ছড়ার পাতা-চিলাপাতায় ফিস্টি-মধুমিতা ভট্টাচার্য্য -জয়ঢাক৪৮

chhorachilapat

চিলাপাতার জঙ্গলেতে হচ্ছে দারুণ ফিস্টি,
পোস্ত বড়া, গোস্ত-মাটন মস্ত খাওয়ার  লিস্টি।
বিরিয়া্নি আর কোর্মা হবে, রায়তা আছে সঙ্গী,
কড়াই জুড়ে উথালপাথাল সবজি পঞ্চ-রঙ্গী,
মালাই-পনির শাহি মেজাজ, খুশবু ম’ ম’ চারদিক
জায়ফল, দারচিনি, এলাচ মশলাপাতি ঠিক ঠিক।
তিস্তা থেকে ভিস্তি ভরে টাটকা জলের চালান
আসলো,এবার রান্না হবে ভেটকি মাছের সালান,
দই পটলের দোর্মা হবে চিংড়ি মালাই-কা্রি
পোলাও হবে গাওয়া ঘিয়ের, মিঠাই রকমারী।
হঠাত সে এক শব্দ ভীষণ, রান্না যখন সাঙ্গ
হুড়মুড়িয়ে এলেন বাঘু জুটিয়ে সাঙ্গ-পাঙ্গ,
আগুন রাগে গনগনিয়ে বাইসনেরা যত্ত,
ফুঁসছে রোষে শুঁড় বাঁকিয়ে হাতিরা উন্মত্ত!
বাইসন আর হাতির সাথে করতে হল রফা
খাওয়ায় ওদের ভাগ না দিলে করবে দফা-রফা।
রাস্তা জুড়ে পাত পড়েছে সবাই যখন ব্যস্ত
গন্ডার এক বললে এসে, “করব হেস্ত নেস্ত!
বাঘ, হাতি আর বাইসনেরাও শুনছি নাকি খাবে!
আমার ভাগের ভোজটা বুঝি মাঠেই মারা যাবে?
গুঁতিয়ে তোদের করব বেহাল, ভাঙব ভাতের হাঁড়ি,
শিং বাগিয়ে করব তাড়া উলটে দেব গাড়ি”।
বললে সবাই, “রোসো রোসো,বসো না এইখানে,
মিলেমিশেই ফিস্টি হবে,গুস্‌সার কি মানে”?
তখন হল জঙ্গলেতে আজবরকম ভোজ,
হাতি বলে ‘আহা এমন হয়না কেন রোজ’?
বাঘ বাবাজি ‘হালুম’ বলে ঢেঁকুর তোলেন জবর,
বলেন হেসে, ‘কালকে হবে এটাই ব্রেকিং খবর”।
গন্ডার আর বাইসনেরাও দেদার খুশি-মন,
ফিস্টি শেষে চুপটি আবার চিলাপাতার বন।

ছবিঃ অন্তরা

জয়ঢাকের ছড়া লাইব্রেরি

Leave a Reply