জয়ঢাকের নাট্যশালা:
হাবুদের ডালকুকুরে , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুরাতন ভৃত্য , যোগীনদাদা –রবীন্দ্রনাথের কবিতার নাট্যরূপঃ (তাপস শঙ্কর ব্রহ্মচারী) রাজপুত্তুর, (কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়) সেলফিশ জায়েন্ট- (অনুপম চক্রবর্তী,) পুজোর প্রস্তুতি(আশুতোষ ভট্টাচার্য) , অমৃতযাত্রী(কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়), চিচিং ফাঁক(কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়), নিউটনের সঙ্গে একবেলা(বামাচরণ ভট্টাচার্য), ঘ্যাঁঘাসুর(কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়), গুরুদক্ষিণা(কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)

গুপি, বাঘা,ব্যক্তি ১, ব্যক্তি ২,মহিলা ১,মহিলা ২,মহিলা ৩,মহিলা ৪,অমল,বিমল,কমল,র্যাপার১,র্যাপার ২,পেয়াদা ১,পেয়াদা ২,পেয়াদা ৩,পেয়াদা ৪,রাজা (কণ্ঠ)
দৃশ্য ১
(মঞ্চ অন্ধকার। অন্ধকার মঞ্চের মধ্যে থেকে শুনতে পাওয়া যায় একটি হাততালির শব্দ আর তারপরেই ‘চম্পাগড়’ বলে চিৎকার। আস্তে আস্তে মঞ্চ আলোকিত হয়। দেখা যায় গুপি বাঘা এদিক ওদিক তাকাচ্ছে।)
গুপি: বাঘাদা জায়গাটা তো চম্পাগড় বলে মনে হচ্ছে না।
বাঘা: ঠিকই বলেছ। এতবার গেছি, এরম বাড়িঘর তো দেখি নাই।
গুপি: চলো আর একবার চেষ্টা করি।
(দুজনে আবার হাততালি দিল। একসঙ্গে চিৎকার করে উঠলো ‘চম্পাগড়’ বলে। কিন্তু কিছু হল না। আরো এক দুবার চেষ্টা করল তারা, কিন্তু কিছু হল না।)
গুপি: কী হচ্ছে কী বাঘাদা? জাদু জুতা কাজ করছে না যে!
বাঘা: আমিও তো ঠিক বুঝতে পারছি না।
(এমন সময় দেখা গেল একসঙ্গে মিছিল করে দশ বারোজন লোক মঞ্চের বাঁদিকের উইং দিয়ে ঢুকল। তারা স্লোগান দেওয়ার মতো করে বলছে— )
‘এই দুনিয়ায় সকল ভালো,
আসল ভালো নকল ভালো।
সস্তা ভালো দামি ও ভালো,
আমিও ভালো তুমিও ভালো।
হেথায় গানের ছন্দ ভালো,
হেথায় ফুলের গন্ধ ভালো।
মেঘ মাখানো আকাশ ভালো,
ঢেউ জাগানো বাতাস ভালো।’
(স্লোগান দিতে দিতেই তারা ডান দিকের উইং দিয়ে বেরিয়ে গেল।)
গুপি: এসব কী ব্যাপার বাঘাদা?
বাঘা: ঠিক বুঝতে পারছি না তো, তুমি বুঝছো?
গুপি: না তো, কী হচ্ছে বলো তো?
বাঘা: ওইতো, ঐ ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করি, চলো। এই যে, শুনছেন?
(বাঁ দিকের উইং থেকে একটি লোক প্রবেশ করল।)
ব্যক্তি ১: হ্যাঁ, বলুন।
বাঘা: এটা কোন জায়গা বলুন তো দাদা!
ব্যক্তি ১: সে কী? মশাইয়ের স্মৃতিভ্রংশ হল নাকি! যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সে জায়গার নামই জানেন না! এটা বোম্বাগড়।
গুপি: এই সেরেছে, এ আবার কোথায় এসে পড়লাম?
ব্যক্তি ১: কোথায় এসে পড়লে মানে? আকাশ থেকে উড়ে এলে নাকি!
গুপি: হ্যাঁ, মানে তাই প্রায়। আমরা শুন্ডি থেকে এসেছি। কিন্তু এ জাদু জুতা কাজ করে না কেন?
ব্যক্তি ১: ও জাদু জুতা! তা কাজ করবে কী করে? ইন্টারনেট বন্ধ তো!
বাঘা: সেকি, কেন?
ব্যক্তি ১: আজ তো প্রায় মাসখানেক হতে চলল, ইন্টারনেট বন্ধ! গেল মাসের দাঙ্গার সময় বন্ধ হয়েছিল, এখনো চালু হয়নি।
গুপি:দাঙ্গা! কেন, দাঙ্গা কেন?
