিনিট পনেরোর মধ্যেই পৌঁছে গেলাম আমাদের জঙ্গল রিসর্টে। এটি জলদাপাড়া জঙ্গলেরই মধ্যে। রিসর্টের পাঁচিলের ও-পাশে ঘন শাল-সেগুনের জঙ্গল। এমনকি আমাদের থাকার জন্যে কটেজগুলোও শাল-শিমুল-গামার গাছের জঙ্গলের মধ্যে। চৈত্রের উদাসী হাওয়ায় সারাক্ষণ তাদের পাতা পড়ে যাচ্ছে—টুপটাপ, টুপটাপ। শুধু পাহাড় বা সমুদ্র নয়—যারা জঙ্গলে বেড়াতে আসেন, জানেন এ বেড়ানোতে এক আলাদা মাদকতা আছে। অনেকটা জঙ্গলময় এলাকা নিয়ে কটেজগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একেবারে শেষে একটা সুইমিং পুলও আছে। কটেজগুলোর ভেতরে অনেকটা জায়গা, ভারী কাঠের দেরাজ, আলমারি প্রভৃতি আসবাব, বেশ বড়ো অ্যাটাচড বাথ। আমি হাত-পা ধুয়েই শালের জঙ্গলের উঠোনে নেমে এলাম। গাছের গুড়ি কেটে বসার জায়গা। ঘুরে ঘুরে শাল জঙ্গল দেখতে লাগলাম। বেলা হলেও কেমন যেন চুপচাপ প্রকৃতি। শুধু হাওয়ার শব্দ; চৈত্রের পাগলা হাওয়া উড়িয়ে দিচ্ছে শাড়ির আঁচল, মাথার চুল। কোথাও ঘুঘু, বাঁশপাতি পাখি একটানা ডেকে চলেছে। আর কী চাই? শুধু এখানেই তিনদিন রেখে দিলে আনন্দের সঙ্গে থাকব। আশেপাশে কোনও ঘর-দুয়ার নেই। এই কটেজগুলো পেরিয়ে সামনে এদেরই দোতলা বাড়ির একতলার ডিনার হলে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা। এদের রান্নার হাত মা-মাসিদের মতো—ঘরোয়া এবং সুস্বাদু। রোজ এখানে তিন বেলা খেতে আসার জন্যে বেশ কিছুটা হাঁটাহাঁটি হয়ে যায়। এই সমস্ত প্রপার্টিটার নাম হেভেন ইন। তা হেভেনই বটে!
দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম নিয়ে চারটে নাগাদ বোলেরো বাহনে হাইওয়ে দিয়ে চললাম রাজাভাতখাওয়া, জয়ন্তী নদী, জঙ্গল পেরিয়ে টোটোপাড়া, ভুটিয়া বস্তি হয়ে একেবারে ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি। হাইওয়ের পাশে লাল ফুলে ভর্তি উঁচু কৃষ্ণচূড়া গাছ ঝুঁকে রয়েছে, বোধ হয় আমাদের অভিবাদন জানাবার জন্যে।

আমরা এসে পৌঁছলাম মসওয়ালা আদিম বৃহৎ বৃক্ষসমন্বিত ঘন অরণ্যভূমির মধ্যে। জায়গাটির নাম রাজাভাতখাওয়া। এমন নাম কেন, অচিরেই সে কৌতূহলের অবসান ঘটল। আমরা গেট পেরিয়ে ঢুকলাম নেচার ইন্টারপ্রেটেশন সেন্টারে। প্রথমেই একটি প্রমাণ মাপের হাতির প্রতিমূর্তি। হঠাৎ দেখলে চমকে উঠতে হয়—আসল নয় তো! একটু এগিয়ে একটা বড়ো বোর্ডে নামসহ এলাকার ম্যাপ। আর একটু এগিয়ে ততোধিক বড়ো বোর্ডে বিবৃত এলাকার নাম রহস্য। ১৭৬৯ সালে কোচবিহারের রাজা ধৈর্য্যেন্দ্রনারায়ণ ভুটানের রাজার নিমন্ত্রণে সেখানে গেলে বন্দি করে পুনাখাতে রাখা হয় এবং ভুটানি সেনারা আলিপুরদুয়ার সংলগ্ন কিছু এলাকা দখল করে আস্তানা গাড়ে। ১৭৭২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যৌথ সেনাবাহিনীর প্রধান ক্যাপ্টেন জোন্স আলিপুরদুয়ার সংলগ্ন সমস্ত ভুটানি আস্তানা ভেঙে এলাকা দখলমুক্ত করেন ও হুমকি দেন যে রাজাকে না ছেড়ে দিলে রাজধানী থিম্পুসহ সমস্ত ভুটান দখল করে নেওয়া হবে। আলাপ-আলোচনার পর ১৭৭৪ সালের ২৩ এপ্রিল কোচবিহারের রাজাকে অনুচরবর্গ সমেত মুক্তি দিলে