জয়ঢাকের ধাঁধার বই
ধাঁধা
পল্টুদাকে মনে আছে তো? নেই? থাকবেই বা কেন? তাকে নিয়ে তো এর আগে কেউ লেখেনি! তবে সে এখন মস্তবড় মানুষ। কিন্তু তার মেজোবেলার কথা অনেকেই জানে না… মনেও রাখেনা। এদিকে পল্টুদাও অনেক কিছু মনে রাখতে পারেনা। ইতিহাসে ফেল করত তার স্মৃতিশক্তি কম বলে! নিজের মনের মত ইতিহাস পরীক্ষা দিত সে। যা খুশি তাই লিখত। কিন্তু পল্টুদা ছিল অঙ্কে তুখোর, তাই অঙ্কের জোরে জীবনের অনেক ধাঁধার সমাধান নিজেই করতে পারতো। অনেকবার অনুরোধ করায়, তিনটে ধাঁধা পল্টুদা আমাকে কষ্টেসৃষ্টে মনে করে শোনাল-
প্রথম ধাঁধা
পল্টুদা যাচ্ছিল ছোটমামার বাড়ি, ভালই দূর… কিন্তু বাসের নম্বর ভুলে যাবার ভয়ে হেঁটেই যাচ্ছিল। অনেকটা পথ হাঁটার পর সে দেখল সামনের রাস্তাটা দুদিকে ভাগ হয়ে গেছে। সেখানে দাঁড়িয়ে দুটো বিচ্ছু ছেলে। পথ ভুলে যাওয়া পল্টুদা ওদের ঠিকানা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করতে যাওয়ায় ওরা বলল – ওদের মধ্যে একজন সব সময় সত্যি কথা বলে, আরেকজন সব সময় মিথ্যে! আর শুধু মাত্র একটাই প্রশ্ন ওদের মধ্যে যে কোনো একজনকে বেছে নিয়ে করা যাবে। যাই হোক, পল্টুদা বুদ্ধি খাটিয়ে তাই করলো। আর তারপেরই মামারবাড়ি পৌছে কব্জি ডুবিয়ে কষা মাংস আর গরম ভাত! এখন বলতো পল্টুদা কী প্রশ্ন করেছিল?
দ্বিতীয় ধাঁধা
দুর্গম রাস্তার একদিকে খাদ তো অন্যদিকে পাহাড়। আর সাপের মত পেঁচানো রাস্তা দিয়ে চলেছে বাস – যাত্রী বলতে জনা কুড়ি তার মধ্যে একজন আমাদের পল্টুদা। মাঝরাত। চারদিক জনমানবশূন্য… সব মিলিয়ে একটা গা-ছমছমে ব্যাপার! হঠাৎ পল্টুদা বাস থামাতে বলল। যেই কথা সেই কাজ। পল্টুদা এবার নেমে কিছুটা হেঁটে গেল। এমনসময় একটা বড় পাথরের চাঁই এসে পড়ল বাসের মাথায়। বাসও গড়িয়ে খাদে… পল্টুদা বেঁচে গেলেও বাকিদের নির্ঘাত মৃত্যু… তবুও পল্টুদা আফশোষ করে বলল “ইশ! আমি কেন ওই বাসে থাকলুম না”। প্রশ্ন হল বেঁচে গিয়েও কেন এমন ভাবলো পল্টুদা?
তৃতীয় ধাঁধা
IX
নয়ছয় করতে পল্টুদা মোটেই ভালোবাসত না… সে ছিল বেশ হিসেবী। কিন্তু অঙ্কে নয়ছয়? মানে, রোমান নয়কে কেবল একটা রেখা টেনে ছয় করতে পারবে? পল্টুদা এক মিনিটে পেরেছিল। তোমাদের কত সময় লাগলো জানিও কিন্তু।
চতুর্থ ধাঁধা
ইঁট, কাঠ, লোহা, মাটি, আগুন,এদের মধ্যে কোনটা দিয়ে নিচের কোনটাকে বানানো যায়? যা বানাবে তা জ্যান্ত হতে হবে কিন্তু।
দুটো ফুল, একটা জ্বালানি, একটা প্রাণী।
পঞ্চম ধাঁধা-ড্রুডল
বল তো এটা কীসের ছবি?