ব্যক্তি ১: সে আমি ঠিক বলতে পারব না। তবে শুনেছি রাজসভায় কার কত আসন, তাই নিয়েই অশান্তি। রাজাকে তো দেখা যায় না এখন আর, তাই রাজসভার আসন নিয়ে সবার খুব আকচা-আকচি।
বাঘা: কেন, রাজাকে দেখা যায় না কেন?
ব্যক্তি ১: তা জানি না। রাজার পিসিকে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দ্যান।
(এমন সময় আবার স্লোগান শোনা গেল। আবার দশ বারো জন লোক মিছিলের মতো করে স্টেজে ঢুকল, এবার ডান উইং দিয়ে। এবার তারা স্লোগান দিচ্ছে—)
‘শিব ঠাকুরের আপন দেশে,
আইনকানুন সর্বনেশে।
কেউ যদি যায় পিছলে পড়ে,
প্যায়দা এসে পাকড়ে ধরে।
কাজীর কাছে হয় বিচার ,
একুশ টাকা দন্ড তার।’
(তারা স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে গেল বাঁদিকের উইং দিয়ে। ওরা তিনজন তাকিয়ে রইল সেদিকে।)
গুপি: এরা কারা?
ব্যক্তি ১: (নীচু গলায়) এরাই তো ওরা!
বাঘা: কারা?
ব্যক্তি ১: যারা রাজার বিরুদ্ধে কথা বলে! দাঁড়াও না এক্ষুনি পেয়াদায় ধরল বলে!
(সঙ্গে সঙ্গে বাঁদিকের উইং থেকে শোনা গেল চিৎকার।)
কণ্ঠ: অ্যাই সালা অ্যান্টিন্যাশনাল! পেয়াদা! পেয়াদা! সবকটাকে গাড়িতে তোল!
ব্যক্তি ১: ওই যে, দেখলে?
গুপি: এরকম হচ্ছে কেন?
ব্যক্তি ১: ভাই এসব বলা উচিত না। তবু তোমাদের চুপিচুপি বলি। দিনকাল বড়ো খারাপ! জিনিসপত্রের আগুন দাম, চাকরিবাকরি নেই। তার উপর এই পেয়াদার উৎপাত। সন্ধের আগে টিকিট ছাড়া হাঁচলেই ফাইন, গোঁফের উপর ট্যাক্স, পদ্য লিখলে অ্যারেস্ট, কোনো মানে হয়, বলো?
বাঘা: বাবারে! এ তো সাংঘাতিক দেশ! তাড়াতাড়ি পালানো দরকার।
গুপি: পালাবই বা কী করে? জাদু জুতাই তো কাজ করছে না।
ব্যক্তি ১: তাও তো বটে। ইন্টারনেট তো নেই। তোমরা বরং এক কাজ করো। তোমরা বরং হেডঅফিসে গিয়ে বড়োবাবুর সঙ্গে দেখা কর। উনি তোমাদের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
বাঘা: হেডঅফিসটা কোথায়?
ব্যক্তি ১: এই তো, এই রাস্তা দিয়েই সোজা চলে যাও। তবে সাবধান দাদা, এখানে কিন্তু খুব ষাঁড়ের উৎপাত।
গুপি: ষাঁড়? সে আবার কী?
ব্যক্তি ১: সে আপনারা দেখতেই পাবেন কখনো না কখনো। শুধু বললাম সাবধান!
বাঘা: আচ্ছা বেশ, ওখানেই যাই তাহলে।
(গুপি বাঘা বাঁ-দিকের উইং দিয়ে বেরিয়ে গেল, লোকটি ডানদিকের উইং দিয়ে। আলো বন্ধ হয়ে গেল।)
দৃশ্য ২
(আলো জ্বলতে দেখা গেল মঞ্চের পেছনদিকে একটা টেবিল, তার পেছনে দাঁড়িয়ে একজন চা করার ভঙ্গি করছে। পাশে দাঁড়িয়ে তিনজন চা খাচ্ছে ভাঁড়ে করে।)
অমল: সত্যি বলছি, ছেলেটার বেজায় জ্বর হয়েছে।
বিমল: উঃ, জ্বর না ছাই অমল। ওসব ওদের চালাকি। স্কুল না যাওয়ার অজুহাত যত!
অমল: না গো, গা গরম, তার উপর সর্দিকাশি।
কমল: তা সর্দি হলে ডিগবাজি খেতে বল। রাজা যেমনটা বলেছেন।
অমল: কিন্তু তাতে তো সারছে না।
কমল: সারবে, সারবে, ধৈর্য ধরো। রাজা যখন বলেছেন, এসব আমাদের আদিম গ্রন্থে লেখা আছে। না সারলে ধরে নিতে হবে এ তোমারই পাপের ফল।
(গুপি বাঘার প্রবেশ)
গুপি: এই যে শুনছেন! বলছি যে হেড অফিসটা কোনদিকে বলতে পারেন?