এই এলাকা দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় যথাযোগ্য রাজসম্মান দিয়ে তাঁর অন্নভোজনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে এই এলাকার নাম রাজাভাতখাওয়া। আমরা এবার নেচার ইন্টারপ্রেটেশন সেন্টার বাড়িটির মধ্যে ঢুকলাম। অনেকগুলো ঘর। স্থানীয় অধিবাসীদের জীবন, জীবিকা, শিকার করবার অস্ত্র, সাজপোশাক সব সংরক্ষিত সামগ্রী, ছবি, মূর্তি সাজিয়ে বোঝানো হয়েছে, তবে সবচেয়ে অবাক হলাম জীবজন্তুদের ঘরে গিয়ে। পেঁচা, হায়না, চিতা প্রভৃতি প্রাণীর স্টাফড দেহ প্রাকৃতিক পরিবেশে এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে যে চমকে উঠতে হয়। গাছের ডালপালার মধ্যে কালো গোল ছোপওয়ালা হলুদ চিতা তাকিয়ে আছে; মনে হয় এখনি ঘাড়ের উপর লাফিয়ে পড়বে।

সবকিছু দেখে আমরা চললাম জয়ন্তী নদী ও জঙ্গল দেখতে। ও হরি, জয়ন্তী নদীর জল সব শুকিয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নদীর বেডে গাদা গাদা নুড়িপাথর। ও-পাড়ে বড়ো নীল পাহাড় সৌন্দর্যবর্ধন করছে। স্থানীয়রা বললেন, বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা জয়ন্তী নদীর জলের তোড়ে দু-কূল ভেসে যায়। আমরা গাড়ি করে ওই নুড়িপাথরের জয়ন্তী নদীর বেড পার হয়ে জয়ন্তী জঙ্গলে ঢুকলাম। নানারকম গাছের সঙ্গে মাঝে মাঝে বাঁশঝাড়ও আছে। আরও কিছুটা এগিয়ে কলাগাছ, আম-কাঠাল গাছ, টিনের বাড়ি চোখে পড়ল। এটি টোটোপাড়া। এই আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা কমে আসছে। এদের ঘরকন্না দেখতে দেখতে আবার প্রবেশ করলাম ঘন জঙ্গলে। মাঝে মাঝে বন আলো করে পলাশ গাছে লাল পলাশ ফুটে আছে। কোথাও লংকা-জবার ঝোপে শুকনো লাল লংকার মতো অজস্র লাল লংকা-জবা ফুটে আছে। একটা উঁচু গাছে বড়োসড়ো চিল বসে আছে। কেউ বলল ঈগল; অমনি অন্যদের সমবেত প্রতিবাদ—না না, চিল, চিলই। আরও কিছুটা এগিয়ে দূরে ঝোপের মধ্যে দেখা গেল একটা ময়ূর তার নীল ময়ূরপঙ্খী পাখা ছড়িয়ে তিরতির করে নাচছে। কী সুন্দর! সে কিন্তু আরও ভালো করে দেখবার জন্যে কাছে এসে নাচ দেখাতে চাইল না। এবার একটা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে বন্যজন্তুর দেখার বৃথা চেষ্টা করা হল। শুধু গভীর ঘন বনভূমি দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। আরও কিছুদূর এগিয়ে ভুটিয়া বস্তি দেখে আমরা ফেরার পথ ধরলাম। আর কয়েক কিমি পরেই বাংলা-ভুটান সীমান্ত। ফেরার সময় শুকনো জয়ন্তী নদীর উপরে অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখলাম। সমগ্র দিগাঙ্গন জুড়ে অস্তমিত সূর্য লাল-কমলা আভা ছড়িয়ে দিয়েছে।
ফিরে এসে আমাদের সেই শাল জঙ্গলের বিশাল উঠোনে চেয়ার পেতে বসে আড্ডা জমে উঠল, সঙ্গে গরম কফি আর চিকেন পকোড়া। আমাদের মধ্যে ব্যান্ডের ছেলেমেয়েরা ছিল, তারা কলকাতায় পারফর্ম করে, সঙ্গে গিটার নিয়ে এসেছিল। আমরা ফ্রিতে জ্যোৎস্না রাতে সবাই বনমাঝে তাদের গান উপভোগ করলাম। এরপর নাড়াপোড়াও হল। ছোটোগুলোর লাফালাফি আনন্দ আর দেখে কে!