কুইজ
১। ফাদার অব অ্যাটমিক বম্ব কাকে বলা হয়?
২। বাতাসের চেয়ে ভারী প্রথম মানুষবিহীন উড়োযান কোন সালে উড়েছিল?
৩। ২ নং প্রশ্নের যানটি তৈরি করেছিলেন কে?
৪। ২ নং প্রশ্নের যানটির নাম কী ছিল?
৫। রাইট ভাইদের তৈরি বাতাসের চেয়ে ভারী উড়োযানকে কেন প্রথম উড়ানের স্বীকৃতি দেয়া হয়?
৬। ওর্নিথপটার কী?
৭। প্রথম সফল ওর্নিথপটার কে তৈরি করেন?
৮। ওটো লিলিয়েনথাল কেন বিখ্যাত?
৯। ঘুড়ন্ত রোটর দিয়ে উড়ান প্রথম কোন দেশে, কবে আবিষ্কৃত হয়?
১০। ঝুকিংটিং বা তাকেতম্বো কাকে বলে?
জানো কী?
১।প্রথম ডুবোযান তৈরি করেন কর্নেলিয়াস ড্রেবেল নামের এক ওলন্দাজ। ১৬২০ সালে। জলের তলায় দাঁড় বেয়ে চালানো হত সেটিকে।
২। ১৭৪৭ সালে নাথানিয়েল সাইমনস প্রথম ব্যালাস্ট পদ্ধতিতে ডুবোযানের ভাসাডোবার পদ্ধতির পেটেন্ট নেন। কয়েকটা চামড়ার থলেতে দরকার মত জল ভরে ভারী করে ডুব দিত তাঁর ডুবোযান। জল বের করে হাওয়া ভরে দিলেই সে ভেসে উঠত আবার।
৩। প্রথম মিলিটারি সাবমেরিন তৈরি হয় ১৭৭৫ সালে। আমেরিকায় তার নাম টার্টল। বানিয়েছিলেন ডেভিড বুশনেল। চলত চালকের পেশির জোরে।
৪। প্রথম যান্ত্রিক শক্তিতে চালিত সাবমেরিন হল ফরাসিদের তৈরি প্লঁজার (১৮৬৩)। চলত কমপ্রেসড হাওয়ার ধাক্কায়।
৫। প্রথম ইঞ্জিনচালিত সাবমেরিন হল ইকটিনিও -২ (১৮৬৭)। তৈরি হয়েছিল স্পেনে। ১৪ মিটার লম্বা। দুই যাত্রীর যান। জলের তিরিশ মিটার নিচ দিয়ে দু ঘন্টা চলতে পারত।
৬। প্রথম স্বয়ংচলিত (কম্প্রেসড এয়ার চালিত) টর্পেডো তৈরি করেন ইংরেজ বিজ্ঞানি হোয়াইটহেড। ১৮৬৬ সালে।
৭। প্রথম বাষ্পচালিত টর্পেডোযুক্ত সাবমেরিন তৈরি হয় ১৮৮৫ সালে। তার নাম নর্ডেনফেল্ট-১। এটি জলে ভেসে থাকবার সময় বাষ্পীয় ইঞ্জিনে চলত আর তার সাহায্যে প্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে নিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে জলে ডুব দিয়ে সেই চাপ কাজে লাগিয়ে সামনে এগোত। এর দ্বিতীয় প্রজন্মের যান নর্ডেনফেল্ট-২ কিনে নেয় গ্রিস। এই যানটিই যুদ্ধের ইতিহাসে প্রথম সাবমেরিন থেকে টর্পেডো ছোঁড়বার কৃতিত্বের অধিকারী।
৮। ৪৫ খানা শক্তিশালী ব্যাটারি সজ্জিত প্রথম বৈদ্যুতিক সাবমেরিন তৈরি করেন বৃটিশ উদ্ভাবক ওয়াডিংটন। তার নাম পরপয়েজ। ১৮৭০ সাল নাগাদ।
৯।জন ফিলিপ হল্যান্ড ব্যবহারযোগ্য ডিজেল ও ব্যাটারিচালিত প্রথম হল্যান্ড টাইপ সিক্স মিলিটারি সাবমেরিন তৈরি করেন ১৮৯৬ সালে। সেই প্রথম নিয়মিত মিলিটারিতে ব্যবহৃত সাবমেরিন।
১০। ১৯৫৪ সালের ২১শে জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ইউ এস এস নটিলাস জলে ভাসল। নটিলাস ১৯৮০ সাল অবধি কাজ করেছে। উপস্থিত কানেক্টিকাটের গ্রোটনের এক মিউজিয়ামে তার স্থান হয়েছে। বছরে প্রায় আড়াই লাখ দর্শক তাকে দেখতে সেখানে আসেন।
কীসের ফটো?