অমল: এই তো, এই রাস্তা দিয়েই সোজা এগিয়ে যেতে হবে।
কমল: তোমরা কারা? তোমাদের তো এ তল্লাটে আগে দেখিনি।
গুপি: আজ্ঞে, আমরা নতুন এসেছি। এই দেশে এসে আটকে পড়েছি, সেই কারণেই বড়োবাবুর কাছে যাওয়া।
অমল: কোথা থেকে এসেছ তোমরা?
বাঘা: আমরা এসেছি শুণ্ডি থেকে।
বিমল: এই দেশে এসে আবার ফেরত যাওয়ার ভাবনা কেন? এমন দেশ আর কোথায় পাবে?
বাঘা: আজ্ঞে, এই দেশে যে শুনলাম কীসব দাঙ্গা হাঙ্গামা চলছে!
কমল: ওসব কিছু নয়। একদল লোক আছে যারা সারাক্ষণ উল্টোপাল্টা বকবেই। রাজা আমাদের কত ভালো রেখেছেন। রাজা তো আমাদের মন্ত্র দিয়েইছেন, এই দুনিয়ায় সব ভালো, সব ঠিক আছে। দেশের এখন সুদিন চলছে। আর তার মধ্যে এই কিছু লোক বলে দেশে নাকি নিয়ম-কানুন নেই, চাকরি-বাকরি নেই। বলি না, কিছু লোক আছে— যত দাও, তত চাই, কিছুতেই তাদের আর পোষায় না!
গুপি: কিন্তু পেয়াদা…
বিমল: পেয়াদা তো থাকবেই, না হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা থাকবে কী করে? সব তো ওই অ্যান্টিন্যাশনালদের হাতে চলে যাবে। ওইজন্যই তো চারদিকে কড়া পাহারা, চৌকিদার আছে, পেয়াদা আছে, আমরা সবাই নিশ্চিন্ত।
অমল: তবে যাই বলো, চৌকিদার কিন্তু আজকাল ঠিকঠাক কাজ করছে না। আগেরদিন টিফিনের আগে একটু ঘুম দিয়েছি কি দিইনি, সব চুরি হয়ে গেছে। পাঁচটা কাটলেট, বারোটা লুচি, জিবেগজা, আলুভাজা, ঘুগনি, ঘুম থেকে উঠে দেখি কিছু নেই। আমি ভালো কথা বলছি, এবার আমাদেরই পাহারা দিতে হবে।
কমল: চুপ, ওসব তোমার মনের ভুল। বোম্বাগড়ে কিচ্ছু চুরি যায় না।
অমল: আর ওপাড়ার প্যালারাম বিশ্বাসকে ধরে নিয়ে গেল কেন?
বিমল: ও মা, তা যাবে না? অত জোরে জোরে কেউ নিশ্বাস ফ্যালে?
অমল: আর ভীষ্মলোচন?
কমল: ও তো আর এক কাঠি উপরে, সে নাকি গান গেয়েছিল?
গুপি: গান গাইলে কী হয়?
বিমল: (কানে হাত দিয়ে) ওসব কথা মুখেও এনো না। গান গাওয়া, পদ্য লেখা এসব পাপ!
কমল: একমাত্র রাজার দেওয়া মন্ত্র পাঠ করা যাবে। অন্য কোন গান বা পদ্য গাওয়া পাপ। গাইতে গেলেও আগে রাজার অনুমতি লাগবে।
(গুপি আর বাঘা মুখ চাওয়াচাওয়ি করে)
বাঘা: আর শুনলাম এখানে নাকি ষাঁড়ের কিছু…
কমল: ষাঁড় নন, ধর্মষাঁড়। উনি তো আমাদের পিতাসমান। উনি তো আমাদের রক্ষা করেন অপসংস্কৃতির হাত থেকে। এইসব রাস্তাঘাটে প্রেম করা, গান গাওয়া ছেলেছোকরাদের উনি টাইট দিয়ে রাখেন। সবাই ঠিকঠাক নিয়ম মানলেই উনি আর কিছু বলেন না।
বিমল: এই বিদ্রোহীগুলোর যত সমস্যা। রাজা কিন্তু বলে দিয়েছেন এই প্রপঞ্চময় ইহজগত মায়া মাত্র, এই বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এসব মায়া, বিরোধীদের চক্রান্ত। তত্ত্বকথা যায় না কানে যতই মরি চেঁচিয়ে, ইচ্ছে করে ডান্পিটেদের কান মলে দি পেঁচিয়ে।
কমল: খুবই সোজা ব্যাপার— আগে পিছে চেও না, বাঁদিক ডানদিক যেও না, রাজা আমাদের জন্য পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, সেই পথের বাইরে যাবে না, ব্যাস। সাবধানে বাঁচে লোকে, এই লেখে আইনে। বুঝলে?