পরদিন ব্রেকফাস্ট খেয়েই সকাল সকাল রওনা দিলাম চিলাপাতার জঙ্গলে। কয়েকটা চা বাগান পেরিয়ে চওড়া তোর্ষা নদীর ব্রিজের উপর দিয়ে আমাদের গাড়ি জঙ্গলে ঢুকল। জঙ্গল দেখে দেখে চোখ সয়ে গেছে; আমরা আছিই অপেক্ষাকৃত হালকা জঙ্গলের মধ্যে। কিন্তু এ চিলাপাতার জঙ্গল যেন আদিম অরণ্যানী। মস জড়ানো উঁচু উঁচু গাছগুলি পরস্পর জড়াজড়ি করে সূর্যের আলোকে আড়াল করেছে। ধুতরোর মতো দেখতে সাদা-খয়েরি মেশানো বনফুল, কোথাও ঝোপভরতি সাদা তারার মতো ফুল দেখতে দেখতে চলেছি। হঠাৎ গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল। দূরে পাহাড়ের মতো ধূসর রঙের এক বুনো হাতি আড়াআড়িভাবে রাস্তা পার হচ্ছে। সে পার হয়ে চলে যাবারও কিছুক্ষণ বাদে গাড়ি স্টার্ট দিল। এমনিতে সমগ্র জলদাপাড়া এলাকায় লোকবসতি কম, তায় এ তো ঘন বনভূমি।
রাস্তার ওপরে দু-একটা দোকান, সেখান থেকে আবির কিনে ছেলেপিলেরা সেখানেই মাখামাখি করছে। করোনার পরে হওয়াতে দোকানে শুধু অল্প আবিরই আছে। আজ দোল। প্রাকৃতিক আবির কলকাতা থেকে আনা আছে। কটেজে ফিরে তাই কপালে ছোঁয়ানো হবে। দু-বছর ধরে করোনা আপদের অত্যাচারে সবাই খুব ভয়ে ভয়ে আছি।
গাড়ি ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলছে। জঙ্গলের মধ্যে লতাপাতায় ঝোপঝাড়ে বেশি দূর দৃষ্টি যায় না। রাস্তার পাশে জঙ্গলের মাঝে একটা জায়গা যেন বেশি অন্ধকার! একটু ঠাহর করে দেখা গেল বড়ো কুলোর মতো কান নড়ছে। ও মা, এ যে বিশালাকায় এক বুনো হাতি! জঙ্গলের মাঝে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু কান আর লেজ নাড়াচ্ছে। এত কাছে! গাড়িও নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে গেল। অনেকে ছবি তোলার চেষ্টা করলেন। যাক, দোলের কারনে আমরা যে কোর এলাকায় জঙ্গল সাফারি করতে পারিনি, সে দুঃখ ঘুচল। গন্ডার না দেখতে পাই বুনো হাতির তো দেখা পেলাম। গাড়ি আস্তে করে ব্যাক করে ফেরার পথ ধরল।

তোর্ষা নদীর ব্রিজের কাছে এসে অনেকে বললেন নীচে নদীর কাছে যাবেন। চওড়া তোর্ষা নদীতে অল্প জল তিরতির করে বয়ে চলেছে। আমি ব্রিজের উপর দাড়িয়ে চারদিকে দেখছি। দূরে উলটোদিকের জঙ্গল থেকে একটা বুনো হাতি তোর্ষার চরে নেমেছে জল খেতে। পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি হাতিটা এল, শুঁড় নামিয়ে জল খেল, এবার চলে যাবে। মোবাইল ক্যামেরায় ছবি পরিষ্কার এল না। তাড়াতাড়ি আমার নিকন কুলপিক্স তাক করে কয়েকটা ছবি তুললাম।