———————————————
উত্তর
ধাঁধার উত্তর
এক: পল্টুদার প্রশ্ন ছিল:আমি যদি অন্যজনকে জিজ্ঞেস করি, ও আমাকে কোন দিকে যেতে বারণ করবে? দুরকম হতে পারে: ধরা যাক, যদি পল্টুদা সত্যবাদীকে প্রশ্নটা করে… তাহলে সে – মিথ্যেবাদী যে দিকে যেতে বারণ করবে… মানে সঠিক দিক দেখাবে। আবার, যদি মিথ্যেবাদীকে পল্টুদা একই প্রশ্ন করে… সেও সত্যবাদীর বারণ করার উল্টো দিক দেখিয়ে সঠিক দিক দেখাবে।
দুই: পল্টুদা বাসে বসে থাকলে, মানে বাস থেকে না নামলে… বাস থামত না। আর ওখান থেকে চলে গেলে, পাথরের চাঁই বাসের ওপর পড়ত না, সবাই বেঁচে যেত। পল্টুদা নামার জন্যই বাস দুর্ঘটনা ঘটলো – তাই দুঃখ প্রকাশ।
তিন: নয় থেকে ছয় এইভাবে…

চার:
কাঠ দিয়ে সবগুলো হয়। কাঠগোলাপ, কাঠচাঁপা, কাঠকয়লা, কাঠবেড়ালি।
পাঁচ-
ড্রুডল-হাতি চিৎ হয়ে সুইমিং পুলে ভাসছে।
কুইজঃ
১।ওপেনহেইমার ২। ১৮৯৬ সালে ৩। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিট্যুটের তখনকার সচিব স্যামুয়েল ল্যাংলে ৪। এরোড্রোম ৫। ১৯০৩ সালের অক্টোবর মাসের সাত আর আট তারিখে মানুষবাহী এরোড্রোমের প্রথম পরীক্ষা হয়। দুটো পরীক্ষাই ব্যর্থ হয়। এর নদিন পরে রাইটভাইরা প্রথম সফল মনুষ্যবাহী উড়োযানের সফল পরীক্ষা করেন। মনুষ্যবাহী উড়োযানের প্রথম উদ্ভাবক হিসেবে রাইট ভাইরা তাই স্বীকৃতি পেয়েছেন। ৬। ডানা ঝাপটে ওড়ার যন্ত্র। ৭। পিয়ের জুলিয়েন, ১৮৫৮ সালে। ৮। প্রথম সফল গ্লাইডার উড়ান। ৯। ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে, চিনে। ১০। ব্যাম্বু কপ্টার বা ঘুরন্ত রোটর দিয়ে ওড়ার প্রথম যন্ত্রের যথাক্রমে চিনা ও জাপানি নাম।
কীসের ফটোঃ চায়ের কাপে তলানি