গুপি: বুঝলাম। আচ্ছা, আমরা আসি তাহলে এবার।
বিমল: সেকী, এতক্ষণ যে ছায়ায় দাঁড়ালে, তার টাকা দাও।
বাঘা: ছায়ার টাকা? সে আবার কী?
কমল: হ্যাঁ, তো ছায়া কি মাগনা নাকি? গ্রীষ্মকালের শুকনো ছায়া, বিনেপয়সায় হয়?
বাঘা: কত লাগবে? (ট্যাঁক থেকে স্বর্ণমুদ্রা বার করে গুনতে লাগলো।)
কমল: ও কী?ও টাকা এখন আর চলে না, ও টাকা বন্ধ হয়ে গ্যাছে। এখন এখানে রঙিন টাকা। এই, একটা স্যাম্পেল দাও তো!
(বিমল পকেট থেকে একটা সবুজ রঙের নোট বের করে দেয়। কমল নোটটা টান করে ওদের দেখায়।)
গুপি: ও টাকা তো নেই আমাদের কাছে।
কমল: যাঃ, তাহলে আর কি! (টাকা নিয়ে গিয়ে চায়ের দোকানে দিয়ে দেয়।)
বিমল: এই, টাকাটা?
কমল: চা-টা তুমিই খাওয়ালে।
অমল: তাহলে তোমরা বরং হেড অফিসে যাও, এই এইদিক দিয়ে সোজা। ফোরেক্স কাউন্টার থেকে চেঞ্জ করিয়ে আনো। সাবধান লাইন থাকতে পারে।
গুপি: আচ্ছা, তাইই যাই বরং, চলো বাঘাদা।
(প্রস্থান)
(মঞ্চের আলো নিভে যায়।)
দৃশ্য ৩
(মঞ্চের আলো জ্বলতে দেখা যায় মঞ্চের তিন দিকে তিনটি চেয়ার টেবিল রাখা। তার মধ্যে একটি টেবিল চওড়া, পিছনে দুজন মহিলা বসা। এ ছাড়া সামনের টেবিলে বসে আছেন একজন মহিলা, আরেকটিতে আরেকজন মহিলা। তাদের সামনে কিছু কাগজপত্র, ফাইল ইত্যাদি রাখা। গুপি বাঘা প্রবেশ করে। একদম প্রথমে যে টেবিলটি আছে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।)
বাঘা: বড়োবাবুর সঙ্গে দেখা করতে চাই, কী করতে হবে?
মহিলা ১: আগে গিয়ে দু’নম্বর কাউন্টার থেকে হান্ড্রেড-এ ফর্ম তুলে আনুন, ফিল আপ করুন। সেটা এখানে জমা দিন। তারপর একটা অ্যাপ্লিকেশন লিখুন, তিন নম্বর কাউন্টার থেকে সেটা স্ট্যাম্প দিয়ে আনুন, আর এক কপি ছবি, আধার কার্ড ভোটার কার্ড প্যান কার্ডের জেরক্স জমা দিন। তারপর ওয়েট করুন।
গুপি: এই সেরেছে!
বাঘা: দু’নম্বর কাউন্টারটা কোথায়?
মহিলা ১: ওই তো, ওদিকে। (অঙ্গুলিনির্দেশ করে।)
(গুপি আর বাঘা জোড়া কাউন্টারটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। পিছনের দুই মহিলা নিজেদের মধ্যে গল্প করছেন।)
গুপি: ও দিদি, বলছি, হান্ড্রেড-এ ফর্মটা পাওয়া যাবে?
(মহিলা দুজন ওদের কথা শোনে না নিজেদের মধ্যে গল্প করে চলে।)
গুপি: (চিৎকার করে) ও দিদি শুনছেন?
মহিলা ১: উফ একটু দাঁড়ান না, দেখছেন তো জরুরি কথা বলছি। হ্যাঁ তারপর কী বলছিলাম, তো যদিও পাঁজিতে কুষ্মাণ্ড ভক্ষণ নিষিদ্ধ লিখেছিল, কিন্তু আমার আবার কুমড়োটা পচে যাচ্ছিল কিনা…
বাঘা: দিদি, হান্ড্রেড-এ ফর্মটা দিন, একটু জরুরি দরকার।
মহিলা ২: উফ একটু যে শান্তিতে… আচ্ছা হান্ড্রেড-এ ফর্ম চাইছেন যে, অ্যাপ্লিকেশন কোথায়?