বেলা এগারোটার মধ্যে রিসর্টে ফিরে এলাম। কলকাতা থেকে আনা ফুলের পাপড়ি গুঁড়ো করা আবির সবার কপালে দেওয়া হল। রিসর্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় নাচের স্কুলের মেয়েদের এনে নাচে-গানে বসন্তোৎসবের আয়োজন করেছিলেন সেটি আনন্দের আলাদা মাত্রা যোগ করল। রাতে মাঝখানে আগুন জ্বেলে ঘুরে ঘুরে সাঁওতাল নাচও চমৎকার ছিল। দোল পূর্ণিমার সেই চন্দ্রালোকিত রাতে শাল জঙ্গলের উঠোনে নিজেদের মধ্যে গান আড্ডা দারুণ জমেছিল।
পরের দিন সকালে শুনলাম সাংঘাতিক এক কাণ্ড। কয়েকজন বেশি রাত অবধি ওই শাল জঙ্গলে গল্প করছিল। হঠাৎ ঝুপ করে শব্দ। পলকে চাঁদের আলোয় তারা দেখল কটেজের পিছনে গাছ থেকে হলুদ কালো ছোপ বড়ো প্রাণী লাফিয়ে নামল। চিতা! যে যার কটেজে তিরবেগে ছুটল।
আজ তৃতীয় দিন বিকেলের ট্রেনে আমরা ফিরব। সকাল সকাল গেলাম সাউথ খয়েরবাড়ি জঙ্গলে। এখানে আহত বাঘ ও তিনটি চিতাকে রাখা হয়েছে পরিচর্যার জন্যে। সারিয়ে এদের আবার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। গেট পর্যন্ত গাড়ি যাবে, তারপর প্রায় দু-কিমি হেটে তবে খাঁচাবন্দি মহারাজদের সাক্ষাৎ মিলবে। এই জঙ্গলটা অনেকটা ঘন বনভূমির গ্রামের মতো। একটা ছোটো নদী বয়ে গেছে। তার পাশে বনকর্মীদের ছড়ানো ছিটানো ঘরবাড়ি। কিন্তু এসব পেরিয়ে সামনে হেঁটে গেলে নিঝুম বন। ছায়াময় পথে হেঁটে যেতে কষ্ট হবে না, বরং বিভিন্ন গাছে পাখপাখালি তাদের ঘরসংসার কলতানে ভরিয়ে দিচ্ছে দেখা যাবে। বার্ড ওয়াচারদের একেবারে স্বর্গ বলা যায়। দু-তিনটি সবুজ বাঁশপাতি একটানা ডেকে চলেছে। গম্ভীর পেঁচা মগডালে বসে আমাদের নিরীক্ষণ করছে। অনধিকার প্রবেশকারী ভাবছে নাকি! একটা তেঁতুল গাছে কতগুলো টিয়াপাখি ওড়াউড়ি করছে। অবশেষে পৌঁছলাম সেই আহত বাঘ, চিতার খাঁচার সামনে। তাদের খাঁচার সামনে অনেকটা ঘাসজমি, তারও পরে উঁচু লোহার শিক দিয়ে ঘেরা জায়গাটা। আহত জন্তু নাকি বেশি হিংস্র হয়। আহত তিন চিতার মাঝের জন রাগে গরগর করে শুধু এ-মাথা ও-মাথা চলাচল করছে। খাঁচাবন্দি তাদের দেখেই ভয় লাগছে। কোনোভাবে খাঁচা ভেঙে এলে আর রক্ষা নেই। একটু দূরে ফাঁকা জমিতে বেদির পরে একটা রয়াল বেঙ্গল টাইগারের মূর্তি বসানো আছে। তাকে নিয়ে আমাদের সবার একটা গ্রুপ ফটো তোলা হল।
এবার বিদায়ের পালা। সবারই একটু মনখারাপ। আবার কোথাও একসঙ্গে বেড়াতে যাব। রিসর্টে ফিরে লাঞ্চ করে নেওয়া হল। লাগেজ গোছানোই ছিল। কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে আমরা হাসিমারা স্টেশন যাবার জন্যে গাড়িতে উঠলাম।