আগের পর্ব- পর্ব-১

আমাদের সৌর জগতে বৃহস্পতির (জুপিটার) মতো বৃহদাকার গ্রহ যেমন আছে, তেমনই বুধের (মার্কারি) মতো ছোটো গ্রহও আছে। এই আকারের অসমতা সৌরজগৎ সৃষ্টির সময়ে একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষের ফল। তাছাড়া গ্রহদের কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে আসার সময়ের মধ্যেও কোনোরকম সম্পর্ক বা প্যাটার্ন পাওয়া যায় না।
এদিকে পৃথিবী থেকে একশো আলোকবর্ষ দূরে ছয়টি গ্রহ নিয়ে এক ভারি মজার সৌরজগতের সন্ধান পাওয়া গেছে। সৌরজগৎ শব্দটা অবশ্য এক্ষেত্রে কথার কথা, তাদের মধ্যমণি নক্ষত্রটির নামকরণ হয়নি এখনও।
ব্যাপারটা মজার কেন সেইটা বলি। এখানে রয়েছে ছয়টা গ্রহ, কিন্তু তাদের সবার আকার প্রায় এক। মানে এরা কোনও সংঘর্ষ-টংঘর্ষের মধ্যে না গিয়েই সৃষ্টি হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, একেবারে ভিতরের গ্রহটি মাঝের তারাটিকে যতক্ষণে তিনবার পাক খেয়ে আসে, ততক্ষণে তার আগের গ্রহটি পাক খায় দুইবার, আবার তার আগেরটি, ঠিক ধরেছ, একবার। শেষ দুটি গ্রহ আবার নিজেদের মধ্যে গতির অনুপাত ৪:৩ রেখে দিব্য পাক খেয়ে বেড়ায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এই গ্রহ-জগতটি তৈরি হয়েছিল বারো বিলিয়ন বছর আগে, আর তারপর কিছুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ, এর উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল তা নিরীক্ষণ করার পক্ষে একেবারে আদর্শ অবস্থায় রয়েছে এটি। গত তিরিশ বছরে অনেক তারকা-জগৎ আবিষ্কৃত হয়েছে, কিন্তু কোনোটাই এমন আনকোরা অবস্থায় নেই।
হয়তো আর কিছু বছরের মধ্যেই এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য জানার দিকে আরও একটা ধাপ আমরা এগিয়ে যাব এই আবিষ্কারের ফলে।
তবে এমন অনন্য একটা জগতের নাম HD110067 দেওয়ার কোনোই মানে হয় না।
***

জাম্বিয়ার কালাম্বো জলপ্রপাতের কাছে এক আশ্চর্য নিদর্শন পাওয়া গেছে। দুটি কাঠের অংশ পাথরের কোনও হাতিয়ার দিয়ে ঘষে গোঁজ বানিয়ে জোড়া। এতে আর আশ্চর্য হওয়ার কী আছে, তাই না?
যদি বলি এই নিদর্শন অন্তত ৪৭৬,০০০ বছরের পুরোনো, আর হোমো সেপিয়ানদের প্রাচীনতম ফসিলটির বয়স ৩০০,০০০ বছর মাত্র? চমকে যাওয়ার মতো ব্যাপারই বটে। আরে না না, আমি এলিয়েন ইনভেশন-টেশনের কথা বলছি না। হোমো সেপিয়েনরা আসার আগে প্রস্তর যুগের হোমো হাবিলিসরা হয়তো বানিয়েছিল এটা। এতদিন ভাবা হত, তারা পাথরের হাতিয়ার ছাড়া ওই কাঠের বর্শা-টর্শা বানাতে পারত শুধু। কিন্তু এমন গোঁজ দিয়ে জোড়া কাঠ তৈরির পিছনে শিকার করার থেকে অনেক বেশি জটিল কোনও উদ্দেশ্য অবশ্যই ছিল। হয়তো বাসস্থানের ভিত তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল এটা। শুধু তাই নয়, এটা বানাতে যে মনঃসংযোগ এবং বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়েছিল, সেটা ৪৭৬,০০০ বছর আগের মানুষের পূর্বপুরুষের ছিল বলে এতদিন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার হোমো হাবিলিসও যদি এর স্রষ্টা হয়, তারা ছিল যাযাবর প্রকৃতির। বাসস্থান বানানোর কথা তাদের নয়। তবে কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল এই বস্তু? উত্তর পাওয়া যায় না।
তবে ওরা যে খুবই মিসআন্ডারস্টুড, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
***

প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর স্তর ভেদ করে উঠে এসেছিল বিপুল পরিমাণ লাভা। তার আকার ছিল বর্তমান মার্কিন মুলুকের সমান। ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে মালভূমিতে পরিণত হয়েছিল এই লাভার স্তর। তার উপর কালক্রমে পড়েছিল পলির আস্তরণ, একসময় প্রশান্ত মহাসাগরে তলিয়ে গেছিল সমস্তটা। এই লাভার স্তরের চরিত্র স্পঞ্জের মতো, অবিশ্বাস্য পরিমাণ জল শুষে নিয়ে বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলদেশ থেকে তিন কিলোমিটার নীচে পড়ে রয়েছে এই হারিয়ে যাওয়া জলাধার। হয়তো আরও একটা গোটা সমুদ্রই আটকে আছে এর ভিতর। খুব মৃদু ভূকম্পন হওয়া ছাড়া আর কোনও লক্ষণই নেই এর। সমুদ্র-বিজ্ঞানী আর ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি এর খোঁজ পেয়েছেন।
হয়তো একদিন যখন পৃথিবীর জলাধার শুকিয়ে গিয়ে আরও একটা গণ অবলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাবে পার্থিব সভ্যতা, তখন কোনও ভয়ংকর ভূমিকম্প হোক বা অন্য কোনও কারণে হোক—উঠে আসবে এই জলের ভাণ্ডার, ঘটবে প্রাণের পুনঃপ্রকাশ।