গুপি: কোন অ্যাপ্লিকেশন?
মহিলা ২: আগে একটা অ্যাপ্লিকেশন লিখুন, তিন নম্বর কাউন্টার থেকে স্ট্যাম্প দিয়ে আনুন তবে ফর্ম দেওয়া হবে।
বাঘা: কী লিখতে হবে অ্যাপ্লিকেশনে?
মহিলা ২: এই যে আপনারা বড়োবাবুর সঙ্গে দেখা করতে চান, কেন চান, এইসব! এখন যান। দেখছেন জরুরি কথা বলছি।
গুপি: একটা কাগজ কি পাওয়া যাবে?
মহিলা ২: এক নম্বর কাউন্টার থেকে নিয়ে আসুন।
(গুপি-বাঘা আবার ফেরত এল আগের কাউন্টারটায়।)
গুপি: দিদি একটা কাগজ দিন না!
মহিলা ১: কিরকম কাগজ?
গুপি: অ্যাপ্লিকেশন লেখার জন্য।
মহিলা ১: সাদা না রুল টানা?
বাঘা: সাদাই দিন।
মহিলা ১: ছোটো, না লম্বা?
বাঘা: যা ইচ্ছা।
মহিলা ১: আচ্ছা এই নিন। (কাগজ এগিয়ে দেয়)
গুপি: আর একটা কলম।
মহিলা ১: নীল না কালো?
গুপি: নীল-ই দিন।
মহিলা ১: জেল না বল?
গুপি: বল-ই দিন।
মহিলা ১: লিংক না সেলো?
বাঘা: (রেগে গিয়ে) দূর মড়া, যা হোক দে না তাড়াতাড়ি।
(নেপথ্যে): অ্যাই, কাট কাট।
(বাঁদিকের উইং থেকে ডিরেক্টর বেরিয়ে আসে)
ডিরেক্টর: এটা কী হল? কন্টিনিউইটি ব্রেক হয়ে গেল তো। ঠিক ভাষায় বলো। (দর্শকদের দিকে ফিরে) সরি সরি। (প্রস্থান)
বাঘা: (দ্রুত সামলে নিয়ে) হ্যাঁ, কোথায় ছিলাম? ও, হ্যাঁ, দিন না তাড়াতাড়ি।
(মহিলা ডেস্ক থেকে কলম এগিয়ে দিল। গুপি বাঘা একটু পাশের দিকে সরে গেল। তারপর বাঘার পিঠে ভর দিয়ে গুপি অ্যাপ্লিকেশনটা লিখল। তারপর সেটা হাতে নিয়ে এগিয়ে গেল তিন নম্বর কাউন্টারের দিকে। তাঁরা দুজন তখনও গল্প করছেন।)
গুপি: দিদি, স্ট্যাম্পটা!
মহিলা ৩: একটু দাঁড়ান। হ্যাঁ, যা বলছিলাম, তার তো ছোলা, ছাতু, পিঠালি কিছু ভালো লাগে না, আমিষে রুচি নেই, পায়েসে রুচি নেই, সারাক্ষণ শুধু সাবানের সুপ আর মোমবাতি।
বাঘা: ও দিদি, স্ট্যাম্পটা দিয়ে দিন না, এইটুকু তো কাজ।
মহিলা ৩: উফ, এদের জ্বালায়, একটু যে… কই দেখি! (কাগজটা নিয়ে তাতে স্ট্যাম্প দেয়) নিন।
গুপি: (পাশের কাউন্টারে এসে) এই যে দিদি অ্যাপ্লিকেশন, এবারে ফর্মটা দিন।
মহিলা ২: উফ দিচ্ছি, বাবা দিচ্ছি। এই নিন। (অ্যাপ্লিকেশনটা নিয়ে ফর্ম এগিয়ে দেয়।)
(গুপি বাঘা ফর্ম ফিলাপ করে এক নম্বর কাউন্টারে গেল। ইতিমধ্যে সেই কাউন্টার থেকে মহিলা চলে গিয়ে একজন পুরুষ এসে বসেছে।)
গুপি: এই ফর্মটা জমা দেবো।
ব্যক্তি ২: ম্যাডাম লাঞ্চে গ্যাছেন। একটু ওয়েট করুন।
বাঘা: আর কত ওয়েট করব? কখন থেকে খালি এই কাউন্টার ওই কাউন্টার করে চলেছি।
ব্যক্তি ২: তা কী করা যাবে? সবকিছুর তো একটা প্রসিডিওর আছে নাকি! সমস্যা হলে আট নম্বর কাউন্টারে চলে যান।
বাঘা: সেটা আবার কোথায়?
ব্যক্তি ২: ওই তো, এদিক দিয়ে চলে যান।
(গুপিবাঘা চারনম্বর টেবিল অর্থাৎ আট নম্বর কাউন্টারটিতে চলে আসে।)
গুপি: দিদি, এই ফর্মটা জমা দেব। বড়োবাবুর সঙ্গে দেখা করতে চাই।
মহিলা ৪: না না, বড়োবাবুর সঙ্গে এখন দেখা হবে না।
বাঘা: সে কী, কেন?
মহিলা ৪: আপনারা জানেন না? বাইরে তো বলাবলি করছে লোকজন— বড়োবাবুর গোঁফ চুরি গেছে।
গুপি: গোঁফ আবার চুরি যায় কী করে?
মহিলা ৪: মানে চুরি যায়নি, বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বাঘা: সে কী, কেন?
মহিলা ৪: তোমরা কি নতুন নাকি? জানো না, রাজার মতো করে গোঁফ রাখা বারণ। তাছাড়া বড়োবাবুর বাড়িতে পেয়াদায় রেড করেছিল। জানা গ্যাছে উনি নাকি অনেকদিন ধরে গোঁফের ট্যাক্স দ্যাননি। তাই ওঁর গোঁফ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বাঘা: বোঝো অবস্থা, তো এবার আমরা কী করব?
মহিলা ৪: কয়েকদিন পরে আসুন আবার কি?
গুপি: কিন্তু, আমাদের যে বাড়ি যাওয়া বড়োই দরকার?
মহিলা ৪: আমি কী বলব বলুন। খুব জরুরি দরকার হলে রাজার পিসি বা রাজার শ্যালক চন্দ্রকেতুর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করুন।
গুপি: তাদের আবার কোথায় পাবো?
মহিলা ৪: ওই তো তাদের দেখা পাওয়া বড়োই কঠিন। হয়তো উলুবেড়ে গেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, তখন তিনি থাকবেন মতিহারি। যদি মতিহারি যাও, তাহলে শুনবে তিনি আছেন রামকিষ্টপর। আবার সেখানে গেলে দেখবে, তিনি গেছেন কাশিমবাজার…
বাঘা: আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি, আমরা বরং এখন আসি।
(গুপি বাঘার প্রস্থান, মঞ্চ অন্ধকার হয়ে গেল।)
দৃশ্য ৪
(অন্ধকার মঞ্চ থেকে বিট ভেসে আসে। মঞ্চ আলোকিত হতে দেখা যায় দুদিকে দুজন দাঁড়িয়ে আছে। পরনে কালো গেঞ্জি গলায় সোনার চেন, চোখে সানগ্লাস। প্রত্যেকের পেছনে তিন চারজন করে দাঁড়িয়ে আছে। র্যাপ ব্যটলের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত)
র্যাপার ১:
বাবুরাম সাপুড়ে,
কোথা যাস্ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা,
দুটো সাপ রেখে যা!
যে সাপের চোখ্ নেই,
শিং নেই নোখ্ নেই,
ছোটে নাকি হাঁটে না,
কাউকে যে কাটে না,
করে নাকো ফোঁস ফাঁস,
মারে নাকো ঢুঁশ্ ঢাঁশ্,
নেই কোন উৎপাত,
খায় শুধু দুধভাত–
ই সাপ জ্যাম্ত
গোটা দুই আনত?
তেড়ে মেরে ডাণ্ডা
ক’রে দেই ঠাণ্ডা।
(মাঝে মাঝেই সমর্থনমূলক চিৎকার উঠছে পেছনের দল থেকে।)
র্যাপার ২:
ছুট্ছে মোটর ঘটর ঘটর ছুট্ছে গাড়ি জুড়ি ;
ছুট্ছে লোকে নানান্ ঝোঁকে করছে হুড়োহুড়ি ;
ছুট্ছে কত ক্ষ্যাপার মত পড়ছে কত চাপা-
সাহেব মেম থম্কে থেমে বল্ছে ‘মামা ! পাপা !’
-আমরা তবু তবলা ঠুকে গাচ্ছি কেমন তেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম ! দেড়ে দেড়ে দেড়ে !”
বর্ষাকালের বৃষ্টিবাদল রাস্তা জুড়ে কাদা,
ঠাণ্ডা রাতে সর্দিবাতে মরবি কেন দাদা ?
হোক্ না সকাল হোক্ না বিকেল হোক্ না দুপুর বেলা,
থাক্ না তোমার আফিস যাওয়া থাক্ না কাজের ঠেলা-
এই দেখ না চাঁদনি রাতের গান এনেছি কেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম ! দেড়ে দেড়ে দেড়ে !”
মুখ্যু যারা হচ্ছে সারা পড়্ছে ব’সে একা,
কেউ বা দেখ কাঁচুর মাচুর কেউ বা ভ্যাবাচ্যাকা ;
কেউ বা ভেবে হদ্দ হল, মুখটি যেন কালি ;
কেউ বা ব’সে বোকার মত মুণ্ডু নাড়ে খালি ।
তার চেয়ে ভাই, ভাবনা ভুলে গাও না গলা ছেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম ! দেড়ে দেড়ে দেড়ে !”
(এরই মধ্যে বাঁদিকের উইং দিয়ে প্রবেশ করে গুপি বাঘা। গান শেষ হওয়া পর্যন্ত অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সেদিকে। গান শেষ হতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলের কাঁধে টোকা দেয় গুপি।)
গুপি: এটা কী হচ্ছে ভাই?
ছেলেটি: এটা র্যাপ ব্যাটেল দাদা।
বাঘা: কী ব্যাটেল?
ছেলেটি: র্যাপ ব্যাটেল, আন্ডারগ্রাউন্ড র্যাপ। আমাদের চিৎকার, শাসকের বিরুদ্ধে, শোষকের বিরুদ্ধে, কই শুরু করো।
র্যাপার ১:
আয় তোর মুণ্ডুটা দেখি, আয় দেখি ‘ফুটোস্কোপ’ দিয়ে
দেখি কত ভেজালের মেকি আছে তোর মগজের ঘিয়ে।
কোন্ দিকে বুদ্ধিটা খোলে, কোন্ দিকে থেকে যায় চাপা ;
কতখানি ভস্ ভস্ ঘিলু, কতখানি ঠক্ ঠকে কাঁপা ।
মন তোর কোন্ দেশে থাকে , কেন তুই ভুলে যাস্ কথা-
আয় দেখি কোন ফাঁক দিয়ে, মগজেতে ফুটো তোর কোথা।
র্যাপার ২:
ঠাস্ ঠাস্ দ্রুম্ দ্রাম্, শুনে লাগে খট্কা-
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পট্কা !
শাই শাই পন্পন্, ভয়ে কান বন্ধ-
ওই বুঝি ছুটে যায় সে-ফুলের গন্ধ ?
হুড়মুড় ধুপ্ধাপ্- ওকি শুনি ভাই রে?
দেখ্ছ না হিম পড়ে- যেওনাকো বাইরে ।
(হঠাৎ নেপথ্য থেকে প্রবল চিৎকার ভেসে এল। চৌকিদারের গলা পাওয়া গেল, তিনি প্রবেশ করলেন ডানদিকের উইং দিয়ে।)
চৌকিদার: অ্যাই পেয়াদা এদিকে আয় তো। কী হচ্ছে কী এখানে? গান হচ্ছে? গান? তোমাদের পারমিশন লেটার কোথায়?
র্যাপার ১: না না গান নয়, আমরা তো র্যাপ করছিলাম।
চৌকিদার: সেসব জানি না, গান হোক, পদ্য হোক, কি দুইয়ের মাঝামাঝি কিছু একটা হোক, পারমিশন না থাকলে কিচ্ছু করা যাবে না।
(দুজন পেয়াদা প্রবেশ করল।)
পেয়াদা ১: স্যার, আমি এদের চিনি, এরা ওই অ্যান্টিন্যাশনালদের দলে।
চৌকিদার: তাই নাকি! সবকটাকে গাড়িতে তোল। কাউকে নিস্তার নেই।
(পেয়াদারা দিয়ে খপ করে ধরল দুই র্যাপারকে। পেছনে যারা ছিল তারা যে যেদিকে পারল দৌড় দিল। চৌকিদার পাকড়ো পাকড়ো করে চিৎকার করতে লাগলো। গুপিবাঘা হিম হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। চৌকিদার গিয়ে খপ করে ওদের ধরলেন। মঞ্চ অন্ধকার হয়ে গেল।)
দৃশ্য ৫
(মঞ্চে আলো জ্বলতে দেখা গেল পিছনদিকে দুটো খুঁটি থেকে টাঙানো জাল। তার দুই পাশে একজন করে পেয়াদা দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরো দুজন পেয়াদা গুপি বাঘাকে টানতে টানতে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়ে দিল জালের সামনে। পিছন পিছন প্রবেশ করলো চৌকিদার। দাঁড়ালো জালের সামনে, গুপি বাঘার দিকে পিঠ ফিরে।)
চৌকিদার: মহারাজ এই দুই বিদেশীকে আমরা পাকড়াও করেছি। এরা দুজন একটা অবৈধ গানের আসরে দাঁড়িয়েছিল, তাদের উৎসাহ দিচ্ছিল। এদের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র দেখে আমাদের ধারণা হয়েছে এরা নিজেরাও গান-বাজনার সঙ্গে যুক্ত। এবার আপনি বিচার করুন মহারাজ।
(চৌকিদার সামনে থেকে সরে গেল, এখন জালের মুখোমুখি গুপি বাঘা।)
গুপি: রাজামশাই আপনি? আপনি কোথায়?
রাজা: আমি এই জালের ভেতরেই আছি। অন্তর্জালের ভেতরে, ইন্টারনেটের মধ্যে।
গুপি: সে আবার কী? আপনি… আপনি…
রাজা: দু’মাস আগেই আমার মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু তার আগেই আমি নিজের সমস্ত বুদ্ধিমত্তা আরোপ করে গেছি এই অন্তর্জালের মধ্যে। এখন আমি অমর! অমর! (অট্টহাস্য করে ওঠেন রাজা।)
বাঘা: কিন্তু আপনার দেশের লোক?
রাজা: তাদের কথা ভেবেই তো এই কাজ। তারাও কোনদিন তাদের রাজাকে হারাবে না। তাদের জন্য যে সুখস্বর্গ আমি রচনা করেছি, তা চিরস্থায়ী।
গুপি: কিন্তু রাজামশাই, তারা তো ভালো নেই।
রাজা: (রেগে গিয়ে) আলবাত ভালো আছে। তারা কাজ করে, মাঠে ফসল ফলায়, কারখানায় জিনিসপত্র বানায়, সন্তান উৎপাদন করে, সংসার প্রতিপালন করে, আর কী চাই?
গুপি: কিন্তু রাজামশাই, গান?
রাজা: না, তারা গান গায় না, কবিতা লেখে না, গল্প পড়ে না, ছবি আঁকে না।
গুপি: আর?
রাজা: প্রতিবাদ করে না।
বাঘা: কিন্তু রাজামশাই, স্বাধীন চিন্তা ছাড়া কি কোন দেশ উন্নতি করে?
রাজা: হ্যাঁ, করে বৈকি! শৌর্যে বীর্যে সে দেশ জগতের সেরাও হয়ে উঠতে পারে।
গুপি: কিন্তু রাজামশাই তাতে মানুষ ভালো থাকে না। পেয়াদার ভয়ে, ষাঁড়ের ভয়ে চুপ করে থাকা মানেই ভালো থাকা নয়।
রাজা: হ্যাঁ সেটাই ভালো থাকা, আর যারা তাতে ভালো থাকে না তাদের জন্য অন্য ব্যবস্থা আছে। চৌকিদার!
চৌকিদার: জি মহারাজ!
রাজা: এদের দুজনকে মেরে শুকিয়ে আমসত্ত্ব বানিয়ে ছবির ফ্রেমে ঝুলিয়ে রাখো।
(চৌকিদার এগোনোর আগেই গুপি গান গেয়ে উঠল। চৌকিদার এবং পেয়াদারা সকলে স্থির হয়ে গেল।)
গুপি (গান):
রাজা শোন, রাজা শোন শোন শোন
তোর দেশের মানুষ জাগবে যখন
টলবে তোর আসন
তোর তারের বাঁধন ছিঁড়বে তারাই
নিজের হাতেই করবে সারাই
মূল্যবোধের নতুন প্রাসাদ
গড়বে নিজেরাই
তারা থাকবে না আর মনের ভুলে
নিয়ম যত শিকেয় তুলে
করবে রে গান সবাই মিলে
নতুন ভোরবেলায়
রাজা: একি আমার অন্তর্জাল ভেঙে যাচ্ছে কেন? আমার কোড, আমার জ্যামার!
(জালের পেছন থেকে নানারকম আলোর ঝলকানি দেখা যেতে লাগলো। সকলের স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। মঞ্চে দুপাশ থেকে ঢুকে পড়ল কিছু লোকজন, সকলের হাতে মোবাইল, টর্চগুলো জ্বলছে, টুং টুং করে নোটিফিকেশন ঢোকার শব্দ আসতে লাগল।)
গুপি (গান):
তোর যতই বুদ্ধি থাক, ওটা নকল জেনে রাখ
তুই পারবি না আর রাখতে চেপে
মানুষ এবার উঠছে ক্ষেপে
আসছে তোর শমন
শোন রে রাজা শোন, রাজা শোন
বাঘা: এই দেশে থাকার আর মনে হয় না ।
গুপি: যা বলেছ বাঘাদা!
(দুজনে একসঙ্গে ‘শুন্ডি’ বলে হাততালি দিল। সকলে ফ্রিজ হয়ে গেল। মঞ্চের আলো নিভে গেল।)
সমাপ্ত